খুঁজুন
                               
, ,
           

এক অনিঃশেষ দহনগাথা

আলমগীর মোহাম্মদ
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
এক অনিঃশেষ দহনগাথা

বর্তমান সময়ের কথাসাহিত্যে মাসউদ আহমাদ এক উজ্জ্বল ও ব্যতিক্রমী নাম। আশির দশকে জন্ম নেওয়া এই লেখকের লেখায় মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা, ইতিহাসের নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ এবং অস্তিত্বের সংকট অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটে ওঠে। তার গদ্যশৈলী যেমন স্নিগ্ধ, তেমনি তীক্ষ্ণ। জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখা তার আলোচিত উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ পাঠকমহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে। এছাড়া তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে উপন্যাস ‘নিজের সঙ্গে একা’, ‘রুপচানের আশ্চর্য কান্না’, ‘তিতাসের বুনো হাঁস’ এবং তাঁর পুরস্কারজয়ী গল্পগ্রন্থ ‘দূর পৃথিবীর গন্ধে’। কেবল জীবনীমূলক আখ্যান নয়, বরং চরিত্রের গভীরে ঢুকে তাদের দহনকে মূর্ত করে তোলাই মাসউদ আহমাদের লেখনীর বিশেষত্ব।

মাসউদ আহমাদের উপন্যাস ‘লাবণ্যর মুখ’ বাংলা সাহিত্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনকে এক ভিন্ন আলোয় দেখার এক সাহসী ও নান্দনিক প্রয়াস। কবিকে নিয়ে বাংলা সাহিত্যে গবেষণার অন্ত নেই, কিন্তু তার স্ত্রী লাবণ্য দাশের দর্পণে কবির ব্যক্তিজীবন, দাম্পত্যের বিমূর্ত টানাপড়েন এবং তার ভেতরের নিঃশব্দ হাহাকারকে এমন নিপুণভাবে খুব কম লেখকই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। মাসউদ আহমাদ অত্যন্ত সংবেদনশীল গদ্যে এই উপন্যাসে কেবল একজন প্রবাদপ্রতিম কবিকে নয়, বরং একজন সাধারণ রক্ত-মাংসের মানুষ ও তার চারপাশের অবহেলিত বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন, যেখানে কবির আকাশ ছোঁয়া কল্পনা আর মাটির পৃথিবীর রূঢ় অভাব এক বিন্দুতে এসে মিলেছে।

‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসের মূল ভিত্তি লাবণ্য ও জীবনানন্দের এক অমীমাংসিত সম্পর্কের ওপর। খলিল জিবরানের ‘বিয়ে’ কবিতায় যে আদর্শিক দূরত্বের কথা বলা হয়েছে— যেখানে মন্দিরের পিলারগুলো আলাদা দাঁড়িয়ে থাকে—জীবনানন্দের জীবনে সেই দূরত্ব ছিল এক নিষ্ঠুর বিচ্ছিন্নতা বা ‘এলিনিয়েশন’। কার্ল মার্ক্স যেমন শ্রমিকের তার শ্রম ও সৃষ্টি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা বলেছিলেন, জীবনানন্দও তেমনি তার পারিপার্শ্বিক সমাজ, পরিবার এমনকি নিজের সত্তা থেকেও যেন এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করতেন। লাবণ্যর চোখে জীবনানন্দ ছিলেন এক রহস্যময় ও দুর্বোধ্য সত্তা, যার হৃদয়ের কক্ষগুলো ছিল লাবণ্যর জন্য চিরকাল রুদ্ধ। লাবণ্য চেয়েছিলেন প্রথাগত এক ঘরোয়া জীবন, নিরাপত্তা আর সামাজিক মর্যাদা; কিন্তু কবির জগৎ ছিল নক্ষত্র, হিজল-বট, ঘাস আর এক গভীর বিষণ্নতার। এই যে বিপরীতধর্মী দুটি মানুষের এক ছাদের নিচে বছরের পর বছর বসবাস, তা উপন্যাসে এক অমোঘ ট্র্যাজেডি হিসেবে মূর্ত হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের চরিত্রে খলিল জিবরানের ‘কবি’ কবিতার অমর বৈশিষ্ট্যগুলো প্রবলভাবে বিদ্যমান। জিবরান কবিকে দেখেছেন ইহলোক ও পরলোকের যোগসূত্র হিসেবে, এক বিশুদ্ধ ঝরনা হিসেবে যা তৃষ্ণার্ত আত্মার তৃষ্ণা মেটায়। কিন্তু একই সাথে জিবরান বলেছিলেন, কবি তিনি যাকে মানুষ জীবদ্দশায় অবজ্ঞা করে কিন্তু মৃত্যুর পর স্বীকৃতি দেয়। মাসউদ আহমাদ তার উপন্যাসে এই রূঢ় ও তিক্ত সত্যটিকে তুলে ধরেছেন। জীবনানন্দ তার সমসাময়িক সাহিত্যিক মহলে ছিলেন ‘দুর্বোধ্য’। কর্মক্ষেত্রে বারবার পদচ্যুতি, বরিশাল থেকে কলকাতায় এসে উদ্‌বাস্তু হওয়ার মতো ‘ডায়াস্পোরিক ক্রাইসিস’ এবং সামাজিক লাঞ্ছনা তাকে তিলে তিলে কুরে খেয়েছে। ফ্রাঞ্জ কাফকার ‘দ্য হাঙ্গার আর্টিস্ট’-এর মতো জীবনানন্দও যেন তার শৈল্পিক তৃপ্তির জন্য এক আমৃত্যু উপবাস করেছেন। তার দারিদ্র্য কেবল অন্নের অভাব ছিল না, তা ছিল এক প্রকারের অস্তিত্বশীল রিক্ততা। মাসউদ আহমাদ এই দহনকে কেবল শব্দে নয়, অনুভবে চিত্রিত করেছেন।

উপন্যাসে কবির শিকড়হীনতার বেদনা এক বিশাল অনুষঙ্গ। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে কলকাতায় আসার পর কবির যে মানসিক অস্থিরতা, তা তার ঘরোয়া জীবনেও বিষ ছড়াতো। লাবণ্যর সাথে তার সম্পর্কের যে উত্থান-পতন, তাতে প্রেম যেমন ছিল, তেমনি ছিল গভীর অপ্রেম ও মান-অভিমান। জিবরান বলেছিলেন, ‘ওক গাছ আর সাইপ্রাস একে অপরের ছায়ায় বেড়ে ওঠে না’। কিন্তু জীবনানন্দের ছায়ায় লাবণ্যর নিজস্ব সত্তা যেন ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছিল। লাবণ্যর চাওয়া-পাওয়াগুলো ছিল অতি সাধারণ— স্বাভাবিক দাম্পত্য প্রেম, আর্থিক সচ্ছলতা ও একটু সামাজিক সম্মান। কিন্তু কবির কাছে ছিল কেবল কবিতার পাণ্ডুলিপি আর ট্রামের শব্দের মতো কিছু কর্কশ বাস্তবতা। এই পার্থিব আর অপার্থিবের দ্বন্দ্বে লাবণ্যর ‘মুখ’ হয়ে উঠেছে এক বিষণ্ন দর্পণ।

মাসউদ আহমাদ লাবণ্যর চরিত্রটিকে কেবল একজন রাগী বা অভিযোগকারী স্ত্রী হিসেবে আঁকেননি। তিনি দেখিয়েছেন লাবণ্যর ভেতরের সেই অবদমিত আকাঙ্ক্ষাগুলোকে। লাবণ্য জানতেন তার স্বামী একজন মহৎ কবি, কিন্তু সেই মহত্ত্বের জন্য যে চড়া মূল্য দিতে হচ্ছিল, তা বইবার ক্ষমতা এক সাধারণ নারীর ছিল না। সন্তানদের প্রতি কবির মমতা থাকলেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে সেই মমতা অনেক সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। আত্মীয়-পরিজনের বাঁকা কথা আর ‘অকর্মণ্য’ উপাধি কবির জীবনকে যেভাবে জর্জরিত করেছিল, তার ঢেউ আছড়ে পড়তো লাবণ্যর হৃদয়েও। লেখক অত্যন্ত মুনশিয়ানায় দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি সুন্দর সম্পর্ক দারিদ্র্য আর অযত্নের পলিপড়ে ভরাট হয়ে যায়।

উপন্যাসের শেষ দিকে কবির রহস্যময় প্রস্থান বা ট্রাম দুর্ঘটনা পাঠককে নাড়া দেয় প্রবলভাবে। জীবনানন্দ কি স্বেচ্ছায় সেই অন্ধকারের পথে পা বাড়িয়েছিলেন? মাসউদ আহমাদ এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিলেও কবির যে মনস্তাত্ত্বিক বিচ্ছিন্নতা এঁকেছেন, তাতে এক ধরনের নিয়তিবাদের ছোঁয়া পাওয়া যায়। জিবরানের ‘কবি’ যেমন শেষে লরেল পাতার মুকুট পায়, জীবনানন্দও তেমনি মরণোত্তর জয়গান পেয়েছেন। কিন্তু তার জীবদ্দশায় যে মানুষটি (লাবণ্য) তার সাথে আগুনের পথ হেঁটেছেন, তার স্বীকৃতি কোথায়?

শেষে বলা যায়, ‘লাবণ্যর মুখ’ উপন্যাসটি জীবনানন্দ দাশের জীবনের এক কাব্যিক ও মনস্তাত্ত্বিক পুনর্গঠন। মাসউদ আহমাদ ইতিহাস, কল্পনা এবং সাহিত্যের ব্যবচ্ছেদ করে এমন এক অনন্য আখ্যান তৈরি করেছেন, যেখানে জিবরানের দর্শন, কাফকার হাহাকার এবং মার্ক্সের বিচ্ছিন্নতাবোধ একসাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। গ্রন্থটি পাঠের পর পাঠক জীবনানন্দের নির্জন ব্যক্তিজীবনের রক্তক্ষরণ এবং লাবণ্যর মৌন আর্তনাদ দেখে ব্যথিত হবে। মাসউদ আহমাদের এই সৃষ্টি বাংলা জীবনীমূলক উপন্যাসের ধারায় এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যা পাঠককে দীর্ঘকাল আচ্ছন্ন করে রাখবে।

ছয় বছর পর আবারও জুটি অপূর্ব-শার্লিন, ‘নীলপরী’তে থাকছে চমক

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ছয় বছর পর আবারও জুটি অপূর্ব-শার্লিন, ‘নীলপরী’তে থাকছে চমক

প্রায় ছয় বছর পর আবারও জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও শার্লিন ফারজানা। মাসরিকুল আলমের পরিচালনায় নতুন নাটক **‘নীলপরী’**তে দেখা যাবে তাঁদের। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের জিন্দা পার্কে সম্প্রতি নাটকটির শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা।

শুটিংয়ের ফাঁকে নাটকটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অপূর্ব জানান, ‘নীলপরী’তে দর্শকদের জন্য বেশ কিছু চমক থাকছে। তাঁর ভাষায়, গল্পটি ‘ক্যাচি’ এবং শুরুতে দর্শকদের আকৃষ্ট করার মতো নানা উপাদান থাকলেও একপর্যায়ে গল্প ভিন্ন দিকে মোড় নেবে।

অপূর্ব ও শার্লিন এর আগে ‘ভালোবাসার ফানুশ’ নাটকে জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবার একসঙ্গে কাজ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত দুজনই।

অপূর্ব বলেন, পুরোনো সহশিল্পীর সঙ্গে কাজ করার আনন্দই আলাদা। শার্লিনের সঙ্গে আগে থেকেই তাঁদের অভিনয়ের বোঝাপড়া তৈরি থাকায় নতুন করে রসায়ন তৈরির চাপ নেই বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে শার্লিন জানান, অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতির অন্যতম কারণ ছিল কাজের সেই ভালো লাগাটি মিস করা। অপূর্বর সঙ্গে আবার কাজ করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর মতে, অপূর্ব সহশিল্পীর অভিনয়ের জায়গাগুলোও খেয়াল করেন এবং প্রয়োজন হলে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করেন।

শুটিংয়ের সময় অপূর্বর কাছ থেকে কোনো ধরনের ‘সুপারস্টারসুলভ’ আচরণ বা আধিপত্য অনুভব করেননি বলেও জানান শার্লিন। জবাবে অপূর্ব বলেন, ‘আমি তো নিজেকে সুপারস্টার মনেই করি না, ডমিনেট কী করতে যাব!’

এদিকে অভিনয়ের পাশাপাশি অপূর্বর সংগীতচর্চারও প্রশংসা করেন শার্লিন। তিনি জানান, অপূর্ব শুধু ভালো গানই করেন না, গান লেখাতেও তাঁর দারুণ দক্ষতা রয়েছে।

ছোট পর্দার জনপ্রিয় এই অভিনেতাকে বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের জন্যও রয়েছে নতুন খবর। অপূর্ব জানান, বর্তমানে চারটি সিনেমার গল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। চারটি সিনেমার গল্পই ভিন্ন ধরনের। তবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত সিনেমাগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানাতে চান না তিনি।

শাকিব খানের সঙ্গে ভবিষ্যতে একই সিনেমায় কাজ করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন অপূর্ব। জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রস্তাব পাননি। তবে সুযোগ এলে শাকিব খানের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী তিনি।

কালের আলো/এসএ

ক্রম নিয়ে টানাপোড়েন শেষে তালিকায় এক নম্বরে মঈন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
ক্রম নিয়ে টানাপোড়েন শেষে তালিকায় এক নম্বরে মঈন খান

অবশেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা হয়েছে বর্তমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা। নতুন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে মন্ত্রীদের তালিকায় এক নম্বরে রাখা হয়েছে। আর প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির রয়েছেন প্রথম অবস্থানে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রীদের তালিকা এবং ১১টা ১৪ মিনিটে প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা হালনাগাদ করা হয়। নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেওয়ার তিন দিন পর ওয়েবসাইটে এই পরিবর্তন আনা হলো।

তালিকার ক্রম নির্ধারণ নিয়ে জটিলতার কারণেই হালনাগাদে বিলম্ব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। ব্যক্তির জ্যেষ্ঠতা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে তালিকার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

নতুন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আবদুল মঈন খানকে এক নম্বরে রাখার পর অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রয়েছেন দুই নম্বরে। এরপর যথাক্রমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নাম রয়েছে।

নতুন চার মন্ত্রীর মধ্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান ১৪ নম্বরে, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ১৮ নম্বরে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ২৬ নম্বরে রয়েছেন। নতুন চারজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভায় মোট মন্ত্রীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় এক নম্বরে স্থান পেয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ রয়েছেন তিন নম্বরে। নতুন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার তালিকার ২৪ নম্বরে অবস্থান করছেন।

এর আগে গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় চারজন নতুন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল মঈন খান, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সাচিং প্রু জেরী ও আন্দালিভ রহমান পার্থ। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার শূন্য পদে দায়িত্ব পান ড. আবদুল মঈন খান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

গাজায় কবরের জায়গাও নেই, দাদার কবরে বাবাকে দাফন করলেন ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৬ অপরাহ্ণ
গাজায় কবরের জায়গাও নেই, দাদার কবরে বাবাকে দাফন করলেন ছেলে

গাজায় দীর্ঘ যুদ্ধ ও ব্যাপক প্রাণহানির কারণে কবরস্থানে জায়গার সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, বাবার মরদেহ দাফনের জন্য শেষ পর্যন্ত দাদার কবরকেই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন ২০ বছর বয়সী ওমর আল-সাওহি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমরের বাবা মোহাম্মদ আল-সাওহি (৪০) গত ১০ জুন গাজার জায়তুন এলাকায় ইয়েলো লাইনের কাছে একটি দোকানে চা-কফি বিক্রি করছিলেন। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি নিহত হন।

বাবার মরদেহ দাফনের জন্য ওমর জায়তুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো কোনো জায়গা প্রায় নেই। একের পর এক মরদেহে পূর্ণ কবরস্থানটির অনেক কবরই সাময়িকভাবে পাথর ও কাগজ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওমর বলেন, “সেখানে নতুন কোনো কবরের জায়গা ছিল না। তাই দাদার কবরেই বাবাকে দাফন করতে বাধ্য হয়েছি।”

যুদ্ধের কারণে গাজার বহু কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। একই সঙ্গে মরদেহ দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও কবরের ফলক তৈরির উপকরণেরও তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৬০টি কবরস্থানের অনেকগুলোই যুদ্ধের আগেই প্রায় পূর্ণ ছিল। যুদ্ধের সময় নিহত মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।

খান ইউনিসের একটি কবরস্থানে দীর্ঘদিন ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করা তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের একপর্যায়ে তাঁকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর খুঁড়তে হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময় ওই কবরস্থানে প্রায় ৬০টি কবর থাকলেও এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে।

গাজায় কবরের সংকট এখন শুধু জায়গার অভাবের বিষয় নয়; মরদেহ শনাক্তকরণ, উদ্ধার, দাফন এবং কবর সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবারকে বাড়ির আঙিনা, তাঁবুর পাশ, স্কুল কিংবা হাসপাতালের চত্বরেও স্বজনদের দাফন করতে হয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এসএ