খুঁজুন
                               
, ,
           

জামায়াতের কোনো ব্যাংক নেই: সংসদে তাহের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৭ অপরাহ্ণ
জামায়াতের কোনো ব্যাংক নেই: সংসদে তাহের

জামায়াতে ইসলামীর কোনো ব্যাংক নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

তিনি বলেন, আমাদের যারা এমপি আছি, ইসলামী ব্যাংকে তাদের কেউ পরিচালক নেই। আমরা কোনো ঋণ পুনঃতফসিলও করিনি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, অনেক দল আছে তাদের নাকি ব্যাংকও আছে। বিএনপির ব্যাংক নেই।
বিষয়টির জবাব দিতে গিয়ে তাহের আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক ছিল একদল সৎ ও উদ্যোগী মানুষের প্রচেষ্টার ফসল। যদি বলেন ইসলামী ব্যাংক পরিচালনায় আমাদের ভূমিকা আছে, তবে আমরা তা স্বীকার করি।

রাজাকার, আল-বদর প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, আজ আমাদের অনেক বেশি করে রাজাকার, আল-বদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যারা এখানে বসে আছি, আমরা কেউ রাজাকার বা আল-বদর ছিলাম না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতৃত্ব। যদি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলেন, তবে আমিও একজন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের আরও বলেন, আমার বাড়ি ছিল সীমান্তের কাছে। যারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে যেত, তারা আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিত, আমরা তাদের নাস্তা খাওয়াতাম এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কি না, তা পাহারা দিতাম। সেনাবাহিনী দূরে থাকলে আমরা তাদের পথ দেখিয়ে দিতাম, যাতে তারা নিরাপদে ভারতে পার হতে পারেন। সুতরাং, এ ধরনের দাবি করার অধিকার কারও নেই।

এ সময় তাহের আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় ‘রাজাকার’ মাওলানা নুরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় শাহ আজিজের মতো ব্যক্তিদের রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, দেশের নীতির ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকলে আমরা তার বিরোধিতা করি, কিন্তু দলে দলে এই রেষারেষি পরিবেশকে সুন্দর রাখবে না। এতে দেশ ও আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

১৯৯১ সালে বিএনপিকে সরকার গঠনে সমর্থন দিয়ে ১৯৯৬ সালে জামায়াত আলাদা নির্বাচন করে। তার জন্য ওই সময় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষকে দায়ী করেন তাহের। তিনি বলেন, এবারও সেরকম কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে পরিস্থিতি খারাপ হবে। আমরা চাই এই সংসদ ও এই সরকার সুস্থ ধারায় চলুক। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব গণ্ডগোল হচ্ছে, সেদিকে আপনারা নজর দিন। যারাই বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত অতীতের সরকারের পরিণতি সম্পর্কে বিএনপিকে সতর্ক করেন বিরোধী দলীয় উপনেতা। অতীত উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ইন্দিরা গান্ধী ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন, শেখ সাহেব (শেখ মুজিবুর রহমান) নিহত হয়েছিলেন… শহীদ জিয়াউর রহমানের সময়ের ঘটনাগুলো আমাদের আতঙ্কিত করে।

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, উপমহাদেশে ভারতে ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে, পাকিস্তানে বেনজির ভুট্টোর সময়ে, বাংলাদেশে শেখ সাহেবের (শেখ মুজিবুর রহমান) সময়ে, তারপর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে এবং বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে আমরা অবস্থা দেখেছি। এর একটা ভয়ঙ্কর পরিণতি আমরা দেখি। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়েই আমরা চাই, এ ধরনের কোনো অঘটন বাংলাদেশে আর কখনো না ঘটুক।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সংসদের বর্তমান অবস্থাকে অতীতের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আজকে যারা সরকারি দলের আসনে আছেন, তারা বোধহয় আওয়ামী লীগ থেকে এসেছেন। আর আমরা যারা এদিকে আছি, তারা বোধহয় জামায়াত-বিএনপির সংসদ সদস্য। কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল এবং আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, তখন আওয়ামী লীগ যে ভাষায়, যে ভঙ্গিতে, যে চেতনায় এবং যেমন বিষয়ে জামায়াতের বিরুদ্ধে বলতো এবং আচরণ করতো, ঠিক আজকে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আমরা একই ধরনের আচরণ লক্ষ্য করছি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই সংগ্রামে বিএনপি, জামায়াত এবং অন্যান্য দলগুলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সমানভাবে সংগ্রামে একত্রিত ছিলাম। অনেক সময় গোপনে একই গাড়িতে চড়ে ঘুরে ঘুরে আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনের কর্মকৌশল এবং কর্মসূচি ঠিক করেছিলেন।

আন্দোলনের সময়কার ঐক্যের প্রসঙ্গ তুলে তাহের বলেন, আমরা সবাই তখন বলেছি যে, আমরা এই সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের এই পতনের পর যে রাজনীতি হবে… আমরা সকলে মিলে একটা সুশাসনের জন্য কাজ করবো। এ পর্যন্ত কিন্তু আমরা পুরোপুরি ঐকমত্যে ছিলাম।

নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, সরকার গঠনের পরে আমরা আবার একটা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাচ্ছি, যেটা এই জাতিকে হতাশ করবে।

সংসদীয় আচরণে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, শুধু সংসদে মুক্তি দিয়ে এটা অর্জন করা যাবে না। এজন্য সত্যিকারভাবেই আমাদের মনের পরিবর্তন এবং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন দরকার। একই সঙ্গে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও তুলে ধরে বলেন, আমরা এখানে অন্যান্য যে ঐতিহ্যগুলো আগে ছিল— কিছু হলেই ‘মানি না’, ‘আসবো না’, গণ্ডগোল করা— সেটা কিন্তু আমরা করিনি।

সংসদে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাহের বলেন, গতকাল আমি শুনেছি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাকি ‘তুই রাজাকার’ বলেছেন। সংসদের ভেতরে আমার মনে হয় এটি খুবই অরুচিকর ও অসংগত একটি শব্দ।

‘জুলাই সনদ’ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ৩১টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে তৈরি করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কতগুলো জিনিস যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তারা তাদের অনুসারী করবে— এটা কিন্তু আমাদের আলোচনার অংশ ছিল না। সেটা ছিল জুলাই সনদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

গণভোট ইস্যুতেও দ্বিমত তুলে ধরে বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, আমরা চেয়েছিলাম যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন আলাদাভাবে হবে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে খুব জোরালোভাবে বলা হয়েছিল যে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হতে হবে। আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই আমাদের নারাজি সত্ত্বেও গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে হয়েছে।

তিনি সতর্ক করেন, দেশের জন্য যেটা কল্যাণকর তা বাদ দিয়ে যদি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যা ইচ্ছা তাই করতে থাকেন, তবে এ দেশ আবার পিছিয়ে যাবে।

জামায়াত পাকিস্তান গঠনের বিরুদ্ধে ছিল, এ তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাহের বলেন, আমরা বা জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের বিরোধী ছিল বলে যে তথ্য আসছে, তা একেবারেই অসত্য। মাওলানা মওদুদী ছিলেন ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ প্রথম প্রবক্তা, তিনি সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন।

বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের সময় অবস্থান নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি। তার ভাষায়, ম্যাডাম (বেগম জিয়া) যখন জেলে ছিলেন, তখন জামায়াত কোনো বিবৃতি দেয়নি— এটা একেবারে অসত্য কথা। আমরা বারবার বিবৃতি দিয়েছি, শুধু বক্তব্যই নয়, উনার মুক্তির জন্য রাজপথে মিছিলও করেছি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৬, মামলা ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৬, মামলা ৫০

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০৬ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৫০ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৩৫ জন, লালবাগ বিভাগ ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ ৩১ জন, মতিঝিল বিভাগ ৪৫ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ ১২০ জন, গুলশান বিভাগ ৩২ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ৫ জনকে গ্রেফতার করে।

এসময় তাদের কাছ থেকে ১ কেজি ২১৫ গ্রাম গাঁজা, ২ হাজার ২৯০ পিস ইয়াবা, দরজা এবং জানালায় ব্যবহার্য অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেমের ছোট বড় বিভিন্ন সাইজের (পুরাতন) টুকরা ১৫টি, চাকু একটি, এন্টিকাটার একটি, মোবাইল ফোন পাঁচটি, মোটর সাইকেল একটি  এবং নগদ ৮ হাজার ৩৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

সায়েদাবাদ টার্মিনালকে ৪ মাসে কাঁচপুরে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
সায়েদাবাদ টার্মিনালকে ৪ মাসে কাঁচপুরে সরানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। টার্মিনালটি সরিয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর নেওয়া হবে।

আগামী চার মাসের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে ‘কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রকল্পে ব্যয় হবে ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ‘কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড নির্মাণ, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ’ শীর্ষক কাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডের (সিডিডিএল) মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে।

ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের বিষয়ে নির্দেশনা দেন।

জানা গেছে, গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী যাত্রাবাড়ী (সায়েদাবাদ) টার্মিনাল কাঁচপুরে এবং ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের নির্দশনা দেন। যাত্রাবাড়ী (সায়েদাবাদ) স্থানান্তরের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত স্থান চার মাসের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে স্থায়ী টয়লেট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে ১৬ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আরও জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কাঁচপুরে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে এরইমধ্যে প্রস্তাবিত স্থানে ইয়ার্ডের উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রস্তাবিত টার্মিনালের শেড, টিকেট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ঢাকা শহরের প্রধান কয়েকটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের অন্যতম সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল। প্রায় ১০ একর জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত এই টার্মিনালটি যাত্রাবাড়ীর পশ্চিমে অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে নির্মিত সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে প্রায় ১৯০০টি বাস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রাম, সিলেট, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও দক্ষিণ বঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার দূরপাল্লার বাসের যাত্রী ওঠানামা করে এই টার্মিনাল থেকে।

তবে ঢাকায় ঢোকার মুখে অবস্থিত হওয়ায় এই টার্মিনালটির কারণে শহরের আন্তঃনগর পরিবহণ চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ঢাকার রাস্তায় যানজটের একটি বড় কারণ এই টার্মিনাল।

এ কারণে ২০২৩ সালে কাঁচপুরে ১২ বিঘা জমির ওপর ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিল ডিএসসিসি। ওই বছরের ৯ আগস্ট ওই প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর আর কোনো অগ্রগতি ছিল না।

কালের আলো/এসআর/এএএন

৫ আগস্টের আগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে : তথ্য উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
৫ আগস্টের আগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে : তথ্য উপদেষ্টা

আগামী ৫ আগস্টের আগেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জাদুঘরের কিছু চূড়ান্ত কাজ, জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই এটি উদ্বোধন করা হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন।এক সাংবাদিক জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর নিয়ে আলোচনা চলছে।

কিছু চূড়ান্ত কাজ বাকি রয়েছে। জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয় সম্পন্ন করা হচ্ছে।

আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৫ আগস্টের আগেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফর করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীন।

আবার বিভিন্ন পর্যায়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ও তুরস্ক সফর করবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই যাওয়া হবে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে সরকারের দ্বিধা নেই। জাতীয় স্বার্থই এখানে মূল বিবেচ্য।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে রপ্তানিমুখী বিনিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) রয়েছে। একইসঙ্গে সরকার রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন আমরা একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, যা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে গম আমদানির অনুমোদন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, গার্মেন্টস খাত সচল থাকলে এর সুফল অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জনগণ বিষয়টি উপলব্ধি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি