ওমানের মানুষের আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও উদারতার প্রশংসা করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হাদিসের উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মানবিক মূল্যবোধ, অতিথিপরায়ণতা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে অনুষ্ঠিত ওই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে রাজা চার্লস ওমানের মানুষের সহনশীলতা ও নমনীয়তার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত মহানবী (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেন, যার মাধ্যমে ওমানের মানুষের আচরণ ও উদারতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।
মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসা
বক্তব্যে রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, “তুমি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতে, তারা তোমাকে গালমন্দ করত না, আঘাতও করত না।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর এই বাণী উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক সহনশীলতা ও উদারতার প্রতি সম্মান জানান ব্রিটিশ রাজা। তার বক্তব্যে অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, নম্র আচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।
ওমান দীর্ঘদিন ধরে আরব উপদ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আতিথেয়তা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও সেই ঐতিহ্যের প্রতি স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন দেখা যায়।
উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজা তৃতীয় চার্লসের বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মতো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে অতিথি রাষ্ট্রের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জনগণের প্রশংসা করা হয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও ওমানের মানুষের মানবিক আচরণ ও আতিথেয়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্য-ওমান সম্পর্কেও গুরুত্ব দিলেন রাজা চার্লস
বক্তব্যে শুধু ওমানের মানুষের প্রশংসাই নয়, যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্রিটিশ রাজা। দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।
যুক্তরাজ্য ও ওমানের সম্পর্ক কূটনীতি, বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিকশিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এমন আয়োজন দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করে।
ধর্মীয় বাণীর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধার প্রকাশ
একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করার মধ্য দিয়ে রাজা চার্লস ওমানের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্যে আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও মানবিক আচরণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের গুরুত্বও সামনে এসেছে।
ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত এই নৈশভোজে রাজা চার্লসের বক্তব্য তাই কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বন্ধনকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবেও উঠে এসেছে। সূত্র: ওমান অবজার্ভার
কালের আলো/এসএ/জেএন
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]