খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

জামায়াতের কোনো ব্যাংক নেই: সংসদে তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
জামায়াতের কোনো ব্যাংক নেই: সংসদে তাহের

জামায়াতে ইসলামীর কোনো ব্যাংক নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

তিনি বলেন, আমাদের যারা এমপি আছি, ইসলামী ব্যাংকে তাদের কেউ পরিচালক নেই। আমরা কোনো ঋণ পুনঃতফসিলও করিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, অনেক দল আছে তাদের নাকি ব্যাংকও আছে। বিএনপির ব্যাংক নেই।
বিষয়টির জবাব দিতে গিয়ে তাহের আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক ছিল একদল সৎ ও উদ্যোগী মানুষের প্রচেষ্টার ফসল। যদি বলেন ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় আমাদের ভূমিকা আছে, তবে আমরা তা স্বীকার করি।

রাজাকার, আল-বদর প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আজ আমাদের অনেক বেশি করে রাজাকার, আল-বদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যারা এখানে বসে আছি, আমরা কেউ রাজাকার বা আল-বদর ছিলাম না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতৃত্ব। যদি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলেন, তবে আমিও একজন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের আরও বলেন, আমার বাড়ি ছিল সীমান্তের কাছে। যারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে যেত, তারা আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিত, আমরা তাদের নাস্তা খাওয়াতাম এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কি না, তা পাহারা দিতাম। সেনাবাহিনী দূরে থাকলে আমরা তাদের পথ দেখিয়ে দিতাম, যাতে তারা নিরাপদে ভারতে পার হতে পারেন। সুতরাং, এ ধরনের দাবি করার অধিকার কারও নেই।

এ সময় তাহের আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় ‘রাজাকার’ মাওলানা নুরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় শাহ আজিজের মতো ব্যক্তিদের রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, দেশের নীতির ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকলে আমরা তার বিরোধিতা করি, কিন্তু দলে দলে এই রেষারেষি পরিবেশকে সুন্দর রাখবে না। এতে দেশ ও আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়ে ১৯৯৬ সালে জামায়াত আলাদা নির্বাচন করে। তার জন্য ওই সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষকে দায়ী করেন তাহের। তিনি বলেন, এবারও সেরকম কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। আমরা চাই এই সংসদ ও এই সরকার সুস্থ ধারায় চলুক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব গণ্ডগোল হচ্ছে, সেদিকে আপনারা নজর দিন। যারাই বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত অতীতের সরকারের পরিণতি সম্পর্কে বিএনপিকে সতর্ক করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। অতীত উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, শেখ সাহেব (শেখ মুজিবুর রহমান) নিহত হয়েছিলেন… শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ের ঘটনাগুলো আমাদের আতঙ্কিত করে।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, উপমহাদেশে ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর সময়ে, বাংলাদেশে শেখ সাহেবের (শেখ মুজিবুর রহমান) সময়ে, তারপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে আমরা অবস্থা দেখেছি। এর একটা ভয়ঙ্কর পরিণতি আমরা দেখি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা চাই, এ ধরনের কোনো অঘটন বাংলাদেশে আর কখনো না ঘটুক।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সংসদের বর্তমান অবস্থাকে অতীতের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আজকে যারা সরকারি দলের আসনে আছেন, তারা বোধহয় আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন। আর আমরা যারা এদিকে আছি, তারা বোধহয় জামায়াত-বিএনপির সংসদ সদস্য। কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল এবং আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আওয়ামী লীগ যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে, যে চেতনায় এবং যেমন বিষয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বলতো এবং আচরণ করতো, ঠিক আজকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আমরা একই ধরনের আচরণ লক্ষ্য করছি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই সংগ্রামে বিএনপি, জামায়াত এবং অন্যান্য দলগুলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমানভাবে সংগ্রামে একত্রিত ছিলাম। অনেক সময় গোপনে একই গাড়িতে চড়ে ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনের কর্মকৌশল এবং কর্মসূচি ঠিক করেছিলেন।

আন্দোলনের সময়কার ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তাহের বলেন, আমরা সবাই তখন বলেছি যে, আমরা এই সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এই পতনের পর যে রাজনীতি হবে… আমরা সকলে মিলে একটা সুশাসনের জন্য কাজ করবো। এ পর্যন্ত কিন্তু আমরা পুরোপুরি ঐকমত্যে ছিলাম।

নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার গঠনের পরে আমরা আবার একটা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাচ্ছি, যেটা এই জাতিকে হতাশ করবে।

সংসদীয় আচরণে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শুধু সংসদে মুক্তি দিয়ে এটা অর্জন করা যাবে না। এজন্য সত্যিকারভাবেই আমাদের মনের পরিবর্তন এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। একই সঙ্গে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও তুলে ধরে বলেন, আমরা এখানে অন্যান্য যে ঐতিহ্যগুলো আগে ছিল— কিছু হলেই ‘মানি না’, ‘আসবো না’, গণ্ডগোল করা— সেটা কিন্তু আমরা করিনি।

সংসদে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাহের বলেন, গতকাল আমি শুনেছি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাকি ‘তুই রাজাকার’ বলেছেন। সংসদের ভেতরে আমার মনে হয় এটি খুবই অরুচিকর ও অসংগত একটি শব্দ।

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ৩১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে তৈরি করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কতগুলো জিনিস যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা তাদের অনুসারী করবে— এটা কিন্তু আমাদের আলোচনার অংশ ছিল না। সেটা ছিল জুলাই সনদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

গণভোট ইস্যুতেও দ্বিমত তুলে ধরে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, আমরা চেয়েছিলাম যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন আলাদাভাবে হবে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে খুব জোরালোভাবে বলা হয়েছিল যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হতে হবে। আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের নারাজি সত্ত্বেও গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হয়েছে।

তিনি সতর্ক করেন, দেশের জন্য যেটা কল্যাণকর তা বাদ দিয়ে যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যা ইচ্ছা তাই করতে থাকেন, তবে এ দেশ আবার পিছিয়ে যাবে।

জামায়াত পাকিস্তান গঠনের বিরুদ্ধে ছিল, এ তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাহের বলেন, আমরা বা জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের বিরোধী ছিল বলে যে তথ্য আসছে, তা একেবারেই অসত্য। মাওলানা মওদুদী ছিলেন ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ প্রথম প্রবক্তা, তিনি সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন।

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের সময় অবস্থান নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তার ভাষায়, ম্যাডাম (বেগম জিয়া) যখন জেলে ছিলেন, তখন জামায়াত কোনো বিবৃতি দেয়নি— এটা একেবারে অসত্য কথা। আমরা বারবার বিবৃতি দিয়েছি, শুধু বক্তব্যই নয়, উনার মুক্তির জন্য রাজপথে মিছিলও করেছি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর খবর, ঘটনাস্থলে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ শিশু মৃত্যুর খবর, ঘটনাস্থলে পুলিশ

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে থানা পুলিশসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। 

বুধবার (২৭ মে) সকালে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশুদের মৃত্যু আসলে কী কারণ, তা আমরা এখনো জানি না। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে, আমি নিজেও ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ঈদের আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
ঈদের আগে ফ্রিজ পরিষ্কার করার সহজ উপায়

দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আজকের দিনটা পার হলেই কাল ঈদ। এই ঈদে ঘরদোর গোছানো, মসলাপাতি তৈরি ও রান্নাবান্নার নানা প্রস্তুতির মাঝে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি হলো ফ্রিজ পরিষ্কার করা। কারণ কোরবানির ঈদে স্বাভাবিকভাবেই ফ্রিজের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। সারা বছর মাছ-মাংস রাখার ফলে ফ্রিজে অনেক সময় রক্তের দাগ বা তরল জমে থাকে, যা থেকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত বরফ জমে ফ্রিজের ভেতরের অনেকখানি জায়গা নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে কোরবানির মাংস গুছিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ঈদের আগেই ফ্রিজটি সুন্দরভাবে পরিষ্কার করে রাখলে উৎসবের দিনগুলোর অনেক বড় ঝামেলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

নির্দিষ্ট দিন ঠিক করা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ

ফ্রিজ পরিষ্কার করা বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ। তাই ঈদের ব্যস্ততা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই একটি নির্দিষ্ট দিন ঠিক করে নিন। পরিষ্কার করার সুবিধার্থে প্রথমে ফ্রিজের বৈদ্যুতিক সংযোগটি বন্ধ করে দিন এবং ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে দিন। এরপর ফ্রিজে থাকা পুরোনো খাবার বা কাঁচাবাজারগুলো অন্য কোনো ফ্রিজে কিংবা ঠান্ডা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলুন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করলে ভেতরের জমে থাকা বরফ অনেকটাই গলে যাবে।

তাক ও ড্রয়ারগুলো আলাদা করে ধোয়া

ফ্রিজের ভেতরের বরফ গলে এলে সব তাক ও ড্রয়ারগুলো সাবধানে খুলে বাইরে নিয়ে আসুন। ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা পরিবেশ থেকে বের করেই এগুলোকে সরাসরি অতিরিক্ত গরম পানিতে দেওয়া যাবে না, এতে ফাটল ধরার ঝুঁকি থাকে। তাই কুসুম গরম পানিতে সামান্য ডিটারজেন্ট মিশিয়ে একটি নরম স্পঞ্জের সাহায্যে ঘষে ঘষে তাকের দাগ ও রক্তের ছোপ দূর করুন। এতে দাগ দূর হওয়ার পাশাপাশি এগুলো জীবাণুমুক্ত হবে। এরপর পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে বাতাসে ভালো করে শুকিয়ে নিন।

ফ্রিজের ভেতরের অংশ পরিষ্কারের নিয়ম

ফ্রিজের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে বেকিং সোডার মিশ্রণ চমৎকার কাজ করে। এক কাপ বেকিং সোডার সাথে সাত কাপ পানি মিশিয়ে একটি তরল মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার একটি নরম স্পঞ্জ এই মিশ্রণে ভিজিয়ে ফ্রিজের ভেতরের দেয়াল ও প্রতিটি কোণ ভালোভাবে মুছে নিন। কোণার দুর্গম অংশগুলো পরিষ্কার করতে একটি পুরোনো টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। সবশেষে একটি নরম মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে পুরো ভেতরটা শুকিয়ে মুছে নিন এবং শুকিয়ে যাওয়া তাক ও ড্রয়ারগুলো আবার ভেতরে সেট করুন।

বাইরের অংশ ও দরজার রাবার পরিষ্কার

ভেতরের মতো ফ্রিজের বাইরের অংশও দ্রুত নোংরা হয়, বিশেষ করে বারবার হাত দেওয়ার কারণে দরজায় দাগ পড়ে যায়। যেকোনো অল পারপাস ক্লিনজার অথবা ভিনেগার মেশানো পানি দিয়ে ফ্রিজের বাইরের অংশটি চকচকে করে মুছে নিন। একই সাথে ফ্রিজের দরজার চারপাশের রাবারটিও পরিষ্কার করা জরুরি, কারণ সেখানে আঠালো ময়লা জমে ছোট ছোট পোকা বাসা বাঁধতে পারে। পানিতে ভিনেগার মিশিয়ে একটি ব্রাশ ও কাপড়ের সাহায্যে রাবারের ভাঁজগুলো ভালো করে পরিষ্কার করে নিন।

ফ্রিজ ঠান্ডা করা ও ড্রয়ারে কাগজের ব্যবহার

পরিষ্কারের পর্ব শেষ হলে ফ্রিজের প্লাগ লাগিয়ে তা চালু করে দিন। ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা যখন ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে নেমে আসবে, অর্থাৎ ভেতরটা পুরোপুরি ঠান্ডা হবে, তখনই কেবল খাবারগুলো আবার ভেতরে রাখুন। এ ছাড়া ফ্রিজের সবজির ড্রয়ারগুলো সুরক্ষিত রাখতে নিচে মোটা কাগজ বা পুরোনো ক্যালেন্ডারের পাতা বিছিয়ে দিতে পারেন। এতে সবজির খোসা বা ময়লা সরাসরি ড্রয়ারে না লেগে কাগজের ওপর পড়বে এবং পরবর্তীতে শুধু কাগজটি বদলে নিলেই ড্রয়ার পরিষ্কার থাকবে।

ফ্রিজকে দুর্গন্ধমুক্ত রাখার কিছু কার্যকরী কৌশল

মাছ ও মাংসের কারণে ফ্রিজে তৈরি হওয়া ভ্যাপসা দুর্গন্ধ দূর করতে কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যায়। ফ্রিজ পরিষ্কারের পর এক বাটি বেকিং সোডা ফ্রিজের এক কোণে রেখে দিলে তা গন্ধ শুষে নেয়। একইভাবে একটি বাটিতে শুকনো ওটমিল কিংবা কফির গুঁড়ো রেখে দিলেও ফ্রিজ দুর্গন্ধমুক্ত থাকে। এ ছাড়া তুলোর ছোট বল ভ্যানিলা এসেন্সে ডুবিয়ে ফ্রিজে রাখলে চমৎকার সুগন্ধ ছড়ায়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি ডিপ ফ্রিজে কোরবানি ও অন্যান্য সময়ের মাছ-মাংস রাখার জন্য এয়ারটাইট জিপ লক প্যাকেট ব্যবহার করা যায়। ঈদের আগেই এই সহজ কাজগুলো সেরে নিলে মাংস সংরক্ষণ নিয়ে আর দুশ্চিন্তা থাকবে না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

জোট করতে আমার পা ধরা বাকি রেখেছিল নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ
জোট করতে আমার পা ধরা বাকি রেখেছিল নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় জোট করার জন্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনের পা ধরতে বাকি রেখেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন দাবি করেন রাশেদ খাঁন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘এনসিপির সাথে জোট করার জন্য নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী আমার পা ধরতে বাকি রেখেছিল। এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতেই সে এমন করেছিল! অথচ এই রাজনৈতিক ইতর আমাকে নিয়ে আজকে সাংবাদিক সম্মেলন করে বাজে কথা বলল! জামায়াতে ইসলামী বিরুদ্ধে এমন কোনো কথা নাই যে বলে নাই, পরবর্তীতে জামায়াতের কাছে এনসিপি ১০০ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে।’

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমি জানতাম আদর্শচ্যুত বামশিবির নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী জামায়াতের কাছেই বিক্রি হবে, এজন্য আমি তাদের ফাঁদে পা দেইনি। গণঅধিকার পরিষদ ২০২২ সাল থেকে বিএনপির সাথে জোটে ছিলো।

‘আমি এমন কোন দলে যাইনি, যে দল জামায়াতের মতো স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মানচিত্রের জন্য হুমকি। আর এই কথা তো জামায়াতকে নিয়ে রাজনৈতিক টাউট এই পাটওয়ারীই বলেছে।’

রাশেদ খাঁন আরো বলেন, ‘পাটওয়ারী শিবির, বাম, এবি পার্টি করেছে। এখন এনসিপি করছে। তার আশপাশের লোকজনই আমাকে বলেছে, নাসীরুদ্দীন গাজা ইয়াবা সব খায়। ওর চোখমুখই তার তো প্রমাণ, ওর শরীর নিকোটিনে ভরা। ওর এখন থেকে রূপায়নে বসেই গাঁজা টানতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গাঁজা খেয়ে বাইরে গিয়ে আবোলতাবোল বললেই পাবলিকের ডিমের ওপর দিতে যেতে হবে। গালিগালাজ ও বেয়াদবি করা যদি ওর স্বাধীনতা হয়, তবে প্রতিবাদে ডিম মারাও সংক্ষুব্ধদের স্বাধীনতা।’

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ