খুঁজুন
                               
, ,
           

শুরু হচ্ছে দুরন্ত’র নতুন সিজন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
শুরু হচ্ছে দুরন্ত’র নতুন সিজন

আগামী ২৬ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় চ্যানেল দূরন্ত টেলিভিশনের ৩৫তম সিজন। নতুন এই সিজনে থাকছে বিনোদন, শিক্ষা, নাটক, অ্যানিমেশন ও রিয়েলিটি শো–এর সমন্বয়ে বৈচিত্র্যময় আয়োজন।

এবারের সিজনের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে নতুন ধারার কনটেন্ট সিরিজ—‘অল্প স্বল্প গল্প কথা’, ‘রঙ বেরঙের গল্প’, কার্টুন সিরিজ ‘স্পেস নভা’, ‘লেক্সি অ্যান্ড লিটল ট্রাস্টি টুইন ডিটেকটিভস’, ‘আমার ছবি আমার গল্প’, ‘মজার কাণ্ড তাইকোয়ানডো’, ‘বলো তো দেখ’, ‘ফোর অ্যান্ড এ হাফ ফ্রেন্ডস’ এবং ‘অবাক করা গাছের দেশ’সহ আরও জনপ্রিয় আয়োজন।

নতুন সিরিজ ‘অল্প স্বল্প গল্প কথা’-তে তিনজন কিশোর বন্ধুর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মজার ও শিক্ষণীয় গল্প তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন আয়মনা নওশিন রাইসা। এটি প্রচারিত হবে প্রতি শনিবার ও রবিবার বিকাল ১টা ৩০ মিনিটে এবং রাত ৮টায়।

কার্টুন সিরিজ ‘রঙ বেরঙের গল্প’ পরিচালনা করেছেন মেহেদী হাসান স্বাধিন। এটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সন্ধ্যা ৮টায়।

গেম শো ‘বলো তো দেখি’-এ অংশ নেবে তিন সদস্যের দুটি দল, যেখানে থাকবে বুদ্ধি, মজা ও প্রতিযোগিতার মিশেল। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন পার্থ প্রতিম হালদার। এটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার দুপুর ১২টায় এবং রাত ৯টায়।

বিজ্ঞানভিত্তিক সিরিজ ‘স্পেস নভা’-তে ২১৬২ সালের মহাকাশ অভিযানকে কেন্দ্র করে গল্প সাজানো হয়েছে। এটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিকাল ৩টায় এবং সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।

‘লেক্সি অ্যান্ড লিটল ট্রাস্টি টুইন ডিটেকটিভস’ সিরিজে দেখা যাবে দুই শিশু গোয়েন্দা এবং তাদের সঙ্গে থাকা এক কুকুরের অভিযান, যারা বিভিন্ন রহস্যময় ঘটনা ও কেস সমাধানে নামবে। সিরিজটিতে থাকবে অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য এবং টিমওয়ার্কের মজার মিশেল। এটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এবং বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে।

‘অবাক করা গাছের দেশ’-এ দেখা যাবে এক কল্পনাময় জগৎ, যেখানে গাছের ভেতরেই লুকিয়ে আছে রহস্য, বিস্ময় আর নতুন নতুন গল্প। এই সিরিজটি শিশুদের কল্পনাশক্তি ও কৌতূহল বাড়াতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার বিকাল ৫টায় এবং রাত ৭টায়।

এছাড়া ‘ফোর অ্যান্ড এ হাফ ফ্রেন্ডস’-এ চার বন্ধু ও একটি কুকুরের হাস্যরস ও রহস্যময় অভিযান তুলে ধরা হবে। এটি প্রচারিত হবে প্রতি শুক্রবার ও শনিবার দুপুর ২টায় এবং সন্ধ্যা ৬টায়।

সব মিলিয়ে নতুন সিজনে দূরন্ত টেলিভিশন শিশু-কিশোরদের জন্য আরও সমৃদ্ধ, শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কনটেন্ট উপহার দিতে যাচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

থার্ড টার্মিনালের চাবি কার হাতে?

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
থার্ড টার্মিনালের চাবি কার হাতে?
২২ হাজার ২১৩ কোটি টাকার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। আধুনিক যন্ত্রপাতিও বসানো হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও চলছে। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা কোনো নির্মাণকাজ নয়—কে, কী শর্তে এবং কোন কাঠামোয় টার্মিনালটি চালাবে, সেই চুক্তি।

জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। রাজস্ব ভাগাভাগি, বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং থেকে আয়ের অংশ এবং সেই আয়ের নিশ্চয়তায় রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি—একাধিক শর্তে দুই পক্ষের দরকষাকষি চলছে। বেবিচক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি সেরে ফেলতে চাইছে। কারণ চুক্তি যত পিছোবে, ডিসেম্বরের চালুর সময়সূচিও তত অনিশ্চিত হবে।

  • অবকাঠামো প্রস্তুত হলেও পরিচালনা চুক্তিতে অচলাবস্থা
  • জাপানের সঙ্গে রাজস্ব ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং নিয়ে দরকষাকষি
  • সামনে ডিসেম্বরের সময়সীমা

এর মধ্যে প্রকল্পের ব্যয়ও থামছে না। সর্বশেষ ৮৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় করা হয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ব্যয়ের অঙ্ক বাড়ছে, ভবন প্রস্তুত হচ্ছে; কিন্তু যাত্রীসেবা শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় অপারেশনাল কাঠামো এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

জটের কেন্দ্রে জাপানি কনসোর্টিয়াম

তৃতীয় টার্মিনালের মূল অবকাঠামোর বড় অংশের কাজ শেষ। আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং ব্রিজ, মেকানিক্যাল সার্ভিস ও আইটি নেটওয়ার্কও স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও অপারেশনাল কাঠামো এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। পিপিপি মডেলে টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জাপানি কনসোর্টিয়ামের হাতে দেওয়ার কথা। আগস্টে তারা কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব জমা দিয়েছে।

মূল্যায়ন শেষে আলোচনা শুরু হলেও চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি। বেবিচকের একাধিক সূত্রের ভাষ্য, সময়ক্ষেপণের কারণে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরও জাপানি অপারেটরের জনবল নিয়োগ, প্রযুক্তিগত সিস্টেম স্থাপন এবং ট্রায়াল রান শেষ করতে সময় লাগবে।

৮৫ শতাংশ থেকে নতুন দরকষাকষি

আলোচনার সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গা রাজস্ব ভাগাভাগি। আগের কাঠামোয় জাপানি অংশীদারের অংশ ছিল ৮৫ শতাংশ, বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ। নতুন প্রস্তাব ঘিরে পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, আয়-ব্যয় ও অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়ে চলছে দরকষাকষি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবসা।

বিমান তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পরিচালনা করতে পারবে—এমন কাঠামো নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এই খাতের আয় থেকেও অংশ চাচ্ছে জাপানি প্রতিষ্ঠান। বিমানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টার্মিনাল দ্রুত চালুর স্বার্থে এ বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে। তবে জাপানি পক্ষ আয় ভাগাভাগির পাশাপাশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে লিখিত গ্যারান্টি চাইছে। ফলে একটি টার্মিনাল চালুর চুক্তি এখন শুধু অপারেশনাল বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব ও রাষ্ট্রীয় দায়ের প্রশ্নও।

চুক্তি হলেও সময় থাকবে মাত্র কয়েক সপ্তাহ

বেবিচক ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তি করতে চাইছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরই শেষ ধাপ নয়। অপারেটরকে জনবল নিয়োগ, নিজস্ব সিস্টেম স্থাপন, প্রশিক্ষণ ও ট্রায়াল রান করতে হবে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার ছাড়পত্র, নিরাপত্তা মহড়া এবং গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা যাচাইও প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, টার্মিনালের সামগ্রিক প্রকল্পের প্রায় ১০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি। এর মধ্যে রয়েছে শেষ মুহূর্তের অভ্যন্তরীণ কাজ, সফটওয়্যার ও ডেটা ইন্টিগ্রেশন, কাস্টমস-ইমিগ্রেশনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কিছু যন্ত্রপাতি স্থাপন। ফলে অক্টোবরের শেষে চুক্তি হলেও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ফ্লাইট চালু করতে প্রস্তুতির জন্য সময় থাকবে খুবই সীমিত।

ব্যয় বাড়ছে, সময়ও গড়াচ্ছে

প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা দিয়ে শুরু হয়েছিল তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্প। কয়েক দফা সংশোধনের পর ব্যয় ২১ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার বেশি হয়। সর্বশেষ আরও ৮৪৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা যোগ হয়েছে। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ টাকা। এখন তাই প্রকল্পের সাফল্যের মাপকাঠি শুধু নির্মাণ শেষ হওয়া নয়। এত বড় বিনিয়োগের অবকাঠামো কত দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেটিই হয়ে উঠেছে মূল প্রশ্ন।

কক্সবাজারে নতুন টার্মিনাল, ঢাকায় পুরোনো জট

থার্ড টার্মিনালের জটিলতার বিপরীতে কক্সবাজারে এগিয়েছে নতুন আন্তর্জাতিক টার্মিনালের কার্যক্রম। পরীক্ষামূলক যাত্রীসেবা শুরু হয়েছে। চলতি মাসেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর কথা। নতুন টার্মিনালে রয়েছে সাতটি স্ক্যানার, ১৪টি চেক-ইন কাউন্টার এবং ১০টি ইমিগ্রেশন ডেস্ক। হোল্ড ও কেবিন ব্যাগেজ স্ক্যানিংয়ের পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক ব্যাগেজ কন্ট্রোল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা। কক্সবাজার বিমানবন্দরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোর্তজা হোসেন জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তারা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় জনবলও রয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালকে দেশের এভিয়েশন খাতের ‘গেম চেঞ্জার’ বলা হচ্ছে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য পূরণ এখন নির্ভর করছে কয়েকটি শর্তের ওপর—চুক্তি, অপারেটরের প্রস্তুতি, ট্রায়াল রান, নিরাপত্তা মহড়া এবং প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দরজাটি এখনো খোলেনি। ২২ হাজার কোটি টাকার টার্মিনাল দাঁড়িয়ে আছে; এখন দেখার বিষয়, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চুক্তির তালা খুলে ১৬ ডিসেম্বর সত্যিই আকাশে ওঠে কি না প্রথম ফ্লাইট।

কালের আলো/টিইকে/এমকে 

সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও দেয়াল ধসে পড়ার উপক্রম হওয়ায় চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পুরো এলাকা এখন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এলাকার মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেবার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘রোগীরা এখানে কোনো সেবা পাচ্ছেন না। আমাদের আকুল আবেদন, দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করে চিকিৎসাসেবা চালু করা হোক।’

আরেক বাসিন্দা মাহবুবর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালের দেয়াল ধসে পড়ছে। ভবনের ওপর এখন সাপের বসবাস। যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পুরো জায়গাটি জঙ্গলে পরিণত হয়েছে।’

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুরের উপপরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত হওয়ায় অনেক কেন্দ্রই বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কুশাখালী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে একজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হয়েছে এবং তিনি সেবা দিচ্ছেন। শিগগিরই একজন নার্স যোগ দেবেন। পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি জানান, লক্ষ্মীপুরের আটটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও তিনতলা নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।

স্থানীয়রা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, চিকিৎসক ও নার্স পদায়ন এবং নিয়মিত ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

এআই এজেন্টের অননুমোদিত কার্যক্রম, ১০০ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক ওপেনএআই

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
এআই এজেন্টের অননুমোদিত কার্যক্রম, ১০০ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক ওপেনএআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের অননুমোদিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঘটনায় ১০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে সতর্ক করেছে ওপেনএআই। একই সঙ্গে নিজেদের এআই মডেলগুলো কীভাবে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে, তা খতিয়ে দেখতে বড় পরিসরে তদন্ত শুরু করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওপেনএআই তাদের এআই মডেলের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন অননুমোদিত কার্যক্রমের বিষয়ে ১০০টির বেশি সংগঠনকে অবহিত করেছে। শক্তিশালী এআই মডেলগুলোকে কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যখন বাড়তি নজরদারি চলছে, তখনই এ তথ্য সামনে এলো।

৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টগুলোর অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের প্রকৃত পরিধি বোঝার জন্য প্রায় ৫০ পেটাবাইট তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ এই তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন ঘটনার ধরন, কারণ এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, এই পর্যালোচনা সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তদন্তের আওতায় এআই মডেলগুলোর বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম এবং সেগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

‘রগ এজেন্ট’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সম্প্রতি এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি আলোচিত সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওপেনএআই তাদের মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর ‘রগ এজেন্ট’ কার্যক্রম হিসেবে হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনাটিকে চিহ্নিত করেছে।

ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ঘটনায় তাদের মডেল অনিচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধও যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি।

এসব ঘটনার পর গত কয়েক মাসে অননুমোদিত কার্যক্রম প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে।

সাধারণ চ্যাটবটের চেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট

সাধারণ চ্যাটবটের তুলনায় এআই এজেন্ট অনেক বেশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো বিভিন্ন অনলাইন সেবা ব্যবহার, তথ্য সংগ্রহ এবং একাধিক ধাপের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম।

তবে এই স্বয়ংক্রিয়তার কারণে ভুল নির্দেশনা, অতিরিক্ত অনুমতি কিংবা নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার ত্রুটি থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে কোনো এআই এজেন্টকে ইন্টারনেট বা বিভিন্ন ডিজিটাল সেবায় সরাসরি কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে তার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

হাগিং ফেসের ঘটনা নিয়ে তদন্ত চলছে

ওপেনএআই জানিয়েছে, হাগিং ফেস-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। পাশাপাশি এআই মডেলগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রমের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো এসব ঘটনার প্রকৃতি ও কারণ চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী এআই এজেন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা।

এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ, অনুমতি ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

কালের আলো/এসএ