খুঁজুন
                               
, ,
           

গাজা যুদ্ধের আড়ালে মোদির বড় কৌশল, ইসরায়েলের সঙ্গে কেন এত ঘনিষ্ঠতা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
গাজা যুদ্ধের আড়ালে মোদির বড় কৌশল, ইসরায়েলের সঙ্গে কেন এত ঘনিষ্ঠতা?

একসময় ফিলিস্তিনের অন্যতম দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিল ভারত। ঔপনিবেশিকতাবিরোধী অবস্থান, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে দীর্ঘদিন সরব ছিল নয়াদিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই অবস্থান। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রকাশ্য, ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনির প্রাণহানি এবং নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও সেই সম্পর্কের গভীরতা কমেনি। বরং অস্ত্র, প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আল–জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েল যখন ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে, তখন ভারত তার কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরিবর্তে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, নিরাপত্তাগত হিসাব-নিকাশ এবং দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির মিল।

নিষেধাজ্ঞার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী, ভারতে উষ্ণ অভ্যর্থনা

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ ভারত সফরে আসেন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের জাতিগতভাবে নির্মূল করার পক্ষে বক্তব্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার অবস্থানের কারণে এর আগে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নরওয়ের মতো দেশ তার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও স্মোতরিচ ও ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নিয়েছিল।

কিন্তু একই সময়ে ভারতে স্মোতরিচকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। সফরে তিনি বাণিজ্যিক চুক্তি করেন, মুম্বাই স্টক এক্সচেঞ্জ পরিদর্শন করেন এবং গুজরাটে একটি বিনিয়োগকেন্দ্র ঘুরে দেখেন।

আল–জাজিরার বিশ্লেষণে এই সফরকে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যখন পশ্চিমা কয়েকটি দেশ ইসরায়েলি সরকারের কট্টরপন্থী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছিল, তখন ভারত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখে।

৭ অক্টোবরের হামলার পর বদলে যায় সুর

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটনাটির নিন্দা জানান। হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ আখ্যা দিয়ে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা বলেন।

এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হয়। ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক প্রাণহানি, আবাসিক এলাকা ধ্বংস এবং মানবিক সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। ইসরায়েলি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগও ওঠে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

তবু ভারতের অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। নয়াদিল্লি একদিকে কূটনীতি, সংলাপ ও দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছে; অন্যদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও এগিয়ে নিয়েছে।

আল–জাজিরার অনুসন্ধান ও অন্যান্য প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ চলাকালেও ভারত থেকে ইসরায়েলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির ঘটনা সামনে এসেছে। মোদির আমলে ইসরায়েল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার হয়ে উঠেছে।

মোদির রাজনীতির সঙ্গে ইসরায়েল-সম্পর্কের যোগসূত্র

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-ইসরায়েল ঘনিষ্ঠতার ব্যাখ্যা কেবল প্রতিরক্ষা বা কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দর্শন এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও নিরাপত্তানীতির প্রতি সমর্থনকারী ভারতীয় ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দৃষ্টিভঙ্গিও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

নয়াদিল্লির রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াইয়ের মতে, বিজেপির রাজনৈতিক বয়ানে ইসলামি উগ্রবাদ ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ। তার ব্যাখ্যায়, ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের ডানপন্থী মহলের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের নিরাপত্তানীতিকে সমর্থন করে আসছে। কাশ্মীরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই ইসরায়েলের মতো কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান উঠেছে।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করেন, শুধু আদর্শিক মিল দিয়ে এই সম্পর্কের পুরো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক প্রভাবও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

‘গোপন সম্পর্ক’ থেকে প্রকাশ্য অংশীদারত্ব

ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্কের ইতিহাস দীর্ঘ। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ভারত দেশটির বিরোধিতা করেছিল। ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও ঔপনিবেশিকতাবিরোধী অবস্থানের কারণে নয়াদিল্লি দীর্ঘ সময় ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেয়।

১৯৭৪ সালে ভারত ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থাকে (পিএলও) স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জায়নবাদকে বর্ণবাদের একটি রূপ হিসেবে চিহ্নিত করা প্রস্তাবের পক্ষেও ভোট দেয় ভারত। পরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যেও ছিল নয়াদিল্লি।

তবে একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের গোপন যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্কও গড়ে ওঠে। ১৯৯২ সালে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর বিভিন্ন ভারতীয় সরকার সেই সম্পর্ককে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করেছে।

২০১৭ সালে নরেন্দ্র মোদি প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেন। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আর আড়ালে থাকেনি; বরং প্রকাশ্য রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের রূপ পায়।

সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক নবদ্বীপ সুরির মতে, মোদির আমলে দুই দেশের সম্পর্কের একটি বড় পরিবর্তন হলো—আগে যে সহযোগিতা অনেকাংশে আড়ালে থাকত, এখন তা প্রকাশ্যে এসেছে।

প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বড় কারণ

ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। সামরিক প্রযুক্তি, নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের মতো ক্ষেত্র দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত গুরুত্ব দিয়েছে।

সাবেক কূটনীতিক নবদ্বীপ সুরি মনে করেন, নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তব মিল রয়েছে। নয়াদিল্লি ইসরায়েলকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।

এই বাস্তবতা ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা থাকলেও প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাগত স্বার্থের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সরে আসার তেমন আগ্রহ নয়াদিল্লির মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

ইউরোপের অবস্থান বদলালেও ভারত অনড়

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ক্রমে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কিছু দেশ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি মন্ত্রী ও সহিংস বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

অন্যদিকে ভারত মূলত বিবৃতি, মানবিক সহায়তার আহ্বান এবং কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক কমানোর মতো বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

সাবেক কূটনীতিক সুরির মতে, ভারতের আরও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই দেশের সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ে ঘনিষ্ঠতার কারণে ইসরায়েলের সমালোচনা করতে নয়াদিল্লির অনীহা দেখা যায় বলেও তিনি মনে করেন।

এই পার্থক্য ভারতের পররাষ্ট্রনীতিকে ঘিরে একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে—মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে নীতিগত অবস্থান, নাকি প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত স্বার্থ—কোনটি নয়াদিল্লির সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলছে?

মোদির ইসরায়েল সফর ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সুবিধা

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোদির ইসরায়েল সফর দুই দেশের ঘনিষ্ঠতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে চাপ ও সমালোচনা চলার মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় নেতানিয়াহু মোদিকে ইসরায়েলের ‘মহান বন্ধু’ এবং ‘ভাই’ বলে অভিহিত করেন। সফরের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা আবারও প্রকাশ্যে আসে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন কর্মসূচির পরিচালক ম্যাক্স রোডেনবেকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোদির এই সফর নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছিল।

অতীতে কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থন কল্পনা করা কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক দুই দেশের নেতৃত্বের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়েছে।

ফিলিস্তিন প্রশ্নে ভারতের সামনে কঠিন পরীক্ষা

ভারত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান সমর্থন করে। ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো, সংঘাতের অবসান এবং কূটনৈতিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছে নয়াদিল্লি।

কিন্তু এসব অবস্থানের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা অব্যাহত থাকায় ভারতের নীতির মধ্যে একটি স্পষ্ট টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে।

একদিকে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সমর্থনের ঘোষণা, অন্যদিকে গাজা যুদ্ধের মধ্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা—এই দুই অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আল–জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ভারতের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আদর্শ, নিরাপত্তাগত বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ভারত কেন ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে, তা নয়; বরং ফিলিস্তিনের প্রতি ঐতিহাসিক সমর্থন বজায় রাখার দাবি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্ক—এই দুইয়ের মধ্যে নয়াদিল্লি কীভাবে সামঞ্জস্য তৈরি করবে।

কালের আলো/জেএন

মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন: মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের আলেমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন: মামুনুল হক

কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনের সময় মাওলানা মওদুদীর মুক্তির দাবিতে উপমহাদেশের দেওবন্দি আলেমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

সম্প্রতি জামিয়াতুত তারবিয়াহ আল ইসলামিয়ায় আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, ‘কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার মাসআলায় মাওলানা মওদুদী সাহেবের ভূমিকা অবশ্যই প্রশংসনীয় ছিল। তখন কেবল তাঁকে সঙ্গে নিয়েই আন্দোলন করা হয়নি, বরং তাঁর মুক্তির দাবিতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ গোটা উপমহাদেশের দেওবন্দের সব ওলামায়ে কেরাম ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে আন্দোলন করেছেন।’

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও দুঃশাসন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছে। এ অর্জন বাস্তবায়নে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশসহ রাজপথের আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অজুহাত ও বাহানা তৈরি করে কেউ যদি জুলাইয়ের অর্জনকে নস্যাৎ করা কিংবা বিভক্ত করার চেষ্টা করে, তবে তা হবে আত্মঘাতী। দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে আলেম সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শান্তিতে নোবেল পেলেন নাভেনথাম নাভি পিলাই

চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক বিচারক নাভেনথাম নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটি জানায়, শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের সময় ডারবানে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিলাই। পেশাগত জীবনে তিনি আইনজীবী ও বিচারক হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি অর্জন করেন। জীবনের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন এবং নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে কাজ করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

সম্প্রতি ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অপরাধ তদন্তে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনে কাজ করেন তিনি। বর্তমানে গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চলমান মামলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে যুক্ত রয়েছেন।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, নাভি পিলাইকে পুরস্কৃত করার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এসব আইন শান্তিপূর্ণভাবে সংঘাতের সমাধান এবং বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাঠামো হিসেবে কাজ করে।

এর আগে ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তাঁকে এ সম্মান দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই মাত্র ১৭ বছর বয়সে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। অন্যদিকে, ১৯৯৫ সালে ৮৬ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন জোসেফ রোটব্লাট।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা সম্প্রসারণে জোর

সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ তাগিদ দেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিদ্যমান ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্স লজিস্টিকস, পার্সেল পরিবহন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এ জন্য ডাক বিভাগের সেবাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তাঁরা আরও বলেন, ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সভায় ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো—ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী ও ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি