খুঁজুন
                               
, ,
           

কলকাতার হোটেলে আগুন: ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, দায়ীদের বিচারের দাবি

সিরাজুল ইসলাম:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
কলকাতার হোটেলে আগুন: ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু, দায়ীদের বিচারের দাবি

কলকাতার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক শুধু প্রতিবেশীসুলভ নয়; ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক যোগাযোগের কারণে এ শহরের সঙ্গে রয়েছে গভীর আত্মিক বন্ধন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কলকাতায় পাড়ি জমান। তাদের একটি বড় অংশ হাসপাতালের বাইরে তুলনামূলক কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউসে থাকেন। ফলে এসব আবাসিক স্থাপনায় বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতি নিয়মিতই দেখা যায়।

কিন্তু সেই পরিচিত শহরেই এবার নয় বাংলাদেশির জীবন থেমে গেল এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে। ১৯ আগস্ট গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। হোটেলটির অবস্থান কলকাতা ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের কাছেই। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন ধোঁয়ায় ভবনের ভেতরে আটকে পড়েন অনেকে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে কলকাতা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের বরাতে বলা হয়েছে, নিহত নয়জনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। তারা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন এবং মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

অন্যদিকে যুগান্তরের প্রতিবেদনে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা ১৫ বলা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে ভবনটির ভেতরে সংকীর্ণ কক্ষ, সরু চলাচলের পথ, পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এবং বিকল্প বের হওয়ার পথ না থাকার অভিযোগের কথা এসেছে।

এই তথ্যের পার্থক্যটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মৃতদের জাতীয়তা ও পরিচয় কোনো সংবাদ-প্রতিবেদনের অনুমানের বিষয় হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট দুই দেশের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রত্যেক নিহতের পরিচয় দ্রুত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে, এই ভয়াবহ ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি সম্ভবত অন্য জায়গায়। এই মানুষগুলো কলকাতায় গিয়েছিলেন বাঁচার জন্য।

কেউ হয়তো নিজের দীর্ঘদিনের অসুস্থতার চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। কেউ হয়তো প্রিয়জনের চিকিৎসার জন্য সঙ্গে গিয়েছিলেন। কেউ হয়তো অনেক কষ্টে জমানো টাকা নিয়ে উন্নত চিকিৎসার আশায় সীমান্ত পেরিয়েছিলেন। তারা যুদ্ধ করতে যাননি, কোনো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে যাননি, অবৈধ কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে যাননি। তারা গিয়েছিলেন চিকিৎসা নিতে- স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আশায়। আর সেই মানুষগুলোরই মৃত্যু হলো এমন একটি হোটেলে, যেখানে প্রাথমিক অভিযোগ অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তার মৌলিক ব্যবস্থাই যথেষ্ট ছিল না।

এখানেই প্রশ্নটি শুধু একটি দুর্ঘটনার প্রশ্ন থাকে না। এটি হয়ে ওঠে দায়িত্বের প্রশ্ন। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে একজন আবাসিক অতিথির বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর পুরো হোটেল ধোঁয়ায় ঢেকে যায়, মানুষ আটকা পড়েন এবং হোটেলের প্রবেশপথ ছিল সরু ও অপ্রশস্ত। সেখানে যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পাঁচতলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় বিভিন্ন নামে একাধিক হোটেল চলছিল এবং এসব হোটেলে বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকদের যাতায়াত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তরের প্রতিবেদনে আরও গুরুতর কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে। ভবনের বিভিন্ন তলায় ছোট ছোট কক্ষ তৈরি করা, সংকীর্ণ চলাচলের পথ, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং আগুন লাগার পর বিকল্প পথে বের হওয়ার সুযোগ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। ভবনটির অনুমোদন, নির্মাণ পরিকল্পনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি নিছক ‘দুর্ঘটনা’ বলে দায় শেষ করার সুযোগ নেই।

একটি ভবনে হোটেল পরিচালনার অনুমতি কে দিয়েছে? অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র ছিল কি না? নিয়মিত পরিদর্শন হয়েছে কি না? ভবনের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কক্ষ ও চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না? এক ভবনের বিভিন্ন তলায় একাধিক হোটেল কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল? জরুরি বহির্গমন পথ কোথায় ছিল? আগুন লাগার সময় হোটেলে মোট কতজন মানুষ ছিলেন? তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি? এই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

কারণ একটি প্রাণহানি আমাদের কাছে শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়। নয়জন মানুষ মানে নয়টি পরিবার। নয়টি ঘর। নয়টি অসমাপ্ত ভবিষ্যৎ। নয়টি পরিবারের কাছে হয়তো আজও বিশ্বাস হচ্ছে না- যে মানুষটি চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন, তিনি আর ফিরবেন না। এই জায়গায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রথম দাবি হওয়া উচিত- মৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারতের সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ওপর যেন মরদেহ দেশে আনার প্রশাসনিক, কাগজপত্রের বা আর্থিক বোঝা না পড়ে। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করা যেতে পারে। বাংলাদেশ মিশনের নিয়মিত কনস্যুলার সেবার মধ্যেই মৃতদেহ দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু শুধু মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। দ্বিতীয় দাবি- নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ক্ষতিপূরণের অর্থ কোনো পরিবারের শোকের মূল্য হতে পারে না। একটি প্রাণের মূল্য টাকা দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তব জীবনে একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে গেলে যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হয়, রাষ্ট্র ও দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই দায় থেকে মুক্ত থাকার সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ, হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বীমা বা আইনি কাঠামোর অধীনে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার নিহতদের পরিবারগুলোর রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে সক্রিয় কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা দিতে হবে।

প্রয়োজনে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব কল্যাণ তহবিল থেকেও জরুরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। কারণ বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হলে তার পরিবার যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্যে পড়ে না যায়-সেটা নিশ্চিত করা এটি রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্ব। তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি—অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত।
আগুনের কারণ কী?
শর্টসার্কিট?
বৈদ্যুতিক ত্রুটি?
অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন?
অবহেলা?
অবৈধ নির্মাণ?
হোটেল পরিচালনায় অনিয়ম?
নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধমূলক কারণ ছিল?

এখনই কোনো একটি কারণকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিটের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে চূড়ান্ত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা ঠিক হবে না। একইভাবে, কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা সাবোটাজ হয়েছিল- এমন দাবিও এখনই করা দায়িত্বশীল হবে না। তবে প্রশ্নটি তদন্তের আওতায় অবশ্যই থাকতে হবে।

কারণ একটি অগ্নিকাণ্ডে নয়জন বিদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ বা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সুতরাং আগুনের প্রকৃত উৎস, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, ভবনের নকশা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, হোটেল পরিচালনার অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি- সবকিছুর ফরেনসিক ও প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন। এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে।

শুধু ‘তদন্ত চলছে’ বললেই জনগণের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে না। তদন্ত শেষে কী পাওয়া গেল, কার গাফিলতি ছিল, কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছিল কি না, ভবনটির অনুমোদন যথাযথ ছিল কি না, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী কী ঘাটতি ছিল এবং সেই ঘাটতির জন্য কে দায়ী- এসব স্পষ্টভাবে জনগণের সামনে আনতে হবে। প্রয়োজনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতার অন্যান্য হোটেল ও গেস্টহাউসে অবস্থানরত বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ মির্জা গালিব স্ট্রিট বা নিউমার্কেট এলাকায় এ ধরনের আবাসিক হোটেলে বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার প্রবণতা নতুন নয়। একটি দুর্ঘটনার পর আরেকটি দুর্ঘটনা ঠেকাতে হলে এখনই ঝুঁকিপূর্ণ হোটেলগুলো পরিদর্শন করা প্রয়োজন। আর এখানে একটি বৃহত্তর প্রশ্নও আছে। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা কে দেখবে?

আমাদের নাগরিকরা যখন ভারতে চিকিৎসার জন্য যান, তখন তাদের বড় একটি অংশ কলকাতায় অবস্থান করেন। হাসপাতাল-কেন্দ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলেও থাকার জায়গা, পরিবহন, জরুরি যোগাযোগ, স্থানীয় সহায়তা- এসব বিষয়ে তাদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেন। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশি মিশনগুলোর মাধ্যমে নিরাপদ আবাসন সম্পর্কে তথ্য, জরুরি যোগাযোগ নম্বর এবং ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল সম্পর্কে সতর্কতামূলক তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টি চিকিৎসারই অংশ। কারণ একজন রোগী যখন সীমান্ত পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে যান, তখন তার কাছে শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ নয়; তার থাকার জায়গাটিও নিরাপদ হতে হবে। তার সঙ্গে থাকা স্বজনেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে হবে। আগুন লাগলে কীভাবে বের হবেন, জরুরি নম্বরে কোথায় যোগাযোগ করবেন, কাছাকাছি কোন হাসপাতাল বা কনস্যুলার সহায়তা পাওয়া যাবে- এসব তথ্য তার জানা থাকা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের জায়গা থেকেও ঘটনাটিকে দেখতে হবে। দুই দেশের মানুষের যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে যাবে। চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, পর্যটন- সব ক্ষেত্রেই এই যাতায়াত অব্যাহত থাকবে। তাই কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখলে চলবে না। একইভাবে কোনো ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে এসে বিপদে পড়লেও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে আমরা একই ধরনের দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করব। এটাই প্রতিবেশী সম্পর্কের মানবিক ভিত্তি।

বাংলাদেশ ভারতের কাছে কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছে না। চাইছে একটি স্বাভাবিক, ন্যায্য ও মানবিক আচরণ। মৃতদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক। আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হোক। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের অনুমোদন ও হোটেল পরিচালনার বৈধতা নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করা হোক। সাবোটাজ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হোক। এবং সর্বোপরি-তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই দাবিগুলো কোনো রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরির দাবি নয়। কোনো দেশের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির দাবিও নয়। এটি মৃত মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার দাবি। বাংলাদেশ সরকারেরও উচিত এই ঘটনায় আবেগের পাশাপাশি দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়া। কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনকে নিহতদের পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে একটি বিশেষ সেল গঠন করে মরদেহ ফেরত, পরিচয় নিশ্চিতকরণ, নথিপত্র, ক্ষতিপূরণ এবং তদন্ত- সবকিছুর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।

আজ নয়জনের পরিবার কাঁদছে। কিন্তু প্রশ্নটি শুধু নয়টি পরিবারের নয়। প্রশ্নটি হলো-বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের জীবনের মূল্য রাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখে? আমরা চাই না এই মৃত্যু কয়েক দিনের সংবাদ হয়ে হারিয়ে যাক। চাই না তদন্তের কথা বলে কয়েক মাস পর ফাইলটি কোনো দপ্তরের আলমারিতে পড়ে থাকুক। চাই না ক্ষতিপূরণের দাবি কাগজপত্রের স্তূপে চাপা পড়ে যাক। চাই না মরদেহ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার পর রাষ্ট্র মনে করুক তার কাজ শেষ।

এই নয়টি মৃত্যু আমাদের সামনে একটি আয়না ধরেছে। সেই আয়নায় শুধু কলকাতার একটি অগ্নিদগ্ধ হোটেল দেখা যাচ্ছে না; দেখা যাচ্ছে নাগরিক নিরাপত্তা, বিদেশে বাংলাদেশিদের অধিকার, কূটনৈতিক দায়িত্ব, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের মানবিক চরিত্র। তাই এবার রাষ্ট্রকে কথা বলতে হবে- দৃঢ়ভাবে, দায়িত্ব নিয়ে।

কলকাতার আগুনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা আর ফিরে আসবেন না। তাদের পরিবারের শূন্যতা কোনো তদন্ত, কোনো ক্ষতিপূরণ, কোনো সরকারি বিবৃতি পূরণ করতে পারবে না। কিন্তু তাঁদের মৃত্যুর পর অন্তত একটি কাজ করা সম্ভব-সত্যটা বের করে আনা। আর সেই সত্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত করা- এমন মৃত্যু যেন আর কোনো বাংলাদেশি পরিবারের দরজায় গিয়ে কড়া না নাড়ে।

লেখক: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানাল যুক্তরাজ্য ও চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানাল যুক্তরাজ্য ও চীন

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছে যুক্তরাজ্য এবং চীন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকায় অবস্থিত ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং চীনা দূতাবাস পৃথক বার্তায় এই অভিনন্দন জানায়।

ব্রিটিশ হাইকমিশন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নতুন রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

পোস্টে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন। দুই দেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে যুক্তরাজ্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে।’

পৃথকভাবে চীনা দূতাবাস তাদের অভিনন্দন বার্তায় জানিয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন। চীন বাংলাদেশের সাথে তার সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং নতুন যুগে একটি অভিন্ন ভবিষ্যৎমুখী চীন-বাংলাদেশ সম্প্রদায় যৌথভাবে গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত, যাতে উভয় দেশ ও দুই দেশের জনগণ বৃহত্তর কল্যাণ লাভ করতে পারে।’

এরআগে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৪৯, ভোট পড়েছে ৩৪৩টি। এরমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধীদল সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধীদল সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী বিদ্যমান সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধী দল বিদ্যমান সংবিধানকে মেনে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। বিরোধী দল নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিরোধীদল থেকে যিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন ড. অলিও আহমেদ তিনিও নির্বাচিত প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, এটাই গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ।’

মন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ে রাষ্ট্রপতির জন্য নির্বাচনের যে আইন আছে, সেই আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেন এবং সেই তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানে অংশগ্রহণ করে বিরোধী দল সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে এবং সংবিধানকে, বিদ্যমান সংবিধানকে স্বীকৃতি জানিয়েছেন। সেজন্য তাদেরকে অভিনন্দন জানাই।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চার মধ্যে বিরোধী দল, সরকারি দল তাদের নিজস্ব অবস্থান থেকে বিভিন্ন রকমের রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে থাকেন। কিন্তু দিনশেষে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দিয়ে তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের জয়যাত্রা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া।’

বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখানে আমি একটা বিষয় বলতে চাই, যদি ৭০ ধারা বিদ্যমান অবস্থায় মেনে নিয়ে বিরোধী দল সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে, তাহলে বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের যে সদস্য হিসেবে তারা শপথ নিয়েছেন, তো সেটা সাংবিধানিকভাবে টিকে না—এই স্বীকৃতি তারাই দিলেন। সেজন্য আবারো অভিনন্দন জানাই।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত প্রধানমন্ত্রীর

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষ করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২০আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে শেরে বাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ ভবন থেকে শেরে বাংলা নগরে সমাধিস্থলে আসেন। সেখানে উনার বাবা ও মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাত করেন।’

কবর জিয়ারতের আগে কিছুক্ষণে একা নীরবে দাঁড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী মাগরিবের নামাজ আদায় করে সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

এদিকে, রাজশাহী, পাবনা ও চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন নবনিযুক্ত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তারেক রহমান প্রত্যেকটি জেলার খোঁজ-খবর নেন এবং দলের তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো জোরদার করার বিভিন্ন নির্দেশনা দেন বলে জানান রুমন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ