খুঁজুন
                               
, ,
           

সিটির শাস্তি হলে বদলাবে হলান্ডের ভবিষ্যৎ?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
সিটির শাস্তি হলে বদলাবে হলান্ডের ভবিষ্যৎ?

ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে চলমান ১১৫টি মামলার মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক। তবে এখনো শাস্তি ঘোষণা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

শাস্তির ধরন কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর্থিক জরিমানা কিংবা সীমিত পয়েন্ট কেটে নেওয়ার মতো শাস্তি হলে পরিস্থিতি এক রকম থাকবে। কিন্তু বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তনের ফলে যদি সিটির অবনমন হয়, কিংবা আরও কঠোর কোনো শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে ক্লাবটির খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন আর্লিং হলান্ড।

২০৩৪ পর্যন্ত চুক্তি হলান্ডের

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন হলান্ড। চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। অর্থাৎ কাগজে-কলমে আরও প্রায় আট বছর সিটির সঙ্গে থাকার কথা নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের।

নতুন চুক্তিতে সই করার সময় হলান্ড জানিয়েছিলেন, সিটিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কঠিন ছিল না। তখনও ক্লাবটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। তবে এসব অভিযোগ তাঁর চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু চুক্তি সইয়ের সময়কার পরিস্থিতি আর শাস্তি ঘোষণার পরের পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে। বিশেষ করে সিটি যদি প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হলান্ডের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অবনমনে মুক্তির সুযোগ আছে কি?

হলান্ডের বর্তমান চুক্তিতে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে মুক্ত করে দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট রিলিজ ক্লজ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

স্কাই স্পোর্টসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হলান্ডের পূর্ববর্তী চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজগুলো নতুন চুক্তিতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অবনমনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শর্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে সিটি অবনমিত হলে হলান্ড চুক্তি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে যেতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে বলেই যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি সিটিতে থাকবেন, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

শাস্তির ধরনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

এখন হলান্ডের ভবিষ্যৎ আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সিটির সম্ভাব্য শাস্তির মাত্রা।

যদি ম্যানচেস্টার সিটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়, কিংবা এমন মাত্রায় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয় যাতে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে থেকে যায় এবং প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে নিজেদের ধরে রাখতে পারে, তাহলে হলান্ডের সিটিতে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

কিন্তু অবনমনের মতো কঠোর শাস্তি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু হলান্ড নয়, দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা না হওয়ায় হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলো এখনো সম্ভাবনা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর্যায়েই রয়েছে।

রিয়াল-বার্সার সঙ্গে নাম জড়াচ্ছে

সিটির সম্ভাব্য কঠোর শাস্তির আলোচনা সামনে আসার পর ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাবের সঙ্গে হলান্ডের নাম নতুন করে জড়াতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে হলান্ডের যোগাযোগের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগেও স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছিল।

তবে এখন রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা রয়েছেন এবং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। ফলে হলান্ডকে দলে নেওয়ার বাস্তবতা আগের তুলনায় আলাদা।

বার্সেলোনার আগ্রহও আলোচনায়

হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বার্সেলোনার নামও বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে নরওয়েজিয়ান তারকার নাম আগেও জড়িয়েছে।

বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকো হলান্ডের এজেন্ট রাফায়েলা পিমেন্তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বার্সেলোনার আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এত বড় অঙ্কের চুক্তি কীভাবে সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই শুধু আগ্রহ বা যোগাযোগের খবরের ভিত্তিতে হলান্ডের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নির্ধারিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

পিএসজিও আলোচনায়

হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের নামও রয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব হিসেবে পিএসজির আর্থিক সক্ষমতা এবং বড় তারকা দলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তবে হলান্ডের বর্তমান চুক্তি, তাঁর বাজারমূল্য এবং ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি ও চুক্তিগত পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে কোনো ক্লাবের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সিটিতে পঞ্চম মৌসুমে হলান্ড

ম্যানচেস্টার সিটিতে বর্তমানে পঞ্চম মৌসুম কাটাচ্ছেন হলান্ড। এই সময়ের মধ্যে ক্লাবটির হয়ে তিন শর বেশি গোল করেছেন তিনি। সিটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।

তাই সিটি বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়লে হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে তাঁর ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি এবং সম্ভাব্য শাস্তির প্রকৃতি—দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর আসেনি—ম্যানচেস্টার সিটিকে শেষ পর্যন্ত কী শাস্তি দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্তই অনেকটা নির্ধারণ করতে পারে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ এবং তারকা খেলোয়াড়দের অবস্থান।

শাস্তি ঘোষণার আগে হলান্ডের সিটি ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্যও নেই। ফলে আপাতত তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা কিংবা পিএসজির সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, সেগুলো সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কালের আলো/এসএ

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে কারও কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রকৃত সৈনিক, শহীদ জিয়ার কর্মী, দেশনেত্রীর কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ হতে পারে না, সে দখলবাজ হতে পারে না, সে সন্ত্রাসী হতে পারে না। যদি কেউ হয়, সে বিএনপি নয়।’

দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ—এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অস্থিরতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি