খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্মাণের এক বছরেই ঢাকা বাইপাসে ধস, ২৫০ মিটারজুড়ে ফাটল

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
নির্মাণের এক বছরেই ঢাকা বাইপাসে ধস, ২৫০ মিটারজুড়ে ফাটল

গাজীপুর-জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের ঢাকা বাইপাস এশিয়ান হাইওয়ের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। উপজেলার সিংলাব-পাকুন্দা এলাকায় একটি আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে প্রায় ২৫০ মিটারজুড়ে সড়ক দেবে গিয়ে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

শনিবার সকালে স্থানীয়দের নজরে আসে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল। পরে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষ ওই অংশে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে ব্যস্ত মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আটকা পড়েন শত শত যানবাহনের চালক ও যাত্রী।

খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা বাইপাস সড়ক চার লেন উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ঘুরে দেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

স্থানীয়রা জানান, সড়কের বিভিন্ন স্থানে আড়াআড়ি ও লম্বালম্বিভাবে দীর্ঘ ফাটল তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচের স্তর উঠে নিচের মাটি ও নির্মাণসামগ্রী বেরিয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সড়কের একটি অংশ নিচের দিকে দেবে গেছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সড়কের এমন অবস্থায় নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নির্মাণের সময় সড়কের দুই পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়া, অপর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সড়ক দুর্বল হয়ে থাকতে পারে। কেউ কেউ রাতের আঁধারে মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় মো. আলামিন বলেন, নির্মাণকাজের সময় সড়কে ব্যবহৃত খোয়া ও বিটুমিনের মান নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছিলেন। আরেক বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, সড়ক নির্মাণের সময় দুই পাশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় পার্শ্ববর্তী অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

তবে নির্মাণকাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ নাকচ করেছেন প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলী। তিনি বলেন, টানা দুই-তিন দিনের বৃষ্টিতে সড়কের নিচের মাটি নরম হয়ে যায়। এর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল করায় নরম মাটি সরে গিয়ে সড়কের ওই অংশ বসে ফাটল তৈরি হয়েছে।

সৈয়দ আসলাম আলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সচল করতে প্রকল্পের বেসরকারি অংশীদার ‘ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প বা ডাইভারশন সড়ক তৈরির কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ড্রিলিং করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, আপাতত সড়ক সচল করার পাশাপাশি ধস ও ফাটলের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। নির্মাণকাজে কোনো অনিয়ম বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় নিয়োগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় বড় নিয়োগ, ৮ম শ্রেণি-এসএসসি পাসেও আবেদনের সুযোগ

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় (বিওএফ) ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগে আবেদন চলছে। প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ১৪২টি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপসহকারী কেমিস্ট পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা, যা গ্রেড-১১। সিনিয়র টেকনিশিয়ান পদে ৯ জন, গেইট ইন্সপেক্টর ১ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা এবং এগুলো গ্রেড-১৪-এর পদ।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ৮ জন, মেটল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ৪ জন, গোডাউনকিপার ৪ জন এবং ড্রাইভার পদে ৭ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং গ্রেড-১৬।

এ ছাড়া স্কিল্ড টেকনিশিয়ান পদে ৩ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা, গ্রেড-১৭। টেকনিশিয়ান পদে ১১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে, যার বেতন স্কেল ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা, গ্রেড-১৮।

নিরাপত্তাকর্মী পদে ১ জন, জুনিয়র টেকনিশিয়ান ২২ জন এবং ফায়ারম্যান পদে ১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের বেতন স্কেল ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা এবং গ্রেড-১৯।

সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেওয়া হবে টেকনিক্যাল হেলপার পদে। এ পদে ৫৩ জন নেওয়া হবে। এ ছাড়া আরদালি পদে ৭ জন, নিরাপত্তা প্রহরী ৪ জন, লেবার ৩ জন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ২ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদ গ্রেড-২০-এর এবং বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা।

আবেদনের সময় ও ফি

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করা যাবে ৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

সব পদের জন্য পরীক্ষার ফি ১৬৮ টাকা, যার মধ্যে সার্ভিস চার্জও অন্তর্ভুক্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে পারবেন। নিয়োগসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ও আবেদন প্রক্রিয়া বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করতে হবে।

কালের আলো/এসএ

রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫১ অপরাহ্ণ
রোনালদোকে ফেরাতে মরিয়া জেসুস

পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ফেরার দরজা খোলা রেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস। তবে জাতীয় দলে আবার ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত রোনালদোকেই নিতে হবে বলে জানিয়েছেন পর্তুগালের এই কোচ। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বদলি হিসেবে বেঞ্চে বসে থাকার পর ডেনমার্কের বিপক্ষেও একাদশে থাকবেন না জানতে পেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। এরপর থেকেই তাঁর জাতীয় দল-অধ্যায় নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাতে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ম্যাচ শেষে রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার প্রসঙ্গে কথা বলেন জেসুস। আল নাসরে এক বছর রোনালদোর সঙ্গে কাজ করা এই কোচ জানান, জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ এখনো তাঁর জন্য রয়েছে। জেসুস বলেন, ‘সে চাইলে জাতীয় দলে ফিরবে। পরেরবার দল ঘোষণার আগে আমরা কথা বলতে পারি। তবে সিদ্ধান্তটা ক্রিসকেই নিতে হবে।’

জাতীয় দলের অধ্যায় কীভাবে শেষ করবেন, সিদ্ধান্ত রোনালদোর

রোনালদো জাতীয় দলের ক্যারিয়ার কীভাবে শেষ করতে চান, সেটিও তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মনে করেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানোর জাতীয় দলের সময়টা সে যেভাবে চায়, সেভাবেই শেষ করা উচিত। সে কীভাবে শেষ করতে চায়, সেই সিদ্ধান্তও তার।’ রোনালদোকে পর্তুগালের কতটা প্রয়োজন, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন জেসুস। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার দল ঘোষণার সময় আমি বলেছিলাম, “আমার তোমাকে দরকার, আমার তোমাকে দরকার। তুমি খেলো বা না খেলো, তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে।” এখনো আমি একই কথা বলছি।’

নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে, এরপর ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো

২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের দায়িত্ব নেওয়া জেসুসের অধীনে রোনালদোর নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল এবারের ফিফা উইন্ডোতে। ওয়েলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে রোনালদোকে একাদশে রাখা হলেও নরওয়ের বিপক্ষে পরের ম্যাচে তাঁকে বেঞ্চে রাখা হয়। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্মআপ করানো হলেও মাঠে নামানো হয়নি। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে স্কোয়াডে থাকার পরও পুরো ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে থাকার ঘটনা ২০০৮ সালের পর এই প্রথম রোনালদোর ক্ষেত্রে ঘটেছিল।

এরপর কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের বিপক্ষে তাঁকে শুরুতে খেলানো হবে না—জেসুস সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানানোর পরই জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়েন রোনালদো। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদো জানান, জাতীয় দল ছাড়ার কারণ ‘সময়মতো’ পর্তুগালের মানুষকে জানাবেন তিনি।

রোনালদোর অনুপস্থিতিতে আলোচনায় রামোস

রোনালদো না থাকায় পর্তুগালের আক্রমণভাগে জায়গা পাকা হয়েছে গনসালো রামোসের। রোনালদোর অনুপস্থিতিতে তিন ম্যাচে শুরু করে প্রতিটিতেই গোল করেছেন এসি মিলানের এই স্ট্রাইকার। নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের পর পর্তুগালের অধিনায়ক জোয়াও কানসেলো রোনালদোর প্রসঙ্গে বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো আমাদের অধিনায়ক, পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর সঙ্গে সবকিছু অবশ্যই ভালোভাবে শেষ হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো চারটি জয়।’ ডিফেন্ডার নুনো মেন্দেসও রোনালদোর ফেরার সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, জাতীয় দলে যে খেলোয়াড়ই আসুক, তাকে স্বাগত জানানো হবে। রোনালদো ফিরলে তাঁকেও দুই হাত বাড়িয়ে গ্রহণ করা হবে।

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর রেকর্ড

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে রোনালদোর গোল ১৪৬টি। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ ও গোল—দুই ক্ষেত্রেই বিশ্ব রেকর্ড তাঁর দখলে। রোনালদোর নেতৃত্বে পর্তুগাল ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দুইবার উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে। পর্তুগালের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা নভেম্বর মাসে। তখন ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। ফলে সেই সময় রোনালদো জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ভোট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এবারের কোনো ব্যালটে না থাকলেও তাঁর মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ও স্থানীয় আইনসভার কয়েক হাজার পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে বড় লড়াই

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিমালা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারিও বাড়বে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের দলীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে এবং তাঁর এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে। বর্তমানে ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের নিট চারটি আসন বাড়িয়ে ৫১টিতে পৌঁছাতে হবে। দুই দল ৫০-৫০ আসনে আটকে গেলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ভোটে সিদ্ধান্ত হবে।

প্রতিনিধি পরিষদেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিটি আসনেই দুই বছর পরপর নির্বাচন হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২২০-২১৫ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। তবে পরে মৃত্যু, পদত্যাগ ও দলবদলের কারণে বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ জন রিপাবলিকান, ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট এবং একজন স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন। দুটি আসন শূন্য রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ২০২৪ সালের ফলাফলের তুলনায় অন্তত তিনটি আসন বাড়াতে হবে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুটি আসন হারালেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে।

৩৬ অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন

এবার ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া অঙ্গরাজ্য আইনসভার নিয়মিত নির্বাচনে ৬ হাজার ১৩৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। দেশের ৯৯টি অঙ্গরাজ্য আইনসভার কক্ষের মধ্যে ৮৮টিতে এসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জনমত জরিপে পিছিয়ে ট্রাম্প

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জনমত জরিপে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। রয়টার্সের এক জরিপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৩২ শতাংশ, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। অন্যদিকে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে মারিস্টের জরিপে তাঁর সমর্থন ৩৯ শতাংশ এবং এনবিসি নিউজের জরিপে ৪১ শতাংশ পাওয়া গেছে।

পিবিএস নিউজ ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বরের জরিপে কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থীকে সমর্থন করবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ছিলেন ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। রিপাবলিকানদের পক্ষে ছিলেন ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ডেমোক্র্যাটরা ১২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে ছিলেন। তাঁদের ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে এবং ৩২ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

অর্থনীতি নিয়েও অসন্তোষ

এনবিসি নিউজের জরিপে ৫৫ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার বলেছেন, ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ক্ষতি করেছে। বিপরীতে ২৬ শতাংশ মনে করেন, তাঁর নীতিগুলো অর্থনীতির জন্য উপকারী হয়েছে। তবে বিভিন্ন জরিপের পদ্ধতি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পার্থক্য থাকায় এসব পরিসংখ্যান সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তারপরও জরিপগুলোতে এমন কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই যে কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জেতাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বড় ধরনের সুবিধা এনে দেবে।

রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের আভাস

২০২৫-২৬ সালের নির্বাচনী চক্রে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অ্যাড ট্র্যাকিং কোম্পানি অ্যাডইমপ্যাক্টের হিসাবে, এ সময়ে বিজ্ঞাপনে প্রায় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই অর্থ ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রাইমারি নির্বাচনে ২ হাজার ৪৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা অন্তত ২০১৪ সালের পর যেকোনো নির্বাচনী চক্রের মধ্যে সর্বোচ্চ।

কালের আলো/এসএ