খুঁজুন
                               
, ,
           

মোবাইল সেবায় বড় ফাঁক

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মোবাইল সেবায় বড় ফাঁক

মোবাইল ফোনে কল করতে গিয়ে ‘নো সার্ভিস’, কথা বলার মাঝখানে হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ফোরজি নেটওয়ার্ক দেখালেও একটি ভিডিও চালাতে দীর্ঘ অপেক্ষা—দেশের কোটি মোবাইল গ্রাহকের কাছে এসব এখন বিচ্ছিন্ন ভোগান্তি নয়। শহরের বাইরে গেলেই অনেক এলাকায় দুর্বল নেটওয়ার্ক যেন স্বাভাবিক বাস্তবতা। অথচ বিজ্ঞাপনে চার অপারেটরেরই দাবি—দেশজুড়ে শক্তিশালী কাভারেজ, উন্নত নেটওয়ার্ক ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট।

  • চার অপারেটরের সেবায় বিটিআরসির পরীক্ষায় ঘাটতি
  • কোথাও কাভারেজ নেই, কোথাও কলড্রপ; ফোরজিতেও ধীরগতি
  • ৬৬ হাজার অভিযোগের পরও প্রশ্নের শেষ নেই

অপারেটরদের সেই দাবির বিপরীতে উঠে এসেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিজস্ব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চার অপারেটরের কারও সেবাই সব সূচকে নির্ভরযোগ্য নয়। একজনের নেটওয়ার্ক আছে, কিন্তু কলড্রপ বেশি; আরেকজনের ইন্টারনেট তুলনামূলক দ্রুত, কিন্তু বহু এলাকায় কাভারেজ নেই; কেউ আবার দ্রুতগতির দাবি করলেও সেই তথ্যই স্বাধীনভাবে যাচাই করার মতো পূর্ণাঙ্গ ডেটা দিতে পারেনি। ফলে প্রশ্নটি এখন শুধু কোন অপারেটর কত ভালো করছে, তা নয়। বড় প্রশ্ন—গ্রাহক যে সেবার জন্য প্রতিমাসে টাকা দিচ্ছেন, সেই সেবার ঘোষিত মান কি বাস্তবে কোথাও নিশ্চিত হচ্ছে?

গ্রামীণফোন: বড় নেটওয়ার্ক, তবুও নেটওয়ার্কহীন উপজেলা
দেশের বৃহত্তম নেটওয়ার্কের দাবি করা গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রেই উঠে এসেছে বড় বৈপরীত্য। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব হিসাবে ভিওএলটিই কলড্রপের হার ০.০৪২২ শতাংশ। কিন্তু বিটিআরসির পরীক্ষায় তা পাওয়া গেছে ০.৩৮১৪ শতাংশ—প্রায় নয় গুণ বেশি। হারটি নিয়ন্ত্রকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ সীমার মধ্যে থাকলেও প্রতিযোগীদের তুলনায় বেশি। আরও গুরুত্বপূর্ণ, পাঁচটি উপজেলায় গ্রামীণফোনের কোনো নেটওয়ার্ক কাভারেজ নেই। একটি উপজেলায় আবার ফোরজি সেবাই পৌঁছেনি।

গ্রাহকের কাছে জাতীয় পর্যায়ের বিশাল কাভারেজের হিসাব তখন কতটা অর্থবহ, যদি তার নিজের এলাকায় ফোন করাই না যায়? এখানেই অপারেটরের বিপণন-দাবি ও গ্রাহকের বাস্তব অভিজ্ঞতার দূরত্বটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রবি: গতি কম, সঙ্গে তথ্যের ঘাটতি
রবির সেবায় সমস্যার পরিধি আরও বিস্তৃত। বিটিআরসির পরীক্ষায় ২৪টি উপজেলা ও তিনটি জেলায় টুজি কল সেটআপের ন্যূনতম মান পূরণ হয়নি। ফোরজি ডাউনলোডের গড় গতিও তিন বেসরকারি অপারেটরের মধ্যে কম—৬.৮৪৮ এমবিপিএস।

গ্রাহকের জন্য ধীর ইন্টারনেট মানে শুধু একটি ওয়েবসাইট খুলতে বেশি সময় লাগা নয়। মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ক্লাস, অফিসের কাজ, ভিডিও কল কিংবা জরুরি তথ্য আদান-প্রদান—সবকিছুতেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথ্যের প্রশ্ন।

বিটিআরসি ৪১ হাজার ৮১৯টি সেলের কাঁচা বা ‘র ডেটা’ চেয়েও পায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কমিশনকে রবির দেওয়া প্রক্রিয়াজাত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। নিয়ন্ত্রকের কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পৌঁছালে স্বাধীনভাবে সেবার মান যাচাই কঠিন হয়ে পড়ে। আর সেই দায় শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের ওপরই বর্তায়—কারণ তিনি জানতেই পারেন না, তার এলাকায় সমস্যাটি সাময়িক নাকি কাঠামোগত।

বাংলালিংক: দ্রুত ইন্টারনেট, কিন্তু কলেই বিপত্তি
ফোরজি ইন্টারনেটের গতিতে এগিয়ে থাকলেও বাংলালিংকের ভয়েস সেবা নিয়ে প্রশ্ন কম নয়। বিটিআরসির হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির কলড্রপ ০.৩৫৬৬ শতাংশ—গ্রামীণফোনের ০.৩২৯৮ এবং রবির ০.২৪০৫ শতাংশের চেয়ে বেশি। আবার পরিদর্শনের আওতার বাইরে অন্তত ছয়টি উপজেলায় কোনো মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ একজন গ্রাহক কোথাও দ্রুত ইন্টারনেট পেতে পারেন, আবার অন্য এলাকায় গিয়ে নেটওয়ার্কই নাও পেতে পারেন। এতে স্পষ্ট হয়, ‘দ্রুততম ইন্টারনেট’ কিংবা ‘বড় কাভারেজ’—একটি সূচক দিয়ে সামগ্রিক সেবার মান বিচার করা যায় না। গ্রাহকের প্রয়োজন একটি পূর্ণাঙ্গ সেবা—যেখানে ফোনে সংযোগ থাকবে, কল টিকবে এবং প্রয়োজনের সময় ইন্টারনেটও ব্যবহার করা যাবে।

টেলিটক: কাগজে দ্রুত, ৫২ জেলায় মানদণ্ডের বাইরে
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গভীর। ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ১২টিতে বিটিআরসির নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ ৫২ জেলায় সেবার মান সন্তোষজনক নয়। অথচ টেলিটকের নিজস্ব দাবি, তাদের গড় ফোরজি ডাউনলোড গতি ১১.২০ এমবিপিএস। কাগজে এটি তিন বেসরকারি অপারেটরের চেয়েও বেশি।

কিন্তু প্রয়োজনীয় বাইনারি ডেটা অসম্পূর্ণ থাকায় বিটিআরসি সেই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।নিজস্ব তথ্যেই আবার ডেটা সংযোগ বিচ্ছিন্নতার হার ০.৬৪ শতাংশ, যেখানে সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা ০.৫০ শতাংশ। ফোরজি সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখার সাফল্যও ৯৮.৪৯ শতাংশ—প্রয়োজনীয় ৯৯ শতাংশের নিচে। অর্থাৎ গ্রাহক যে সেবাটি ব্যবহার করছেন, তার মান নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি সেই সেবার পক্ষে দেওয়া তথ্য নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে।

অভিযোগের পাহাড়, বদলায়নি ভোগান্তি
চার অপারেটরের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিটিআরসিতে জমা পড়েছে ৬৬ হাজার ৭০৫টি অভিযোগ। নেটওয়ার্কের দুর্বলতা, কলড্রপ ও ইন্টারনেটের ধীরগতিই অভিযোগের বড় অংশজুড়ে রয়েছে।

পাশাপাশি প্যাকেজ, রিচার্জ, বিলিং, অতিরিক্ত চার্জ ও সিম-সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে। অভিযোগের এই সংখ্যা দেখাচ্ছে, গ্রাহকের সমস্যা কোনো বিচ্ছিন্ন এলাকার বা সাময়িক পরিস্থিতির বিষয় নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের অভিযোগ ফিরে আসছে।

কমিশনের হেল্পলাইন ও ওয়েবসাইটে পাওয়া প্রায় ১৩ হাজার অভিযোগের মধ্যে ১১ হাজার ২৯৭টি নিষ্পত্তি হয়েছে—হার ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অভিযোগ নিষ্পত্তি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রশ্ন থেকে যায়: অভিযোগের সংখ্যা কমছে, নাকি শুধু অভিযোগের ফাইল বন্ধ হচ্ছে? কারণ একটি এলাকায় বারবার কলড্রপ হলে অভিযোগ নিষ্পত্তির চেয়ে সেই এলাকার নেটওয়ার্ক ঠিক করাই গ্রাহকের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

১৪ হাজার টাওয়ারের ঘাটতি, দায়ও ভাগ করতে হবে
দেশে মোবাইল নেটওয়ার্কের জন্য প্রায় ৫৬ হাজার টাওয়ার রয়েছে। তারপরও কাভারেজ ও সক্ষমতা বাড়াতে আরও প্রায় ১৪ হাজার টাওয়ার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় অবকাঠামোগত ঘাটতি বড় সমস্যা। তবে সমস্যার সমাধান শুধু টাওয়ার বাড়ানোতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যমান টাওয়ারের সক্ষমতা, ব্যাকহল, স্পেকট্রাম ব্যবহার, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নেটওয়ার্ক অপ্টিমাইজেশনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অপারেটরদের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি এসব বিষয়ে নিয়ন্ত্রকের তদারকিও কার্যকর হতে হবে।

এবার ‘দাবি’ নয়, চাই পরিমাপযোগ্য জবাব
বিটিআরসির নতুন পদ্ধতির সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—অপারেটরদের দেওয়া তথ্যের বাইরে গিয়ে কমিশন নিজস্বভাবে নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করছে। এনএমএস, টিএমএস ও ড্রাইভ টেস্টের মাধ্যমে বাস্তব পরিস্থিতি পরিমাপের উদ্যোগ দীর্ঘদিনের তথ্যনির্ভর তদারকির সীমাবদ্ধতা কমাতে পারে। কিন্তু শুধু প্রতিবেদন প্রকাশ করলেই গ্রাহকের ভোগান্তি কমবে না।

কোন অপারেটর কোন এলাকায় ব্যর্থ হয়েছে, কত দিনের মধ্যে তা ঠিক করতে হবে, পুনঃপরীক্ষায় কী ফল এসেছে এবং ব্যর্থতার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসবও নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।

চার অপারেটরের সেবায় দুর্বলতার ধরন আলাদা হলেও গ্রাহকের ভোগান্তি একই—প্রয়োজনের মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ না পাওয়া। কেউ কল করতে পারছেন না, কেউ কথা ধরে রাখতে পারছেন না, কেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন না; আবার কেউ অপারেটরের দেওয়া তথ্যের সত্যতাই যাচাই করতে পারছেন না। মোবাইল সেবা এখন আর বিলাসিতা নয়।

কর্মসংস্থান, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং—সবকিছুর সঙ্গে এটি জড়িয়ে গেছে। তাই সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে শুধু ‘নেটওয়ার্ক সমস্যা’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি গ্রাহকের অর্থ, সময় ও দৈনন্দিন জীবনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

কালের আলো/এএএন/এমকে

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে নতুন উন্নয়ন মডেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে নতুন উন্নয়ন মডেল

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. তিতুমীর বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে সরকার ‘পুনরুদ্ধার, পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠন’—এই তিন ‘আর’ কৌশলের ভিত্তিতে নতুন উন্নয়ন মডেল বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

সম্মেলনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ স্থাপনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে তরুণ প্রকৌশলী ও উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান হস্তান্তর এবং সম্ভাবনাময় দেশীয় স্টার্টআপের জন্য বৈশ্বিক বিনিয়োগ ও বাজারের সুযোগ তৈরিতেও প্রবাসী পেশাজীবীদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান ড. তিতুমীর।

তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও পেশাগত যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত সাফল্যকে বাংলাদেশের জন্য সম্মিলিত সম্ভাবনায় রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।

আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টসের সভাপতি প্রকৌশলী মনির জামানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডেবি ডিঙ্গেল ও মিশিগান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মেগান ক্যাভানাহ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও স্থপতিরা সম্মেলনে অংশ নেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুট: ৯ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ ট্রাক মালামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুট: ৯ জন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ২ ট্রাক মালামাল

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ডিএমপি জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ থেকে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, টিকা, নগদ টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যান।

লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

১৯৭৪ সাল থেকে সেবা

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ১৯৭৪ সালে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।

হামলার ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম ও অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বছরের পর বছর সংস্কার নেই, ঝুঁকিপূর্ণ মাধবপুরের সেতু

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ
বছরের পর বছর সংস্কার নেই, ঝুঁকিপূর্ণ মাধবপুরের সেতু

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুটি দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুটির বিভিন্ন পিলার ও বিমের কংক্রিট খসে পড়ে লোহার রড বেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন উন্মুক্ত থাকায় রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। এতে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও পথচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সেতুটি ঘুরে দেখা যায়, একাধিক পিলার ও বিমের সিমেন্টের আস্তরণ খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও পিলারের লোহার রড পুরোপুরি বেরিয়ে গেছে। বিশেষ করে সেতুর নিচের অংশের রডে ব্যাপক মরিচা ধরেছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিট ভেঙে পড়ায় সেতুটির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিকসহ শত শত মানুষ চলাচল করেন। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুটি কেঁপে ওঠে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও স্থানীয় বাসিন্দা হারুনুর রশীদ বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতু কেঁপে ওঠে। দুর্ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে আগেই সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

তিনি দ্রুত সেতুটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেতুটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির আগে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সংস্কারের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পুরোনো সেতুর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. শামস্ জাবেদ বলেন, তিনি কিছুদিন আগে মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তাই সেতুটির আগের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে সেতুটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি