খুঁজুন
                               
, ,
           

সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ভবিষ্যত সহযোগিতার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ভবিষ্যত সহযোগিতার অগ্রযাত্রায় নতুন মাত্রা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

প্রায় ১৫ মাস আগে দু’জনের মধ্যকার সাক্ষাত পর্বে বাংলাদেশ ও চীনের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একমত হয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি। 

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশ হিসেবেই সেনাপ্রধানের ওইবারের চীন সফরের ধারাবাহিকতায় এবার একদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় এসেছেন জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি। বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদের সঈে। 

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকায় সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে তাঁরা পারস্পরিক কুশলাদি বিনিময় ছাড়াও দু’দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক বজায় ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা করেন। একাধিক সূত্র কালের আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

জেনারেল ফেঙ্গহি বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে চলমান করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে চীনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহায়তার প্রস্তাব দেন। 

একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর এসব কারণেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই বিবেচনা করছেন পর্যবেক্ষক মহল। 

তাদের ভাষ্য হচ্ছে, করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষায় টিকা পাওয়ার আলোচনা শুরুর পরপরই দেশটির পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ সফর অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানও নিজেদের মধ্যকার আলোচনায় কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবেলা চীনের সহযোগিতার বিষয়ে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

যেসব বিষয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আলোচনা 
২০১৮ সালের ১৯ মার্চ চীনের কংগ্রেসে জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম বাংলাদেশ সফর। চীনের এই স্টেট কাউন্সিলর ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.আজিজ আহমেদ তাঁর সঙ্গে মঙ্গলবারের (২৭ এপ্রিল) দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় গুরুত্ব দিয়েছেন দু’দেশের পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়টিকে। পাশাপাশি সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময়, সশস্ত্র বাহিনী পর্যায়ে নিয়মিত মতবিনিময় অব্যাহত রাখারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

একই সূত্র মতে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশ-চীনের সুসম্পর্কের গভীরতা ও ব্যাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এই সম্পর্ককে আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যেতে দৃঢ় প্রত্যয়ের কথা জানান। তিনি বাংলাদেশের ভিশন-২০৪১ অর্জনে চীনের সহযোগিতার নিশ্চয়তা প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্বারোপ করেন।

সবার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ
চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির কথাই গুরুত্বের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। 

এই তথ্য নিশ্চিত করে সূত্রটি বলছে, সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিই হচ্ছে ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়’। বাংলাদেশ সকলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সদা বদ্ধপরিকর।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে চীন
সূত্র জানায়, প্রায় দেড় বছর আগে চীন সফরকালে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ড.আজিজ রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে চীনকে তাদের বন্ধুপ্রতীম মায়ানমার সেনা নায়কদের প্রতি রোহিঙ্গা সমস্যার আশু সমাধানে কার্যকর ভুমিকা রাখতে ওয়েই ফেঙ্গহির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন। 

তাঁরই ধারাবহিকতায় মঙ্গলবারের (২৭ এপ্রিল) বৈঠকেও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের আকাঙ্খার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। 

জেনারেল ওয়েই ফেঙ্গহি পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে যথাসম্ভব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন। এক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতারও নিশ্চয়তা প্রদান করেন।

এ সময় সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও-এএফডি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ  সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অফ অর্ডন্যান্সসহ অন্যান্য জেনারেলরাও উপস্থিত ছিলেন।

শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ, বীর শহীদের স্মরণ 
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছান চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেঙ্গহি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে এসে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন এবং ভিজিটরস বুকে স্বাক্ষর করেন।

পরে তাঁর নেতৃত্বে নেতৃত্বে চীনা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি দলটি সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদৎ বরণকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া’, মাদ্রিদে সুনেরাহ্

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া’, মাদ্রিদে সুনেরাহ্

অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়ান দেশের বাইরে। এবার স্পেনের মাদ্রিদে গিয়ে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জাদুঘর মুসেও দেল প্রাদোতে সময় কাটানোর ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন সুনেরাহ্। ছবিগুলোর সঙ্গে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া।’

ছবি<<সংগৃহীত

সুনেরাহ্র প্রকাশ করা ছবিগুলো স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে তোলা। ছবিতে তাঁকে প্রাদো জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখতে এবং শিল্পকর্ম উপভোগ করতে দেখা গেছে।

মুসেও দেল প্রাদো স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জাদুঘর। বিশেষ করে স্প্যানিশ চিত্রকলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এই জাদুঘরকে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ছবি<<সংগৃহীত

জাদুঘর ঘোরার নানা মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সুনেরাহ্। কোথাও তাঁকে শিল্পকর্মের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, আবার কোথাও জাদুঘরের পরিবেশ উপভোগ করতে দেখা গেছে।

ছবি<<সংগৃহীত

চলতি মাসের শুরু থেকেই ইউরোপে অবস্থান করছেন সুনেরাহ্। মূলত ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি ইউরোপে যান।

এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ্ বিনতে কামাল।

ছবি<<সংগৃহীত

ভেনিসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবার মাদ্রিদে ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্তগুলোও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ভ্রমণের পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর এসব ছবি এরই মধ্যে তাঁর অনুসারীদের নজর কেড়েছে।

সুনেরাহ পোস্ট করা ছবিগুলোতে তাঁর ইউরোপ ভ্রমণের অন্যরকম এক দিকও ফুটে উঠেছে—শুধু পর্যটন নয়, শিল্প ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখতেও আগ্রহী এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি

বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতেও সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় নতুন এ চুক্তি সই হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো গড়ে উঠছে।

নতুন চুক্তির ফলে পারমাণবিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং বেসামরিক জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম  বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

একটি বন্দরের সক্ষমতা শুধু জাহাজ ভেড়ানো কিংবা পণ্য ওঠানামায় মাপা হয় না; কত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নে সেই সেবা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার ওপরও নির্ভর করে বন্দরটির কার্যকারিতা। সেই জায়গাতেই বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। কাগজের ফাইল, কাউন্টারের অপেক্ষা ও ম্যানুয়াল অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে পেছনে ফেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি পেপারলেস ও ‘স্মার্ট পোর্টে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

  • চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের উদ্যোগে সমন্বিত অটোমেশন
  • ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য
  • এক প্ল্যাটফর্মে বিল, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও গেট ব্যবস্থাপনা
  • কমবে সময়, কাগজ ও শারীরিক উপস্থিতি

এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা—যেখানে বিল পরিশোধ থেকে পণ্য ডেলিভারি, গেট পাস থেকে জাহাজের অনুমোদন এবং ট্রাকের প্রবেশ থেকে পার্কিং পর্যন্ত সেবার বড় অংশই পরিচালিত হবে অনলাইনে। চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের দক্ষ নেতৃত্ব ও কার্যকর ধারাবাহিক উদ্যোগে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সেবা ডিজিটাল কাঠামোয় এসেছে। এখন লক্ষ্য সেগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ব্যবস্থায় যুক্ত করা।

কাউন্টার ছাড়াই বন্দরের সেবা
চট্টগ্রাম বন্দরের শতভাগ বিল ইতোমধ্যে অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিলও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপনের পাশাপাশি এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে চালু হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট। ফলে ছুটির দিন কিংবা প্রচলিত ব্যাংকিং সময়ের বাইরেও বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য এর অর্থ সরাসরি—বিল পরিশোধে কাউন্টারে যেতে হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষাও করতে হবে না। একই সঙ্গে কমছে কাগজপত্রের ব্যবহার ও শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন।

৭২ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয় আদায়
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় শুধু গতি নয়, আর্থিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দরের কোনো মাশুল বা ফি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না হলে ‘অটো পুল পেমেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, টিওএসের মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্টের অনলাইন অনুমোদন এবং এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআই ব্যবহার করে অকশন ডেলিভারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলে অনুমোদন, মাশুল আদায় ও পণ্য ডেলিভারির বিভিন্ন ধাপে কাগজনির্ভরতা কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চবকের পরিকল্পনার বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই—আলাদা আলাদা সেবা অনলাইনে নেওয়ার পরিবর্তে পুরো কার্যপ্রবাহকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা।

গেটেই বদলাবে বন্দরের চিত্র
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যানজটের বিষয়টি জড়িয়ে আছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় গেট ব্যবস্থাপনাতেও আনা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন। ই-গেট পাস ইস্যু এবং গেটের ইন-আউট কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। টিওএসের মাধ্যমে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ড টিকিট, ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি চালুর কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

নতুন টিওএস সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে বন্দরে যানবাহনের প্রবেশ, পণ্য সংগ্রহ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও পরিকল্পিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাকের অপেক্ষা কমাতে প্রযুক্তি
বন্দরের ভেতরের যানজট কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে আরও নির্দিষ্টভাবে। টার্মিনালে রুট-বাই-রুট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চালু করা হচ্ছে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা। এর ফলে নির্দিষ্ট রুট ও ব্যবস্থাপনার আওতায় ট্রাক চলাচল করতে পারবে। অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও ঘোরাফেরা কমলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ চাপ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সময়ও সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতৃত্বে গতি, পরিকল্পনায় সমন্বয়
চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেবার গতি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি সফটওয়্যার চালুর বদলে বিলিং, পেমেন্ট, ডেলিভারি, গেট, জাহাজ ও ট্রাক ব্যবস্থাপনাকে একই ডিজিটাল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিয়েল-টাইম ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিল জেনারেশন ও কনফার্মেশনের পাশাপাশি অফডকের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীর একটি কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন কমবে।

চবক কর্মকর্তাদের মতে, এর প্রভাব শুধু সেবা গ্রহণের সময় কমানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দ্রুত মাশুল আদায়, স্বচ্ছ আর্থিক হিসাব, পণ্য খালাসে গতি এবং যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমানোর মাধ্যমে বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতাও বাড়বে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্য, বদলে যাবে সেবার সংস্কৃতি
চট্টগ্রাম বন্দরকে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য প্রযুক্তি সংযোজনের চেয়েও বেশি—এটি বন্দরের সেবা প্রদানের সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। যেখানে একটি বিলের জন্য কাউন্টারে দাঁড়ানো, একটি অনুমোদনের জন্য ফাইল খোঁজা কিংবা গেট পার হওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ধীরে ধীরে অতীতের দৃশ্যে পরিণত হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ পেপারলেস বন্দর গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন হবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ। চবক চেয়ারম্যানও এ লক্ষ্য অর্জনে বন্দর ব্যবহারকারী ও সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা চেয়েছেন। সফল হলে চট্টগ্রাম বন্দরের এই পরিবর্তন শুধু একটি আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থার সংযোজন হবে না; বরং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সেবা ব্যবস্থাপনাকে কাগজের ফাইল থেকে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল অপারেশনে নেওয়ার একটি দৃশ্যমান রূপান্তর হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমকে