খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ভবিষ্যত সহযোগিতার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ভবিষ্যত সহযোগিতার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

প্রায় ১৫ মাস আগে দু’জনের মধ্যকার সাক্ষাত পর্বে বাংলাদেশ ও চীনের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একমত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি। 

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই সেনাপ্রধানের ওইবারের চীন সফরের ধারাবাহিকতায় এবার একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি। বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদের সঈে। 

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকায় সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে তাঁরা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দু’দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক বজায় ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা করেন। একাধিক সূত্র কালের আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জেনারেল ফেঙ্গহি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে চলমান করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে চীনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহায়তার প্রস্তাব দেন। 

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর এসব কারণেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করছেন পর্যবেক্ষক মহল। 

তাদের ভাষ্য হচ্ছে, করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় টিকা পাওয়ার আলোচনা শুরুর পরপরই দেশটির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ সফর অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও নিজেদের মধ্যকার আলোচনায় কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলা চীনের সহযোগিতার বিষয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

যেসব বিষয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলোচনা 
২০১৮ সালের ১৯ মার্চ চীনের কংগ্রেসে জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর। চীনের এই স্টেট কাউন্সিলর ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ তাঁর সঙ্গে মঙ্গলবারের (২৭ এপ্রিল) দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় গুরুত্ব দিয়েছেন দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিকে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময়, সশস্ত্র বাহিনী পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় অব্যাহত রাখারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

একই সূত্র মতে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ-চীনের সুসম্পর্কের গভীরতা ও ব্যাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ অর্জনে চীনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্বারোপ করেন।

সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ
চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কথাই গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। 

এই তথ্য নিশ্চিত করে সূত্রটি বলছে, সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিই হচ্ছে ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। বাংলাদেশ সকলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সদা বদ্ধপরিকর।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে চীন
সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে চীন সফরকালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.আজিজ রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে চীনকে তাদের বন্ধুপ্রতীম মায়ানমার সেনা নায়কদের প্রতি রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে কার্যকর ভুমিকা রাখতে ওয়েই ফেঙ্গহির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। 

তাঁরই ধারাবহিকতায় মঙ্গলবারের (২৭ এপ্রিল) বৈঠকেও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের আকাঙ্খার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। 

জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। এক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতারও নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

এ সময় সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও-এএফডি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ  সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অফ অর্ডন্যান্সসহ অন্যান্য জেনারেলরাও উপস্থিত ছিলেন।

শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ, বীর শহীদের স্মরণ 
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গহি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন এবং ভিজিটরস বুকে স্বাক্ষর করেন।

পরে তাঁর নেতৃত্বে নেতৃত্বে চীনা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি দলটি সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
নতুন ভূমিধসের শঙ্কা, জিরং স্থলবন্দরে চীনের উদ্ধার অভিযান স্থগিত

নেপাল সীমান্তসংলগ্ন জিরং স্থলবন্দরের কাছে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর ওই এলাকায় নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে পার্বত্য এলাকায় একটি কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় হ্রদটির পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে যেকোনো সময় হ্রদটি ভেঙে গিয়ে প্রবল পানির স্রোত, কাদা ও পাথরের ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং স্থলবন্দরের দিকে এগিয়ে যাওয়া আপাতত সম্ভব হচ্ছে না। সিসিটিভির সঙ্গে থাকা এক প্রতিবেদক জানান, সামনের সারির দল থেকে জরুরি নির্দেশনা পাওয়ার পর সব উদ্ধারকারীকে জিরং বন্দরের দিকে আর না এগোতে বলা হয়েছে।

সিসিটিভি জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলের বেশির ভাগ সদস্য বর্তমানে জিরং শহরের লাওজিয়াং গ্রামের প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন। গ্রামটি চীন-নেপাল সীমান্ত থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে।

এর আগে বুধবারের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নেপাল ও চীন সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

কালের আলো/এসএ

গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
গণহত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ম্লাদিচের মৃত্যু

গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক সার্বীয় জেনারেল রাতকো ম্লাদিচ মারা গেছেন। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের একটি কারাগারে বন্দী অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএস এ তথ্য জানিয়েছে।

১৯৯৫ সালের স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যায় ভূমিকার জন্য ‘বসনিয়ার কসাই’ নামে পরিচিত ছিলেন ম্লাদিচ। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তিনি কয়েকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিল তাঁর পরিবার ও সার্বিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা। তবে সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দ্য হেগের সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল।

স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যার ঘটনায় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন ম্লাদিচ।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধ ছিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় সমাজতন্ত্রের পতনের পর ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ অধ্যায়। ওই যুদ্ধে প্রায় ১ লাখ মানুষ নিহত এবং ২২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

যুদ্ধের সবচেয়ে নৃশংস অধ্যায়গুলোর একটি ছিল স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। জাতিসংঘের সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষিত স্রেব্রেনিৎসায় আশ্রয় নেওয়া বসনিয়ার মুসলিম পুরুষ ও কিশোরদের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে ম্লাদিচের নেতৃত্বাধীন সার্ব বাহিনী হত্যা করে।

তখনকার ভিডিও ফুটেজে ম্লাদিচকে নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার আগে শিশুদের হাতে মিষ্টি তুলে দিতে দেখা যায়। এরপর পুরুষ ও কিশোরদের একটি বনে নিয়ে হত্যা করা হয়।

হত্যার পর মরদেহগুলো গণকবরে ফেলে দেওয়া হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ গোপন করতে অনেক গণকবর থেকে মরদেহ তুলে অন্য জায়গায় পুনরায় দাফন করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

স্রেব্রেনিৎসা থেকে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা সার্ব বাহিনীর হাতে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ভয়াবহ বিবরণ দিয়েছেন।

১৯৯৫ সালের নভেম্বরে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। সামরিক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর গ্রেপ্তার এড়িয়ে ছিলেন।

শুরুর দিকে সার্বিয়ার সামরিক বাহিনীর সহায়তায় অনেকটা প্রকাশ্যেই জীবনযাপন করেছেন ম্লাদিচ। দেশটির একটি অংশ তাঁকে এখনো নায়ক হিসেবে দেখে।

তবে ২০০০ সালে স্লোবোদান মিলোসেভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের মে মাসে সার্বিয়ায় গ্রেপ্তার হন ম্লাদিচ। পরে তাঁকে দ্য হেগে নেওয়া হয়।

বিচারের পুরো প্রক্রিয়ায় ম্লাদিচ গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে গেছেন। আদালতে একাধিকবার ক্ষুব্ধ বক্তব্যও দেন তিনি। বিচারকদের উদ্দেশে আদালতকে ‘পশ্চিমা শক্তির সন্তান’ বলে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেকে ‘ন্যাটো জোটের লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

২০১৭ সালে তাঁকে গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২১ সালে আপিলেও সেই সাজা বহাল থাকে।

মুসলিম ও বসনীয়দের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে বিতাড়িত করে তথাকথিত ‘বৃহত্তর সার্বিয়া’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ব্যাপক জাতিগত নিধন অভিযান পরিচালনার জন্যও তাঁকে দায়ী করা হয়।

তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল ম্লাদিচের আমলে সংঘটিত অপরাধকে ‘মানবজাতির জানা সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর মধ্যে অন্যতম’ বলে অভিহিত করেছিল। সাবেক জাতিসংঘ মানবাধিকারপ্রধান জেইদ রা’দ আল-হুসেইন তাঁকে ‘অশুভর প্রতিমূর্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

জীবনের শেষ দিকে ম্লাদিচের আইনজীবীরা মানবিক কারণে তাঁর মুক্তির আবেদন করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, তিনি গুরুতর ও নিরাময়-অযোগ্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং এমন অবস্থায় তাঁকে কারাগারে রাখা অমানবিক শাস্তির পর্যায়ে পড়ে।

তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত দ্য হেগের কারাগারেই মৃত্যু হলো সাবেক এই সার্বীয় সামরিক প্রধানের।

ম্লাদিচের বয়স নিয়েও দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল। তিনি দাবি করতেন, তাঁর জন্ম ১৯৪৩ সালের মার্চে। তবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের নথিতে তাঁর জন্মসন ১৯৪২ সাল উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’-তাসরিফ খান

অবসর কাটাতে নেপালে গিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকা পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে তাঁদের ফেরার পথ।

তাসরিফ জানান, তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা বর্তমানে নিরাপদে আছেন। তবে কবে ঘান্দ্রুক থেকে বের হয়ে দেশে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুক অন্নপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই হাজার মিটার উঁচু এই এলাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ তাঁরা দেখেননি। তবে বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কোথাও সেতুও ভেঙে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।

তাসরিফ বলেন, বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, সেটি ঘান্দ্রুক থেকে অনেক দূরে। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং তাঁদের ফেরার পথের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

মঙ্গলবার তাঁরা ঘান্দ্রুকে পৌঁছান। বুধবার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বের হতে কিছুটা দেরি হওয়ায় গাইড তাঁদের ওই দিন আর যাত্রা না করার পরামর্শ দেন।

পরে তাঁরা জানতে পারেন, ফেরার পথে সড়কের বিভিন্ন অংশ পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাসরিফের ভাষায়, সময়মতো বের হলে হয়তো তাঁরাও বিপদের মধ্যে পড়তেন। দেরি হওয়াটাই তাঁদের রক্ষা করেছে।

বর্তমানে তাঁদের গাইড বিকল্প পথের সন্ধান করছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। গাইড ফিরে এলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁদের আরও দুই থেকে তিন দিন ঘান্দ্রুকে থাকতে হতে পারে।

দুর্যোগের পাশাপাশি অর্থসংকটও তৈরি হয়েছে তাসরিফদের জন্য। তাঁর হাতে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ মার্কিন ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও দুর্গম এই এলাকায় কার্ড বা ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ খুবই সীমিত। ফলে নগদ অর্থ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা সম্ভব না হলে নদীর পাশ দিয়ে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ট্রেক করে বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের মধ্যে এমন পথও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তাসরিফ।

স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, পাহাড়ি এই এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। দুর্যোগের কারণে পর্যটননির্ভর এলাকার বাসিন্দারাও জীবিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

টানা কাজের পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপালে গিয়েছিলেন তাসরিফ। সম্প্রতি তাঁর রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।

তবে এখন সব পরিকল্পনা বাদ দিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।

তাসরিফ বলেন, ‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই।’

তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সুস্থভাবে দেশে ফিরে প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছাতে পারেন।

কালের আলো/এসএ