খুঁজুন
                               
, ,
           

১০০ কোটির প্রকল্প, ৯৮% টাকা খরচ—তবু ঘাটতি সেবায়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
১০০ কোটির প্রকল্প, ৯৮%  টাকা খরচ—তবু ঘাটতি সেবায়

প্রকল্প শেষ। বরাদ্দের প্রায় পুরো টাকাও খরচ। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে সেবার ফলাফল নিয়ে। সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া প্রায় ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৯৫ কোটি ২ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। অর্থাৎ সংশোধিত বরাদ্দের ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশই খরচ হয়েছে। অথচ সব সেবা পৌঁছেনি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়।

  • ২১ জেলার নারী-শিশুর স্বাস্থ্য প্রকল্পে পুষ্টি ও শিশুসেবার কয়েকটি সূচক ৭০–৮৬ শতাংশে
  • পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা ও সরঞ্জাম ব্যবহারে উঠে এসেছে দুর্বলতা

বিশেষ করে শিশু ও পুষ্টিসেবার কয়েকটি সূচকে প্রকল্পের অর্জন নেমে এসেছে ৮৫ দশমিক ৬, ৭৬ দশমিক ৮ ও ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশে। বিপরীতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কিছু সূচকে অর্জন ৯৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ফলে প্রকল্পের আর্থিক বাস্তবায়ন প্রায় পূর্ণ হলেও সেবার ফলাফলে তৈরি হয়েছে স্পষ্ট বৈষম্য।

৫০ লাখ মানুষের জন্য, ফল একরকম নয়
২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত চলা ‘২১টি জেলার সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা প্রদান’ প্রকল্পের আওতায় আট বিভাগের ২১ জেলার প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল।

আইএমইডির প্রভাব মূল্যায়নে দেখা গেছে, গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের হার ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্রসব-পরবর্তী সেবা গ্রহণের হার ৮৭ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থাৎ নারীস্বাস্থ্যসেবার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি থাকলেও শিশু ও পুষ্টির ক্ষেত্রে একই গতি ধরে রাখা যায়নি।

মূল্যায়নে ৭২০ জনের ওপর জরিপ করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৮০ জন ছিলেন প্রকল্পের সেবাগ্রহীতা এবং ২৪০ জন তুলনামূলক গোষ্ঠীর সদস্য। পাশাপাশি নেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার, দলীয় আলোচনা ও কেস স্টাডি।

অর্থনৈতিক লাভ আছে, ব্যবস্থাপনায় ফাঁকও আছে
প্রকল্পের অর্থনৈতিক হিসাবে অবশ্য চিত্র ইতিবাচক। অর্থনৈতিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ৩ দশমিক ৭০ এবং অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ৭৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। আর্থিক সুবিধা-ব্যয় অনুপাত ১ দশমিক ২৩২ এবং আর্থিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ১৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

কিন্তু আইএমইডির মূল্যায়নে অর্থের বাইরে উঠে এসেছে প্রকল্প ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা। অনুমোদনের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা হয়নি। বড় প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালকও শুরু থেকে পাওয়া যায়নি।

দুই বছর অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক
২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উপসচিব ড. আবুল হোসেন অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালকের কাজ করেন। পরে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একই দায়িত্ব পালন করেন যুগ্ম সচিব মো. মাহমুদ আলী।

৫০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রকল্পে পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এই প্রকল্পে দীর্ঘ সময় তা হয়নি। আইএমইডির মতে, এতে প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও সমন্বয় ব্যাহত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

পরিকল্পনায় সেপ্টেম্বর, দরপত্রে মার্চ
প্রকল্পের ক্রয় পরিকল্পনায় ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দরপত্র আহ্বানের কথা ছিল। বাস্তবে তা করা হয় ২০১৯ সালের মার্চে। ছয় মাসের এই বিলম্বের প্রভাব পড়ে পরবর্তী ক্রয় ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমেও। চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় হয় ১৫ কোটি ১২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কেনা হয় ৪ হাজার ৫০৮টি সরঞ্জাম। ১২টি জেলার জন্য ১২টি অ্যাম্বুলেন্স কিনতে খরচ হয় আরও ৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তবু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় কিছু এক্স-রে মেশিনসহ সরঞ্জাম পুরোপুরি স্থাপন ও চালু করা যায়নি। অবকাঠামো ও কারিগরি প্রস্তুতির ঘাটতিকেই এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অডিট আপত্তিতেও প্রায় ২৮ লাখ টাকা
প্রকল্পের শেষ অর্থবছর ২০২০-২১-এ ২৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টাকার চারটি অডিট আপত্তি ওঠে। এর মধ্যে করোনাকালে স্যাটেলাইট ক্যাম্পে যাতায়াত বাবদ ১২ লাখ ১৭ হাজার ৯৬০ টাকা এবং প্রশিক্ষণের নামে ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩২ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়ায় হলরুম ও সাউন্ড সিস্টেম বাবদ ১ লাখ ৯ হাজার ৬২০ টাকা এবং আর্থিক ক্ষমতার বাইরে মোটরগাড়ি মেরামতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০ টাকা ব্যয়ের বিষয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এর আগে ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরও আটটি অডিট আপত্তি উঠেছিল। সেগুলো পরে নিষ্পত্তি হলেও শেষ অর্থবছরের চারটি আপত্তি মূল্যায়নের সময়ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় ছিল।

এখন নজর পরিকল্পনার গলদে
প্রকল্প গ্রহণের আগে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সুপারিশ করেছে আইএমইডি। শুরু থেকেই পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং শক্তিশালী তদারকি কাঠামো নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম যাতে কেনার পর পড়ে না থাকে, সে জন্য রক্ষণাবেক্ষণ ও জরুরি প্রতিস্থাপনে আলাদা তহবিল গঠনের সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সেবাকে বিদ্যমান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা, ওষুধ সরবরাহ ও স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আসল সাফল্য টাকা খরচে নয়
স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হকের মতে, স্বাস্থ্য প্রকল্পের দুর্বলতা অনেক সময় শুরু হয় প্রকল্প তৈরির সময়ই। পর্যাপ্ত দক্ষতা ছাড়া প্রকল্প প্রণয়ন হলে পরিকল্পনা, বাজেট ও বাস্তবায়নের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়। এর সঙ্গে বাজেট অনুমোদনে বিলম্ব ও প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তনের মতো বিষয় যুক্ত হলে বাস্তবায়ন আরও ধীর হয়।

এই প্রকল্পের হিসাব তাই সরল নয়। ৯৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে—এটি এক দিক। অন্যদিকে শিশু ও পুষ্টিসেবার কয়েকটি সূচক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের ঘরে আটকে থাকা আরেক বাস্তবতা। স্বাস্থ্য খাতে প্রকল্পের সাফল্যের শেষ মাপকাঠি অর্থব্যয়ের হার নয়; নির্ধারিত মানুষের কাছে কতটা মানসম্মত সেবা পৌঁছেছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

কালের আলো/এম/এএইচ

‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া’, মাদ্রিদে সুনেরাহ্

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া’, মাদ্রিদে সুনেরাহ্

অভিনেত্রী সুনেরাহ্ বিনতে কামাল ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন। কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলেই ঘুরে বেড়ান দেশের বাইরে। এবার স্পেনের মাদ্রিদে গিয়ে ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জাদুঘর মুসেও দেল প্রাদোতে সময় কাটানোর ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করেন সুনেরাহ্। ছবিগুলোর সঙ্গে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘শিল্পের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া।’

ছবি<<সংগৃহীত

সুনেরাহ্র প্রকাশ করা ছবিগুলো স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে তোলা। ছবিতে তাঁকে প্রাদো জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখতে এবং শিল্পকর্ম উপভোগ করতে দেখা গেছে।

মুসেও দেল প্রাদো স্পেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প জাদুঘর। বিশেষ করে স্প্যানিশ চিত্রকলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এই জাদুঘরকে ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ছবি<<সংগৃহীত

জাদুঘর ঘোরার নানা মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সুনেরাহ্। কোথাও তাঁকে শিল্পকর্মের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে, আবার কোথাও জাদুঘরের পরিবেশ উপভোগ করতে দেখা গেছে।

ছবি<<সংগৃহীত

চলতি মাসের শুরু থেকেই ইউরোপে অবস্থান করছেন সুনেরাহ্। মূলত ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে তিনি ইউরোপে যান।

এবারের ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রিমিয়ার হয়েছে। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন সুনেরাহ্ বিনতে কামাল।

ছবি<<সংগৃহীত

ভেনিসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবার মাদ্রিদে ঘুরে বেড়ানোর মুহূর্তগুলোও ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন এই অভিনেত্রী। ভ্রমণের পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর এসব ছবি এরই মধ্যে তাঁর অনুসারীদের নজর কেড়েছে।

সুনেরাহ পোস্ট করা ছবিগুলোতে তাঁর ইউরোপ ভ্রমণের অন্যরকম এক দিকও ফুটে উঠেছে—শুধু পর্যটন নয়, শিল্প ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখতেও আগ্রহী এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
পারমাণবিক প্রযুক্তি ও নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন চুক্তি

বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ চুক্তিতে সই করেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতেও সহযোগিতার পরিধি বিস্তৃত হবে।

বিএনপির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে শুরু হওয়া বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক সহযোগিতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় নতুন এ চুক্তি সই হয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অবকাঠামো গড়ে উঠছে।

নতুন চুক্তির ফলে পারমাণবিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং বেসামরিক জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কালের আলো/এমএসআইপি 

কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
কাগজের দিন শেষ, চট্টগ্রাম  বন্দরের ডিজিটাল রূপান্তর

একটি বন্দরের সক্ষমতা শুধু জাহাজ ভেড়ানো কিংবা পণ্য ওঠানামায় মাপা হয় না; কত দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্নে সেই সেবা মানুষের কাছে পৌঁছায়, তার ওপরও নির্ভর করে বন্দরটির কার্যকারিতা। সেই জায়গাতেই বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। কাগজের ফাইল, কাউন্টারের অপেক্ষা ও ম্যানুয়াল অনুমোদনের দীর্ঘ প্রক্রিয়াকে পেছনে ফেলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি পেপারলেস ও ‘স্মার্ট পোর্টে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

  • চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের উদ্যোগে সমন্বিত অটোমেশন
  • ডিসেম্বরের মধ্যে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের লক্ষ্য
  • এক প্ল্যাটফর্মে বিল, পেমেন্ট, ডেলিভারি ও গেট ব্যবস্থাপনা
  • কমবে সময়, কাগজ ও শারীরিক উপস্থিতি

এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা—যেখানে বিল পরিশোধ থেকে পণ্য ডেলিভারি, গেট পাস থেকে জাহাজের অনুমোদন এবং ট্রাকের প্রবেশ থেকে পার্কিং পর্যন্ত সেবার বড় অংশই পরিচালিত হবে অনলাইনে। চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের দক্ষ নেতৃত্ব ও কার্যকর ধারাবাহিক উদ্যোগে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সেবা ডিজিটাল কাঠামোয় এসেছে। এখন লক্ষ্য সেগুলোকে একটি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ব্যবস্থায় যুক্ত করা।

কাউন্টার ছাড়াই বন্দরের সেবা
চট্টগ্রাম বন্দরের শতভাগ বিল ইতোমধ্যে অনলাইনে সম্পাদিত হচ্ছে। কনটেইনার ও কনসাইনি বিলও টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেমের (টিওএস) মাধ্যমে তৈরি ও আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে সোনালী ব্যাংক পিএলসির বুথ স্থাপনের পাশাপাশি এপিআই ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে চালু হয়েছে অনলাইন পেমেন্ট। ফলে ছুটির দিন কিংবা প্রচলিত ব্যাংকিং সময়ের বাইরেও বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে।

বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য এর অর্থ সরাসরি—বিল পরিশোধে কাউন্টারে যেতে হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষাও করতে হবে না। একই সঙ্গে কমছে কাগজপত্রের ব্যবহার ও শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন।

৭২ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয় আদায়
ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় শুধু গতি নয়, আর্থিক শৃঙ্খলাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বন্দরের কোনো মাশুল বা ফি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না হলে ‘অটো পুল পেমেন্ট’ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্যদিকে, টিওএসের মাধ্যমে স্পেশাল ডেলিভারি অ্যাসাইনমেন্টের অনলাইন অনুমোদন এবং এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআই ব্যবহার করে অকশন ডেলিভারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফলে অনুমোদন, মাশুল আদায় ও পণ্য ডেলিভারির বিভিন্ন ধাপে কাগজনির্ভরতা কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চবকের পরিকল্পনার বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই—আলাদা আলাদা সেবা অনলাইনে নেওয়ার পরিবর্তে পুরো কার্যপ্রবাহকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনা।

গেটেই বদলাবে বন্দরের চিত্র
চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যানজটের বিষয়টি জড়িয়ে আছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় গেট ব্যবস্থাপনাতেও আনা হচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবর্তন। ই-গেট পাস ইস্যু এবং গেটের ইন-আউট কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনের আওতায় আনা হয়েছে। টিওএসের মাধ্যমে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ড টিকিট, ই-গেট চালান এবং শতভাগ ভেসেল ই-এনওসি চালুর কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

নতুন টিওএস সংস্করণে ড্রপ টিকিট, পিকআপ টিকিট ও ইআইআর ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে বন্দরে যানবাহনের প্রবেশ, পণ্য সংগ্রহ ও বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও পরিকল্পিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

ট্রাকের অপেক্ষা কমাতে প্রযুক্তি
বন্দরের ভেতরের যানজট কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে আরও নির্দিষ্টভাবে। টার্মিনালে রুট-বাই-রুট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে চালু করা হচ্ছে পেমেন্টভিত্তিক ট্রাক পার্কিং টিকিটিং ব্যবস্থা। এর ফলে নির্দিষ্ট রুট ও ব্যবস্থাপনার আওতায় ট্রাক চলাচল করতে পারবে। অপ্রয়োজনীয় অপেক্ষা ও ঘোরাফেরা কমলে বন্দরের অভ্যন্তরীণ চাপ কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সময়ও সাশ্রয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেতৃত্বে গতি, পরিকল্পনায় সমন্বয়
চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেবার গতি ও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি সফটওয়্যার চালুর বদলে বিলিং, পেমেন্ট, ডেলিভারি, গেট, জাহাজ ও ট্রাক ব্যবস্থাপনাকে একই ডিজিটাল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন। ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারে রিয়েল-টাইম ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, বিল জেনারেশন ও কনফার্মেশনের পাশাপাশি অফডকের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বন্দর ব্যবহারকারীর একটি কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক দপ্তরে ঘোরার প্রয়োজন কমবে।

চবক কর্মকর্তাদের মতে, এর প্রভাব শুধু সেবা গ্রহণের সময় কমানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দ্রুত মাশুল আদায়, স্বচ্ছ আর্থিক হিসাব, পণ্য খালাসে গতি এবং যানবাহনের অপেক্ষার সময় কমানোর মাধ্যমে বন্দরের সামগ্রিক দক্ষতাও বাড়বে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্য, বদলে যাবে সেবার সংস্কৃতি
চট্টগ্রাম বন্দরকে স্মার্ট পোর্টে রূপান্তরের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য প্রযুক্তি সংযোজনের চেয়েও বেশি—এটি বন্দরের সেবা প্রদানের সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের প্রচেষ্টা। যেখানে একটি বিলের জন্য কাউন্টারে দাঁড়ানো, একটি অনুমোদনের জন্য ফাইল খোঁজা কিংবা গেট পার হওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা ধীরে ধীরে অতীতের দৃশ্যে পরিণত হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ পেপারলেস বন্দর গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রয়োজন হবে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত অংশগ্রহণ। চবক চেয়ারম্যানও এ লক্ষ্য অর্জনে বন্দর ব্যবহারকারী ও সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা চেয়েছেন। সফল হলে চট্টগ্রাম বন্দরের এই পরিবর্তন শুধু একটি আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবস্থার সংযোজন হবে না; বরং দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সেবা ব্যবস্থাপনাকে কাগজের ফাইল থেকে রিয়েল-টাইম ডিজিটাল অপারেশনে নেওয়ার একটি দৃশ্যমান রূপান্তর হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমকে