খুঁজুন
                               
, ,
           

সিটির শাস্তি হলে বদলাবে হলান্ডের ভবিষ্যৎ?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
সিটির শাস্তি হলে বদলাবে হলান্ডের ভবিষ্যৎ?

ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে চলমান ১১৫টি মামলার মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক। তবে এখনো শাস্তি ঘোষণা হয়নি। রায়ের বিরুদ্ধে ম্যানচেস্টার সিটি আপিল করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

শাস্তির ধরন কী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আর্থিক জরিমানা কিংবা সীমিত পয়েন্ট কেটে নেওয়ার মতো শাস্তি হলে পরিস্থিতি এক রকম থাকবে। কিন্তু বড় অঙ্কের পয়েন্ট কর্তনের ফলে যদি সিটির অবনমন হয়, কিংবা আরও কঠোর কোনো শাস্তি দেওয়া হয়, তাহলে ক্লাবটির খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

সেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন দলের সবচেয়ে বড় তারকাদের একজন আর্লিং হলান্ড।

২০৩৪ পর্যন্ত চুক্তি হলান্ডের

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে নতুন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করেন হলান্ড। চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। অর্থাৎ কাগজে-কলমে আরও প্রায় আট বছর সিটির সঙ্গে থাকার কথা নরওয়েজিয়ান এই স্ট্রাইকারের।

নতুন চুক্তিতে সই করার সময় হলান্ড জানিয়েছিলেন, সিটিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য কঠিন ছিল না। তখনও ক্লাবটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছিল। তবে এসব অভিযোগ তাঁর চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলেনি বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু চুক্তি সইয়ের সময়কার পরিস্থিতি আর শাস্তি ঘোষণার পরের পরিস্থিতি এক নাও হতে পারে। বিশেষ করে সিটি যদি প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়ে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হলান্ডের সামনে ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

অবনমনে মুক্তির সুযোগ আছে কি?

হলান্ডের বর্তমান চুক্তিতে প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁকে মুক্ত করে দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট রিলিজ ক্লজ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

স্কাই স্পোর্টসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হলান্ডের পূর্ববর্তী চুক্তিতে থাকা রিলিজ ক্লজগুলো নতুন চুক্তিতে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে অবনমনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ শর্ত ছিল কি না, সে বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে সিটি অবনমিত হলে হলান্ড চুক্তি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেরিয়ে যেতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। একইভাবে ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে বলেই যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি সিটিতে থাকবেন, সেটিও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

শাস্তির ধরনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

এখন হলান্ডের ভবিষ্যৎ আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে সিটির সম্ভাব্য শাস্তির মাত্রা।

যদি ম্যানচেস্টার সিটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়, কিংবা এমন মাত্রায় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয় যাতে ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগে থেকে যায় এবং প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে নিজেদের ধরে রাখতে পারে, তাহলে হলান্ডের সিটিতে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন নাও আসতে পারে।

কিন্তু অবনমনের মতো কঠোর শাস্তি হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু হলান্ড নয়, দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

তবে শাস্তির সিদ্ধান্ত এখনো ঘোষণা না হওয়ায় হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যেসব আলোচনা চলছে, সেগুলো এখনো সম্ভাবনা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের পর্যায়েই রয়েছে।

রিয়াল-বার্সার সঙ্গে নাম জড়াচ্ছে

সিটির সম্ভাব্য কঠোর শাস্তির আলোচনা সামনে আসার পর ইউরোপের কয়েকটি বড় ক্লাবের সঙ্গে হলান্ডের নাম নতুন করে জড়াতে শুরু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।

রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে হলান্ডের যোগাযোগের গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার আগেও স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছিল।

তবে এখন রিয়ালের আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও জুড বেলিংহামের মতো তারকারা রয়েছেন এবং তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও রয়েছে। ফলে হলান্ডকে দলে নেওয়ার বাস্তবতা আগের তুলনায় আলাদা।

বার্সেলোনার আগ্রহও আলোচনায়

হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বার্সেলোনার নামও বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কাতালান ক্লাবটির সঙ্গে নরওয়েজিয়ান তারকার নাম আগেও জড়িয়েছে।

বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকো হলান্ডের এজেন্ট রাফায়েলা পিমেন্তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বার্সেলোনার আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় এত বড় অঙ্কের চুক্তি কীভাবে সম্ভব হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই শুধু আগ্রহ বা যোগাযোগের খবরের ভিত্তিতে হলান্ডের ভবিষ্যৎ গন্তব্য নির্ধারিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

পিএসজিও আলোচনায়

হলান্ডের সম্ভাব্য গন্তব্যের তালিকায় প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের নামও রয়েছে। ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব হিসেবে পিএসজির আর্থিক সক্ষমতা এবং বড় তারকা দলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তবে হলান্ডের বর্তমান চুক্তি, তাঁর বাজারমূল্য এবং ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে সম্ভাব্য আইনি ও চুক্তিগত পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে কোনো ক্লাবের সঙ্গে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

সিটিতে পঞ্চম মৌসুমে হলান্ড

ম্যানচেস্টার সিটিতে বর্তমানে পঞ্চম মৌসুম কাটাচ্ছেন হলান্ড। এই সময়ের মধ্যে ক্লাবটির হয়ে তিন শর বেশি গোল করেছেন তিনি। সিটির আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।

তাই সিটি বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়লে হলান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে তাঁর ২০৩৪ সাল পর্যন্ত চুক্তি এবং সম্ভাব্য শাস্তির প্রকৃতি—দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে এখনো সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর আসেনি—ম্যানচেস্টার সিটিকে শেষ পর্যন্ত কী শাস্তি দেওয়া হবে। সেই সিদ্ধান্তই অনেকটা নির্ধারণ করতে পারে ক্লাবটির ভবিষ্যৎ এবং তারকা খেলোয়াড়দের অবস্থান।

শাস্তি ঘোষণার আগে হলান্ডের সিটি ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্যও নেই। ফলে আপাতত তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা কিংবা পিএসজির সঙ্গে যে আলোচনা চলছে, সেগুলো সম্ভাবনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

কালের আলো/এসএ

খালপাড়ে ফিরবে প্রাণ, বদলাবে ঢাকার নগরচিত্র

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
খালপাড়ে ফিরবে প্রাণ,  বদলাবে ঢাকার নগরচিত্র

ঢাকার খালগুলোকে দখল ও দূষণের কবল থেকে রক্ষা করে নাগরিক জীবনের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৫টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। সরকারের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য শুধু খাল পুনরুদ্ধার নয়; খালকে ঘিরে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরপরিসর তৈরি করা।

  • ৫৫ খালের দুই তীরে ওয়াকওয়ে-রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ
  • দখল রোধের পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য তৈরি হবে নতুন উন্মুক্ত পরিসর

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নন্দীপাড়া এলাকায় জিরানী খাল পরিদর্শনকালে এসব কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

‘ধাপে ধাপে বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে চাই’
জিরানী খাল পরিদর্শনে মীর শাহে আলমের বক্তব্যে উঠে আসে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নগর ভাবনার দিকটি। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি খালের দুই পাড়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। প্রতিমন্ত্রীর মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে একই সঙ্গে কয়েকটি সুফল পাওয়া সম্ভব। খালের পাড় সুরক্ষিত হলে অবৈধ দখলের সুযোগ কমবে, পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়বে এবং নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত চলাচল ও বিনোদনের নতুন পরিসর তৈরি হবে। ঢাকাকে এক লাফে বিশ্বের উন্নত কোনো শহরের আদলে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন মীর শাহে আলম।

তাঁর ভাষায়, একদিনে দেশকে সিঙ্গাপুর বা অস্ট্রেলিয়া বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সরকার দিতে চায় না। বাস্তবতাকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে চায় সরকার।

৫৫ খাল ঘিরে বদলের পরিকল্পনা
সরকারের পরিকল্পনায় থাকা ৫৫টি খালের মধ্যে ডিএসসিসির ২৬টি এবং ডিএনসিসির ২৯টি। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব খালের দুই পাশে নির্মাণ করা হবে রিটেইনিং ওয়াল ও ওয়াকওয়ে। এ পরিকল্পনার বিশেষত্ব হলো, খালকে শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ হিসেবে বিবেচনা না করে এর পাড়কে নাগরিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা। হাঁটার পথ, সবুজায়ন ও উন্মুক্ত বিনোদনের সুযোগ তৈরি হলে খালপাড় নগরের নতুন জনপরিসরে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবে।

জিরানীসহ চার খালে বড় কর্মযজ্ঞ
এই বৃহৎ পরিকল্পনার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে ডিএসসিসির কালুনগর, মান্ডা, জিরানী ও শ্যামপুর খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি প্রকল্পে। ৮৯৮ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ সরকার এবং ৩০ শতাংশ ডিএসসিসি বহন করছে।

প্রকল্পের আওতায় চার খালের প্রায় ২০ দশমিক ৫৯ কিলোমিটার পুনঃখনন ও স্লাজ অপসারণ, সীমানা নির্ধারণ এবং স্লোপ প্রটেকশনের কাজ হবে। পাশাপাশি ৩২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ৩৮ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সুরক্ষা বেষ্টনী ও ৩২ দশমিক ৪৪ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। থাকছে ল্যান্ডস্কেপিং, সবুজায়ন এবং পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে আটটি ইটিপি।

খাল রক্ষার সঙ্গে নদী বাঁচানোর উদ্যোগ
মীর শাহে আলম শুধু খাল পুনরুদ্ধারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ কমানোর বিষয়টিকেও একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, মহানগরীর পয়ঃবর্জ্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে শোধন করে নদীতে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। প্রতিমন্ত্রী একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, নদী-খাল রক্ষা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নীতিগত, কারিগরি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

দখলমুক্ত খালের জন্য স্থায়ী সুরক্ষা
খাল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, সিএস রেকর্ড অনুসারে ১৪৯টি এবং পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১ হাজার ৫৯০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর সঙ্গে খালের সীমানা নির্ধারণ ও রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হলে পুনরায় দখল ঠেকানোর জন্য একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে উঠবে। অর্থাৎ উদ্যোগটি কেবল দখল উচ্ছেদে সীমাবদ্ধ না থেকে খালের জায়গা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখার দিকেও এগোচ্ছে।

অগ্রগতির সঙ্গে সামনে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত চার খালের প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। মান্ডা খালের কাজ এগিয়েছে ৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, জিরানীর ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ, কালুনগরের ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং শ্যামপুরের ২ দশমিক ০৫ শতাংশ। খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, অচল কালভার্ট অপসারণ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় জমির সীমিত প্রাপ্যতাকে প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জটিলতা সমাধান করে কাজ এগিয়ে নিতে পারলে খালকেন্দ্রিক নগর উন্নয়নের সুফল আরও দৃশ্যমান হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জিরানী খাল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে ছিলেন।

এ সময় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের নতুন যুক্ত হওয়া এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে। তবে সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় এসব এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে আরও বরাদ্দ প্রয়োজন। সব মিলিয়ে মীর শাহে আলমের বক্তব্যে যে পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটেছে, তাতে ঢাকার খালগুলোকে শুধু পুনরুদ্ধার নয়, নাগরিক জীবনের নতুন সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য স্পষ্ট। জলপথ, সবুজায়ন, হাঁটার পথ ও পরিবেশ সুরক্ষাকে একই কাঠামোয় এনে ধাপে ধাপে বদলে দেওয়ার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খালপাড়ের চেহারার পাশাপাশি নগরবাসীর জীবনযাপনেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে।

কালের আলো/এমএএএমকে

উত্তর প্রদেশে বৃষ্টিতে ৫৬ মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
উত্তর প্রদেশে বৃষ্টিতে ৫৬ মৃত্যু

ভারতের উত্তর প্রদেশে টানা প্রায় ৬০ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। প্রবল বর্ষণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা।

রাজ্য সরকারের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ১০৭টি গবাদিপশু।

সীতাপুরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে সীতাপুরে। সেখানে মারা গেছেন সাতজন। এরপর লখিমপুর খেরি, বাহরাইচ ও বালরামপুরে পাঁচজন করে এবং অযোধ্যা ও গোরখপুরে চারজন করে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের আরও বিভিন্ন এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

পশু মৃত্যুতেও বড় ক্ষয়ক্ষতি

বৃষ্টির কারণে শুধু মানুষের প্রাণহানিই নয়, পশুসম্পদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পশু মারা গেছে হারদই জেলায়—২৮টি।

এ ছাড়া সীতাপুরে ১৬টি, কন্নৌজে ১৪টি, বাহরাইচ ও কানপুর দেহাতে সাতটি করে এবং উন্নাওয়ে ছয়টি পশু মারা গেছে।

হারদইয়ে সবচেয়ে বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে হারদই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলাটিতে ২৭২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে গেছে। লখনউসহ বেশ কয়েকটি জেলায় জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

কয়েক জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় উত্তর প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে বান্দায় ২২৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার, ফতেহগড়ে ২২৪ মিলিমিটার, বাহরাইচের নানপাড়ায় ২১৭ মিলিমিটার, হারদইয়ে ২১৪ মিলিমিটার এবং কন্নৌজে ২০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ ধরনের ভারি বৃষ্টিতে নদী ও জলাধারের পানি বাড়ার পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের মধ্যাঞ্চল ও তেরাই এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

এর পাশাপাশি এসব এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিয়ে অখিলেশের সমালোচনা

এদিকে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের জলাবদ্ধতা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ভারি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

টানা ভারি বৃষ্টিতে প্রাণহানি, বাড়িঘর ও পশুসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নতুন করে অতিভারি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস থাকায় উত্তর প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কালের আলো/এসএ

কোরিয়ার পানি সপ্তাহে বাংলাদেশের জারিফের জয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
কোরিয়ার পানি সপ্তাহে বাংলাদেশের জারিফের জয়

দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোরিয়া আন্তর্জাতিক পানি সপ্তাহ ২০২৬ (কেআইডব্লিউডব্লিউ)’। কোরিয়া ওয়াটার ফোরামের আয়োজনে এবং দেশটির জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পানিসম্পদ খাতের পেশাজীবীরা অংশ নেন। আয়োজকদের হিসাবে, এবারের আয়োজনে প্রায় ১২ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘ওয়াটার, এনার্জি, এআই: সিকিউরিং আওয়ার ফিউচার’ বা ‘পানি, শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আমাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা’।

আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’। সেখানেই বাংলাদেশের তরুণ গবেষক জাবীর জারিফ আখতার অর্জন করেছেন ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড’।

একাই একটি দল, তবু বিশ্বমঞ্চে সাফল্য

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমা পড়া অসংখ্য আবেদনের মধ্য থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’-এর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পেয়েছিল মাত্র আটটি দল। সেখান থেকে দুটি দলকে দেওয়া হয় ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড’। পুরস্কার পাওয়া দুই দলের একটিতে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি জাবীর জারিফ আখতার।

আয়োজনে ‘দল’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও জারিফের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। তিনি কার্যত একাই তাঁর দলের সদস্য হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

কেআইডব্লিউডব্লিউর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, অপর পুরস্কারজয়ী দলে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের প্রতিনিধিরা।

পানিদূষণ শনাক্তে ‘নগরপ্রহরী’

‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’-এ পানিসংক্রান্ত জটিল সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপন করতে হয় অংশগ্রহণকারীদের। জারিফ সেখানে উপস্থাপন করেছেন ‘আরবানসেন্টিনেল’ নামের একটি প্রযুক্তিগত সমাধান।

সহজভাবে বলতে গেলে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থায় দূষণ শনাক্ত করা, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে সেই পানি শোধনের ব্যবস্থা করা যায়—এই ধারণাই তুলে ধরেছেন তিনি।

জারিফের পরিকল্পনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হলেও প্রচলিত অনেক এআই মডেলের মতো দূরের বড় সার্ভারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও পুরো প্রোগ্রাম ও মেশিন লার্নিং মডেলটি ডিভাইসের ভেতরেই যুক্ত থাকে।

দুর্যোগেও কাজ করবে অফলাইন প্রযুক্তি

উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের শহরগুলোতে পানি সরবরাহব্যবস্থার দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করেন জারিফ।

বিশেষ করে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পানি সরবরাহব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়লেও তাঁর প্রস্তাবিত প্রযুক্তি কার্যকর থাকার কথা। কারণ, সিস্টেমটি ইন্টারনেট বা দূরবর্তী সার্ভারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে অফলাইন অবস্থাতেও কাজ করতে পারবে।

শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থায় দ্রুত দূষণ শনাক্ত করা এবং দূষণের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে ধারণাটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করেন তিনি।

বুয়েটের গবেষক হিসেবেই বিশ্বমঞ্চে

কেআইডব্লিউডব্লিউর ওয়েবসাইটে জারিফের পরিচয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজিতে (আইএটি) গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।

জারিফ জানান, এই প্রতিষ্ঠানের একজন গবেষক হিসেবেই বাছাইয়ের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় নিজের কাজ উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জারিফ বলেন, তাঁর কাজের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিচারকদের সামনে তুলে ধরতে হয়েছে। নেটওয়ার্কটি কীভাবে কাজ করে, এর স্থায়িত্ব কতটা, শহুরে পানি সরবরাহব্যবস্থায় এর ব্যবহারিক উপযোগিতা কতটুকু—এমন বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করতে হয়েছে তাঁকে।

এর পাশাপাশি বিচারকদের বিভিন্ন কঠিন প্রশ্নের উত্তরও দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়েক বছর ধরেই পানির গবেষণায়

পানি নিয়ে জারিফের গবেষণার অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি ‘স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ’-এ অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে প্রতিযোগিতাটিতে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

কয়েক বছর ধরে পানি ও পানিসম্পদ নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন এই সাফল্য পেয়েছেন তরুণ গবেষক।

জারিফের গবেষণায় সার্বিক সহায়তা করেছে বুয়েটের আইএটি ও টেক্সটাইল অ্যানালিটিক্যাল ল্যাবরেটরি। এ ছাড়া গবেষণার বিভিন্ন পরীক্ষামূলক ধাপে সহযোগিতা করেছে বুয়েট এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে জাবীর জারিফ আখতার ২০২৩ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। পরের বছর সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন তিনি।

পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন জারিফ। গান শেখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং স্কুল পর্যায়ে টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়ে পুরস্কারও পেয়েছেন।

এ ছাড়া নাসার ‘গ্রেট লুনার এক্সপেডিশন ফর এভরিওয়ান’ মিশনে রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি লিড হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

গবেষণার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণে কাজের স্বপ্ন

প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন রয়েছে জারিফের। তবে শুধু গবেষণার মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি।

সাধারণ মানুষ যেন প্রযুক্তি ও গবেষণার সুফল বাস্তব জীবনে পান, সেটিও নিশ্চিত করতে চান এই তরুণ গবেষক। এ কারণে পড়াশোনা শেষ করার পর গবেষণার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে পানি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় নিজের কাজের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করলেন জাবীর জারিফ আখতার।

কালের আলো/এসএ