খুঁজুন
                               
, ,
           

গ্যাস সংকটে সম্ভাবনায় ১৫০ কূপ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
গ্যাস সংকটে সম্ভাবনায় ১৫০ কূপ

দেশে গ্যাসের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। একই সময়ে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে বাড়ছে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির ওপর নির্ভরতা।

এই পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২৯টি কূপের কাজ শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে বলে সম্প্রতি সংসদে জানানো হয়েছে।

সরকারের প্রত্যাশা, কর্মসূচির বাকী অংশ বাস্তবায়িত হলে দেশে গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পুরো কর্মসূচি সফলভাবে শেষ হলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪০১ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের আশা করছে সরকার।

তবে এই উদ্যোগ গ্যাসের ঘাটতি কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। নতুন কূপগুলো থেকে প্রত্যাশিত পরিমাণ গ্যাস বাস্তবে পাওয়া যাবে কি না, পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কত দ্রুত কমবে এবং একই সময়ে দেশের গ্যাসের চাহিদা কতটা বাড়বে—মূলত এসবের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিস্থিতি।

দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর বড় সুযোগ
সরকারের সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ২০টি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার শেষ করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।

১৫০ কূপের কর্মসূচির ২৯টির কাজ শেষ হওয়ার পরই দৈনিক ২৭০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সম্ভাব্য সংস্থান এবং বাস্তবে গ্রিডে যুক্ত হওয়া গ্যাসের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।

তবে আরও কূপের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আরও বাড়বে। আর পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে দেশীয় উৎপাদনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আমদানিনির্ভরতার চাপ
দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে বাংলাদেশকে এলএনজি আমদানিও বাড়াতে হচ্ছে। ২০২৫ সালে ১০৯টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে প্রায় ৩ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। এর আগের বছর ৮৬টি কার্গোর জন্য ব্যয় হয়েছিল ৩ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৮৫৫ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি ব্যয়—দুই দিক থেকেই দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৫০ কূপের কর্মসূচি সফল হলে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়বে। তবে শুধু এই কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস সংকটের সমাধান সম্ভব হবে না। নতুন কূপ থেকে কতটা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এবং পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কী হারে কমছে—তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাহিদার প্রবৃদ্ধিকেও বিবেচনায় নিতে হবে।

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম মনে করেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো এখন জরুরি হলেও একে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর সব দেশই নিজেদের জ্বালানি উৎস কাজে লাগাতে চায়। বাংলাদেশেও নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ থাকলে সেটি কাজে লাগানো উচিত।’

শফিকুল আলম বলেন, গত এক দশকের বেশি সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে প্রয়োজন অনুযায়ী বিনিয়োগ হয়নি। নতুন আবিষ্কার ও উৎপাদন না বাড়ায় বাংলাদেশ আমদানির দিকে গেছে। মহামারী, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট এবং টাকার দরপতন আমদানিনির্ভরতার আর্থিক ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে।

অনুসন্ধান ও বিকল্প জ্বালানিতে সমন্বিত উদ্যোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫০ কূপের কর্মসূচি দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার, সমুদ্রভিত্তিক অনুসন্ধান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি—বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগও সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে।

পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ার বাস্তবতায় নতুন কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার একদিকে যেমন তাৎক্ষণিক সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে নতুন অনুসন্ধান ও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা দেশের গ্যাস নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এজন্য ১৫০ কূপের কর্মসূচি শুধু অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদনের উদ্যোগ নয়; সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধানের সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে এটি দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

‘এটি শুধু কোনো গান নয়, যেন একলা কোনো বৃষ্টির বিকেলে গাড়ির কাচে জমে থাকা জলবিন্দুর মতো নীরব অনুভূতির প্রকাশ।’ এনজেল নূরের নতুন গান ‘প্রেমের সূচক’ শুনে ইউটিউবে এমনই মন্তব্য করেছেন শ্রোতা শেখ সাদমান। আরেক শ্রোতা আথিনা চাকমার কাছে নূরের কণ্ঠ মনে হয়েছে ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ির মতো কোমল ও স্নিগ্ধ।

গত ২৭ জুলাই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘প্রেমের সূচক’ প্রকাশ করেন এনজেল নূর। দুই সপ্তাহের মধ্যে গানটি ৩০ হাজারের বেশি ভিউ পেয়েছে। গানটির কথা ও সুরও করেছেন তিনি নিজেই।

‘প্রেমের সূচক’ লেখার সময় নিজেকে একটি অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন এনজেল। এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে যেমন একটি অতিথি পাখি সাময়িকভাবে ঘর বাঁধে, কারও প্রেমে পড়ে, আবার আবহাওয়া বদলালে তাকে চলে যেতে হয়—গানটিতেও তেমনই অনিশ্চয়তা, বিচ্ছেদ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেছেন তিনি।

পাখিটি জানে, একদিন তাকে চলে যেতে হবে। তাই প্রিয় পাখিকে বারবার তার প্রশ্ন, ‘এখনই যাবে কি চলে?’

গানটির ‘সূচক’ শব্দটির মধ্যেও একাধিক অর্থ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রেখেছেন এনজেল। এটি যেমন শুরু বোঝায়, তেমনি কোনো কিছুর পরিমাপক বা ইন্ডিকেটরও। তাঁর কাছে প্রিয় মানুষটির প্রতি থাকা ভালোবাসাই সেই প্রেমের অস্তিত্বের সূচক।

এর আগে ‘যদি আবার’ ও ‘তীল’ গান দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন এনজেল নূর। তবে কোনো একটি গান জনপ্রিয় হলেই তার আদলে পরের গান তৈরি করতে চান না তিনি। তাঁর কাছে প্রতিটি গান আলাদা গল্প।

এনজেল বলেন, তাঁর লেখা ৫৮টি গান রয়েছে এবং প্রতিটি গানে রয়েছে আলাদা গল্প। তাই নিজেকে তিনি সব সময় একজন ‘স্টোরি টেলার’ হিসেবেই পরিচয় দিতে চান।

তাঁর ভাষায়, তাঁর গানকে প্রচলিত কোনো একটি ঘরানায় সহজে ফেলা যায় না। এগুলো পুরোপুরি ক্ল্যাসিক্যাল নয়, আবার পুরোপুরি আধুনিকও নয়। রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গেও এগুলোর সরাসরি মিল নেই। তবে প্রতিটি গানের নিজস্ব একটি স্বর ও গল্প রয়েছে।

সুর তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। তাঁর ফোনে জমা আছে ৪১২টি সুর। নির্দিষ্ট কোনো স্টুডিও বা নির্ধারিত সময়ে বসে এসব সুর তৈরি করেননি তিনি। দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্তে হঠাৎ কোনো সুর মাথায় এলে তা ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন।

কখনো বাইক চালানোর সময়, কখনো রান্না করতে গিয়ে, এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলার মধ্যেও মাথায় আসা সুর ধরে রেখেছেন তিনি।

বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রচলিত ‘হিট’ গানের ফর্মুলায় নিজেকে বাঁধতে চান না এনজেল। তাঁর কাছে অনেক সময় বাণিজ্যিক গানের চাহিদা এমন হয়, যেখানে দ্রুত বিনোদন দেওয়ার মতো বিট ও উপাদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাঁর মতে, শ্রোতার তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে যদি সব গান একই ধরনের ফর্মুলায় তৈরি হয়, তাহলে শিল্প বা গল্প বলার জায়গাটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

ইউটিউবে মার্কেটিং, পিআর বা বুস্টিংয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের জন্য ট্রেন্ডিংয়ে আসাও তাঁর লক্ষ্য নয়। তাঁর মতে, এমন অনেক গান রয়েছে, যেগুলো প্রকাশের কয়েক দিন পরই শ্রোতাদের মনোযোগ থেকে হারিয়ে যায়।

এনজেল বরং চান, তাঁর গান ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছাক এবং ১০ বছর পরও মানুষ সেগুলো শুনুক। তাঁর কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শ্রোতা-সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে এনজেল নূরের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি করে গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ১২টি মৌলিক গান নিয়ে আরেকটি অ্যালবাম তৈরির কাজও চলছে।

অভিনয়েও নতুন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ডালিম কুমার চরিত্রে অভিনয় করবেন এনজেল।

দ্রুত জনপ্রিয়তার স্রোতে না ভেসে নিজের মতো করে গল্প বলে যাওয়াই যেন তাঁর মূল লক্ষ্য। আর সেই গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে এনজেলের কাছে গানই সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।

কালের আলো/এসএ

রাজস্ব সম্মেলনে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
রাজস্ব সম্মেলনে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের কথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে দেশের প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে অবশ্যই ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। এতে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।

সম্মেলনে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, কর ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং দেশের অর্থনীতির প্রয়োজনীয় রাজস্ব সংস্থানসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন বিধিমালা কার্যকর

শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংশোধিত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন বিধানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশ করা হয়।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সব শেয়ার ও সিকিউরিটির ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী নিজের ইকুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ নিতে পারবেন।

তবে মার্জিন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। জীবন বিমা ছাড়া কোনো কোম্পানির শেয়ারের ট্রেইলিং পিই ৪০-এর বেশি হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে কোনো কোম্পানির ইপিএস ঋণাত্মক হলেও শেয়ারটি মার্জিন সুবিধার বাইরে থাকবে।

জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিইয়ের পরিবর্তে পিবি অনুপাত বিবেচনা করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি অথবা এনএভি ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

মার্জিন ঋণ নিতে হলে গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। পাশাপাশি ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ার, এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) ও ওটিসি প্ল্যাটফর্মের সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে থাকবে। মূল বাজারের ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

নতুন নিয়মে পোর্টফোলিওর ইকুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে মার্জিন কল দিতে হবে। আর ইকুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে আগাম নোটিশ ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করতে পারবে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। তবে গ্রাহককে লিখিতভাবে, ই-মেইল, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা প্রয়োজন হলে ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে।

এ ছাড়া কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি একটি নির্দিষ্ট সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করা যাবে না।

সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। একই সঙ্গে মার্জিন অর্থায়নের অর্থ শুধু মার্জিন-যোগ্য সিকিউরিটি কেনার কাজে ব্যবহার করা যাবে।

নতুন বিধিমালায় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে প্রতিটি মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে কমপক্ষে দুই সদস্যের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। কমিটিকে বছরে অন্তত চারটি সভা করতে হবে।

এ ছাড়া ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়ন চালু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শরিয়াহ সুপারভাইজারি বোর্ড বা শরিয়াহ উপদেষ্টার সুপারিশের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণয়ন ও পরিচালনা করতে হবে।

বিএসইসি জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালার মাধ্যমে শেয়ারবাজারে মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান—উভয় পক্ষের জন্যই নতুন কাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি