খুঁজুন
                               
, ,
           

পর্যটনে সম্ভাবনা, সংকটে বাংলাদেশ

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
পর্যটনে সম্ভাবনা, সংকটে বাংলাদেশ

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান কিংবা বান্দরবানের মেঘ-পাহাড়—প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাংলাদেশের রয়েছে অনন্য সম্পদ। সমুদ্র, পাহাড়, বন, নদী ও গ্রামীণ জনপদের বৈচিত্র্য মিলিয়ে পর্যটনের জন্য বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির।

তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এমন সমৃদ্ধ ভাণ্ডার থাকার পরও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে যেমন বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তেমনি নানা হয়রানি, অতিরিক্ত খরচ ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষের কারণে দেশের পর্যটকেরাও অনেক সময় বিদেশমুখী হচ্ছেন।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স ২০২৬’-এর তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে নিচের দিকে। প্রতিবেশী অনেক দেশ যেখানে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে, সেখানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে নগণ্য।

পর্যটনকেন্দ্রে বাড়তি খরচের চাপ

দেশের পর্যটন খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত খরচ। কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন কিংবা বান্দরবানের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে ছুটির মৌসুমে ভ্রমণ করতে পরিবহন, আবাসন ও খাবারের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা অনেক সময় বিদেশে ভ্রমণের খরচের কাছাকাছি চলে যায়।

পরিবহন ভাড়া, হোটেলের কক্ষের মূল্য এবং খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় পর্যায়ের অতিরিক্ত চার্জ ও নানা ধরনের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

ফলে অনেক পর্যটকের কাছে দেশের ভেতরে ভ্রমণের তুলনায় ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড কিংবা মালদ্বীপের মতো দেশে ভ্রমণকে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে। এতে দেশের পর্যটন খাতে ব্যয় হওয়ার সম্ভাব্য অর্থের একটি অংশ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

নিয়মের বেড়াজালেও পর্যটকের ভোগান্তি

কিছু পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন নিয়ম ও বাধ্যবাধকতা নিয়েও পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বান্দরবানের বগালেক কিংবা কেওক্রাডংয়ের মতো পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে পাকা সড়ক তৈরি হলেও বাধ্যতামূলকভাবে গাইড নেওয়ার নিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু গাইডের পারিশ্রমিক নয়, অনেক ক্ষেত্রে গাইড ও গাড়িচালকের থাকা-খাওয়ার খরচও পর্যটকদের বহন করতে হয়। ফলে ভ্রমণের মোট ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

পর্যটন ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার জন্য কিছু নিয়ম প্রয়োজন হলেও পর্যটকদের অভিযোগ, এসব নিয়ম বাস্তবায়নের পদ্ধতি অনেক সময় ভ্রমণকারীদের ওপর বাড়তি আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি করে।

নদীভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগেনি

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অসংখ্য নদ-নদী, চর ও জলাভূমি রয়েছে। নদীকে কেন্দ্র করে নৌভ্রমণ, পর্যটনকেন্দ্র ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে ঘিরে নতুন পর্যটন পণ্য তৈরির বড় সুযোগ রয়েছে।

তবে সঠিক পরিকল্পনার অভাব, নদীদূষণ, দখল ও ভরাটের কারণে নদীভিত্তিক পর্যটনের সেই সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে দেশের প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে নতুন গন্তব্য তৈরি করা সম্ভব।

নারীবান্ধব পর্যটন পরিবেশের ঘাটতি

দেশের পর্যটন খাতে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা। বিশেষ করে নারী ও পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ এখনো অনেক পর্যটনকেন্দ্রে নিশ্চিত করা যায়নি।

নিরাপত্তার অভাব, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে পর্যটকদের প্রতি অসচেতন আচরণের কারণে কক্সবাজার, সিলেটের মতো পরিচিত কয়েকটি গন্তব্যের বাইরে অনেক স্থান পরিবার ও নারী পর্যটকদের কাছে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে তাই শুধু নতুন অবকাঠামো নির্মাণ নয়, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার ঘাটতি

বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের বড় দুর্বলতা প্রচার ও ডিজিটাল ব্র্যান্ডিংয়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বৈশ্বিক পর্যটন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণগুলোকে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরার জন্য সমন্বিত প্রচারণার ঘাটতি রয়েছে।

বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সি ও পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পৌঁছানোর মতো সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও পর্যাপ্ত নয়।

ফলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকলেও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের বড় অংশের কাছে দেশটির পর্যটন সম্ভাবনা যথেষ্ট পরিচিত নয়।

নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির প্রভাব

বিদেশি পর্যটকদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত নেতিবাচক খবর অনেক সময় বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

বিভিন্ন দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইজরিতেও কোনো কোনো সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কতা দেওয়া হয়। এসব বিষয় আন্তর্জাতিক পর্যটকের ভ্রমণ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর আবাসন ও খাবারের খরচ। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মানসম্মত হোটেল ও খাবারের মূল্য বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলনামূলক বেশি মনে হতে পারে।

নেই নির্দিষ্ট এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন

বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, বিনোদন ও বিশেষায়িত সেবার কথা বিবেচনা করে কক্সবাজারসহ দেশের বড় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত ‘এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন’ গড়ে ওঠেনি।

একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আবাসন, বিনোদন, খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন, নিরাপত্তা ও পর্যটনসেবা সমন্বিতভাবে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা গেলে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ আরও সহজ ও আকর্ষণীয় হতে পারে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, খাবার, সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য ও জীবনধারাকে বিদেশি পর্যটকদের সামনে পরিকল্পিতভাবে তুলে ধরার ব্যবস্থাও বাড়ানো প্রয়োজন।

সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বড় পদক্ষেপের প্রয়োজন

বহু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পর্যটন খাতে সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, লোকজ সংস্কৃতি, নদী, পাহাড়, সমুদ্র ও বন—সব মিলিয়ে পর্যটনের জন্য দেশের সম্পদের অভাব নেই।

তবে এই সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে হলে শুধু পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করলেই হবে না; প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা, নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত সেবা এবং কার্যকর প্রচারণা।

পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, পরিবহন ও আবাসন খাতে যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

একই সঙ্গে পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা বাড়িয়ে পর্যটকদের যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নারী ও পরিবারবান্ধব পর্যটন পরিবেশ তৈরি, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন ব্র্যান্ডিং জোরদার করাও জরুরি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাংলাদেশের বড় সম্পদ। এখন সেই সম্পদকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও পর্যটকবান্ধব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় রূপ দেওয়াই দেশের পর্যটন খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এসএ

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

শরিয়াহসম্মত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা চালুর লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মদ, জুয়া, নাইটক্লাবসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ (আইবিআরপিডি) থেকে জারি করা সার্কুলারে নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যেকোনো তফসিলি ব্যাংক টাকায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নগদ উত্তোলন বা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য দায় ‘কার্দে হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাহককে কেবল মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংক কার্ড ইস্যু, নেটওয়ার্ক সুবিধা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ‘উজরাহ’ বা সেবা ফি নিতে পারবে।

তবে এসব ফি বকেয়া স্থিতি, ক্রেডিট সীমা কিংবা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়ানো যাবে না। প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গেও কোনো ফি যুক্ত করা যাবে না।

নীতিমালায় ব্যাংকগুলোকে ফি ও চার্জ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু ফিতে মুনাফার উপাদান থাকতে পারবে। অন্যদিকে ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বকেয়া স্থিতি, বিলম্বের সময় বা ক্রেডিট সীমার ভিত্তিতে বাড়ে—এমন ফি নেওয়া যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তির সময় নির্ধারিত একটি অর্থ দান হিসেবে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন। এ অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে দেখানো যাবে না; পুরো অর্থই দাতব্য খাতে দিতে হবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে অনুমোদন পর্যায়েই নিষিদ্ধ খাতের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। নীতিমালায় মদ ও মদজাতীয় পণ্য, জুয়া ও ক্যাসিনো, বেটিং, নাইটক্লাব ও বার, তামাকজাত পণ্য, শুকরের মাংস ও অ-হালাল মাংস, অশ্লীল কনটেন্ট, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, জ্যোতিষ ও ভাগ্য গণনার মতো খাতকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই তালিকা অন্তত বছরে একবার পর্যালোচনা করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির (এসএসসি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সফরের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশ নতুন করে সফরের সময়সূচি নির্ধারণে আলোচনা করছে। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পেতে পারে।

তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। সেটি হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের জন্মদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানানো এবং মোদির দ্রুত জবাব দেওয়ার ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাব্য সফরের তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকায় সাম্প্রতিক সফর নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় আসার খবর প্রকাশ পেলেও ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

নতুন বাংলাদেশি হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণকেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফরটি শেষ পর্যন্ত কোন তারিখে এবং কী কর্মসূচিতে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তিনি রেললাইনে গিয়ে প্রাণ হারান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। মৃত দম্পতি হলেন—মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মণ। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার স্ত্রী নিত্যবালাও স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত ধর্মীয় কাজে যুক্ত থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ। স্বামীর মৃত্যুর পর নিত্যবালা গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘ সময় স্বামীর মরদেহের পাশে বসে ছিলেন।

ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান নিত্যবালা। সকালে তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মালিগাঁও এলাকায় রেললাইনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের ধারণা, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পাশাপাশি দুটি চিতায় সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

হরেন্দ্রনাথের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর মা সারা রাত বাবার শিয়রে বসে কেঁদেছেন। সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে ওই দম্পতির মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। স্বামীর মৃত্যুর শোক নিত্যবালা সহ্য করতে পারেননি বলে ধারণা করছেন তারা।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানানোর আগেই মরদেহের সৎকার সম্পন্ন করেছেন। রেললাইনে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি