খুঁজুন
                               
, ,
           

‘নরেন্দ্র’ নামের ওপরই বিরক্তি ধরে গিয়েছিল পাক বক্সারের!

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
‘নরেন্দ্র’ নামের ওপরই বিরক্তি ধরে গিয়েছিল পাক বক্সারের!

ক্রিকেট হোক কিংবা অন্য কোনো খেলা—ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। বক্সিংও এর ব্যতিক্রম নয়। দুই দেশের লড়াই ঘিরে এমনই এক মজার স্মৃতি শোনালেন ভারতীয় বক্সার নরেন্দ্র বেরওয়াল, যা শুনে হেসে ওঠেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রোববার ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোদি। এ সময় বেরওয়াল ২০১৫ সালের ওয়ার্ল্ড মিলিটারি গেমসের একটি ঘটনা তুলে ধরেন।

স্মৃতিচারণ করে বেরওয়াল জানান, ওই প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডেই তাকে লড়তে হয়েছিল পাকিস্তানের এক বক্সারের বিপক্ষে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রতিযোগিতা হওয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করার জন্য তাকে বিশেষভাবে বলা হয়েছিল।

প্রত্যাশাও পূরণ করেন বেরওয়াল। প্রথম রাউন্ডে ৪-১ এবং দ্বিতীয় রাউন্ডে ৩-২ ব্যবধানে জয় পান তিনি। তবে লড়াই ছিল বেশ হাড্ডাহাড্ডি। একপর্যায়ে দুই বক্সারের মুখের কয়েকটি জায়গায় কেটে যায়। ম্যাচ শেষে চিকিৎসার জন্য দুজনকেই একই গাড়িতে করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল।

আর সেই পথেই ঘটে মজার ঘটনাটি।

বেরওয়ালের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে যাওয়ার সময় পাকিস্তানি বক্সার তাকে বলেন, ‘ভাই, একটা কথা বলব?’ বেরওয়াল সম্মতি দিলে ওই বক্সার বলেন, ‘২০১৪ সালে আপনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। আমাদের কোচের নাম ছিল নরেন্দ্র রানা। তোমার নাম নরেন্দ্র, তোমার কোচের নাম নরেন্দ্র, তোমার প্রধানমন্ত্রীর নামও নরেন্দ্র। এই নরেন্দ্র নামটার প্রতি আমার ঘেন্না জন্মে গিয়েছে।’

পাক বক্সারের এমন মন্তব্য শুনে হেসে ফেলেন নরেন্দ্র মোদি। হাসিতে যোগ দেন সেখানে উপস্থিত অন্য পদকজয়ী ক্রীড়াবিদরাও।

রোববার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে দেখা করেন মোদি। অনুষ্ঠানে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান পিটি ঊষাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপা ও ৯টি ব্রোঞ্জ। ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি পদক এসেছে বক্সিং থেকে।

মীরাবাঈ চানু, অস্মিতা দে, সাক্ষী চৌধুরী, নীরজ চোপড়া, লভলিনা বরগোহাঁইসহ পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের সংগ্রামের গল্প শোনার পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য শুভেচ্ছা জানান তিনি। পরে ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে মোদি লেখেন, ‘যারা খেলবে, তারাই জীবনে সফল হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উচ্ছ্বসিত ক্রীড়াবিদরাও। বক্সিংয়ে সোনাজয়ী সাক্ষী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা অসাধারণ। তিনি খেলোয়াড়দের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে দেখা করে তারা গর্বিত ও আনন্দিত।

কালের আলো/এসএ

প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
প্রবাসী কার্ড চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সই

বিদেশে অবস্থানরত ও অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মন্ত্রণালয় ও জনতা ব্যাংক পিএলসির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য আর্থিক লেনদেন সহজীকরণ, ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমঝোতা স্মারকটি সই হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং জনতা ব্যাংক পিএলসির পক্ষে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, আজ প্রবাসী কার্ড চালুর মাধ্যমে আমরা এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান সর্বাগ্রে। তাদের জীবনের সার্বিক সুরক্ষা, কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং দেশে লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করতেই এ ডিজিটাল প্রবাস কার্ড প্রবর্তন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে যুগোপযোগী সেবা নিশ্চিত করার জন্য আমি জনতা ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করি, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজে ভোগ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সরকারের সময়-আবদ্ধ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। প্রবাসীদের কল্যাণ সাধন ও তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত আমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তারই একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন।

কালের আলো/এসএকে

ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র আবারও সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এ উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর (NTRCA) সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র পুনরায় সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। সেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের যে প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, তা শিক্ষক নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছে। এর ফলে একজন প্রার্থী নিজ যোগ্যতায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অনেকাংশে নিশ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়া শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদাও বৃদ্ধি করেছে।

তবে বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও জটিলতা দূর করে সেটিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে পুনরায় ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অতীতের মতো আবারও তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জামায়াতের এই নেতা।

তিনি বলেন, বিশেষ করে দলীয় প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের অভিযোগ পুনরায় সামনে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘আমরা মনে করি, শিক্ষক নিয়োগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের বিষয় হওয়া উচিত নয়। একজন শিক্ষককে তাঁর মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কারণ যোগ্য শিক্ষক ছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চালু করার উদ্যোগ বাতিল করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে এনটিআরসিএর বিদ্যমান নিয়োগব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করার দাবি জানান গোলাম পরওয়ার। প্রয়োজনে সরকারি কর্ম কমিশনের (PSC) মতো একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা আর্থিক প্রভাব যাতে স্থান না পায়, এটাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান। শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের এ উদ্যোগ পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

নিশো-ফারিয়ার দেখা, শুটিং-আড্ডায় সরব এফডিসি

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
নিশো-ফারিয়ার দেখা, শুটিং-আড্ডায় সরব এফডিসি

শনিবার দুপুর। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) ঢুকতেই চোখে পড়ল ব্যস্ততার চেনা দৃশ্য। কোথাও শুটিংয়ের প্রস্তুতি, কোথাও সেট তৈরির কাজ, আবার কোথাও শিল্পী-নির্মাতাদের আড্ডা। এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে ছুটে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।

দীর্ঘদিন পর যেন কিছুটা পুরোনো কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে এফডিসি। একই দিনে আলাদা দুটি শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন আফরান নিশো ও নুসরাত ফারিয়া। নিশো ব্যস্ত ছিলেন একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের শুটিংয়ে, আর ফারিয়া করছিলেন মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’র দৃশ্যধারণ।

শুটিংয়ের সূত্রেই অনেক দিন পর দেখা হয় নিশো ও ফারিয়ার। একে অপরের কাজের খবর নেন, কিছু সময় আড্ডাতেও মেতে ওঠেন দুজন।

বেলা দেড়টার পর এফডিসির ঝরনা স্পটের পুকুরপাড়ে ‘লাপাত্তা’র দৃশ্যধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়। সহকারীকে দিয়ে নায়িকাকে দ্রুত শুটিং স্পটে আসার খবর পাঠানো হয়।

কিছুক্ষণ পর গোলাপি শাড়ি পরে সেখানে হাজির হন নুসরাত ফারিয়া। পাশে ছাতা ধরে হাঁটছিলেন একজন। ঝরনা স্পটের ছোট পুকুরের ওপর তৈরি করা হয়েছিল একটি ছোট্ট সেতু। বাহারি রঙের কাপড় ও বিভিন্ন ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল সেটটি।

পরিচালক জানান, সিনেমায় নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করছেন ফারিয়া। চরিত্রের প্রয়োজনেই এমন সাজসজ্জা করা হয়েছে। এই ওয়েব ফিল্মের মাধ্যমে অনেক দিন পর ক্যামেরার সামনে ফিরেছেন অভিনেত্রী। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে এবারই প্রথম কাজ করছেন তিনি।

‘লাপাত্তা’য় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করছেন রুশো শেখ। ফারিয়ার আগেই কস্টিউম পরে শুটিং স্পটে প্রস্তুত ছিলেন তিনি। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় দৃশ্যধারণ।

শুটিংয়ের সময় পরিচালকের মুঠোফোনে বাজছিল মনির খান ও কনকচাঁপার জনপ্রিয় গান ‘এই বুকে বইছে যমুনা’। নব্বইয়ের দশকে ‘প্রেমের তাজমহল’ সিনেমায় রিয়াজ ও শাবনূরের ঠোঁটে জনপ্রিয় হওয়া গানটি ‘লাপাত্তা’তেও অল্প সময়ের জন্য ব্যবহৃত হবে। তবে এবার গানটির সঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে নুসরাত ফারিয়া ও রুশো শেখকে।

কয়েকবার দৃশ্য ধারণের পর পরিচালক সন্তুষ্ট হলে পরের দৃশ্যের প্রস্তুতি নেন ফারিয়া। এবার তার সঙ্গে একই ফ্রেমে ছিলেন অভিনেতা নাসির উদ্দিন খান। পরিচালক জানান, ছবিটিতে নাসির উদ্দিন খান তিনটি চরিত্রে অভিনয় করছেন। এর মধ্যে দুটি চরিত্র মুচি সম্প্রদায়ের বাবা ও ছেলের, অন্যটি একজন ব্যবসায়ীর।

শুটিংয়ের ফাঁকে নতুন কাজ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ফারিয়া। বলেন, গল্পটি তার বেশ ভালো লেগেছে। পছন্দের একটি চরিত্র নিয়ে অনেক দিন পর কাজে ফিরতে পেরে আনন্দিত তিনি।

ফারিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় উঠে আসে আফরান নিশোর প্রসঙ্গ। তিনি জানান, এফডিসিতেই নিশোর সঙ্গে দেখা হয়েছে। দুজনই একে অপরের কাজের খবর নিয়েছেন। অনেক দিন পর দেখা হওয়ায় দুজনেরই ভালো লেগেছে।

ফারিয়ার শুটিং স্পট থেকে বেরিয়ে এফডিসির অন্য প্রান্তে যেতেই দেখা গেল ভিন্ন ব্যস্ততা। পরিচালক সমিতির সামনের একটি ফ্লোরে চলছিল আরেকটি সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি। সেখানে ‘বাসর হবে মাটির ঘরে’ ছবির গানের দৃশ্য ধারণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

সেখান থেকে বের হতেই দেখা মেলে একসময়ের ব্যস্ত নির্মাতা বাদল খন্দকারের। ‘দুনিয়ার বাদশা’ দিয়ে নির্মাণে যাত্রা শুরু করা এই পরিচালক ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘পৃথিবী তোমার আমার’, ‘মিস ডায়না’, ‘সাগরিকা’, ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’ ও ‘বিদ্রোহী পদ্মা’র মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন।

পরিচালক সমিতির বারান্দায় কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে আড্ডায় ছিলেন তিনি। দেখা হতেই ডাক দিয়ে বসান। শুরু হয় সিনেমার নানা সময়ের গল্প। কথায় কথায় উঠে আসে এহতেশাম, মনতাজুর রহমান আকবর থেকে শুরু করে হালের রায়হান রাফীর প্রসঙ্গ। আলোচনায় আসে হেলাল খান, সালমান শাহ ও শাকিব খানের কথাও।

পুরোনো সিনেমা, এফডিসির স্মৃতি ও নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতার গল্পে জমে ওঠে আড্ডা। বর্তমানে নির্মাণের চেয়ে ব্যবসায় বেশি মনোযোগী বাদল খন্দকার। তবে সময় পেলেই এফডিসিতে চলে আসেন। পুরোনো জায়গায় পরিচিত মানুষদের সঙ্গে দেখা করা ও আড্ডা দেওয়াকে তিনি অনেকটা স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার মতোই মনে করেন।

এদিকে এফডিসির ক্যানটিনের সামনে চলছিল আরেকটি শুটিং। সেটি ছিল আফরান নিশোর একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ। সেখানে দেখা হয় অভিনেতা শরিফ সিরাজের সঙ্গে। তিনি জানান, শুটিংয়ে তিনিও অংশ নিচ্ছেন এবং নিশো মেকআপ রুমে রয়েছেন।

কড়ইতলার পাশের রূপসজ্জা কক্ষে গিয়ে দেখা যায় নিশোকে। তখন দুপুরের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে নিশো নিজেই জানতে চান, মেহেদী হাসান হৃদয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি কি না। ‘লাপাত্তা’র শুটিং দেখতে আসা এবং ফারিয়ার সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা জানালে তিনিও জানান, ফারিয়ার সঙ্গে তার দেখা হয়েছে এবং দুজনই একে অপরের খোঁজ নিয়েছেন।

কাজের প্রসঙ্গে নিশো জানান, এ বছর আবার বড় পর্দায় তাকে দেখা যেতে পারে। ‘সুড়ঙ্গ ২’ সিনেমায় তার অভিনয়ের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর দুটি সিনেমায়ও দেখা যেতে পারে তাকে। তবে অন্য কোনো কাজ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

এ সময় রূপসজ্জা কক্ষে আসেন বিজ্ঞাপনচিত্রটির পরিচালক শঙ্খ দাশ গুপ্ত। এফডিসি ও চলচ্চিত্রের নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। কিছুক্ষণ পর সেখানে যোগ দেন অভিনয়শিল্পী ও তরুণ পরিচালক পার্থ শেখ।

এরপর আড্ডা আরও জমে ওঠে। এফডিসির স্মৃতি, শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ও জীবনের নানা মজার ঘটনা নিয়ে গল্পে মেতে ওঠেন তারা। বাইরে তখন ক্যামেরা, আলো আর শুটিংয়ের ব্যস্ততা; আর ভেতরে চলচ্চিত্রের মানুষদের গল্পে ফিরে আসছিল এফডিসির নানা সময়ের স্মৃতি।

ফেরার পথে কড়ইতলার সামনে দেখা হয় রূপসজ্জাশিল্পী মোহাম্মদ সেলিমের সঙ্গে। নতুন একটি কাজের বিষয়ে কথা বলতে এফডিসিতে এসেছেন তিনি। শিগগিরই সেই কাজ শুরু হওয়ার কথা জানান।

একই দিনে এফডিসিতে চলছিল অন্তত তিনটি আলাদা শুটিং। একদিকে নুসরাত ফারিয়ার ‘লাপাত্তা’, অন্যদিকে আফরান নিশোর বিজ্ঞাপনচিত্র। কাজের ধরন আলাদা হলেও এই দুই শুটিংই দীর্ঘদিন পর নিশো ও ফারিয়াকে মুখোমুখি করে দিল।

আর সেই দেখা হওয়ার সূত্র ধরে একটি শনিবারের এফডিসি হয়ে উঠল নতুন কাজ, পুরোনো স্মৃতি, আড্ডা আর সিনেমার মানুষের চেনা ব্যস্ততার এক মিলনস্থল।

এফডিসির ঝরনা স্পট, ক্যানটিন, রূপসজ্জা কক্ষ কিংবা কড়ইতলা—প্রতিটি জায়গাতেই যেন আলাদা গল্প। কোথাও ক্যামেরার সামনে তৈরি হচ্ছে নতুন দৃশ্য, কোথাও পুরোনো দিনের সিনেমা নিয়ে জমছে আড্ডা। সব মিলিয়ে শনিবারের এফডিসি মনে করিয়ে দিল, ক্যামেরার বাইরে ঘটে যাওয়া এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই হয়তো চলচ্চিত্রের এই চেনা জায়গাটির গল্পকে এখনো জীবন্ত করে রেখেছে।

কালের আলো/এসএ