খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
দেশে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের শিল্প ও জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় দেশে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশে তীব্র গ্যাসসংকটে বৃহত্তম পরিবেশবান্ধব ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গত বুধবার বিকেল থেকে সরকারি নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারখানার সার উৎপাদন বন্ধ করা হয় বলে জানান কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম। এ নিয়ে দেশে পাঁচটি সার কারখানা বন্ধ হলো। বন্ধ কারখানাগুলোর মধ্যে আরো রয়েছেÑচট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি, যমুনা ফার্টিলাইজার কম্পানি, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কম্পানি এবং বেসরকারিভাবে পরিচালিত কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কম্পানি।

এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং শুরু করেছে, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংগ্রহের উদ্যোগ জোরদার করেছে। জ্বালানি খাত বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু জ্বালানি বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাÑশিল্প ও উৎপাদন খাতেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। শিল্প উদ্যোক্তাদেরও একই ধরনের আশঙ্কা। তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে শিল্প উৎপাদন ধীর হয়ে যাবে এবং রফতানি খাতও চাপের মুখে পড়তে পারে।

দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের খবর ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বাংলাদেশে জ্বালানি ও রপ্তানি খাতে সরাসরি আঘাত হেনেছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও এর প্রভাব দেখা যাবে বলেও আশঙ্কা করছেন দেশের অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তে আঘাত না করলেও অর্থনীতিতে এর প্রভাব মারাত্নক। যা ইতোমধ্যে দেখা যেতে শুরু করেছে। ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গত বৃহষ্পতিবার রাত থেকে তেলের সরবরাহ কমে আসতে দেখা গেছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে যানবাহনগুলোকে। তাছাড়া তেল সমৃদ্ধ ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববাজারেরও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে একটি চেইন রিঅ্যাকশন তৈরি করবে।

আবার বাংলাদেশের মতো দেশে জ্বালানি তেল বা গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে বাস-ট্রাকের ভাড়া যেমন বাড়তে পারে, তেমনি বৃদ্ধি পেতে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং সারের দামও। ফলে কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, যার প্রভাব পড়তে পারে চাল, ডাল ও সবজির বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে আমদানি করা ভোজ্যতেল, গম কিংবা চিনির দাম। যার ধারাবাহিক প্রভাব পড়তে পারে অন্যান্য প্রয়োজনীয় কিংবা সৌখিন পণ্যে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত পৌছাতে আর খুব বেশি দেরি নেই।

অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, মূলত আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ কারণেই বিকল্প উৎস এবং আর্থিক সংস্থানের বিষয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলছেন, ‘আমাদের জ্বালানি মজুদের যে তথ্য পাচ্ছি, সেই অনুযায়ী, ডিজেল আছে দুই সপ্তাহ, কেরসিন ছাড়া আর সবগুলোই তো দুই সপ্তাহ থেকে ছয় সপ্তাহের বেশি নাই। আমাদের অবশ্যই বিকল্প কোনো জায়গা থেকে কেনা যায় সেটি ঠিক করতে হবে। এছাড়া পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব রপ্তানিকারক এরই মধ্যে সমস্যায় পড়েছেন, তাদের পাশেও সরকারের দাঁড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সেলিম রহমান।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্যে বলা হচ্ছে, ইরানের ড্রোন আঘাত হেনেছে আরব আমিরাতের মজুদ রাখা জ্বালানি ট্যাঙ্কারে। নিজেদের বেশ কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি স্থাপনায় ইরানি হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে কাতার। হামলা হয়েছে সৌদি আরবের তেল শোধনাগারেও। সমুদ্র পথে পণ্য পরিবহনে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী ইতোমধ্যে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড। তারা সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালী কেউ পার করার চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করা হবে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি মূল্যে।

কালের আলো/এম/এএইচ

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র  জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয় বলেই ওই দিনটিকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চূড়ান্ত তারিখ জানা যেতে পারে রোববার
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। রোববার ( ২৪ অক্টোবর) ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অর্থাৎ, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে।

এবার পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজারেরচলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে পরীক্ষা চলাকালে বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অপেক্ষা বাড়ছে। ফল প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবেন।

ফল প্রকাশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা
শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

 

ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ভ্রমণ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ভিসা পাওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা নিতে হয় না। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশ করা যায়, আবার কোথাও পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ তালিকায় ভিসামুক্ত প্রবেশের পাশাপাশি অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের (ইটিএ) সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এশিয়ার যেসব গন্তব্যে যেতে পারবেন
বাংলাদেশের কাছাকাছি কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিমুর-লেস্তে। তবে প্রতিটি দেশের প্রবেশনীতি আলাদা। নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ ও তিমুর-লেস্তেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

আফ্রিকার যেসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ
আফ্রিকা অঞ্চলের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কোমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন ও কেনিয়া। এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেওয়া যায়। আবার কেনিয়ার মতো গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমতি নিতে হয়। ফলে আগাম ভিসা না লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গন্তব্য
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য তালিকাভুক্ত গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিয়ুয়ে, সামোয়া, তুভালু ও ভানুয়াতু। এসব গন্তব্যের প্রবেশনীতি ও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ একেক রকম হতে পারে।

এক নজরে ৩৫টি গন্তব্য
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিয়ুয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুভালু এবং ভানুয়াতু। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের শর্ত, ভিসার ধরন ও অবস্থানের অনুমোদিত সময় একেক রকম হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও সব ক্ষেত্রে বিনা প্রস্তুতিতে যাত্রা করা যায় না। কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, কোনো দেশে ইলেকট্রনিক অনুমতি, আবার কোথাও অনলাইন ট্রাভেলার ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে।

এ ছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদ, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে প্রবেশের সর্বশেষ শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ৩৫টি গন্তব্যের হিসাব মানেই সব দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ নয়। তালিকাটি মূলত যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা না নিয়ে যেসব গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার হিসাব।

কালের আলো/এসএ/জেএন