খুঁজুন
                               
, ,
           

সুস্থ থাকার জন্য যেসব নিয়ম মেনে চলা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সুস্থ থাকার জন্য যেসব নিয়ম মেনে চলা জরুরি

সুস্থতার জন্য সবার আগে পরিবর্তন আনতে হবে আপনার জীবনযাপনে। কারণ আমার যা খাই এবং যেভাবে চলি, তার প্রভাবই পড়ে আমাদের শরীরে। আপনি যখন নিয়ম মনে সঠিক কাজগুলো করবেন এবং সঠিক খাবার খাবেন, তখন শরীর ভেতর থেকেই সুস্থ হয়ে উঠবে। আবার আপনি যদি শরীরের কথা না ভেবে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বেছে নেন, তখন অসুস্থ হওয়া আপনার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই সুস্থ থাকার জন্য আপনার কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি-

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

প্লেটে ভারসাম্য আনুন: শাকসবজি, ফল এবং চর্বিহীন প্রোটিনসহ সম্পূর্ণ খাবারের উপর মনোযোগ দিন।

চিনি ও লবণ কমান: প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ সীমিত করুন।

স্বাস্থ্যকর চর্বি: স্যাচুরেটেড ফ্যাট (মাখন, প্রাণিজ চর্বি) এর পরিবর্তে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নিন।

শরীরকে আর্দ্র রাখুন: সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, যার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই এক গ্লাস পানি পান করা জরুরি।

সচেতনভাবে খাওয়া: ধীরে ধীরে খান, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং গভীর রাতে খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

শারীরিক কার্যকলাপ

নিয়মিত ব্যায়াম: অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটিজ (হাঁটা, সাইকেল চালানো) এবং স্ট্রেইনথ ট্রেইনিং-এর লক্ষ্য রাখুন।

বেশি নড়াচড়া করুন, কম বসুন: ২০-৩০ মিনিটের ছোট ছোট কার্যকলাপের মাধ্যমেও এক জায়গায় বসে থাকার সময়কে ভাগ করে নিন।

সক্রিয় জীবনধারা: দৈনন্দিন জীবনে যতটা সম্ভব সক্রিয় থাকার করুন, যেমন সিঁড়ি ব্যবহার করা বা গাড়ি চালানোর পরিবর্তে হাঁটা।

ঘুম ও মানসিক স্বাস্থ্য

নিয়মিত ঘুমের সময়সূচী: একই সময়ে ঘুমাতে গিয়ে এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন।

স্ক্রিন টাইম কমান: ঘুমের মান উন্নত করতে ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করুন, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: মননশীলতা বা শখের জন্য সময় বের করার মতো শিথিলকরণ কৌশল অনুশীলন করুন।

প্রতিরোধমূলক অভ্যাস

ধূমপান ও ভ্যাপিং পরিহার করুন: সমস্ত তামাকজাত দ্রব্য এবং ভ্যাপিং পরিহার করুন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং টিকার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পরিচ্ছন্নতা: ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করুন এবং অন্যান্য পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো মেনে চলুন।

এম/এএইচ

৬৯ বছর বয়সে স্ত্রীর চিতাভস্ম সঙ্গে নিয়ে সাইকেলে বিশ্বজয়

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
৬৯ বছর বয়সে স্ত্রীর চিতাভস্ম সঙ্গে নিয়ে সাইকেলে বিশ্বজয়

প্রিয় মানুষটিকে হারানোর পর শূন্যতা গ্রাস করেছিল জীবন। ২৫ বছরের সংসারের সঙ্গী, আত্মার বন্ধু জ্যাকিকে ক্যানসারের কাছে হারিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন কানাডার মার্ক হার্বস্ট। কিন্তু সেই শোক তাঁকে থামিয়ে দেয়নি। বরং স্ত্রীকে দেওয়া এক প্রতিশ্রুতিই হয়ে উঠল নতুন পথচলার শক্তি। ৬৯ বছর বয়সে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন পৃথিবী প্রদক্ষিণে। সঙ্গে নিলেন প্রিয়তমা স্ত্রীর চিতাভস্ম। দীর্ঘ ৩২৪ দিনের সেই অভিযানে ৩০ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে শেষ পর্যন্ত গড়লেন বিশ্বরেকর্ড।

শুধু নিজের স্বপ্ন পূরণ নয়, মার্কের এই যাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ক্যানসার গবেষণায় সহায়তা এবং প্রবীণদের জন্য একটি বার্তাও—ইচ্ছাশক্তি থাকলে বয়স কখনোই স্বপ্নের পথে শেষ কথা নয়।

২৫ বছরের সঙ্গী হারানোর পর বদলে গেল জীবন

জ্যাকি ছিলেন মার্কের কাছে শুধু স্ত্রী নন, ছিলেন তাঁর আত্মার সঙ্গী ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু। সাত বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর ২০২১ সালে মাত্র ৫৫ বছর বয়সে মারা যান জ্যাকি।

প্রিয় মানুষটির মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরেই নতুন কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন মার্ক। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষকে নিজের স্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘জ্যাকি আমার সবকিছু ছিল, আমার আত্মার সঙ্গী এবং আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’ জ্যাকির অসম্পূর্ণ ইচ্ছাগুলোর কিছু পূরণ করার পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিকে বিশ্বভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্তে বাঁচিয়ে রাখার পরিকল্পনা করেন মার্ক।

ব্যাংকক থেকে শুরু, আবার সেখানেই প্রত্যাবর্তন

২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে শুরু হয় মার্কের ঐতিহাসিক যাত্রা। লক্ষ্য ছিল একটাই—সাইকেলে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা। এরপর একের পর এক দেশ পেরিয়ে এগিয়ে যান তিনি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে মধ্য ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্র—দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে ২৫টি দেশ অতিক্রম করেন তিনি। ৩২৪ দিন পর, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর আবারও ব্যাংককের সেই জায়গায় ফিরে আসেন মার্ক। তাঁর সাইকেলের চাকা তখন ঘুরে ফেলেছে ৩০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ।

সঙ্গে ছিল জ্যাকির চিতাভস্ম

এই বিশ্বভ্রমণের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায় ছিল জ্যাকির উপস্থিতি। জীবিত অবস্থায় জ্যাকি যেসব জায়গায় যেতে চেয়েছিলেন, সেসব স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন মার্ক। সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন স্ত্রীর চিতাভস্ম। যেসব জায়গা জ্যাকি দেখতে চেয়েছিলেন, সেখানে গিয়ে তাঁর চিতাভস্ম ছড়িয়ে দেন মার্ক। ফলে প্রতিটি গন্তব্য তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল স্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া একেকটি স্মৃতি। এক অর্থে, পৃথিবীর চারপাশে এই দীর্ঘ সাইকেলযাত্রায় মার্ক একা ছিলেন না—সঙ্গী ছিলেন তাঁর প্রিয় জ্যাকির স্মৃতিও।

রেকর্ডের চেয়ে বড় ছিল অন্য একটি লক্ষ্য

মার্কের অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু গিনেস রেকর্ডে নাম তোলা ছিল না। ক্যানসারে স্ত্রীকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকেই ক্যানসার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তিনি। অভিযানের মাধ্যমে কানাডার প্রিন্সেস মার্গারেট ক্যানসার ফাউন্ডেশনের জন্য প্রায় ৬৮ হাজার কানাডিয়ান ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ তাঁর ব্যক্তিগত শোকের গল্পটি শেষ পর্যন্ত ক্যানসার গবেষণায় সহায়তার একটি উদ্যোগেও রূপ নেয়।

অচেনা মানুষ হয়ে উঠলেন আপন

হাজার হাজার কিলোমিটারের এই যাত্রায় পথের কষ্ট যেমন ছিল, তেমনি ছিল মানুষের ভালোবাসাও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পেয়েছেন অকৃত্রিম সহযোগিতা।

মালয়েশিয়ায় পুলিশ তাঁকে এসকর্ট দিয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় এক নারী তাঁর ক্যাফেতে রাতে থাকার সুযোগ করে দেন। আবার অনেক অপরিচিত মানুষ নিজেদের বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছেন তাঁর জন্য। কেউ দিয়েছেন খাবার, কেউ থাকার জায়গা, কেউবা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা। এই ছোট ছোট মানবিক মুহূর্তগুলোই মার্কের দীর্ঘ অভিযানের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হয়ে ওঠে।

৬৯ বছর বয়সে নতুন ইতিহাস

মার্কের এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও এসেছে। সাইকেলে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করা সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের খেতাব এখন তাঁর এর আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন নিউজিল্যান্ডের ৬৬ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার বেনেট। মার্ক তাঁর চেয়ে তিন বছর বেশি বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

তবে মার্কের গল্পে সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে তাঁর যাত্রার কারণ। স্ত্রীকে হারানোর বেদনা, তাঁর স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া, ক্যানসার গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বয়সকে উপেক্ষা করে নতুন স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এটি শুধু একটি বিশ্বভ্রমণের গল্প নয়; বরং ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি ও অদম্য মানসিক শক্তির এক অনন্য কাহিনি।

জ্যাকিকে হারানোর চার বছর পরও তাঁর স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে পৃথিবী ঘুরে দেখলেন মার্ক। আর সেই যাত্রার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে হাতে উঠল বিশ্বরেকর্ড—যেন প্রিয় মানুষটিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির এক প্রতীকী পূর্ণতা।

কালের আলো/জেএন

‘যৌথ অভিযান’ নয়, সমন্বয়েই জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
‘যৌথ অভিযান’ নয়, সমন্বয়েই জোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম নতুন কোনো ‘যৌথ অভিযান’ নয়—বরং নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনারই অংশ। পুলিশ, বিজিবি, এসআরপি ও আনসার বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর এই প্রক্রিয়া সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে এর পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।

  • সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে
  • সামনে আরও জোরদারের ঘোষণা
  • আনসারের জন্য ১১ বিঘায় নতুন সদর দপ্তর

এই প্রেস ব্রিফিংয়ে তাই শুধু আনসারের নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা নয়, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও একসঙ্গে সামনে এসেছে—বাহিনীগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম, সদস্যদের জবাবদিহি, আনসারের অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা। এর মধ্যে ‘যৌথ অভিযান’ নিয়ে মন্ত্রীর স্পষ্টীকরণই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ—আলাদা কোনো অভিযান কাঠামোর ঘোষণা নয়, বিদ্যমান সমন্বিত ব্যবস্থাকেই আরও সক্রিয় করার কথাই বলা হয়েছে।

‘যৌথ অভিযান’ নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতা নিয়ে আলোচনা থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এর প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, একাধিক বাহিনীর সদস্যকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামানোকে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক ‘যৌথ অভিযান’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এরচেয়ে বাহিনীগুলোর নিজ নিজ সক্ষমতা ও দায়িত্বের সমন্বয় ঘটিয়ে অপরাধ দমনের যে কার্যক্রম চলছে, সেটিই অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়কে কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এখানে মূল বিষয়টি অভিযানটির নাম নয়, বরং মাঠপর্যায়ে বাহিনীগুলোর সমন্বিত সক্ষমতা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে—সেটি।

আনসারের সদর দপ্তরে বদলাচ্ছে অবকাঠামো 

প্রেস ব্রিফিংয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা কাটানোর উদ্যোগ। খিলগাঁওয়ে বর্তমান সদর দপ্তরের জায়গা অপর্যাপ্ত এবং যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বাস্তবতায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ৩ দশমিক ৪২৮ একর, অর্থাৎ প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে নতুন সদর দপ্তরের জন্য। তেজগাঁওয়ে নির্মিতব্য এই অবকাঠামোতে একটি বৃহৎ ও আধুনিক প্রশাসনিক কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয়তা শুধু জায়গার সংকটের সঙ্গে যুক্ত নয়। দেশের অন্যতম বৃহৎ বাহিনীর প্রশাসনিক কার্যক্রম, সদস্যদের অবস্থান এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার সঙ্গেও বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত।

৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তির বিস্তৃতি

আনসার ও ভিডিপির জনবল কাঠামোর যে চিত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুলে ধরেছেন, তাতে বাহিনীটির ব্যাপ্তিও স্পষ্ট হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি। নিয়মিত ও অনিয়মিত সদস্য মিলিয়ে এটিকে দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স হিসেবে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।

ফলে এই বাহিনীর অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগকে শুধু দাপ্তরিক সম্প্রসারণ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। মাঠপর্যায়ে এত বড় জনবল কাঠামো পরিচালনা ও সমন্বয়ের জন্য প্রশাসনিক অবকাঠামোর সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের আবাসন সংকট মোকাবিলায় আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অপরাধে জড়ালে বাহিনীর সদস্যরাও ছাড় পাবেন না

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কিংবা অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ক্ষেত্রেও মন্ত্রীর বক্তব্য ছিল সরাসরি। প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু প্রত্যাহার নয়, বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা এবং ফৌজদারি মামলা—দুই পথেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহির কাঠামোকেও সামনে আনা হয়েছে। অপরাধ দমনে নিয়োজিত সদস্যের বিরুদ্ধেই যদি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তার ক্ষেত্রেও প্রচলিত আইন ও বিভাগীয় বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকার ট্রাফিকে এআইয়ের ব্যবহার

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণেও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক খনন ও নির্মাণকাজের ধরনেও পরিবর্তনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো সড়ক একসঙ্গে কেটে দীর্ঘ সময় ফেলে না রেখে খণ্ড খণ্ডভাবে কাজ শেষ করে দ্রুত পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর যানজটের একটি বড় উৎস সড়ক উন্নয়নকাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবস্থাপনার এই দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিসেম্বর ঘিরে বাড়তি নজর

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যের শেষাংশে ডিসেম্বরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস’; এ সময়ে কোনো অপশক্তিকে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদারের ঘোষণাটি একই ধারায় পড়ছে। অর্থাৎ সামনে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে।

কালের আলো/এমএএএমকে

দুই কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ঝুলছে তালা

বগুড়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
দুই কোটি টাকার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ঝুলছে তালা

বগুড়ার শেরপুরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি সাত বছরেও নিয়মিত কার্যক্রমে আসেনি। ২০১৯ সালে হস্তান্তর করা তিনতলা ভবনটির প্রধান ফটকে এখন ঝুলছে তালা। চারপাশে আগাছা, বাউন্ডারি দেয়ালের কয়েকটি অংশ ভাঙা এবং কোথাও কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কমপ্লেক্সের প্রধান ফটক বন্ধ। ভবনের ভেতরে নিয়মিত কোনো কার্যক্রম নেই। ফটকের বাইরে ও চারপাশে আগাছা জমেছে। বাউন্ডারি দেয়ালের কয়েকটি অংশ ভেঙে গেছে। ভবনে দায়িত্বে থাকা নৈশপ্রহরী বা অন্য কোনো কর্মীকেও সেখানে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গার ওপর ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এর চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৯৪ লাখ ৯ হাজার ২০৭ টাকা। ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় মার্কেট এবং তৃতীয় তলায় অফিস, লাইব্রেরি, কনফারেন্স রুম ও মিউজিয়ামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মার্কেটে রয়েছে ছয়টি দোকান। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্থাপন করা হয়েছিল ১ হাজার ২০০ ওয়াটের সোলার প্যানেল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক ও দাফতরিক কার্যক্রম, সভা-সেমিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জাতীয় দিবসের কর্মসূচি পালনের কথা। ভবনের দোকান ও বিভিন্ন কক্ষ ভাড়া বা বরাদ্দ থেকে পাওয়া অর্থ মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ তহবিলে জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

তবে শেরপুরে বর্তমানে সেই উদ্দেশ্যে ভবনটির নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১৮১ জন। এর মধ্যে ৯২ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শতাধিক জুলাই যোদ্ধা রয়েছেন।

শেরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ভবনটি বুঝে পাওয়ার পর কমিটি না থাকায় সেখানে তেমন কোনো কার্যক্রম ছিল না। ২০২৫ সালে নতুন এডহক কমিটি হওয়ার পর কিছু দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে ৫ আগস্টের পর সেগুলোও বন্ধ হয়ে যায়।

ভবন থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভাঙচুরের পর জেনারেটর, সোলার, পানির পাম্প, থাই গ্লাস ও বৈদ্যুতিক তার পর্যন্ত চুরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে দেখাশোনার জন্য কেউ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশের বাড়ির একজন ব্যক্তি ভবনটি দেখাশোনা করতেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভবন নির্মাণের পর কিছু সময় সেখানে কার্যক্রম চললেও বর্তমানে নিয়মিত মানুষের আনাগোনা নেই। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় ভবনের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ভবনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিয়মিত কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, সম্প্রতি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কমপ্লেক্সটি পরিদর্শন করেছেন। ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও নিরূপণ করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করে সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বসতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জুলাই যোদ্ধাদের ওই ভবনে বসার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি জানিয়ে ইউএনও বলেন, পুরো ভবন সংস্কারে অনেক অর্থের প্রয়োজন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি