খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

আওয়ামী লীগের পতনের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন ড. মোমেন

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের পতনের কারণ নিয়ে মুখ খুললেন ড. মোমেন

দেড় বছর আগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তছনছ হয়ে যায় আওয়ামী লীগ সরকারের মসনদ। ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হন সে সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা প্রায় ১৬ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও দেশের বৃহত্তর দলটির কেন এভাবে পতন হলো, তা নিয়ে মুখ খুললেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

হাসিনা সরকারের সাবেক এই মন্ত্রী বর্তমানে বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে। সম্প্রতি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বাংলা চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন আব্দুল মোমেন।

সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কোভিড মহামারি অর্থাৎ করোনার পরে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারের মন্ত্রীদের সাক্ষাতের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত হয়ে গিয়েছিল। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। সেই সঙ্গে কিছু নেতা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এগুলোকেই দলটির পতনের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে আব্দুল মোমেন দাবি করেন, টাকা দিলেই আওয়ামী লীগে পদপদবি পাওয়া যেত। জনগণের সঙ্গে দলটির সম্পৃক্ততা একেবারেই কমে গিয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার সরকারি কর্মচারীদের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ওরা যা বলে তাই করে। একজন মন্ত্রী হিসাবে কিংবা পরবর্তীতে এমপি হিসাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ আমাদের সীমিত হয়ে গেল। কারণ সরকারি অফিসাররা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেন, একটা না একটা বাহানা দিয়ে তিনারা সহজে (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেন না। । আর আমরা যারা রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রী মাঝেমধ্যে কোনো জায়গায় বড় বক্তৃতা দেন, আমরা দূরে চেয়ারে বসে থাকি, আর উনি সারমন (ধর্মোপদেশের মতো বক্তৃতা) দেন, আমরা এক পাশে থেকে শুনি। তারপরে যখন উনি বক্তৃতা শেষ করেন, তখন আমাদের রাজনীতিবিদরা ওনার সঙ্গে কথা বলার জন্য সামনে অগ্রসর হলে সেই এসএসএফের লোক ২৫ ফিট দূরে, দূর দূর করে সরায়ে দেয়। ফলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে কিছু বলা যে, আমরা কিছু ফিল করি, এই চাঁদাবাজি, এই করাপশন, এগুলো পাবলিক কী মনে করতেছে, সেটা বলার সুযোগ আমাদের কমে গেল।’

আব্দুল মোমেন মনে করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়েছে দুটি। একটি হচ্ছে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা কমে যাওয়া, আরেকটি বিভিন্ন শ্রেণির নেতার কাছে চাঁদাবাজিই মুখ্য হয়ে যাওয়া।

সাবেক এই মন্ত্রী দাবি করেন, ‘এগুলো আমি সংসদে তুলেছি। সংসদেও প্রস্তাব দিয়েছি যে, এগুলো বন্ধ করতে হবে। কারণ মানুষ এগুলো পছন্দ করে না। কিন্তু আনফরচুনেটলি আমার দলের নীতি নির্ধারকরা তাতে গুরুত্ব দেয়নি।’

মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতেন না উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘সব সময় দেখা করতে পারতাম না। কোভিডের আগে যখন আমরা মন্ত্রী হলাম, তখন প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকদিন ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পরে সব অফিসারদের বের করে দিতেন, সব ইলেক্টেড রাজনীতিবিদদের রাখতেন। তখন উনি বলতেন, আপনাদের কোনো সমস্যা আছে কি না। তখন আমরা নির্দ্বিধায় আমাদের সমস্যাগুলো বলতাম। তখন উনি উত্তর দিতেন, কাউন্টার হতো। আমরাও কাউন্টার করতাম। কিন্তু কোভিডের পরে মিটিং শেষ হওয়ার সঙ্গেই সঙ্গে উনি বের হয়ে যান। আমরা দৌড়ে গিয়ে কিছু কথা যদি বলতে পারি, সেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করি। এই একটা ডিসটেনস (দূরত্ব) শুরু হলো। এই ডিসটেন্সটা পরবর্তীতে আর ঘোচানো যায়নি।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সরকার ও আওয়ামী লীগের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘কোটা সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকের ধারণা হলো যে, আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে এই কোটা রেশনালাইজ (যৌক্তিক) পরিবর্তন চায়। আমাদের অনেক সহকর্মী এই নাতিফাতি ওগুলোর জন্য কোটা রাখার পক্ষেই না। ছেলে হইছে, আচ্ছা ছেলে-মেয়ের পর্যন্ত রাখছেন ঠিক আছে, এরপরে আর কী? কিন্তু আমরা এটা পরিবর্তন চেয়েছি এবং এইটা নীতিগতভাবে আওয়ামী লীগও এটা গ্রহণ করেছে। কিন্তু কোথায় লইয়াররা কী একটা কেস-ফেস করে, তারপরে আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। তখন আমাকে বলা হলো, আমরা যেহেতু আপিল করেছি, কোর্টে এটা রায় দেওয়ার। আমি বললাম, কোর্টের রায় দেওয়ার কেস না, এটা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমি তখন আমার ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম, বলছিলাম আমেরিকাতে ৪০০ বছর কোর্ট এবং জাজেরা স্লেভারিকে (দাসত্ব) প্রটেক্ট (রক্ষা) করেছে কিন্তু। ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে যখন আব্রাহাম লিংকন ঘোষণা দিলেন, রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত দিলেন যে স্লেভারি ইজ অ্যাবোলিশড, এইটা বাতিল হলো। এরপর কিন্তু কোর্টের কোনো জাজ কোনো কোর্ট স্লেভারিকে প্রটেক্ট করে নাই। সুতরাং ইট ওয়াজ পলিটিক্যাল ডিসিশন। উই শুড টেক পলিটিক্যাল ডিসিশন।’

নেতাদের চাঁদাবাজির পাশাপাশি বড় বড় দুর্নীতির বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা গিয়েছিল কি না, এ প্রশ্নে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এই কালো কালো টাকা সাদা করা, সেই সব নিয়ে আমি বলেছি, করাপশন নিয়ে, সরকারি কর্মচারীর যে ভরাডুবি করাপশন, সেটা নিয়ে বলেছি। এই প্রজেক্ট ডিলে করে যে করাপশন হয় সেটা আমি বলেছি। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে যে একটা নৈরাজ্য, ব্যাংকিংয়ে দু-একটা লোক লাভবান হচ্ছে, যারা এমন লোক, এরা ব্যবসায়ী, আমি চিনিও না ওদের। এদের প্রোটেকশন দেওয়া হয়েছে। আমি এগুলো তুলেছি, আমি তোলার পরে আমাকে বলা হলো, আমরা তো করাপশনে জিরো টলারেন্স দিয়েছি। দুদককে এম্পাওয়ার (শক্তিশালী) করেছি, তারা কাজ করবে, আমি কি প্রত্যেকের কেসের পেছনে পেছনে লেগে থাকব? আমি বলেছি, দু-একটার পেছনে লাগা তো উচিত।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমরা দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করি না, খালি প্রশংসা করেই শেষ। আর দোষটা বলতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেন যে আমার পিয়নেরই ১০০ কোটি টাকা। ওনার এক পিয়ন চাঁদাবাজি করে বহু টাকার মালিক হয়ে যায়। সুতরাং অনেক দিন থাকলে যেটা হয় সেটাই। ওই যে বললাম একটা দূরত্ব বেড়েছিল। এগুলো আমাদের অপকর্ম।’

মন্ত্রিসভায় কাদের বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত বলে মনে হয়েছে—এ প্রশ্নে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘কোনো রাজনীতিবিদ করাপশন করতে পারে কেবল সরকারি কর্মচারীর সহযোগিতায়, একা পারে না। কারণ প্রজেক্টের টাকার ডিসবার্সমেন্ট অফিসাররা করে। তখন অফিসারের সঙ্গে একটা আঁতাত করতে হবে, অনেক নিচে নামতে হবে, তার সঙ্গে বলতে হবে যে তুমি এটাতে টাকা খাও, এর থেকে অত অংশ আমাকে দাও। সহযোগ ছাড়া আপনি খেতে পারবেন না। একা খাইতে পারবেন না।’

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালের আগস্ট থেকে ২০১৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মোমেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

ওই মেয়াদে আব্দুল মোমেনকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। তিনি পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনও করেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ নির্বাচনেও আব্দুল মোমেন সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হলেও তাকে আর মন্ত্রী করা হয়নি।

তবে সংসদ সদস্য হিসেবেও বেশিদিন থাকতে পারেননি সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের হলে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করলে অন্যদের আব্দুল মোমেনও সংসদ সদস্য পদ হারান।

আওয়ামী লীগের পতনের পর শেখ হাসিনাসহ তার সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি আমলাসহ অনেকেই বিদেশে পালিয়ে যান। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনও সেই তালিকার একজন। দেশ থেকে পালিয়ে তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

আইডিএফ-হিজবুল্লাহ: পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবাননে নিহত ২৪, ইসরায়েলে ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
আইডিএফ-হিজবুল্লাহ: পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবাননে নিহত ২৪, ইসরায়েলে ৪

শুক্রবার (১৯ জুন) এসব হতাহতের তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট এবং লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নে বাধা না দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সংলাপের প্রতি চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

লেবাননের বার্তাসংস্থা এনএনএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পরও মধ্যরাতের পর হামলা অব্যাহত রাখে ইসরায়েলি। স্থানীয় সময় রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ শহর, কাফর তেবনিত, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এবং রাইহান পাহাড়ি এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায়।

ওই হামলার কিছুক্ষণ পর নাবাতিয়েহর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কাফরজোজ এবং হারুফের আল-বাইদার এলাকায় নতুন করে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত হন।

আল-আশামিয়া এলাকায় আরেকটি হামলায় একটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে চারজন নিহত হন। এছাড়া কাফর সির এলাকায় পৃথক হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।

ভোরের দিকে দুইর পৌরসভা ভবনের কাছে এবং দেইর আল-জাহরানি-নাবাতিয়েহ মহাসড়কে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো দুটি ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হন। এদিকে দুইর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছেছে।

যুদ্ধ বন্ধে ১৪ জুন সমঝোতায় পৌঁছায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাতে (১৮ জুন) ইলেকট্রনিকভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই সমঝোতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।

এছাড়া ইউএস সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত চলাকালে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও বদলি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন এবং নতুন বিভাগে ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলামকে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্রকে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমাকে চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি (দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর), ১৮৯৮-এর ১০(২) ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত দুই কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের ছয় কর্মকর্তাকে নতুন বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাকে সিলেট বিভাগে এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন এবং রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বীথিকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপ্রধান নূরী তাসমিন ঊর্মিকেও ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ন্যস্ত করা কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগামী ২৪ জুন তারিখের মধ্যে বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।

কালের আলো/এসএকে

দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকা মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের শতবর্ষী প্রাচীন ‘নয়নের খাল’ পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে খালটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। এসময় খালটির স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অস্তিত্ব হারাতে বসা খালগুলোর বেহাল পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। এ সময় দীর্ঘ দিনেও কেন অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, সরকার সারা দেশে নদী-খাল রক্ষায় কাজ করছে। মিরকাদিমের নয়নের খালের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খাল যেভাবে দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করে গাইড লাইন করে দেওয়া হবে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেব। খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়।

খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কেউ যেন পুনরায় নতুন করে খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা খালের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দ আন নূর মহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

খালটির দুই পাড়ে অন্তত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত খালটির বর্তমানে কোথাও ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কোথাও খালের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে।

খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে এলাকার পরিবেশের উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি