খুঁজুন
                               
, ,
           

‘মোটি’ লিখে কটাক্ষের জবাব অভিনেত্রীর

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
‘মোটি’ লিখে কটাক্ষের জবাব অভিনেত্রীর

সন্তান জন্মের পর বদলে যাওয়া শরীর নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। কখনো তাঁকে ‘মোটা’ বলা হয়েছে, কখনো শরীর নিয়ে করা হয়েছে নানা ধরনের মন্তব্য। এত দিন এসব মন্তব্যের বিরুদ্ধে কথা বললেও এবার ভিন্নভাবে জবাব দিলেন অভিনেত্রী।

‘রাইজ অ্যান্ড ফল’–এর দ্বিতীয় মৌসুমের প্রিমিয়ারে বেগুনি শাড়ির সঙ্গে ‘মোটি’ লেখা ব্লাউজ পরে হাজির হন স্বরা। হিন্দি শব্দ ‘মোটি’ দিয়ে সাধারণত মোটা বা স্থূল বোঝানো হয়। যে শব্দটি তাঁকে হেয় করতে ব্যবহার করা হয়েছে, এবার সেই শব্দটিকেই নিজের পোশাকে তুলে ধরেছেন তিনি।

স্বরার এই উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অপমান করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত শব্দকে নিজের করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই শব্দের নেতিবাচক ক্ষমতাকেই চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছেন তিনি।

তিন বছর ধরে শরীর নিয়ে মন্তব্য

অনুষ্ঠানে সঞ্চালক বীরেন্দর শেবাগের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান স্বরা। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ের বয়স এখন তিন বছর। এই সময়জুড়ে এমন অনেক মানুষ তাঁর শরীর নিয়ে মন্তব্য করেছেন, যাঁদের তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেনও না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে শরীরের গড়ন নিয়ে মন্তব্য শুনতে হয়েছে বলে জানান অভিনেত্রী।

স্বরার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে কখনো বলা হয়েছে, ‘মোটা হয়ে গিয়েছে’। এসব মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তিনি এখন সেই শব্দগুলোই গ্রহণ করে নিজের করে নিচ্ছেন।

অপমানের শব্দেই পাল্টা বার্তা

স্বরার ‘মোটি’ লেখা ব্লাউজ পরার সিদ্ধান্তকে তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে ২০১৮ সালের একটি পুরোনো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পরও শরীর নিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

এরপর দীর্ঘ এক পোস্টে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন স্বরা। সন্তান জন্মের পর শরীর বদলে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয় হলেও নারীদের দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে আসার জন্য সামাজিক চাপ দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্বরার বক্তব্য ছিল, একজন নারী মা হওয়ার পর তাঁর জীবন ও শরীরে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই সন্তান জন্মের পরপরই আগের মতো শারীরিক গড়নে ফিরে আসতে হবে—এমন প্রত্যাশা অযৌক্তিক।

‘বাউন্স ব্যাক’ করার চেষ্টা করেননি

সন্তান জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে আগের চেহারায় ফেরার প্রচলিত সামাজিক প্রত্যাশা নিয়েও কথা বলেছেন স্বরা।

তিনি জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর তিনি ‘বাউন্স ব্যাক’ করার চেষ্টা করেননি। কারণ, তাঁর কাছে মাতৃত্ব এমন একটি পরিবর্তন, যার পর জীবন আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে যায় না।

একজন নারী মা হওয়ার পর তাঁর শরীরের গড়ন বদলে যেতে পারে—এটিকে স্বাভাবিকভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নারীর মূল্য শুধু ওজন, চেহারা কিংবা শারীরিক আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না।

‘মোটি’ শব্দটি গর্বের সঙ্গে পরেছেন

‘রাইজ অ্যান্ড ফল’–এর অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও স্বরা জানান, ‘মোটি’ শব্দটি তিনি গর্বের সঙ্গে পরেছেন।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কাউকে শরীর নিয়ে লজ্জা দেওয়ার জন্য যে শব্দ ব্যবহার করা হয়, সেই শব্দের নেতিবাচক ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার একটি উপায় হলো সেটিকে নিজের মতো করে গ্রহণ করা।

সন্তান জন্মের পর নারীর শরীরে পরিবর্তন আসাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখার ওপরও জোর দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, মাতৃত্বের পর নারীদের দ্রুত আগের চেহারায় ফিরে যাওয়ার জন্য যে সামাজিক চাপ তৈরি করা হয়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন।

শুধু স্বরা নন, কটাক্ষের শিকার অন্য অভিনেত্রীরাও

মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে সামাজিক কটাক্ষের প্রসঙ্গে এর আগেও বলিউড অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের উদাহরণ টেনেছেন স্বরা।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মেয়ে আরাধ্যার জন্মের পর ঐশ্বরিয়ার ওজন ও শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে যেভাবে আলোচনা হয়েছিল, তা তাঁর মনে আছে। সন্তান জন্মের পর একজন নারী নিজের শরীর নিয়ে কী ধরনের সামাজিক চাপের মুখে পড়তে পারেন, সেই প্রসঙ্গেই ঐশ্বরিয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

সম্প্রতি অভিনেত্রী ক্যাটরিনাকেও মাতৃত্বের পর চেহারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়েছে। ফলে সন্তান জন্মের পর নারী তারকাদের শরীর নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা ও কটাক্ষের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

‘রাইজ অ্যান্ড ফল’-এ নতুন পরিচয়ে স্বরা

এদিকে অভিনয়ের বাইরে এবার রিয়েলিটি শোর প্রতিযোগী হিসেবেও নতুন পরিচয়ে দেখা যাচ্ছে স্বরা ভাস্করকে। ‘রাইজ অ্যান্ড ফল’–এর দ্বিতীয় মৌসুমে অংশ নিয়েছেন তিনি। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে অনুষ্ঠানটির নতুন মৌসুম।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার বীরেন্দর শেবাগ এবারের মৌসুমের সঞ্চালকের দায়িত্বে রয়েছেন। দ্বিতীয় মৌসুমে মোট ১৫ জন প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানের মূল কাঠামোয় প্রতিযোগীরা ‘রুলার’ ও ‘ওয়ার্কার’—এই দুই অবস্থানের মধ্যে থাকেন। খেলা, সিদ্ধান্ত, জোট ও কৌশলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিযোগীদের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।

স্বরা ভাস্কর ছাড়াও এবারের মৌসুমে রয়েছেন করণ প্যাটেল, প্রিয়াঙ্কা চাহার চৌধুরী, গৌতম গুলাটি, তেজ প্রতাপ যাদব, শাহজাদ পুনাওয়ালা, সিয়েত তোমর, কায়রা আনু, মনীশ কাশ্যপ, কাজল রাঘবানি, নিহারিকা তিওয়ারি, সারা গুরপাল, রাজ গ্রোভার, ইরিনা রুদাকোভা ও অনীশ ভাগা।

শোটি প্রাইম ভিডিও ও এমএক্স প্লেয়ারে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন পর্ব প্রকাশিত হচ্ছে।

২০২৩ সালে ফাহাদ আহমদকে বিয়ে করেন স্বরা। একই বছর তাঁদের কন্যা রাবিয়ার জন্ম হয়। সন্তানের জন্মের পর নিজের শরীর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া মন্তব্যের বিষয়ে একাধিকবার প্রকাশ্যে কথা বলেছেন তিনি। এবার সেই মন্তব্যে ব্যবহৃত ‘মোটি’ শব্দটিকেই পোশাকের মাধ্যমে সামনে এনে নতুন করে আলোচনায় এলেন এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ

‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল শুরু, আকাশসীমার প্রহরায় ৫৫ বছর; নিষ্ঠার ওপর জোর

একটি অটার, একটি ড্যাকোটা, একটি অ্যালুয়েট হেলিকপ্টার আর ৫৭ জন বাঙালি। ১৯৭১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে এই সীমিত শক্তি নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের বিমান বাহিনীর। নাম—‘কিলো ফ্লাইট’। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই ছোট্ট বহরই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের আকাশযুদ্ধের প্রথম সংগঠিত ভিত্তি। এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ, বীর উত্তমের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘কিলো ফ্লাইট’ ৫০টির বেশি বিমান অভিযান চালায়। সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এসব অভিযান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রতিরোধকে নতুন মাত্রা দেয়। ৫৫ বছর পর সেই সূচনালগ্নের দিকে ফিরে তাকালে স্পষ্ট হয়—বিমান বাহিনীর জন্ম কোনো স্বাভাবিক প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার ফল ছিল না। এটি ছিল যুদ্ধের প্রয়োজন থেকে উঠে আসা একটি জরুরি সামরিক সক্ষমতা, যা স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

  • মুক্তিযুদ্ধের আকাশে যে অভিযাত্রার শুরু, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই ইতিহাস স্মরণ
  • গৌরবের সঙ্গে ভবিষ্যতের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরলেন বিমান বাহিনী প্রধান
  • সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কঠোর শৃঙ্খলার তাগিদ

একাত্তরের উত্তরাধিকার 

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ ত্যাগ করে বাঙালি বৈমানিক ও বিমানসেনাদের মুক্তিযুদ্ধে যোগদান ছিল সেই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সিদ্ধান্ত। এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার (মরহুম), বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিমান বাহিনীর সদস্যরা শুধু আকাশ অভিযানেই অংশ নেননি। তাঁরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সাংগঠনিক দায়িত্বও পালন করেছেন। অর্থাৎ, বিমান বাহিনীর ৫৫ বছরের ইতিহাস কেবল উড়োজাহাজ, ঘাঁটি কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার বিবরণ নয়। এর ভিত তৈরি হয়েছে যুদ্ধ, আত্মত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রয়োজন থেকে।

৫৫ বছরে বদলে গেছে দায়িত্বের পরিধি

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিমান বাহিনী দিবসে ঢাকা সেনানিবাসের বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই দীর্ঘ পথচলাই তুলে ধরা হয় বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রে। আয়োজনটি ছিল একদিকে অতীতের স্মরণ, অন্যদিকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকে তাকানোর উপলক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন দেশের আকাশসীমা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তার বক্তব্যের তাৎপর্য এখানেই—৫৫ বছর আগে যে বাহিনীর প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজনে সীমিত সামর্থ্যে আকাশ অভিযান পরিচালনা করা, আজ তার দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত। রাষ্ট্রের আকাশসীমা সুরক্ষা এখন শুধু যুদ্ধবিমান পরিচালনার বিষয় নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতা।

‘পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা’ কেন সামনে আনলেন বিমান বাহিনী প্রধান

বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়াকে কেবল আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হিসেবে দেখলে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়। সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা শুধু অস্ত্র বা প্রযুক্তিতে নির্ভর করে না। এটি প্রশিক্ষিত জনবল, কমান্ড কাঠামো, দায়িত্ববোধ এবং নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কঠোর শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনের সংস্কৃতিকেই সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ‘স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা’ রক্ষার প্রসঙ্গটি বিমান বাহিনীর মৌলিক সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। অর্থাৎ, ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিমান বাহিনী প্রধানের বক্তব্যে অতীতের গৌরবের পাশাপাশি ভবিষ্যতের দায়িত্বের দিকটিও ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস থেকে ভবিষ্যতের দিকে

বিমান বাহিনী দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ঘাঁটি ও ইউনিট এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কন্টিনজেন্টগুলোতে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং বিভিন্ন মেসে প্রীতিভোজেরও আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাহিনীর ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সদস্যদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকারও স্মরণ করা হয়েছে। তবে ৫৫ বছরের এই উদযাপনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক সম্ভবত অতীত ও ভবিষ্যতের এই সংযোগ।

ডিমাপুরের তিনটি আকাশযান দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীর সক্ষমতা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বের পরিধিও। ‘কিলো ফ্লাইট’ বাংলাদেশের বিমান শক্তির জন্মের গল্প। আর বিমান বাহিনী প্রধানের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের বার্তা সেই গল্পের পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত—যেখানে মুক্তিযুদ্ধের অর্জন শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়, বরং আধুনিক নিরাপত্তা বাস্তবতায় তা রক্ষা ও এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও একই সঙ্গে বহন করতে হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর ফের গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা অনি

ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক নওশেল আহম্মেদ অনি (৩২) আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন। বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান জানান, গতরাতে ময়মনসিংহ নগরীর কাশর এলাকা থেকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহযোগিতায় নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের হওয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলায় তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় অনির নাম রয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওশেল আহম্মেদ অনি ময়মনসিংহ নগরীর পিয়নপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হুমায়ন কবীরের ছেলে। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি বাসা থেকে নওশেল আহম্মেদ অনিকে গ্রেপ্তার করে তৎকালীন র‌্যাব সদস্যরা। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব মামলায় তিনি প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: নজরুল ইসলাম খান

বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাসসহ কোনো ধরনের অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেছেন, বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা অন্যায়, অনাচার, চাঁদাবাজি কিংবা দখলদারির সঙ্গে যুক্ত নন। কেউ এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে বিএনপির নেতাকর্মী হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা শহীদ জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কাজ করেছেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছেন, তারা নিজেদের স্বার্থে অন্যায়-অনাচার, চাঁদাবাজি বা দখলদারির সঙ্গে জড়িত নন।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রকৃত নেতাকর্মীরাও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে কারও কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির সমালোচনার সুযোগ তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘যে প্রকৃত সৈনিক, শহীদ জিয়ার কর্মী, দেশনেত্রীর কর্মী, তারেক রহমানের কর্মী, সে অপরাধী হতে পারে না। সে চাঁদাবাজ হতে পারে না, সে দখলবাজ হতে পারে না, সে সন্ত্রাসী হতে পারে না। যদি কেউ হয়, সে বিএনপি নয়।’

দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে শ্রমজীবী মানুষ—এমন মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, অস্থিরতার কারণে শিল্প-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়-উপার্জন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি দেশের শান্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি