খুঁজুন
                               
, ,
           

মাঠের বল গিয়ে লাগল গাড়িতে, ঘটল দুর্ঘটনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৪ অপরাহ্ণ
মাঠের বল গিয়ে লাগল গাড়িতে, ঘটল দুর্ঘটনা

ফুটবল ম্যাচে খেলা থেমে যাওয়ার কারণের অভাব নেই। কখনো মাঠে দর্শক ঢুকে পড়েন, আবার ঝড়-বৃষ্টির কারণেও খেলা বন্ধ রাখতে হয়। এবারের ফিফা বিশ্বকাপে তো দেখা গেছে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ও। তবে উরুগুয়ের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে খেলা থামল একেবারেই ভিন্ন কারণে।

শুধু ম্যাচই থামেনি, মাঠের পাশের সড়কে গাড়ি চলাচলও সাময়িকভাবে থমকে যায় একটি ফুটবলের কারণে।

শনিবার উরুগুয়ের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল উরুগুয়ে মন্টেভিডিও ও পায়সান্দু। এস্তাদিও পার্কে এএনক্যাপে চলছিল ম্যাচটি।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে এক ডিফেন্ডার নিজেদের সীমানা থেকে বল বিপদমুক্ত করতে জোরে শট নেন। কিন্তু বলটি এতটাই জোরে ছুটেছিল যে মাঠের সীমানা পেরিয়ে পাশের সড়কে গিয়ে পড়ে।

মাঠের বাইরেই ছিল ব্যস্ত রাস্তা। সেই সময় সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল একটি সাদা গাড়ি। হঠাৎ সামনে ফুটবল চলে আসায় চালক দ্রুত ব্রেক কষেন। গাড়িটি থেমে গেলেও পেছন থেকে আসা গাড়িটির চালক যথেষ্ট সময় পাননি। ফলে মুহূর্তেই দুটি গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।

ঘটনাটি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচারের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষে গাড়ি দুটির সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে চালক বা যাত্রীদের কেউ গুরুতর আহত হননি।

এদিকে বলটি উদ্ধার করা এবং দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিরাপদ কি না নিশ্চিত করতে ম্যাচ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর আবার খেলা শুরু হয়।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় উরুগুয়ে মন্টেভিডিও।

একটি ফুটবল যে একই সঙ্গে মাঠের খেলা এবং পাশের ব্যস্ত সড়ক—দুই জায়গাতেই খেলা থামিয়ে দিতে পারে, উরুগুয়ের এই ম্যাচে সেটিই দেখা গেল।

কালের আলো/এসএ

নিজেদের অপকর্ম উধাও করল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
নিজেদের অপকর্ম উধাও করল জামায়াত

১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে ২০২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের ইতিহাস নিয়ে করা আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করা হয়েছে। রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতা,

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনও শেষ হয় নাই’ শিরোনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতিহাস থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন দলটির ভূমিকা।

চার দিনব্যাপী ‘ইতিহাস বিকৃতির’ এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর শেষ দিনে গতকাল দর্শনার্থীরা ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। প্রদর্শনীতে দেশভাগ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, একনায়কতন্ত্র, সামরিক স্বৈরশাসন, ফ্যাসিবাদ এবং সর্বশেষ জুলাই গণ অভ্যুত্থান নামে শতাধিক আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হলেও স্থান পায়নি তৎকালীন জামায়াত নেতাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কোনো চিত্র।

অবশ্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে পাকিস্তান বাহিনীর নির্মম নির্যাতন, হত্যার দৃশ্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ওই সময়কার নানান বৈঠকের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সঙ্গে যোগ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট। শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সময় পর্যন্ত একাধিক আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাস।

সেখানে কেবল নেই দল হিসেবে জামায়াতের ভূমিকা। পাশাপাশি স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনো আলোকচিত্র। এমনকি বাদ দেওয়া হয়েছে সংসদীয় গণতন্ত্রব্যবস্থার অন্যতম প্রবর্তক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল।

আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা জামায়াতের এ কর্মকাণ্ডকে ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময় দলটির বিতর্কিত ভূমিকা আড়াল করতেই যুদ্ধকালীন ৯ মাসের ইতিহাস থেকে নিজেদের উধাও করে দিয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন বয়সি দর্শনার্থীর ভিড়। মিরপুর থেকে আসা ফয়েজ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘যদি জামায়াত ইতিহাস বিকৃত করে তাহলে তাদেরও ইতিহাস থেকে ফেলে দেবে এ দেশের সচেতন জনসাধারণ।’

স্বামীর সঙ্গে আসা গৃহবধূ মুসফিকা তাসনীম বলেন, ‘আলোকচিত্রে কেন এসব ইতিহাস নেই তা জামায়াত ভালো বলতে পারবে। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। আবার একটু খুশি হয়েছি যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এত দিন শুনেছি জামায়াত শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগবিরোধী। অবশ্য ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে দলটি এসব বাদ দেয়নি।’ তবে এটাকে একটি অসম্পূর্ণ ইতিহাস বলে আখ্যায়িত করেন মুসফিকা।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জামায়াতকে কেন আড়াল করা হয়েছে-এমন প্রশ্নে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘একটি প্রদর্শনীতে সবকিছু তুলে ধরা যায় না। এতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জুলাই আন্দোলনকে। তাই ইতিহাসের অনেক কিছু আসেনি। কেবল যেসব বিষয় প্রাসঙ্গিক সেগুলো এসেছে।’

এ প্রসঙ্গে জামায়াতের কড়া সমালোচনা করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত আমাদের গুলি করেছে। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এ দেশটাকে তারা চায়নি। যুদ্ধে আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে, পাকিস্তানিদের হাতে তুলে দিয়েছে।’

জামায়াতকে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলটি বারবার রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছে কিন্তু তাদের চরিত্র পাল্টায়নি। তারা সাপের মতো এবং মুনাফেক। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। আওয়ামী লীগ করেছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। মূলত আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। জামায়াতের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

একই প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও বিশ্লেষক মফিদুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে গণহত্যা হয়েছিল, সেটা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ। এটা বাদ দিয়ে কেউ ইতিহাসের বয়ান দিতে পারে না। আর এটা বলতে গেলে জামায়াতকে নিশ্চয় তাদের অবস্থানটা সুস্পষ্ট করতে হবে। এভাবে জামায়াত যদি মূল জায়গাতেই বিকৃত বয়ান হাজির করতে চায়, তাহলে তাদের পুরো রাজনৈতিক ইতিহাসে নিশ্চয় সেটার প্রতিফলন থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যে গণগত্যা হয়েছে তা মানবসভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। আমরা তো সেটাকে কোনোভাবেই ভুলে যেতে পারি না। কোনো রাজনৈতিক দল যদি সেটা মুছে ফেলার বা বিকৃত করার চেষ্টা চালায়, তাহলে আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।’

সরেজমিনে আলোকচিত্রে দেখা যায়, ইতিহাসের শুরু হয়েছে ‘আজাদী : অতঃপর স্বপ্নভঙ্গ’ শিরোনাম দিয়ে। সেখানে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তি পরিকল্পনাসংক্রান্ত পাঁচটি বৈঠকের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এর পরই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের নানান চিত্র। ৭ মার্চে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের ছবিসহ ১২টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে।

এরপরই শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলকে ‘একনায়কতন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। চতুর্থ পয়েন্টে এইচ এম এরশাদের আমল তুলে ধরে বলা হয়েছে ‘সামরিক স্বৈরশাসক’ হিসেবে। এরপর ১৮টি আলোকচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে শেখ হাসিনার শাসনামল। সেখানে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘ফ্যাসিবাদ’। শেষ আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে জুলাই গণ অভ্যুত্থান। জামায়াতের ইতিহাসের বর্ণনায় ১৯৪৭ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা এলো, রাষ্ট্র বদলাল না।

জুলুমবাজ আইয়ুব ও ইয়াহিয়া খানের উত্থান হলো।’ ১৯৭১ সাল নিয়ে বলা হয়েছে, ‘দেশ স্বাধীন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না। একনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের উত্থান হলো।’ ১৯৭৫ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘একনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পতন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না।’ ১৯৯০ নিয়ে বলা হয়েছে, ‘গণ অভ্যুত্থানে একনায়ক এরশাদের পতন হলো, রাষ্ট্র বদলাল না।’

২০০৯ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নতুন সরকার এলো, রাষ্ট্র বদলাল না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার উত্থান হলো।’ ২০২৪ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থান হলো। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতন হলো। আবার ফ্যাসিবাদ?’

আলোকচিত্রে ‘আমাদেরকে পারতেই হবে, জুলাই এখনও শেষ হয় নাই’ শিরোনামে জামায়াত লিখেছে, ‘বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত একটি অসমাপ্ত বিপ্লবের ইতিহাস। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে প্রতিটি সংগ্রাম একেকটি নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।

কিন্তু রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধানের মৌলিক সংস্কার না হওয়ায় বারবার ফিরে এসেছে ফ্যাসিবাদ ও একদলীয় কর্তৃত্ববাদ। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই চক্র ভাঙার মোক্ষম সুযোগ।’ প্রশ্ন রেখে বলা হয়েছে, ‘আমরা কি পারব?’

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মক্কা চুক্তির একদিন পরই সৌদিতে হামলা

পাকিস্তান-তুরস্ককে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুমকি ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
পাকিস্তান-তুরস্ককে কঠিন শিক্ষা দেওয়ার হুমকি ইয়েমেনের বিদ্রোহীদের

সৌদি আরবের তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদিতে বিদ্রোহীরা এমন সময় হামলা চালাল, যখন মাত্র একদিন আগে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ‘মক্কা চুক্তি’ নামে একটি সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি।

এই চুক্তিতে বলা আছে, তিন দেশের কারও ওপর অন্য কেউ যদি হামলা চালায় তাহলে এই হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

চুক্তির আওতায় পাকিস্তান ও তুরস্ক এখন এগিয়ে আসতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে দেশ দুটিকে হুমকি দিয়েছে হুতিরা। তারা বলেছে, যদি ইয়েমেনের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন ও ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-তুরস্ক কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায় তাহলে তাদের কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, হুতি কমান্ডারা বলেছেন, “যদি পাকিস্তান ও তুরস্ক ইয়েমেনের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘনের পরিকল্পনা করে এবং ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে সৌদির আগ্রাসনের সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তাদের কঠোর শিক্ষা দেওয়া হবে।”

এরমাধ্যমে হুতিরা মূলত বার্তা দিয়েছে সৌদির বিরুদ্ধে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে এবং সৌদির সবচেয়ে ‘মূল্যবান রত্ন’ আরামকোর তেল স্থাপনা ও তেল পরিবহনের অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে যাবে।

সৌদিতে সরাসরি হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনে থাকা দেশটির মিত্র শক্তি সরকারি সেনাবাহিনীর ওপরও হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। এরমধ্যে মারিব ও হারদামাউতে দুইদিন আগে টানা কয়েক ঘণ্টা হামলা চালিয়েছে তারা।

নতুন করে আবারও মারিব এবং তাইয়িবে লড়াই চলছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইয়েমেনে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে। গত কয়েক বছর লড়াই বন্ধ ছিল। কিন্তু নতুন করে যদি আবারও আলোচনা শুরু না হয় তাহলে এ লড়াই দীর্ঘায়িত হবে।

সূত্র: আলজাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
গুম আইনের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়নি: শিশির মনির

প্রস্তাবিত গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের খসড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড থেকে পিছিয়ে গেছে এবং গুমের তদন্তভার পুলিশের ওপর ন্যস্ত করাকে ‘তদন্ত না করার শামিল’ বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী  শিশির মনির।  একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একটি ‘ন্যূনতম প্রতিযোগিতা’ থাকা সুস্থ পরিবেশের জন্য জরুরি বলে মত দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত নতুন গুম আইনের সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, অধিকতর উন্নত একটি আইন তারা প্রস্তাব করবেন। কিন্তু বর্তমানে যে ড্রাফট (খসড়া) দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় তারা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড থেকে সরে এসেছেন। আগের অধ্যাদেশে ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান রাইটস’ বা ‘ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এন্ড পলিটিক্যাল রাইটস’-এর রেফারেন্স থাকলেও বর্তমান আইনে তার কোনো উল্লেখ নেই।’

গুমের তদন্তভার পুলিশের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের ইতিহাসে আমরা দেখেছি এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সের সব জায়গায় হয়তো কোথাও পুলিশের সদস্য, না হয় র‍্যাবের সদস্য, না হয় ডিজিএফআইয়ের সদস্য জড়িত থাকেন। সেই অপরাধের তদন্ত করতে দেওয়া হচ্ছে এখন আবার পুলিশকেই! এর অর্থ হবে- এই অপরাধকে তদন্ত করার আর কোনো দরকার বাস্তবে থাকবে না। পুলিশের করা অপরাধের তদন্ত পুলিশকে দেওয়া বাস্তব অর্থে তদন্ত না করারই শামিল।’

গুমের তথ্যভাণ্ডার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পূর্বের আইনে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার কমিশনের। কিন্তু এই আইনে তা দেওয়া হচ্ছে সরকারকে। সরকার কি চায় যে বাংলাদেশে কী পরিমাণ মানুষ গুম হয়েছে তার তথ্য প্রকাশ করতে? এটি কোনো ইনকামবেন্ট গভর্নমেন্ট (দায়িত্বে থাকা সরকার) কোনোদিন প্রকাশ করতে চায় না।’

৭০ অনুচ্ছেদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, ‘নির্বাচন মানে কি? আপনার অপশন থাকতে হবে- কাকে ভোট দেবেন, কাকে ভোট দেবেন না। যদিও ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে কোনো সংসদ সদস্য দলের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন না, দিলে তার সদস্য পদ থাকে না। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যেহেতু একটা নির্বাচন, সুতরাং এখানে একটা মিনিমাম প্রতিযোগিতা থাকা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই চার্টারে ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রশ্ন এসেছিল। জুলাই সনদ তো বাস্তবায়িত হয় নাই। তবে ৭০ অনুচ্ছেদ সবসময় সংবিধানে থাকবে না। যে সংবিধান সংস্কার করার প্ল্যান করা হচ্ছে, সেখানে এই বিধান থাকছে না। দিস ইজ এ বিগেনিং অফ সামথিং গুড, লেট ইট বি ডান উইথ দ্য প্রসেস অফ দ্য কনস্টিটিউশনাল জার্নি। (এটি ভালো কিছুর সূচনা, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এটি সম্পন্ন হতে দেওয়া হোক।)’

বর্তমান সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যারা পদত্যাগ করেন নাই কিংবা যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়নি, তারা সকলেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। আর এমপিদের মধ্য থেকে কেউ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে নিয়ম অনুযায়ী তার ওই আসনটি শূন্য ঘোষণা করতে হবে।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ