খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতে ভেজাল মদপানে ১৯ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
ভারতে ভেজাল মদপানে ১৯ জনের মৃত্যু

ভারতের নাগাল্যান্ডে সন্দেহভাজন বিষাক্ত বা ভেজাল মদপানে গত দুই দিনে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের মোককচুং ও তুয়েনসাং জেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভেজাল মদের উৎস ও সরবরাহ চক্র শনাক্ত করতে বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান করে মোককচুং জেলায় আটজন এবং তুয়েনসাং জেলায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মোককচুং জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ ভেসুপ্রা কেজো জানান, ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আই বুংলাং চ্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। দলটি মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি কোথা থেকে সন্দেহভাজন ভেজাল মদ এসেছে এবং কীভাবে তা সরবরাহ করা হয়েছে, তা খুঁজে বের করবে।

মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে সন্দেহভাজন মদের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আসামের গুয়াহাটিতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ভেসুপ্রা কেজো বলেন, তদন্তে কিছু সূত্র পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব নয়।

এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অবৈধ মদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অজ্ঞাত উৎসের, লেবেলবিহীন কিংবা সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে তৈরি বা অনুমোদনহীন মদ কেনা ও পান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সন্দেহজনক মদ পান করার পর কারও মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে।

নাগাল্যান্ডে দীর্ঘদিন ধরেই মদ বিক্রি ও পান নিষিদ্ধ। ১৯৯০ সাল থেকে রাজ্যটিতে মদ নিষিদ্ধ আইন কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যেই সন্দেহভাজন অবৈধ মদ পান করে একসঙ্গে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নিষিদ্ধ মদের অবৈধ সরবরাহ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সন্দেহভাজন মদের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

কালের আলো/এসএ

 

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান, আবেদন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান, আবেদন ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত

সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেবে সরকার। এ অনুদানের জন্য আগ্রহীদের আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পুনর্বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী আগে অনলাইনে আবেদন করে থাকলে তাঁকে আবার ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে না। একই ব্যক্তি দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে তাঁর দুটি আবেদনই বাতিল বলে গণ্য হবে।

এর আগে বিশেষ অনুদানের অর্থ বিতরণের জন্য ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিতসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী না পাওয়া এবং প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল ও হাওর এলাকার অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীর অনলাইনে আবেদনের সুযোগ সীমিত থাকায় এবার নতুন করে ম্যানুয়াল আবেদন নেওয়া হচ্ছে।

যেসব ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়া হবে

বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহ, খেলাধুলার সরঞ্জাম কেনা, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য অনুদান দেওয়া হবে।

এ ছাড়া বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনাজনিত কারণে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈব দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, মেধাবী, এতিম, অদম্য মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন। উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার থাকবে।

যেভাবে আবেদন করতে হবে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদান পেতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রধান শিক্ষক কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আর স্নাতক বা সমমান এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।

প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রার আবেদন গ্রহণ করে প্রাথমিক যাচাই শেষে সেগুলো একত্র করবেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠাতে হবে।

অনলাইন ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে একই আবেদন যাতে দুইবার সুপারিশপ্রাপ্ত না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য জেলা কমিটির মাধ্যমে আগে পাঠানো অনলাইন আবেদনভিত্তিক সুপারিশের তালিকা এবং নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া তালিকা সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে।

আবেদনের শেষ সময় ১৫ অক্টোবর

প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে পাওয়া আবেদন জেলা কমিটি যাচাই করে সুপারিশ করবে। সেই সুপারিশকৃত তালিকা আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর পৌঁছাতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পর পাওয়া কোনো আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

নির্ধারিত আবেদন ফরম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

রয়েছে একাধিক শর্ত

কোনো আবেদনকারী আগে অনলাইনে আবেদন করে থাকলে নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করতে পারবেন না। দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে উভয় আবেদন বাতিল হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এ সুবিধা নিতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষাজীবনে প্রতি তিন বছর পরপর এ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

একই সময়ে অন্য কোনো সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ আবেদনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকার প্রদত্ত সাধারণ উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি এ শর্তের আওতামুক্ত থাকবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে নির্মাণ, সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে অথবা সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে এ ধরনের প্রকল্প সমাপ্ত বা চলমান রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে

অনলাইনে আবেদনকারী ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদনকারী—উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে অনুদানের অর্থ দেওয়া হবে।

অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে তাঁর বাবা বা মায়ের সঙ্গে যৌথ নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে ব্যাংক হিসাব থাকতে হবে। প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের নিজ নামে ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।

ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল

অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ভুল তথ্যসংবলিত কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।

তবে আবেদন বা কোনো সুপারিশকে অনুদানের অর্থ পাওয়ার অধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে না। অনুদান দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

ফলে আবেদনকারীদের নির্ধারিত ফরমে সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করার পাশাপাশি আগে অনলাইনে আবেদন করা হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়ার পর আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

জাবির উপাচার্য পদে রদবদল, নতুন দায়িত্বে নূরুল ইসলাম

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
জাবির উপাচার্য পদে রদবদল, নতুন দায়িত্বে নূরুল ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক কামরুল আহসানকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে তাঁর মূল পদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, একই আদেশের ১১(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁকে ওই পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে হবে—পর্যন্ত নূরুল ইসলাম জাবির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে উপাচার্যকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

অধ্যাপক নূরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক। এর আগে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন।

অধ্যাপক কামরুল আহসান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এবার তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনে পরিবর্তন আনা হলো।

কালের আলো/এসএ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, ফিন্যান্স, বোটানিসহ ১৫টি বিষয়ের সংশোধিত সিলেবাস ভ্যালিডেশন নিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ক্যাম্পাসের সিনেট হলে এ কর্মশালা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকরা অংশ নিচ্ছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পর্যায়ে একসঙ্গে ১৫টি বিষয়ের সিলেবাস ভ্যালিডেশন নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম বলে জানানো হয়েছে।

‘ভ্যালিডেশন অব দ্য রিভাইজড ব্যাচেলর অব অনার্স সেকেন্ড ইয়ার সিলেবাস’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন।

কর্মশালার বিভিন্ন অধিবেশনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও শিক্ষকরা সংশোধিত সিলেবাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে সিলেবাসের বিষয়বস্তু, শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়া, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরির বিষয়।

‘শুধু পরীক্ষার জন্য নয়, বাস্তব জীবনের জন্য শিক্ষা’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়ন এখন আর শুধু সময়ের দাবি নয়, বরং এটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে পড়াশোনা করেন। ফলে এই শিক্ষাব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন ছাড়া দেশের উচ্চশিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন।

উপাচার্যের ভাষ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে দেশের ৭০ শতাংশ শিক্ষার বেহাল দশা কাটবে না। এ কারণেই কারিকুলাম ও সিলেবাস উন্নয়নে ‘ম্যাসিভ’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু সিলেবাসের বিষয় পরিবর্তন করলেই হবে না। শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, কীভাবে শিখছে এবং সেই শিক্ষা বাস্তব জীবনে কীভাবে কাজে লাগাতে পারছে—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। সংশোধিত সিলেবাস তৈরির পর বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে তা যাচাই করা হচ্ছে।

উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন শুধু পরীক্ষায় ভালো করার জন্য পড়াশোনা না করে; বরং বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সিলেবাসকে নতুন করে দেখা হচ্ছে।

কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় গুরুত্ব

সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, সংশোধিত সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেতরের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কারিগরি ও ব্যবহারিক বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের অংশ হিসেবে কারিকুলাম ও সিলেবাস আধুনিকায়নের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলবে। শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবহারিক দক্ষতা, কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য তৃতীয় ভাষা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশে সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলার কার্যক্রম দেশব্যাপী জোরদার করা হয়েছে।

ঔপনিবেশিক প্রভাব থেকে বের হওয়ার আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ও সমাজবিজ্ঞানী এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঔপনিবেশিকতার প্রভাব থেকে বের করে আনতে হবে। তা না হলে শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাধীন চিন্তা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও বাস্তবজ্ঞান তৈরি হয়। শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা তৈরির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

কর্মশালায় যারা উপস্থিত ছিলেন

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এ এইচ এম রুহুল কুদ্দুস, স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ফকির রফিকুল আলম এবং স্নাতকপূর্ব শিক্ষাবিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মো. আশেক কবির চৌধুরী।

দুই দিনব্যাপী কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে সংশোধিত সিলেবাসের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পর্যায়ের শিক্ষাক্রমকে আরও আধুনিক, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী করার উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসএ