স্কুলঘর নিলামে বিক্রি, ছাপড়ায় চলছে শতাধিক শিক্ষার্থীর ক্লাস
পাকা ভবনের আশায় বিদ্যালয়ের পুরোনো ঘর নিলামে বিক্রি করে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের লোচনাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো অবকাঠামো নেই। পাশের কবরস্থান থেকে আনা একটি ছাপড়া ঘরে কোনো রকমে চলছে পাঠদান। বেড়া না থাকায় গরমে দুর্ভোগের পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টি হলে বন্ধ রাখতে হয় ক্লাস।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। লেখাপড়ার মান ভালো হলেও পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফ জানান, একটি ছোট পরিত্যক্ত ঘরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসেন। পাশের কবরস্থান থেকে ছাপড়া এনে বেড়া ছাড়াই সেখানে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। টিনের ছাপড়া ঘরে প্রচণ্ড গরমে শিক্ষার্থীদের কষ্ট হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়।
তিনি জানান, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ের জন্য একটি দ্বিতল পাকা ভবন নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে যোগাযোগব্যবস্থা খারাপসহ নানা কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু না করেই চলে যায়। এরপর থেকে ভবন নির্মাণের বিষয়টি ঝুলে আছে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রাহাত ইসলাম জানান, ২০২৪ সালে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। তবে সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না, জায়গার স্বল্পতা, বিদ্যালয়ের পাশে বড় খাল এবং যমুনা নদীর ভাঙনের ঝুঁকিসহ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে প্রায় ছয় মাস পর টেন্ডারটি বাতিল করা হয়। বরাদ্দের অর্থও ফেরত চলে যায়।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টি যমুনা নদীতীরবর্তী হওয়ায় সেখানে বহুতল পাকা ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই। তাই চরাঞ্চলের উপযোগী স্টিলের ফ্রেমের সেমিপাকা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে প্রধান শিক্ষক আব্দুল লতিফের দাবি, ভবন নির্মাণের আগে জায়গার নকশাসহ প্রয়োজনীয় জরিপ সম্পন্ন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল। তাঁর মতে, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে ব্যয় বেশি হওয়ায় ঠিকাদার কাজ শুরু করেননি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টিনের ছাপড়ায় প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি হলে স্কুল বন্ধ থাকে। অভিভাবক মুক্তি খাতুন ও রিতু খাতুন বলেন, পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও ঘরের বেড়া না থাকায় গরমে শিশুদের অসুস্থ বোধ হয়। এতে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, তিনি এ উপজেলায় যোগদানের আগে ভবন নির্মাণের টেন্ডার বাতিল হয়েছে। বিষয়টি তাঁর বিস্তারিত জানা নেই। তবে বিদ্যালয়ের ভবনের জন্য দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থা দুর্গম হওয়ায় নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে ব্যয় বেশি হতে পারে। তবে শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত স্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ জরুরি।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array