খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩
           

সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, চুক্তি সই শুক্রবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, চুক্তি সই শুক্রবার

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার পর অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার পর অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথক ঘোষণায় এ তথ্য জানান। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমেও শান্তি চুক্তির খবর প্রচার করা হয়।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ। সবাইকে অভিনন্দন। আমি হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে উন্মুক্ত করার এবং একই সঙ্গে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিচ্ছি।’

ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক মিনিট আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, নিবিড় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, উভয় পক্ষ লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর

শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। এর আগে বাস্তবায়নসংক্রান্ত কিছু আলোচনা সম্পন্ন করা হবে।

এদিকে চুক্তির আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে হোয়াইট হাউস। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নিজে ইলেকট্রনিকভাবে অথবা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মাধ্যমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারেন।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘এটি শান্তির নতুন এক দিগন্ত। আজ রাতে আমরা বড় একটি পদক্ষেপ নিয়েছি।’

অবসান হচ্ছে নৌ-অবরোধ

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি দেশটির আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হয়েছে এবং রোববার রাত থেকেই মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার শুরু হচ্ছে।

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর সংঘাতের সূচনা হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে মাঝেমধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।লেবানন ও ইসরায়েল প্রসঙ্গ

চুক্তি নিয়ে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বা লেবানন সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তবে চুক্তি ঘোষণার দিনই বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।

এ ঘটনার সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘এই বিশেষ দিনে যখন আমরা শান্তি চুক্তির এত কাছাকাছি, তখন এই হামলা হওয়া উচিত হয়নি। সব পক্ষেরই এখন সংযম দেখানো উচিত।’

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানে ৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জন বেসামরিক নাগরিক।

এ ছাড়া লেবাননে নিহত হয়েছেন ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ। উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ৩৬ জন, ইসরায়েলে ২০ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আরও দুজন মার্কিন নাগরিক অন্য কারণে প্রাণ হারিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও স্বস্তি ফিরতে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
১২ সিনিয়র সহকারী সচিবকে বদলি

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও বদলি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে সরকার। এর মধ্যে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন এবং নতুন বিভাগে ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য ন্যস্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলামকে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, রাঙামাটি সদরের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ি জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব কান্তি রুদ্রকে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমাকে চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধি (দি কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর), ১৮৯৮-এর ১০(২) ধারার বিধান অনুযায়ী তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও অর্পণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে কর্মরত দুই কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের ছয় কর্মকর্তাকে নতুন বিভাগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে পদায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমাকে সিলেট বিভাগে এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইনকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন এবং রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বীথিকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপ্রধান নূরী তাসমিন ঊর্মিকেও ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ন্যস্ত করা কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজনকে আগামী ২৪ জুন তারিখের মধ্যে বদলি হওয়া কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।

কালের আলো/এসএকে

দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:৩৯ অপরাহ্ণ
দখলে থাকা খাল পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রীর

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে অবৈধ দখলে থাকা মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিমের শতবর্ষী প্রাচীন ‘নয়নের খাল’ পুনরুদ্ধারের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে খালটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে এ আলটিমেটাম দেন তিনি। এসময় খালটির স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনতে তাৎক্ষণিক বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করেন প্রতিমন্ত্রী।

এর আগে, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় অস্তিত্ব হারাতে বসা খালগুলোর বেহাল পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম। এ সময় দীর্ঘ দিনেও কেন অবৈধভাবে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, সরকার সারা দেশে নদী-খাল রক্ষায় কাজ করছে। মিরকাদিমের নয়নের খালের ক্ষেত্রেও একইভাবে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সফল হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, খাল, নদী ও জলাশয় রাষ্ট্রের সম্পদ। এগুলো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দখলে থাকার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিন ধরে নয়নের খাল যেভাবে দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তালিকা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত করে গাইড লাইন করে দেওয়া হবে। পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশনা দেব। খাল উদ্ধার শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়।

খাল দখল হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, পরিবেশ দূষিত হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাই নয়নের খাল পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কেউ যেন পুনরায় নতুন করে খাল দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করার কথা জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর প্রভাবশালীরা খালের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার ও বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি প্রায় নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দ আন নূর মহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালটির দুই পাড়ে অন্তত প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক সময় ৩৫ থেকে ৪০ ফুট প্রশস্ত খালটির বর্তমানে কোথাও ৫ থেকে ১০ ফুটে নেমে এসেছে, আবার কোথাও খালের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে গেছে।

খালটি দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে এলাকার পরিবেশের উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে বলে বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৩:২৮ অপরাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী মারা গেছেন

একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী গেছেন । শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তিনি হাসপাতালটির করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)-তে ভর্তি ছিলেন।

কবি আল মুজাহিদী বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক, সম্পাদক ও সাহিত্যসেবী। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। এই কবি ষাটের দশকের বাংলা কবিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তার কবিতায় বাংলাদেশের মাটি, মানুষ, ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের গভীর অন্বেষণ ফুটে উঠেছে। মৃত্তিকার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, প্রকৃতি, প্রেম, জাতীয় চেতনা এবং আত্মদর্শন তাঁর কাব্যজগতের প্রধান অনুষঙ্গ।

আল মুজাহিদী দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে কবিতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি দীর্ঘ সময় দৈনিক ইত্তেফাকের সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বাংলাদেশের সাহিত্যাঙ্গনে নতুন লেখকদের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৩ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর সাহিত্যকর্মে একদিকে যেমন রয়েছে গ্রামীণ জীবনের গন্ধ, অন্যদিকে ইতিহাস, নৃতত্ত্ব, সমাজ ও রাজনীতির গভীর পর্যবেক্ষণ। ফলে তাঁর কবিতা কেবল নান্দনিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতিসত্তা ও মানবিক মূল্যবোধেরও এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে উঠেছে।

দুই বাংলার সাহিত্যপ্রেমীদের কাছেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর লেখনিতে আছে শেকড়ের প্রতি অনুরাগ, মানুষের প্রতি মমত্ব এবং সময়কে গভীরভাবে অনুধাবনের ক্ষমতা।

কবি আল মুজাহিদীর প্রয়াণ বাংলা সাহিত্যের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কবিতা, চিন্তা ও সাহিত্যকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন প্রেরণা জোগাবে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে অভিমত সাহিত্য অনুরাগীদের।

কালের আলো/এসআর/এএএন