খুঁজুন
                               
, ,
           

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৫ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়াকে হারিয়ে শুরু করতে চায় বাংলাদেশ

ঘরের মাঠে প্রায় ১০ দিনের ক্যাম্প। এর মধ্যে খেলেছে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। এশিয়ান গেমসের আগে নিজেদের প্রস্তুতিটা বেশ ভালোভাবেই সেরে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। প্রস্তুতি নিয়ে দলের মধ্যে রয়েছে সন্তুষ্টিও। এবার সেই প্রস্তুতির পরীক্ষা দেওয়ার পালা।

আগামী পরশু মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল দিয়ে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে নিজেদের অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি ঘিরে দলের প্রত্যাশা যেমন রয়েছে, তেমনি প্রতিপক্ষকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিতে চাইছে না বাংলাদেশ।

২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসেও কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল মালয়েশিয়া। সেবার সাইফ হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলকে জিততে বেশ কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছিল। শেষ বল পর্যন্ত গড়ানো ম্যাচে মাত্র ২ রানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ।

এবার অবশ্য তুলনামূলক শক্তিশালী দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে গেছে বাংলাদেশ। তার ওপর কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ দল মালয়েশিয়া জাতীয় দলের বিপক্ষে ৫০ ওভারের সিরিজ এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয় পেয়েছে।

তবুও অতীতের ফল বা সাম্প্রতিক সাফল্যকে সামনে রেখে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না দলের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন।

‘আগেই জিতে যাওয়া উচিত নয়’

জাপানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সালাহউদ্দীন জানান, এ ধরনের টুর্নামেন্টে যেকোনো দলই অপ্রত্যাশিত ফল করতে পারে। তাই প্রতিপক্ষকে নিয়ে আগেভাগে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চান না তিনি।

সালাহউদ্দীন বলেন, এ ধরনের টুর্নামেন্টে আপসেট হতেই পারে। একই উইকেটে বারবার খেলার কারণে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। এমনকি টসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তাঁর মতে, প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাঠে নামার আগেই জয় নিশ্চিত ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ম্যাচ খেলে নিজেদের সামর্থ্য দিয়েই জয় নিশ্চিত করতে হবে।

বৃষ্টির বাধা নিয়েও ভাবনা

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত একাধিক ম্যাচে বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালও বৃষ্টিতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত হলে র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে সেমিফাইনালে উঠে যাবে বাংলাদেশ।

তবে এমনভাবে পরের রাউন্ডে যেতে চান না সালাহউদ্দীন। তাঁর পছন্দ ম্যাচ খেলে জয় পাওয়া।

কোচের মতে, ম্যাচ না খেলে সরাসরি সেমিফাইনাল বা ফাইনালে খেলতে গেলে ছন্দ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। কয়েক দিন ম্যাচের বাইরে থাকার পর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সরাসরি মাঠে নামার বিষয়টি খেলোয়াড়দের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

তাই প্রথম ম্যাচটি খেলা এবং নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেটি শেষ করাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরের ম্যাচের চিন্তা না করে আপাতত মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিয়েই মনোযোগ রাখতে হবে।

প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট দল

এশিয়ান গেমসের আগে বাংলাদেশে প্রায় ১০ দিন ক্যাম্প করেছে দল। এই সময়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে তারা। ফলে জাপানে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে ক্রিকেটাররা।

প্রস্তুতি পর্বে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় দলের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। এখন সেই প্রস্তুতিকে মূল প্রতিযোগিতায় কাজে লাগানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের।

ক্রিকেটে দেশের প্রত্যাশা বেশি

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ওপর প্রত্যাশাটাও তুলনামূলক বেশি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্জন বলতে উশুতে একটি ব্রোঞ্জ পদক। মেয়েদের ক্রিকেট দলও প্রত্যাশা জাগালেও পদক এনে দিতে পারেনি।

এ কারণে ছেলেদের ক্রিকেট দলের কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। কোচ ও অধিনায়কও দেশ ছাড়ার আগে বড় প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিলেন।

সালাহউদ্দীনের কথাতেও সেই প্রত্যাশার চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁর মতে, দ্বিপাক্ষিক কোনো সিরিজে মূলত ক্রিকেটসংশ্লিষ্টরাই বেশি মনোযোগ দেন। কিন্তু এশিয়ান গেমসের মতো আসরে পুরো দেশের মানুষ ফলের দিকে তাকিয়ে থাকে।

‘পদকের গুরুত্ব আমরা জানি’

দেশের মানুষের প্রত্যাশা সম্পর্কে দলের খেলোয়াড়েরাও সচেতন বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দীন। তাঁর মতে, একটি পদক জয়ের আকাঙ্ক্ষা দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে মোটিভেশন তৈরি করেছে।

এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে শুধু নিজেদের পারফরম্যান্স নয়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিও ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করছে। তাই বাড়তি প্রত্যাশার চাপ থাকলেও সেটিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে চান তাঁরা।

বাংলাদেশের সামনে এখন প্রথম লক্ষ্য মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল। প্রতিপক্ষকে সমীহ করেই মাঠে নামতে চায় দল। বৃষ্টি বা অন্য কোনো সমীকরণের ওপর নির্ভর না করে ম্যাচ খেলেই জয় তুলে নেওয়া—এটাই আপাতত বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা।

কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরোতে পারলে সামনে থাকবে সেমিফাইনাল। তবে সালাহউদ্দীনের পরিকল্পনা পরিষ্কার—দূরের হিসাব নয়, আগে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া। আর সেই ম্যাচ থেকেই এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক-স্বপ্নের পথচলা শুরু হবে।

কালের আলো/এসএ

উত্তর প্রদেশে বৃষ্টিতে ৫৬ মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
উত্তর প্রদেশে বৃষ্টিতে ৫৬ মৃত্যু

ভারতের উত্তর প্রদেশে টানা প্রায় ৬০ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। প্রবল বর্ষণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা।

রাজ্য সরকারের বরাতে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে ১০৭টি গবাদিপশু।

সীতাপুরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে সীতাপুরে। সেখানে মারা গেছেন সাতজন। এরপর লখিমপুর খেরি, বাহরাইচ ও বালরামপুরে পাঁচজন করে এবং অযোধ্যা ও গোরখপুরে চারজন করে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রবল বৃষ্টির কারণে রাজ্যের আরও বিভিন্ন এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অনেক জায়গায় সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

পশু মৃত্যুতেও বড় ক্ষয়ক্ষতি

বৃষ্টির কারণে শুধু মানুষের প্রাণহানিই নয়, পশুসম্পদেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি পশু মারা গেছে হারদই জেলায়—২৮টি।

এ ছাড়া সীতাপুরে ১৬টি, কন্নৌজে ১৪টি, বাহরাইচ ও কানপুর দেহাতে সাতটি করে এবং উন্নাওয়ে ছয়টি পশু মারা গেছে।

হারদইয়ে সবচেয়ে বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত

বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছে হারদই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেলাটিতে ২৭২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে গেছে। লখনউসহ বেশ কয়েকটি জেলায় জলাবদ্ধতার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।

কয়েক জেলায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় উত্তর প্রদেশের কয়েকটি এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এর মধ্যে বান্দায় ২২৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার, ফতেহগড়ে ২২৪ মিলিমিটার, বাহরাইচের নানপাড়ায় ২১৭ মিলিমিটার, হারদইয়ে ২১৪ মিলিমিটার এবং কন্নৌজে ২০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এ ধরনের ভারি বৃষ্টিতে নদী ও জলাধারের পানি বাড়ার পাশাপাশি নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের মধ্যাঞ্চল ও তেরাই এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।

এর পাশাপাশি এসব এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

জলাবদ্ধতা নিয়ে অখিলেশের সমালোচনা

এদিকে ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ভিডিও প্রকাশ করে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের জলাবদ্ধতা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী ভারি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে রাজ্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

টানা ভারি বৃষ্টিতে প্রাণহানি, বাড়িঘর ও পশুসম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি নতুন করে অতিভারি বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস থাকায় উত্তর প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

কালের আলো/এসএ

কোরিয়ার পানি সপ্তাহে বাংলাদেশের জারিফের জয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
কোরিয়ার পানি সপ্তাহে বাংলাদেশের জারিফের জয়

দক্ষিণ কোরিয়ার দেগুতে ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কোরিয়া আন্তর্জাতিক পানি সপ্তাহ ২০২৬ (কেআইডব্লিউডব্লিউ)’। কোরিয়া ওয়াটার ফোরামের আয়োজনে এবং দেশটির জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষক, সরকারি প্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পানিসম্পদ খাতের পেশাজীবীরা অংশ নেন। আয়োজকদের হিসাবে, এবারের আয়োজনে প্রায় ১২ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।

এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘ওয়াটার, এনার্জি, এআই: সিকিউরিং আওয়ার ফিউচার’ বা ‘পানি, শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আমাদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তা’।

আন্তর্জাতিক এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’। সেখানেই বাংলাদেশের তরুণ গবেষক জাবীর জারিফ আখতার অর্জন করেছেন ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড’।

একাই একটি দল, তবু বিশ্বমঞ্চে সাফল্য

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জমা পড়া অসংখ্য আবেদনের মধ্য থেকে ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’-এর চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পেয়েছিল মাত্র আটটি দল। সেখান থেকে দুটি দলকে দেওয়া হয় ‘আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড’। পুরস্কার পাওয়া দুই দলের একটিতে ছিলেন ১৯ বছর বয়সী বাংলাদেশি জাবীর জারিফ আখতার।

আয়োজনে ‘দল’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও জারিফের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। তিনি কার্যত একাই তাঁর দলের সদস্য হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

কেআইডব্লিউডব্লিউর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, অপর পুরস্কারজয়ী দলে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের প্রতিনিধিরা।

পানিদূষণ শনাক্তে ‘নগরপ্রহরী’

‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’-এ পানিসংক্রান্ত জটিল সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপন করতে হয় অংশগ্রহণকারীদের। জারিফ সেখানে উপস্থাপন করেছেন ‘আরবানসেন্টিনেল’ নামের একটি প্রযুক্তিগত সমাধান।

সহজভাবে বলতে গেলে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থায় দূষণ শনাক্ত করা, দূষণের উৎস চিহ্নিত করা এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে সেই পানি শোধনের ব্যবস্থা করা যায়—এই ধারণাই তুলে ধরেছেন তিনি।

জারিফের পরিকল্পনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক হলেও প্রচলিত অনেক এআই মডেলের মতো দূরের বড় সার্ভারের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ডিপ লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও পুরো প্রোগ্রাম ও মেশিন লার্নিং মডেলটি ডিভাইসের ভেতরেই যুক্ত থাকে।

দুর্যোগেও কাজ করবে অফলাইন প্রযুক্তি

উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের শহরগুলোতে পানি সরবরাহব্যবস্থার দূষণ নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করেন জারিফ।

বিশেষ করে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় পানি সরবরাহব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়লেও তাঁর প্রস্তাবিত প্রযুক্তি কার্যকর থাকার কথা। কারণ, সিস্টেমটি ইন্টারনেট বা দূরবর্তী সার্ভারের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে অফলাইন অবস্থাতেও কাজ করতে পারবে।

শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থায় দ্রুত দূষণ শনাক্ত করা এবং দূষণের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এমন প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে ধারণাটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করেন তিনি।

বুয়েটের গবেষক হিসেবেই বিশ্বমঞ্চে

কেআইডব্লিউডব্লিউর ওয়েবসাইটে জারিফের পরিচয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজিতে (আইএটি) গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন।

জারিফ জানান, এই প্রতিষ্ঠানের একজন গবেষক হিসেবেই বাছাইয়ের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াটার চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় নিজের কাজ উপস্থাপনের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জারিফ বলেন, তাঁর কাজের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিচারকদের সামনে তুলে ধরতে হয়েছে। নেটওয়ার্কটি কীভাবে কাজ করে, এর স্থায়িত্ব কতটা, শহুরে পানি সরবরাহব্যবস্থায় এর ব্যবহারিক উপযোগিতা কতটুকু—এমন বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করতে হয়েছে তাঁকে।

এর পাশাপাশি বিচারকদের বিভিন্ন কঠিন প্রশ্নের উত্তরও দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

কয়েক বছর ধরেই পানির গবেষণায়

পানি নিয়ে জারিফের গবেষণার অভিজ্ঞতা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে তিনি ‘স্টকহোম জুনিয়র ওয়াটার প্রাইজ’-এ অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে প্রতিযোগিতাটিতে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি।

কয়েক বছর ধরে পানি ও পানিসম্পদ নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন এই সাফল্য পেয়েছেন তরুণ গবেষক।

জারিফের গবেষণায় সার্বিক সহায়তা করেছে বুয়েটের আইএটি ও টেক্সটাইল অ্যানালিটিক্যাল ল্যাবরেটরি। এ ছাড়া গবেষণার বিভিন্ন পরীক্ষামূলক ধাপে সহযোগিতা করেছে বুয়েট এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছেলে জাবীর জারিফ আখতার ২০২৩ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন। পরের বছর সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন তিনি।

পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন জারিফ। গান শেখার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং স্কুল পর্যায়ে টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নিয়ে পুরস্কারও পেয়েছেন।

এ ছাড়া নাসার ‘গ্রেট লুনার এক্সপেডিশন ফর এভরিওয়ান’ মিশনে রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি লিড হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

গবেষণার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণে কাজের স্বপ্ন

প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন রয়েছে জারিফের। তবে শুধু গবেষণার মধ্যেই নিজের কাজ সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তিনি।

সাধারণ মানুষ যেন প্রযুক্তি ও গবেষণার সুফল বাস্তব জীবনে পান, সেটিও নিশ্চিত করতে চান এই তরুণ গবেষক। এ কারণে পড়াশোনা শেষ করার পর গবেষণার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

মাত্র ১৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পানি চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে পানি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় নিজের কাজের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করলেন জাবীর জারিফ আখতার।

কালের আলো/এসএ

নদী দূষণের ৪২৪ দরজা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
নদী দূষণের ৪২৪ দরজা

নদী বাঁচাতে খরচ হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। হয়েছে দখল উচ্ছেদ, ড্রেজিং, তীর রক্ষা, ট্যানারি স্থানান্তর, সৌন্দর্যবর্ধন—বাদ যায়নি বড় কোনো উদ্যোগই। তবু ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে দূষণের স্রোত থামেনি। বরং দুই যুগের নানা কর্মযজ্ঞের পরও প্রতিদিন নতুন করে নদীতে ঢুকছে প্রায় ৩৩০ টন তরল ও কঠিন বর্জ্য।

  • আড়াই হাজার কোটি টাকার নদী রক্ষা কর্মযজ্ঞ
  • তবু বন্ধ হয়নি বর্জ্য প্রবেশ
  • প্রতিদিন চার নদীতে যাচ্ছে ৩৩০ টন
  • নদী রক্ষায় বদলাতে হবে কৌশল

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) জরিপে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যায় শনাক্ত হয়েছে ৪২৪টি বর্জ্য নির্গমনমুখ। সর্বশেষ জরিপে শুধু বুড়িগঙ্গাতেই মিলেছে ৩০৭টি দূষণমুখ। অর্থাৎ নদীর ওপর যতই পরিচ্ছন্নতার অভিযান চলুক, বর্জ্য ঢোকার দরজা খোলা থাকলে সেই নদী কতটা বাঁচানো সম্ভব—এখন সামনে এসেছে সেই মৌলিক প্রশ্ন।

নদী পরিষ্কার হচ্ছে, দূষণও ঢুকছে
নদী রক্ষার এতদিনের উদ্যোগের বড় অংশ ছিল নদীর ভেতর ও তীরে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বর্জ্য অপসারণ কিংবা ড্রেজিংয়ে নদীর চেহারা বদলেছে। কিন্তু দূষণের উৎস বন্ধ না হওয়ায় সেই পরিবর্তন স্থায়ী হয়নি।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদারের বক্তব্যেও উঠে এসেছে সমস্যার মূল জায়গাটি। তাঁর মতে, অভিযান বা জরিমানায় সাময়িকভাবে দূষণ কমানো সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফলের জন্য বর্জ্যের উৎস চিহ্নিত করে তা বন্ধ করা জরুরি।

বিআইডাব্লিউটিএর জরিপে উঠে এসেছে আরও অস্বস্তিকর তথ্য। দূষণের জন্য শুধু শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যাচ্ছে না; সরকারি সংস্থার ড্রেনও সরাসরি নদীতে বর্জ্য ফেলছে। ঢাকা ওয়াসার ৬৬টি ড্রেনের ৫৭টি বুড়িগঙ্গা ও ৯টি তুরাগে গিয়ে পড়ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১টি ড্রেনের ১৯টি বুড়িগঙ্গা ও দুটি শীতলক্ষ্যায় যুক্ত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬টির মধ্যে ১৫টি তুরাগ এবং একটি বুড়িগঙ্গায় গিয়ে মিশেছে।

৬০ শতাংশই শিল্পবর্জ্য
বিআইডাব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, নদীতে পড়া বর্জ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ শিল্পবর্জ্য। ঢাকার চারপাশে নদীর তীরে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় সাত হাজার শিল্প-কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশে কার্যকর তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি নেই। ফলে শিল্পের রাসায়নিক, রং, তেল ও ভারী ধাতুসহ নানা বিষাক্ত উপাদান খাল ও ড্রেন পেরিয়ে সরাসরি নদীতে যাচ্ছে।

নৌবাহিনীর এক প্রতিবেদনে বুড়িগঙ্গাকে ‘অত্যন্ত সংকটাপন্ন’ এবং তুরাগকে ‘সংকটাপন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধলেশ্বরীকে বলা হয়েছে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’। প্রতিবেদনে বুড়িগঙ্গা-তুরাগের দূষণের ৮০ শতাংশের জন্য শিল্প ও জৈব বর্জ্যকে দায়ী করা হয়েছে।

দূষণের ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) পরিমাপে। জলজ প্রাণীর টিকে থাকার জন্য সাধারণভাবে ডিও পাঁচ মিলিগ্রামের ওপরে থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বুড়িগঙ্গায় এর গড় মাত্রা পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৭ থেকে ২ দশমিক ৬৮ মিলিগ্রাম। অর্থাৎ নদীর অনেক অংশে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনধারণের পরিবেশ নেই।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মীর মোহাম্মদ আলীর মতে, বুড়িগঙ্গার পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি ক্যাডমিয়াম ও পারদের মতো ভারী ধাতুও পাওয়া গেছে। অনেক এলাকায় মাছ বেঁচে থাকার মতো পরিবেশ নেই। সংকটে পড়েছে বহু জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের অস্তিত্ব।

লক্ষ্য ‘দূষণের দরজা’ বন্ধ করা
নতুন উদ্যোগে এবার নদী পরিষ্কারের চেয়ে বর্জ্য ঢোকার পথ বন্ধ করাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত ৬ আগস্ট ঢাকার চারপাশের নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে বৈঠকের পর সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথম ধাপে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের ৩৮ কিলোমিটার নৌপথকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নদীর তীর ও আশপাশের সব দূষণমুখ চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো বন্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নৌবাহিনী, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এতে যুক্ত রয়েছে।

শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমইএর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে ইটিপি নেই, তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইটিপি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে নদী দূষণের দীর্ঘ ইতিহাস বলছে, শুধু সময়সীমা বেঁধে দিলেই হবে না; কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে।

৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় সেল
দখল ও দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবেশ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজউক, বিআইডাব্লিউটিএ, ঢাকা ওয়াসা, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও নদী রক্ষা কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

সেলের অধীনে তিনটি উপকমিটি কাজ করবে। এর একটি শিল্পবর্জ্যসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নদীতে বর্জ্য প্রবেশ বন্ধ, খাল-ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, নদীর তলদেশের কঠিন বর্জ্য সরানো এবং পানিপ্রবাহ বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করবে।

বর্জ্যের বিনিময়ে নিত্যপণ্য
শুধু প্রশাসনিক অভিযান নয়, নদী রক্ষায় এবার সাধারণ মানুষকেও যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বুড়িগঙ্গায় চালু হয়েছে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে ভাসমান বাজার’। নদী থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য সংগ্রহ করে জমা দিলে বিনিময়ে মিলছে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপণ্য।

উদ্যোগটি নদী থেকে কতটা বর্জ্য সরাতে পারবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন—মানুষের আচরণে এটি কতটা পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ নদীর বর্জ্য কমাতে শুধু দূষণকারী প্রতিষ্ঠান নয়, নদীতীরবর্তী জনপদ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যাসও বদলাতে হবে।

হিসাব হবে নদীর পানিতে
দুই যুগে আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরও যদি প্রতিদিন ৩৩০ টন বর্জ্য নদীতে ঢোকে, তাহলে নদী রক্ষার সাফল্য শুধু কতটি অভিযান হলো বা কত টন বর্জ্য তোলা হলো—এ দিয়ে মাপার সুযোগ নেই।

এবার সাফল্যের মাপকাঠি হতে হবে আরও কঠিন: ৪২৪টি দূষণমুখের কতটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হলো, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কতটা নিয়ম মানল, নদীতে বর্জ্য প্রবেশ কতটা কমল এবং পানির ডিওসহ সামগ্রিক গুণমান কতটা ফিরল। কারণ নদীর পাড় পরিষ্কার করে নদী বাঁচে না। নদীতে বর্জ্য ঢোকার পথ বন্ধ হলেই শুরু হবে সত্যিকারের নদী রক্ষা।

কালের আলো/এমএসআইপি/এমকে