খুঁজুন
                               
, ,
           

৩০ লাখের হাতে বাড়তি টাকা, নজর এখন বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
৩০ লাখের হাতে বাড়তি টাকা, নজর এখন বাজারে

একদিকে বেতন বাড়ার স্বস্তি, অন্যদিকে বাজারে দাম বাড়ার শঙ্কা—নতুন পে-স্কেল ঘিরে তৈরি হয়েছে এমনই দ্বিমুখী বাস্তবতা। সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। কিন্তু তাদের হাতে বাড়তি অর্থ যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে পণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। আর সেই চাপ শেষ পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই বহন করতে হতে পারে।

গত সোমবার (৩০ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় নতুন পে-স্কেল অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এর বিপরীতে বেসরকারি খাতের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি কর্মজীবীর বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সরকারি চাকরিজীবীদের আয় বাড়লেও বেসরকারি খাতের আয় একই হারে না বাড়লে দুই খাতের মধ্যে আয়বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাড়তি টাকার প্রথম ধাক্কা বাজারে
অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কার মূল জায়গাটি হলো—৩০ লাখ মানুষের হাতে একসঙ্গে বাড়তি অর্থ পৌঁছালে ভোগের চাহিদা বাড়বে। সাধারণত অতিরিক্ত আয় পাওয়ার পর মানুষের প্রথম দিকের ব্যয় যায় খাদ্য, পোশাক, পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে। কিন্তু সরবরাহ যদি একই গতিতে না বাড়ে, তাহলে চাহিদার এই বাড়তি চাপ সরাসরি পণ্যের দামে প্রতিফলিত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের মতে, পে-স্কেল দেওয়া স্বাভাবিক হলেও বাংলাদেশের দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জ। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সরবরাহ না বাড়লে তার প্রভাব দামের ওপর পড়তে পারে।

মূলত তিনটি পথে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে। প্রথমত, বাড়তি আয় থেকে ভোগ বাড়লে চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, সরকারি বেতন বৃদ্ধির প্রভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপরও কর্মীদের বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানগুলো সেই বাড়তি ব্যয় পণ্যের দামে চাপিয়ে দিলে তৈরি হবে খরচজনিত মূল্যস্ফীতি। তৃতীয়ত, বাড়তি ব্যয় মেটাতে সরকার যদি অতিরিক্ত ব্যাংকঋণের ওপর বেশি নির্ভর করে, তাহলে অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বছরে বাড়তি ব্যয় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা
নতুন পে-স্কেল শুধু বাজার নয়, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকেও বড় পরীক্ষার মুখে ফেলছে। পুরো কাঠামো বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটি এককালীন কোনো ব্যয় নয়; বেতন-ভাতা, পেনশন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধার ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় তৈরি করবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন পে-স্কেলের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় বর্তমান রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১৫ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো ছাড়া এ ব্যয় সামলানো সরকারের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনই যখন বড় চ্যালেঞ্জ, তখন নতুন করে এত বড় স্থায়ী ব্যয় যুক্ত হওয়ায় বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বাড়বে।

ধাপে বাস্তবায়নে চাপ কমানোর চেষ্টা
সরকার অবশ্য একসঙ্গে পুরো ব্যয়ের চাপ না দিয়ে ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে তিন ধাপে কার্যকর হবে। বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। সরকারের দৃষ্টিতে এই ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন তাৎক্ষণিক রাজস্ব চাপ ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি কিছুটা কমাতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি ব্যয়ের দায় থেকেই যাবে।

রাজস্ব বাড়ানোই টেকসই সমাধান
নতুন ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের সামনে মূলত তিনটি পথ—রাজস্ব বাড়ানো, অন্য খাতের ব্যয় কমানো অথবা ঋণ নেওয়া। এর মধ্যে সবচেয়ে টেকসই পথ রাজস্ব বাড়ানো। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি বন্ধ, কর প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন, অপ্রয়োজনীয় কর-ছাড় পুনর্বিবেচনা এবং উচ্চ আয় ও সম্পদের ওপর কার্যকর কর নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক সুরক্ষা খাতের বরাদ্দ কমিয়ে বেতন-ভাতা মেটানো হলে ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ বেতন ও পেনশন একবার বাড়লে তা কমানো কঠিন; ফলে এগুলো বাজেটের অনমনীয় ব্যয়ে পরিণত হয়।

ঋণ নিলে বাড়বে আরেক ঝুঁকি
২০২৬-২৭ অর্থবছরে অনুদান বাদে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। পে-স্কেলের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে আরও ব্যাংকঋণ নিতে হলে সরকারের সুদ ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ক্রাউডিং আউট’। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানও চাপে পড়তে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ

৭ মাসে নিখোঁজ ১৫৭১৭ শিশু, সন্ধান মেলেনি ২০৩৮: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
৭ মাসে নিখোঁজ ১৫৭১৭ শিশু, সন্ধান মেলেনি ২০৩৮: পুলিশ

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে দেশে শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ১৫৭১৭টি। এর মধ্যে ১৩৫৭৯ শিশু উদ্ধার হয়েছে অথবা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে এখনো সন্ধান মেলেনি ২০৩৮ শিশুর।

গণমাধ্যমে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজের খবর প্রকাশের পর বিষয়টি যাচাই করে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জানুয়ারি থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত শূন্য থেকে নয় বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের জিডি হয়েছে ৪৭৪, উদ্ধার হয়েছে ৪০৬ জন, উদ্ধার হয়নি ৬৮ জন।

একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজ হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩, উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ২৭৩ জন, উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৯৭০ জন। অর্থাৎ এ সময়ে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ নিখোঁজ শিশুর মধ্যে উদ্ধার হয়নি ২ হাজার ৩৮ জন, যা মোট নিখোঁজের শতকরা ১৩ ভাগ।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশিত সংবাদসমূহে নিখোঁজ শিশুদের পরবর্তী অবস্থা অর্থাৎ নিখোঁজ শিশুদের কতজন উদ্ধার হয়েছে বা নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে—এ সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না থাকায় শিশু নিখোঁজের প্রকৃত চিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।

শিশু নিখোঁজ সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি নিরসন এবং অধিকতর স্পষ্টীকরণের লক্ষ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করেছে।

নিখোঁজ হওয়ার কারণ হিসেবে দেখা যায়, শূন্য থেকে ৯ বছরের শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে ঘুরতে গিয়ে পথঘাট ভুলে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের নাম ঠিকানা বলতে না পারা এবং একাকি বাসায় ফিরতে গিয়ে অন্য স্থানে চলে যাওয়া ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়।

আবার ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা অভিমান করে, পড়ালেখার চাপ, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা, স্বাধীন জীবন-যাপনের আকাঙ্ক্ষা, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ বা অন্য কোনও সুবিধা আদায়ের কৌশল, পারিবারিক কলহ ও অশান্তি এবং বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব ইত্যাদি কারণে নিখোঁজ হয়।

বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হয়েছে। ফলে জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নিখোঁজ জিডি হয়েছে ১৭ হাজার ৮০৮, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪ এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মন্ত্রীর গাড়িতে মামলা, ট্রাফিক আইনে ‘খুশি’ বিমানমন্ত্রী মিল্লাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৪ অপরাহ্ণ
মন্ত্রীর গাড়িতে মামলা, ট্রাফিক আইনে ‘খুশি’ বিমানমন্ত্রী মিল্লাত

আইনের লঙ্ঘন বরদাস্ত করা হবে না এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় বলে মন্তব্য করে নিজের গাড়ির ট্রাফিক আইন ভঙ্গ ও মামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ তার গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। রাতে জাতীয় সংসদের প্রবেশপথে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, সার্কিট হাউজ রোডে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের বিপরীত পাশের সড়কে বাম দিকে প্রচণ্ড ভিড় ছিল। সেখানে একটি ডিভাইডার রয়েছে এবং সেই অংশটি ফাঁকা পেয়ে তার গাড়ির চালক সেটি অতিক্রম করে অন্য পাশে উঠতে চেয়েছিল, যা স্পষ্টতই ট্রাফিক আইনের একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। চালক এই ভুল করলেও গাড়িতে উপস্থিত থাকা বিমানমন্ত্রী ঘটনার পরপরই নিজের গাড়ির এমন ট্রাফিক আইন ভঙ্গের জন্য অনুতপ্ত হন এবং প্রকাশ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেন।

ট্রাফিক পুলিশ মামলা দেওয়ায় এবং জরিমানা করায় সন্তোষ প্রকাশ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, আইন ভঙ্গের কারণে তার গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জরিমানা করা হয়েছে, তাতে তিনি অত্যন্ত খুশি। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রমাণ করে যে দেশে আইনের শাসন বজায় রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে যেন অন্য কেউ এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়, তার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে।

আইন অমান্য করে কেউ পার পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার সুশাসন ও আইনের শাসনে গভীরভাবে বিশ্বাসী। এই সরকার কোনো অবস্থাতেই একজন মন্ত্রী কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ট্রাফিক আইন অমান্য করা মেনে নেবে না।

আইনের সমপ্রয়োগের বিষয়ে জোর দিয়ে বিমানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, একজন মন্ত্রীর গাড়ি বা তার চালক আইন অমান্য করবে, তা কোনো যুক্তি বা কোনো অজুহাতেই বর্তমান সরকার বরদাস্ত করবে না।

তিনি বলেন, এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে যে তারেক রহমানের সরকার অত্যন্ত কঠোরভাবে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সরকারের দৃষ্টিতে দেশের কোনো সাধারণ নাগরিক কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, কাউকেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা হবে না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা

রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে উল্টোপথে চলার সময় এক মন্ত্রীর পতাকাবাহী গাড়ি থামিয়ে দুটি মামলা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। এ ঘটনায় মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৮ মিনিটের দিকে সার্কিট হাউস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মন্ত্রীর পতাকাবাহী রেঞ্জ রোভার গাড়িটি উল্টোপথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে দেয়। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫।

উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়। প্রতিটি মামলায় ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি গাড়িটির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগেও মামলা করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাড়িটি বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর। ঘটনার সময় মন্ত্রী গাড়িতে ছিলেন।

ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, গাড়িটি যখন উল্টোপথে যাচ্ছিল, একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বহর পাশের সড়ক দিয়ে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল।

ট্রাফিক কর্মকর্তাদের দাবি, কোনো মন্ত্রীর গাড়ি উল্টোপথে চলার অভিযোগে মামলা করার ঘটনা দেশে প্রথম। অতীতে যানজট এড়াতে মন্ত্রী বা সচিবদের গাড়ি উল্টোপথে চলার ঘটনা সামনে এলেও এ ধরনের ঘটনায় মামলা হওয়ার নজির ছিল না।

পুলিশের মতে, এ ঘটনায় মামলা হওয়া সবার জন্য আইনের সমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি