খুঁজুন
                               
, ,
           

মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ সংকটে কৌশলগত পদক্ষেপ চায় সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগ সংকটে কৌশলগত পদক্ষেপ চায় সিপিডি

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কৌশলগত ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য সুপারিশসমূহ’ শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেন।

সংস্থাটির মতে, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটটি নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ভিত্তি শক্ত করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং বিনিয়োগের নিম্ন প্রবণতার মতো নানা সমস্যার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং আর্থিক খাতেও নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়াও অর্থনীতির জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সামনে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টিও বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পরিকল্পিত নীতি ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।’

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক নানা অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’

সিপিডির মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি-এই চারটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

ব্রিফিংয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নের সময় দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।’

ব্রিফিংয়ে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল, টেকসই এবং শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

সিপিডি জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও বাজেট ঘোষণার আগে বিভিন্ন খাতে সুনির্দিষ্ট রাজস্ব নীতিমালা ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

কালের আলো/এসএম/এএএন

ম্যাকাই টেস্টে ফল নয়, ভালো ক্রিকেটেই নজর বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ম্যাকাই টেস্টে ফল নয়, ভালো ক্রিকেটেই নজর বাংলাদেশের

ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের বড় জয়ের পর বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নামার আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ফলাফলের দিকে না তাকিয়ে পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ম্যাকাইয়ে আগামীকাল শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। ম্যাচের আগের দিন গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় অনুশীলন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল বলেন, প্রতিটি দিন ও প্রতিটি সেশনে ভালো ক্রিকেট খেলাই তাঁদের লক্ষ্য।

তাঁর ভাষায়, প্রক্রিয়াটা ঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলে ফলাফল এমনিতেই আসবে। তাই ফলের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে চান তাঁরা।

ডারউইনে ৯ উইকেটের জয় বাংলাদেশকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তবে সেই জয়ের আনন্দ বেশি দিন ধরে রাখলে চলবে না বলে মনে করেন নাজমুল।

অধিনায়কের মতে, পেশাদার ক্রিকেটারদের দ্রুত আগের ম্যাচ থেকে বের হয়ে নতুন ম্যাচে মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডারউইনের জয়কে অতীত হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ দল।

ম্যাকাইয়ের কন্ডিশন ডারউইনের তুলনায় ভিন্ন। এখানকার আবহাওয়া তুলনামূলক ঠান্ডা এবং বাতাসও বেশি। দুই দিনের অনুশীলনে খেলোয়াড়েরা নতুন কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ভালো সুযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন নাজমুল।

ম্যাচের আগে বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে কিছুটা শঙ্কা ছিল। তবে আপাতত পরিস্থিতি ইতিবাচক বলেই জানিয়েছেন অধিনায়ক।

আঙুলে চোট পাওয়ার পর মুশফিকুর রহিম ব্যাটিং অনুশীলনে ফিরেছেন। আজও তিনি ব্যাটিং করেছেন, যদিও কিছুটা কম সময় নিয়ে।

ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করা ওপেনার তানজিদ হাসান ঘাড়ের আড়ষ্টতার কারণে গতকাল ব্যাটিং অনুশীলন করেননি। আজ স্ক্যান করানোর পর নেটে ব্যাটিং করেছেন তিনি।

তানজিদের খেলা নিয়ে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগের সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নাজমুল জানিয়েছেন, সকালে পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রথম টেস্টে খেলা হয়নি সৌম্য সরকারের। তবে ম্যাকাই টেস্টের আগে নিজেকে প্রস্তুত রেখেছেন এই ব্যাটসম্যান। আজ দীর্ঘ সময় ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন তিনি।

ফলে তানজিদ খেলতে না পারলে তাঁর জায়গায় সৌম্যকে খেলানোর সুযোগ বাংলাদেশের হাতে রয়েছে।

সব মিলিয়ে চোটের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমেছে বাংলাদেশ শিবিরে। এখন অধিনায়কের লক্ষ্য একটাই—ডারউইনের জয় ভুলে ম্যাকাইয়ে নতুন করে শুরু করা এবং পাঁচ দিন ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা।

কালের আলো/এসএ

কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
কম পোশাক দিয়ে বেশি লুক-ওয়ারড্রোব সাজানোর কৌশল

প্রতিদিন কী পোশাক পরবেন, তা ঠিক করতে গিয়ে অনেকেই আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় পার করেন। অথচ আলমারিতে পোশাকের সংখ্যা বেশি থাকলেই যে সাজের বৈচিত্র্য বাড়বে, এমন নয়। বরং কিছু বেসিক ও পরস্পরের সঙ্গে মানানসই পোশাক বেছে রাখলে অল্প পোশাক দিয়েই তৈরি করা যায় নানা ধরনের লুক।

এ ধরনের ওয়ারড্রোব সাজানোর মূল কথা হলো—কম পোশাক, বেশি সমন্বয়।

প্রথমে বেসিক পোশাক বাছাই করুন

ওয়ারড্রোবে এমন কিছু পোশাক রাখা ভালো, যেগুলো বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজে মিলিয়ে পরা যায়। সাদা, কালো, নেভি, ধূসর বা বেইজের মতো নিরপেক্ষ রঙের টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট বা টপ বিভিন্ন পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়।

একটি ভালো মানের সাদা শার্ট যেমন জিনসের সঙ্গে ক্যাজুয়াল লুক দিতে পারে, আবার ফরমাল প্যান্টের সঙ্গে পরলে তৈরি হতে পারে অফিস উপযোগী সাজ।

রঙের সমন্বয়ে নজর দিন

অনেক রঙের পোশাক রাখার বদলে কয়েকটি পরস্পরের সঙ্গে মানানসই রঙ বেছে নিলে পোশাক মেলানো সহজ হয়। ওয়ারড্রোবের বেশির ভাগ পোশাক যদি একই রঙের পরিবারের মধ্যে থাকে, তাহলে একটি পোশাকের সঙ্গে অন্যটি মিলিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়ে।

এর সঙ্গে দুই-একটি উজ্জ্বল রঙের পোশাক বা আনুষঙ্গিক জিনিস রাখলে পুরো সাজে বৈচিত্র্য আনা যায়।

একটি পোশাক, একাধিক ব্যবহার

একই পোশাককে ভিন্নভাবে পরার অভ্যাস করলে ওয়ারড্রোব ছোট রেখেও সাজে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব। একটি শার্ট একদিন প্যান্টের সঙ্গে, অন্যদিন জিনসের সঙ্গে পরা যেতে পারে। একই পোশাকের সঙ্গে জুতা, ব্যাগ বা গয়না বদলালেও পুরো লুক অনেকটাই বদলে যায়।

পোশাকের সঙ্গে আনুষঙ্গিক জিনিস রাখুন

কম পোশাকে বেশি লুক তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাকসেসরিজ বেশ কার্যকর। ঘড়ি, স্কার্ফ, বেল্ট, ব্যাগ, জুতা বা সাধারণ গয়না একই পোশাককে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে পারে।

তবে অনেক কিছু একসঙ্গে ব্যবহার না করে পোশাকের ধরন অনুযায়ী এক বা দুই ধরনের অ্যাকসেসরিজ বেছে নেওয়াই ভালো।

মৌসুম অনুযায়ী ওয়ারড্রোব বদলান

সব মৌসুমের পোশাক একসঙ্গে আলমারিতে রাখার প্রয়োজন নেই। গরমের পোশাক আলাদা করে এবং শীত বা বর্ষার পোশাক প্রয়োজন অনুযায়ী বের করে রাখলে আলমারি গোছানো থাকে। এতে প্রয়োজনের পোশাক খুঁজে পাওয়াও সহজ হয়।

খুব কম পরা পোশাক আলাদা করুন

যে পোশাকগুলো গত কয়েক মাসে একবারও পরা হয়নি, সেগুলো আলাদা করে দেখুন। কেন পরা হচ্ছে না, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন। মাপ ঠিক না হওয়া, অন্য পোশাকের সঙ্গে না মেলা বা পছন্দ না হওয়ার মতো কারণ থাকলে সেগুলো আলমারিতে জায়গা দখল করে রাখার প্রয়োজন নেই।

ব্যবহারযোগ্য পোশাক অন্য কাউকে দেওয়া বা পুনর্ব্যবহারের সুযোগ থাকলে সেটিও করা যেতে পারে।

কেনার আগে মিলিয়ে দেখুন

নতুন পোশাক কেনার সময় শুধু পোশাকটি আলাদাভাবে সুন্দর লাগছে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। বাড়িতে থাকা অন্তত দুই-তিনটি পোশাকের সঙ্গে এটি পরা যাবে কি না, সেটিও ভাবুন।

এভাবে কেনাকাটা করলে অপ্রয়োজনীয় পোশাক কেনার প্রবণতা কমে এবং অল্প পোশাক দিয়েই বেশি ধরনের সাজ তৈরি করা যায়।

ভালো ওয়ারড্রোব মানেই পোশাকে ঠাসা আলমারি নয়। বরং এমন পোশাকের সংগ্রহ, যেগুলো একে অন্যের সঙ্গে সহজে মেলানো যায় এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা সম্ভব। কয়েকটি বেসিক পোশাক, মানানসই রঙ ও কিছু সাধারণ অ্যাকসেসরিজ থাকলেই অল্প পোশাকে তৈরি করা যায় অনেক ধরনের লুক।

তাই নতুন পোশাক কেনার আগে আলমারিতে কী আছে, সেটি একবার দেখে নেওয়াই হতে পারে আরও গোছানো ও ব্যবহারিক ওয়ারড্রোব তৈরির প্রথম ধাপ।

কালের আলো/এসএ

ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
ফোন হারালেও ছবি-ভিডিও ও ব্যক্তিগত তথ্য বাঁচাতে আগে থেকেই যা করবেন

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এতে জমা থাকে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ফোন নম্বর, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টসহ নানা তথ্য। তাই ফোন হারিয়ে গেলে শুধু নতুন একটি ডিভাইস কেনার চিন্তা করলেই হয় না, ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তবে আগে থেকেই কয়েকটি নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে রাখলে ফোন হারালেও তথ্য সুরক্ষিত রাখা অনেক সহজ হয়।

নিয়মিত ছবি ও ভিডিওর ব্যাকআপ রাখুন

ফোন হারিয়ে গেলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হতে পারে ছবি ও ভিডিও হারানো। তাই গুরুত্বপূর্ণ ছবি, ভিডিও ও নথির নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা ভালো। ক্লাউড স্টোরেজ বা কম্পিউটারে ব্যাকআপ রাখলে ফোন হারালেও অন্য ডিভাইস থেকে সেগুলো ফিরে পাওয়া সম্ভব।

তবে ক্লাউড অ্যাকাউন্টেও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যবহার করা জরুরি।

শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করুন

ফোনে শুধু সহজ চার সংখ্যার পিন ব্যবহার না করে তুলনামূলক শক্তিশালী পিন, পাসওয়ার্ড বা নিরাপদ বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে। আঙুলের ছাপ বা মুখ শনাক্তকরণের সুবিধা থাকলে সেটিও চালু রাখা ভালো।

স্ক্রিন লক যত শক্তিশালী হবে, ফোন হারানোর পর অন্য কারও পক্ষে সরাসরি ব্যক্তিগত তথ্য দেখার ঝুঁকি তত কমবে।

ফোন খুঁজে পাওয়ার সুবিধা চালু রাখুন

অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের ফোনেই হারানো ডিভাইস খুঁজে বের করার সুবিধা রয়েছে। ফোন হারানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ‘Find My’ ধরনের ফিচার চালু করে রাখুন।

এতে প্রয়োজন হলে অন্য ডিভাইস থেকে ফোনের অবস্থান দেখা, ফোনে শব্দ বাজানো বা দূর থেকে সেটি লক করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু করুন

ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে দুই স্তরের নিরাপত্তা বা 2FA চালু রাখা ভালো। এতে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই অন্য কেউ সহজে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।

তবে 2FA ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যাকআপ কোড বা বিকল্প পুনরুদ্ধার পদ্ধতি নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখা উচিত।

ব্যাংকিং ও আর্থিক অ্যাপ সুরক্ষিত রাখুন

ফোনে ব্যাংকিং বা আর্থিক সেবার অ্যাপ থাকলে সেগুলোতে অতিরিক্ত লক বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবহার করা যেতে পারে। ফোন হারানোর পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক সেবাদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

কোনো অবস্থাতেই ফোন হারানোর পর অপরিচিত ব্যক্তি ফোন করে বা বার্তা পাঠিয়ে ওটিপি, পিন কিংবা পাসওয়ার্ড চাইলে তা দেওয়া যাবে না।

লকস্ক্রিনে ব্যক্তিগত তথ্য দেখানো বন্ধ করুন

ফোন লক থাকা অবস্থায়ও অনেক সময় নতুন বার্তার কিছু অংশ স্ক্রিনে দেখা যায়। এতে ব্যক্তিগত বা সংবেদনশীল তথ্য অন্যের চোখে পড়তে পারে। তাই লকস্ক্রিনে নোটিফিকেশনের বিস্তারিত তথ্য দেখানোর অপশন বন্ধ রাখা যেতে পারে।

সিমের নিরাপত্তার কথাও ভাবুন

ফোনের সঙ্গে সিম কার্ডও হারিয়ে যেতে পারে। তাই ফোন হারালে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিমটি বন্ধ বা পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে আপনার নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করার ঝুঁকি কমে।

ফোন হারালে দ্রুত যা করবেন

ফোন হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারার পর দেরি না করে অন্য একটি ডিভাইস থেকে নিজের ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করুন এবং প্রয়োজন হলে সেটি লক করুন। ফোন ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে দূর থেকে ডিভাইসের তথ্য মুছে ফেলার সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এর পাশাপাশি ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলোর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং প্রয়োজন হলে ব্যাংক ও মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

ফোন হারানোর পর কী হবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে ব্যাকআপ, শক্তিশালী স্ক্রিন লক, ডিভাইস ট্র্যাকিং ও দুই স্তরের নিরাপত্তার মতো ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু রাখলে একটি হারানো ফোনের কারণে ব্যক্তিগত তথ্য ও গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি হারানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।

কালের আলো/এসএ