খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ভবিষ্যত সহযোগিতার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ভবিষ্যত সহযোগিতার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

প্রায় ১৫ মাস আগে দু’জনের মধ্যকার সাক্ষাত পর্বে বাংলাদেশ ও চীনের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একমত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি। 

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই সেনাপ্রধানের ওইবারের চীন সফরের ধারাবাহিকতায় এবার একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি। বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদের সঈে। 

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকায় সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে তাঁরা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দু’দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক বজায় ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা করেন। একাধিক সূত্র কালের আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জেনারেল ফেঙ্গহি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে চলমান করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে চীনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহায়তার প্রস্তাব দেন। 

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর এসব কারণেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করছেন পর্যবেক্ষক মহল। 

তাদের ভাষ্য হচ্ছে, করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় টিকা পাওয়ার আলোচনা শুরুর পরপরই দেশটির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ সফর অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও নিজেদের মধ্যকার আলোচনায় কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলা চীনের সহযোগিতার বিষয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

যেসব বিষয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলোচনা 
২০১৮ সালের ১৯ মার্চ চীনের কংগ্রেসে জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর। চীনের এই স্টেট কাউন্সিলর ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ তাঁর সঙ্গে মঙ্গলবারের (২৭ এপ্রিল) দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় গুরুত্ব দিয়েছেন দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিকে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময়, সশস্ত্র বাহিনী পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় অব্যাহত রাখারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

একই সূত্র মতে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ-চীনের সুসম্পর্কের গভীরতা ও ব্যাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ অর্জনে চীনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্বারোপ করেন।

সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ
চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কথাই গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। 

এই তথ্য নিশ্চিত করে সূত্রটি বলছে, সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিই হচ্ছে ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। বাংলাদেশ সকলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সদা বদ্ধপরিকর।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে চীন
সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে চীন সফরকালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.আজিজ রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে চীনকে তাদের বন্ধুপ্রতীম মায়ানমার সেনা নায়কদের প্রতি রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে কার্যকর ভুমিকা রাখতে ওয়েই ফেঙ্গহির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। 

তাঁরই ধারাবহিকতায় মঙ্গলবারের (২৭ এপ্রিল) বৈঠকেও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের আকাঙ্খার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। 

জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। এক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতারও নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

এ সময় সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও-এএফডি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ  সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অফ অর্ডন্যান্সসহ অন্যান্য জেনারেলরাও উপস্থিত ছিলেন।

শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ, বীর শহীদের স্মরণ 
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গহি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন এবং ভিজিটরস বুকে স্বাক্ষর করেন।

পরে তাঁর নেতৃত্বে নেতৃত্বে চীনা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি দলটি সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা চালানো হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মামুনুল হক জানান, লংমার্চের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে কর্মসূচি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চ যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না। কর্মসূচিতে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলেও সরকারের আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, ইসি সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলে সফরে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

চাকরি খোঁজার গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোক্তা : ৪০ হাজার তরুণের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নতুন দরজা খুললেন মন্ত্রী

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
চাকরি খোঁজার গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোক্তা : ৪০ হাজার তরুণের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নতুন দরজা খুললেন মন্ত্রী

একটি চাকরি বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের ভাগ্য। আর একজন সফল উদ্যোক্তা বদলে দিতে পারেন একটি এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র। এই দুই সম্ভাবনাকে এক সুতোয় গেঁথে বিরামপুরে আয়োজিত হলো ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬’। তবে এই আয়োজনের গুরুত্ব কেবল কতজন চাকরি পেলেন, তার হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এর কেন্দ্রে রয়েছে আরও বড় একটি প্রশ্ন—উত্তরাঞ্চলের তরুণেরা কি শুধু চাকরি খুঁজবেন, নাকি নিজেরাই হয়ে উঠবেন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির শক্তি?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) চাকরি মেলা। নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এমপির বক্তব্যে আরও স্পষ্ট। যেখানে সরকারের কর্মসংস্থান ভাবনায় তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে দেখার গণ্ডি পেরিয়ে তাঁদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষাও রয়েছে।

  • বিরামপুরে ‘জব ফেয়ার দিনাজপুর ২০২৬’-এ শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ
  • তাৎক্ষণিক চাকরি শতাধিক, জমা পড়েছে লক্ষাধিক সিভি
  • তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে পিছিয়ে থাকা জনপদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলার প্রত্যয় মন্ত্রীর

মন্ত্রী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার যুবসমাজকে কেবল চাকুরির সন্ধানে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও আধুনিক উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও বদ্ধপরিকর।’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যেই চাকরি মেলার তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া যায়। কারণ, চাকরির সুযোগ তৈরি করা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য এমন একটি প্রজন্মও প্রয়োজন, যারা নিজের যোগ্যতায় কাজ খুঁজে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারবে। চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা—দুই ক্ষেত্রেই তরুণদের এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিয়েছে অনন্য এই আয়োজন।

এক মাঠে ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী, স্বপ্নের পরিধি আরও বড়
বিরামপুরের মাঠে এদিন শুধু জীবনবৃত্তান্ত জমা পড়েনি। যেন জমা পড়েছে হাজারো তরুণের কর্মজীবন শুরুর প্রত্যাশা। কেউ এসেছিলেন একটি চাকরির আশায়। কেউ আবার নিজের যোগ্যতা তুলে ধরতে, কেউবা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা খুঁজতে। দেশি-বিদেশি শতাধিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠানের স্টল ঘিরে চাকরিপ্রার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করেছে, সুযোগের দরজা খুলে দিলে তরুণেরা সেখানে পৌঁছাতে আগ্রহী।

আয়োজকদের তথ্য বলছে, মেলায় ২৫ হাজার নিবন্ধিত প্রার্থীসহ ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী চাকরি লাভ করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জমা পড়ে লক্ষাধিক জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি। যাচাই-বাছাই শেষে এসব সিভি থেকে আনুষ্ঠানিক নিয়োগপ্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এখানে জব ফেয়ারকে সাধারণ নিয়োগ আয়োজনের চেয়ে বড় করে দেখার সুযোগ রয়েছে। একটি চাকরি একজনকে স্বাবলম্বী করতে পারে; আর একটি সফল উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বহু মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। এই দুই পথকে সামনে রেখেই তরুণদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কথা বলেছেন মন্ত্রী।

‘মানুষকে ভুলিয়ে কথা বলে ভোট নেয়ার জন্য বিএনপি রাজনীতি করে না’
কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের প্রশ্নকে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্ত করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মানুষকে ভুলিয়ে কথা বলে ভোট নেয়ার জন্য বিএনপি রাজনীতি করে না। বিএনপি সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য এবং শ্রেণি ও ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য রাজনীতি করে। এটি যেমন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মূল নীতি, তেমনি এটি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দিকদর্শন। সেই লক্ষ্যেই এই চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে।’ সাধারণত কর্মসংস্থান মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি করে, পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ খুলে দেয়। এখানে মন্ত্রীর বক্তব্যেও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

চাকরি খোঁজার মানসিকতা থেকে চাকরি দেওয়ার সক্ষমতা
একজন তরুণ চাকরি পেলেন—এটি সাফল্য। কিন্তু সেই তরুণ ভবিষ্যতে আরও দশজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারলেন—সেই সাফল্যের সামাজিক প্রভাব আরও বড়। উদ্যোক্তা তৈরির প্রসঙ্গে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এই বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো যুবসমাজকে জাগিয়ে তোলা এবং তাদের মেধা ও প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়ে অবাধ সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে করে তারা সফল উদ্যোক্তা হতে পারে।’

শুধু চাকরি খোঁজার মানসিকতার বাইরে এসে তরুণদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘যুবসমাজকে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে চিন্তা ও বাস্তবমুখী কাজ করতে হবে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য হলো তরুণদের মনোজগতে উদ্যোক্তা হওয়ার শক্তিশালী আকাঙ্ক্ষা ও অনুপ্রেরণা তৈরি করা। এই জব ফেয়ার তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হওয়ার বাস্তব পথ দেখাবে।’

যে জনপদকে জাগিয়ে তুলতে হবে তারুণ্যের শক্তিতে
বিরামপুরের প্রসঙ্গে মন্ত্রী যে ভৌগোলিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন, তা এ চাকরি মেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। উন্নয়নের আলোচনা অনেক সময় বড় শহর, শিল্পকেন্দ্র কিংবা সহজ যোগাযোগের এলাকাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। কিন্তু তুলনামূলকভাবে দূরবর্তী জনপদের তরুণদের মেধা ও শ্রমও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমান গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। মন্ত্রী বলেন, ‘এলাকাটি একটি অবহেলিত অঞ্চল। কারণ এটি জয়পুরহাট, বগুড়া, গাইবান্ধা, রংপুর বা দিনাজপুর কোনোটিরই একদম কাছে নয়। দিনাজপুর জেলা সদর থেকেও এর দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। এই অবস্থায় এলাকাটিকে জাগিয়ে তুলতে হলে তরুণ-তরুণীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো সবচেয়ে জরুরি।’

এখানে তাঁর বক্তব্যে একটি বাস্তব উন্নয়ন-চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কোনো অঞ্চলের তরুণেরা যদি বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রশিক্ষণ কিংবা নিয়োগের সুযোগ কম পান, তাহলে তাঁদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মজীবনের পথ কঠিন হতে পারে। সেই ব্যবধান কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে বড় পরিসরের চাকরি মেলার আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তরুণদের সামনে তিনটি দৃষ্টান্ত
উদ্যোক্তা হওয়ার অর্থ শুধু আর্থিক সাফল্য অর্জন নয়—সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিষয়টিও সামনে এনেছেন মন্ত্রী। তরুণ প্রজন্মকে দেশের সফল উদ্যোক্তা ও সমাজসেবীদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা, জহুরুল ইসলাম ও স্যামসন এইচ চৌধুরীর মতো সফল উদ্যোক্তা ও মানবিক গুণসম্পন্ন আলোকিত মানুষ হতে হবে।’ এমন মানসিকতা তৈরি হলে উদ্যোক্তা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা অন্য মানুষের জীবনে সুযোগ তৈরির পথও হয়ে উঠবে। একটি সফল উদ্যোগ তখনই বৃহত্তর অর্থে মূল্যবান হয়ে ওঠে, যখন তার সুফল উদ্যোক্তার পাশাপাশি কর্মী, পরিবার ও স্থানীয় সমাজের কাছেও পৌঁছায়।

মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতেই এ চাকরি মেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে যে জাগরণ তৈরি হবে, সেটিকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে কাজ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ও আগামী প্রজন্মের জন্য কেবল দিনাজপুর ছয়টি আসন নয়, বরং পুরো দিনাজপুর জেলাকে সামর্থ্যবান হিসেবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন।’

বিরামপুর থেকে যে বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে
একটি মাঠে ৪০ হাজারের বেশি চাকরিপ্রত্যাশীর সমাগম একদিকে কর্মসংস্থানের চাহিদার ব্যাপকতা তুলে ধরে, অন্যদিকে সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে বড় পরিসরের উদ্যোগের গুরুত্বও সামনে আনে। তবে এই সমাবেশের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য সংখ্যার বাইরেও—তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে। মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের বক্তব্যে যে লক্ষ্য উঠে এসেছে, তা হলো তরুণদের চাকরির সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্যোগী মনোভাবকে কাজে লাগানো। এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে একজন চাকরিপ্রার্থী কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, একজন উদ্যোক্তা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, আর একটি পিছিয়ে থাকা জনপদ ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সক্ষমতার নতুন পরিচয় পেতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক এবং দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। আরও উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএএএমকে

গ্রিড বিপর্যয় কাটল, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
গ্রিড বিপর্যয় কাটল, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকের পথে

আকস্মিক বিপর্যয়ের প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা পর সচল হয়েছে জাতীয় গ্রিড। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে বিপর্যয়ের পর দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে গ্রিড পুনরুদ্ধারের কাজ শেষ হয়। বর্তমানে গ্রিড লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে সচল হওয়ায় উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

এর আগে দুপুরে গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সচিবালয়সহ রাজধানীর মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ঢাকার পূর্বাঞ্চল ও চট্টগ্রামের একাংশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়।

বিদ্যুৎ না থাকায় ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি তৈরি হয়। দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সরকারি দপ্তরগুলোর দাপ্তরিক কার্যক্রমেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।

গ্রিড বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে প্রকৌশলীরা কাজ শুরু করেন। জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এনএলডিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে দুপুর আড়াইটার মধ্যে গ্রিড সচল করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপর্যয়ের সময় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সাময়িক লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতিও দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি