খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

তিস্তা প্রকল্পে ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
তিস্তা প্রকল্পে ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মির্জা ফখরুল

তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সদিচ্ছা ও অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় চীনের অব্যাহত সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বেইজিংয়ে গ্রেট হলে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং এর সঙ্গে বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।

পাশাপাশি চীন সফররত বিএনপির প্রতিনিধি দলটি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং এর সঙ্গেও বৈঠক করেছে। এ বৈঠক হয় আইডিসিপিসি ভবনে।

বিএনপি মিডিয়া সেলের অন্যতম সদস্য শায়রুল কবীর খান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, সভায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মৈত্রী দৃঢ়করণের যে সূচনা হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তা বিকশিত হয়—সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

পাশাপাশি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় উন্নীতকরণের বিষয়ে উভয় পক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব এবং দুই দেশের সম্পর্কে গভীর আস্থা ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার প্রতিফলন রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া, চীনের সিপিসি এবং বিএনপির মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক সফর এবং নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

সভা শেষে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি এক-চীন নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মানবিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চীনের অব্যাহত সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, টেকসই ও স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সদিচ্ছা ও অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চীনা ভাষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে।

প্রতিরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, উন্নত পানি পরিশোধন প্রযুক্তি এবং গ্রামীণ উন্নয়নে চীনের সাফল্য থেকে বাংলাদেশ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে আগ্রহী। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ শক্তি, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং ব্যাটারিসহ হালকা ও মাঝারি শিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চীনের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোবোটিক সার্জারি ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা, টিকাদান কর্মসূচি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশিত। পাশাপাশি, চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধির আশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

গণচীনের উপ-রাষ্ট্রপতি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী উভয়েই বাংলাদেশকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথ অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উভয় বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দিকনির্দেশনা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সংলাপ বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে এবং ভবিষ্যতে বহুমাত্রিক সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএনপি প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন—বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ; বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য এবং এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী; সাবেক এমপি ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু; বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন; বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন; যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন-নবী খান সোহেল; বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নজমুল হক নান্নু; বেবী নাজনীন; সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল; স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

এ ছাড়াও আছেন—সংসদ সদস্য ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল; সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন; সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক নীলুফার চৌধুরী মনি; সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জুট ওয়ার্কার পার্টির সভাপতি সায়েদ আল নোমান; সংসদ সদস্য ও মাগুরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মনোয়ার হোসেন; ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের আহ্বায়ক সানজিদা ইসলাম; যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ; বিএনপি মহাসচিবের এপিএস ইউনুস আলী; ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমান উল্লাহ আমান; প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, বিএনআরসি (বিএনপি গবেষণা উইং) মীর সোলাইমান।

কালের আলো/এসএকে

আইডিএফ-হিজবুল্লাহ: পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবাননে নিহত ২৪, ইসরায়েলে ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
আইডিএফ-হিজবুল্লাহ: পাল্টাপাল্টি হামলায় লেবাননে নিহত ২৪, ইসরায়েলে ৪

দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়াহ শহর ও আশপাশের এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসব হামলার প্রতিবাদে হিজবুল্লাহর হামলায় চার ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং পাঁচ সেনা আহত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) এসব হতাহতের তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট এবং লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নে বাধা না দেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে সতর্ক করেছে চীন। একই সঙ্গে বেইজিং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সংলাপের প্রতি চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

লেবাননের বার্তাসংস্থা এনএনএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পরও মধ্যরাতের পর হামলা অব্যাহত রাখে ইসরায়েলি। স্থানীয় সময় রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান নাবাতিয়েহ শহর, কাফর তেবনিত, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা এবং রাইহান পাহাড়ি এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায়।

ওই হামলার কিছুক্ষণ পর নাবাতিয়েহর বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, কাফরজোজ এবং হারুফের আল-বাইদার এলাকায় নতুন করে হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় অন্তত আটজন নিহত হন।

আল-আশামিয়া এলাকায় আরেকটি হামলায় একটি বাড়ি ধ্বংস হয়ে চারজন নিহত হন। এছাড়া কাফর সির এলাকায় পৃথক হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এনএনএ।

ভোরের দিকে দুইর পৌরসভা ভবনের কাছে এবং দেইর আল-জাহরানি-নাবাতিয়েহ মহাসড়কে মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে চালানো দুটি ড্রোন হামলায় আরও দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হন। এদিকে দুইর এলাকার একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে পৌঁছেছে।

যুদ্ধ বন্ধে ১৪ জুন সমঝোতায় পৌঁছায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার রাতে (১৮ জুন) ইলেকট্রনিকভাবে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এই সমঝোতায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবসান এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনএনএ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে লেবাননে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১২ জন নিহত এবং ১১ হাজার ৮৭৩ জন আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।

এদিকে, দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৬৯৩ জনের বেশি ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন আইডিএফ-এর সদস্য এবং ২৩ জন বেসামরিক নাগরিক।

এছাড়া ইউএস সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত চলাকালে ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও বদলি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন এবং নতুন বিভাগে ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলামকে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্রকে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমাকে চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি (দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর), ১৮৯৮-এর ১০(২) ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত দুই কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের ছয় কর্মকর্তাকে নতুন বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাকে সিলেট বিভাগে এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন এবং রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বীথিকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপ্রধান নূরী তাসমিন ঊর্মিকেও ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ন্যস্ত করা কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগামী ২৪ জুন তারিখের মধ্যে বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।

কালের আলো/এসএকে

দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকা মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের শতবর্ষী প্রাচীন ‘নয়নের খাল’ পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে খালটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। এসময় খালটির স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অস্তিত্ব হারাতে বসা খালগুলোর বেহাল পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। এ সময় দীর্ঘ দিনেও কেন অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, সরকার সারা দেশে নদী-খাল রক্ষায় কাজ করছে। মিরকাদিমের নয়নের খালের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খাল যেভাবে দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করে গাইড লাইন করে দেওয়া হবে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেব। খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়।

খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কেউ যেন পুনরায় নতুন করে খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা খালের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দ আন নূর মহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

খালটির দুই পাড়ে অন্তত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত খালটির বর্তমানে কোথাও ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কোথাও খালের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে।

খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে এলাকার পরিবেশের উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি