আমি প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু নই, বিএনপির একজন কর্মী: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, কোনো কারণেই তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন না করতে। তিনি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন এটুকুই আমাদের সম্পর্ক।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন।
বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
মীর শাহে আলম বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এমনকি তার সম্পদ বৃদ্ধি বা অন্যান্য বিষয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের শিরোনামেও ‘তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম’ কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, শ্রদ্ধেয় তারেক রহমান ঢাকা শহরে বড় হয়েছেন, পড়াশোনা করেছেন। আর আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা বগুড়া ও শিবগঞ্জে। রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয় ১৯৯৩-৯৪ সালে, যখন আমি ছাত্রদলের সেক্রেটারি হওয়ার পর তার বগুড়ায় যাতায়াত শুরু হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি, কোনো কারণেই আমাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।
মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া এবং বগুড়া জেলার দায়িত্ব পালনের সুবাদে তারেক রহমানের সঙ্গে তার বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে। বগুড়া তারেক রহমানের নিজ জেলা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। তিনি আমাকে চেনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন এটুকুই আমাদের সম্পর্ক।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের বয়সেরও অনেক পার্থক্য রয়েছে। তারপরও যখন বিভিন্নভাবে বলা হয়, ‘তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম’ এটা করেছেন বা ওটা করেছেন, তখন বিষয়টি আমি, আমার পরিবার এবং সমাজের মানুষ ভালোভাবে নেয় না। এ ধরনের উপস্থাপন থেকে বিরত থাকার জন্য আমি অনুরোধ করছি।
নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিনি স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত মন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে হওয়ায় দায়িত্ব পালনে তিনি স্বস্তি ও নিরাপত্তা বোধ করেন।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা থাকলেও তিনি কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। সরকারের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে গণমাধ্যম গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কালের আলো/এসআর/এএএন


আপনার মতামত লিখুন
Array