খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক

দেশের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা খাতে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় জাহাজ মেরামত ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সুবিধা, জাহাজ মেরামত ও নির্মাণ কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি সিডিডিএলের সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে সিডিডিএলে পৌঁছালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাণিজ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বার্তায় এ তথ্য জানায়।

দেশের সামুদ্রিক খাতের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শিল্পায়নের লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৫ সালে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে সিডিডিএল। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে এবং এর কার্যক্রম দুর্বল হয়ে যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত ও গতিশীল করতে ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিডিডিএলকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। এ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ১ হাজার ৩৬টি জাহাজ সফলভাবে মেরামত করেছে সিডিডিএল। পাশাপাশি কনটেইনার ভেসেলসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পন্টুন নির্মাণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। জাহাজের ড্রাই ডকিংয়ের পাশাপাশি ভাসমান অবস্থায় মেরামতসেবাও দিয়ে আসছে সিডিডিএল।

জাহাজ মেরামতের পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণেও সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিডিডিএল। সরকারের ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ ও আত্মনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়ন, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, সম্ভাব্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং প্রাথমিক কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফ্রিগেটসহ আধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোর পথ আরও সুগম হতে পারে।

জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মৌলিক শিল্পখাতেও অবদান রাখছে সিডিডিএল। চিনি, কাগজ ও পাল্প, স্টিল, সার ও রাসায়নিক শিল্প এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্টিল কাঠামো, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া ট্যাংক, মেটাল রোলার, স্টিল ব্রিজ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারসহ বিভিন্ন শিল্প ও সিভিল স্ট্রাকচার নির্মাণেও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে সিডিডিএল। এসব কার্যক্রম দেশের ভারী শিল্পের বিকাশ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কার্যক্রম ও পরিচালন সক্ষমতার স্বীকৃতিস্বরূপ সিডিডিএল আইএসও সনদ অর্জন করেছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ ইনডেন্টিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএএ) সদস্যপদ লাভ করেছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল উন্নয়নের মাধ্যমে সিডিডিএলের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বহুমুখী সক্ষমতা দেশের জাহাজ নির্মাণ ও মেরামত শিল্পের বিকাশ, প্রতিরক্ষা শিল্পে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

এনসিটিতে বিশ্বসেরা অপারেটরে বাড়বে সক্ষমতা, বন্দরেও নতুন সম্ভাবনা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
এনসিটিতে বিশ্বসেরা অপারেটরে বাড়বে সক্ষমতা, বন্দরেও নতুন সম্ভাবনা

চট্টগ্রাম বন্দরকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আরও প্রতিযোগিতামূলক কেন্দ্রে পরিণত করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব যাওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বড় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথম ১০ বছরে টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পাবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি। ব্যবসায়ী নেতাদের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা কমবে, আমদানি-রপ্তানিতে গতি আসবে এবং বন্দরের সেবার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হবে।

  • ডিপি ওয়ার্ল্ডের বিনিয়োগে আধুনিকায়নের আশা
  • ১৫ বছরের চুক্তি; গতিশীল হবে আমদানি-রপ্তানি
  • ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, কমবে দীর্ঘসূত্রতা ও পরিচালনাগত জটিলতা

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপারেটরের আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদার ব্যবস্থাপনা কাজে লাগানো গেলে বন্দরের পরিচালনাগত জটিলতা কমবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে সময়মতো পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। তবে সম্ভাব্য সুফল পেতে বিনিয়োগের বাস্তবায়ন, মাশুলের যৌক্তিকতা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান এবং চুক্তির শর্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

আধুনিকায়নে বড় বিনিয়োগ, বাড়বে সক্ষমতা
চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছর এনসিটি পরিচালনা করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। প্রথম ১০ বছরে টার্মিনালের আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিনিয়োগের লক্ষ্য হলো কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম আরও দক্ষ করা, পরিচালনব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা এবং সেবার মান উন্নত করা।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে এ বন্দরের কার্যক্রমে সামান্য দক্ষতা বৃদ্ধিও সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসার ব্যয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এনসিটির সক্ষমতা বাড়লে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমানো, দ্রুত কনটেইনার খালাস এবং পণ্য পরিবহনের পরিকল্পনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার ও হিমায়িত খাদ্যের মতো রপ্তানিমুখী খাতের জন্য সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরে দীর্ঘসূত্রতা কমলে রপ্তানিকারকদের সরবরাহব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।

তবে শুধু যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি আধুনিক করলেই প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে না। কাস্টমস, পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং বন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার কার্যক্রমেও সমন্বয় প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতার সুফল আরও বিস্তৃত হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের স্বাগত, কমবে হয়রানির প্রত্যাশা
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা চালু হলে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা, পরিচালনাগত জটিলতা এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, একজন ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারক হিসেবে তিনি এ সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত। তাঁর আশা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের পরিচালনায় রপ্তানিতে সময় ও ব্যয় কমবে এবং বন্দরে হয়রানি ও ঘুষের প্রবণতা হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেন, এর আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনায় যুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডও এনসিটির কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে বলে তিনি আশা করেন। এতে আমদানি-রপ্তানিতে গতি আসার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে।

চুক্তির বিরোধিতাকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে বিকেএমইএ সভাপতি বলেন, আন্তর্জাতিক অপারেটরের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ নেওয়া উচিত। যৌক্তিক দাবি থাকলে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্থাপন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও সহযোগিতা করতে পারে। তবে অযথা বিরোধিতা করে উদ্যোগটি বাধাগ্রস্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহও সিদ্ধান্তটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ডিপি ওয়ার্ল্ডের আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিচালন অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো গেলে বন্দরের উৎপাদনশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বন্দর খাতে অন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরদের বিনিয়োগের আগ্রহও তৈরি হতে পারে।

চট্টগ্রাম চেম্বার ও বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত পরিচালক এবং বাদশা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আলম বাদশার মতে, ডিপি ওয়ার্ল্ড যুক্ত হওয়ায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ পরিচালনব্যবস্থা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর প্রত্যাশা, এতে বন্দরের পরিচালনাগত জটিলতা ও অনিয়ম কমবে এবং কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

বাংলাদেশ নন-প্যাকার্স ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রানাও মনে করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে কনটেইনার খালাস ও জাহাজীকরণ নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের ভাবমূর্তি এবং ব্যবসায়িক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে বলে তাঁর প্রত্যাশা।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, এনসিটি পরিচালনায় বিশ্বখ্যাত অপারেটর যুক্ত হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশন নিশ্চিত করা গেলে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের গতি বাড়বে এবং জাহাজের বন্দরে অবস্থানের সময় কমবে।

চুক্তিতে অগ্রিম ফি ও রাজস্বের হিসাব
চুক্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি দেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ অর্থের ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ টার্মিনালের পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার আগে পরিশোধ করার কথা।

প্রকাশিত চুক্তিসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, কনটেইনার হ্যান্ডলিং থেকে অর্জিত আয়ের ৬৭ শতাংশ পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্ধারিত ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। চুক্তিতে বছরে কমপক্ষে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে এ ন্যূনতম পরিমাণ ১০ লাখ টিইইউতে সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।

এই আর্থিক কাঠামো বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে প্রকৃত আর্থিক সুফল নির্ভর করবে কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ, পরিচালন ব্যয়, নির্ধারিত মাশুল এবং বিনিয়োগের কার্যকারিতার ওপর। চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত মূল্যায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

চার্জ নিয়ে প্রশ্ন, সুফল পৌঁছাতে হবে ব্যবসায়ীদের কাছে
বিদেশি অপারেটরের অভিজ্ঞতা থেকে সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও ব্যবসার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিল্পোদ্যোক্তাদের কেউ কেউ। বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বন্দরের কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষ ও পেশাদার অপারেটর প্রয়োজন। এতে সময় ও ব্যবসার খরচ কমার কথা। তবে চার্জ ৪১ শতাংশ বাড়ানো হলে ব্যয় কমানোর লক্ষ্য কীভাবে অর্জিত হবে, সে প্রশ্নও রয়েছে।

তাঁর বক্তব্যে বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবার মূল্য নির্ধারণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। পরিচালনব্যবস্থার উন্নতির সুফল ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাতে হলে মাশুল যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা জরুরি। চার্জ বৃদ্ধির দাবিটির ভিত্তি এবং কোন কোন সেবায় তা প্রযোজ্য, তা চুক্তির নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন।

শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সুরক্ষায় নজর
এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার পর শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এ চুক্তির কারণে বন্দরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি হারাবেন না। বরং আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের ফলে নতুন দক্ষতার প্রয়োজন তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বন্দরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তাঁর মতে, কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হলে জনবলের প্রয়োজনও তৈরি হতে পারে।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে বিদ্যমান কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে নতুন পরিচালনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে কর্মীদের নিয়োগ, দায়িত্ব ও সুযোগ-সুবিধায় কী পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ার ওপর। তাই কর্মসংস্থান সুরক্ষায় ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কার্যকর তদারকি জরুরি।

মালিকানা বাংলাদেশের, পরিচালনায় বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা
বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ায় বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, এনসিটির জমি, জেটি ও মূল সম্পদের মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড চুক্তির আওতায় টার্মিনাল পরিচালনা করবে। ফলে পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরকে বন্দরের মালিকানা হস্তান্তরের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।

তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নিরাপত্তা, তদারকি ও সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পরিচালনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, সেবার মান পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে আন্তর্জাতিক দক্ষতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।

আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ার সুযোগ
ডিপি ওয়ার্ল্ড এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন বন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত জেবেল আলি বন্দর প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনকেন্দ্র। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বিভিন্ন বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনায়ও যুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানো গেলে বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে স্থানীয় অবকাঠামো, কাস্টমস কার্যক্রম, সড়ক ও নৌপরিবহন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের অন্তর্ভুক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে। বিনিয়োগের যথাযথ বাস্তবায়ন, সেবার মান উন্নয়ন, যৌক্তিক মাশুল, শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং চুক্তির শর্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগের সুফল দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বন্দরের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই হবে এই চুক্তির প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

দুই কিলোমিটার দূরের পদ্মা এখন স্কুলের দুয়ারে

শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ
দুই কিলোমিটার দূরের পদ্মা এখন স্কুলের দুয়ারে

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলম খাঁনকান্দি গ্রামের ১২২ নম্বর আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় পদ্মা নদী ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে। কিন্তু কয়েক বছরের অব্যাহত ভাঙনে নদী এগিয়ে এসেছে বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে। এখন যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।

ভাঙনের আশঙ্কায় খুলে রাখা হয়েছে বিদ্যালয় ভবনের টিন ও বেড়া। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কিছু আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামাল। এর মধ্যেই চলছে পাঠদান। কিন্তু নদীভাঙনের আতঙ্কে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। চলতি শিক্ষাবর্ষে ২১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও প্রতিদিন গড়ে উপস্থিত থাকছে মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন।

আলম খাঁনকান্দি গ্রামটি পদ্মা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত। চারপাশে নদীবেষ্টিত এই জনপদের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম নৌপথ। একসময় এলাকায় কোনো বিদ্যালয় না থাকায় স্থানীয় উদ্যোগ ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় আলতাফ হোসেন খাঁন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩ শতাংশ জমি দান করেন। তাঁর নামেই বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠার সময় নদী থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ছিল প্রায় দুই কিলোমিটার। কিন্তু গত দুই বছরে ওই এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। চলতি বছরেই পদ্মা প্রায় এক কিলোমিটার উত্তর দিকে এগিয়ে এসেছে। গত দুই মাসে ভাঙন আরও বাড়ায় নদী এখন বিদ্যালয়ের মাঠের কাছাকাছি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। ইতোমধ্যে আশপাশের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ায় অনেক পরিবার নিরাপদ স্থানে চলে গেছে।

বিদ্যালয়টির পাকা মেঝের টিনশেড ভবনে পাঁচটি কক্ষে পাঠদান করা হয়। তবে নদীভাঙনের আশঙ্কায় ভবনের টিন ও বেড়া খুলে রাখা হয়েছে। কিছু আসবাব ও প্রয়োজনীয় মালামালও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই খোলা ঘরে চলছে শিশুদের পড়াশোনা।

গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষে একসঙ্গে পড়াচ্ছেন দুজন শিক্ষক। পাশের আরেকটি কক্ষে কয়েকজন শিশুকে পাঠদান করছেন একজন শিক্ষক। সকাল থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন পরিস্থিতিতে পাঠদান কত দিন স্বাভাবিকভাবে চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভবনটি রক্ষার পাশাপাশি বিকল্প স্থানে বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়টিতে ২১৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। কিন্তু নদীভাঙনের কারণে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হচ্ছে না। বিদ্যালয়ের আশপাশের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হওয়ায় অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী আট থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে।

বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনিকা ও জোনায়েদের ভয়, যেকোনো সময় তাঁদের বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। স্কুলটি ভেঙে গেলে কোথায় গিয়ে পড়াশোনা করবেন, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে তারা।

শিশুদের এই আতঙ্ক শুধু বিদ্যালয় হারানোর আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নয়। বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেলে নতুন জায়গায় পড়াশোনার ব্যবস্থা করা, দূরবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াও তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীম খান বলেন, এ বছরই এলাকায় সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়েছে। গত দুই মাসে নদী বিদ্যালয়ের মাঠের কাছে চলে এসেছে। প্রতিদিনই তাঁকে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে চিন্তা হয়, পরদিন এসে বিদ্যালয়টি দেখতে পাবেন কি না। ভাঙনের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে কিছু মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও অনেক কমে গেছে। অন্তত ১১০ জন শিক্ষার্থী স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে গেছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষকের এই উদ্বেগে স্পষ্ট, নদীভাঙন এখন শুধু বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর জন্য হুমকি নয়; এটি শিশুদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত করছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন খাঁন জানান, বিদ্যালয়ের আশপাশে ভাঙন শুরু হওয়ার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু এলাকাটি রক্ষায় এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।

চলতি বছর আলম খাঁনকান্দি এলাকায় অন্তত ৩৫০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। এসব পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে নিজেদের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। এবার নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে গ্রামের শিশুদের শিক্ষার অন্যতম অবলম্বন বিদ্যালয়টি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হলে শুধু একটি ভবনই হারাবে না, এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগও আরও সংকুচিত হবে।

জাজিরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, পদ্মার তীরবর্তী গ্রামের বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি তাঁরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন। প্রয়োজনে বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। তবে এখনো বিকল্প জমি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের শিকার হলেও যাতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।

আলম খাঁনকান্দি গ্রামের এই বিদ্যালয়টি একসময় এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে সেই সুযোগ এখন হুমকির মুখে। বিদ্যালয়ের ভবন সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও বিকল্প জমি না পাওয়ায় সংকটের স্থায়ী সমাধান অনিশ্চিত।

নদীভাঙনে বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও পড়েছে অনিশ্চয়তায়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর পাশাপাশি ব্যাহত হতে পারে শিশুদের শিক্ষাজীবনও। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নদীভাঙন থেকে বিদ্যালয় রক্ষা এবং প্রয়োজনে দ্রুত বিকল্প স্থানে পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সন্ধানী বার্তা/এসকে/এমএসআইপি

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, দিল্লিতে আটক মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৭ অপরাহ্ণ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা, দিল্লিতে আটক মমতা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) তার বাসভবনের বাইরে থেকে দিল্লি পুলিশ ও দেশটির আধা-সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) সদস্যরা তাকে আটক করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও আরও পাঁচজনকে তার বাসভবনের বাইরে থেকে আটক করা হয়েছে।

মমতার রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, আটক ব্যক্তিদের একটি প্রিজন ভ্যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার সকাল ১০টায় নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেয় সিজেপি। তবে দিল্লি পুলিশ কর্মসূচিটির অনুমতি দেয়নি। তা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়েই বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছিল দলটি।

বিক্ষোভে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে উড়োজাহাজে নয়াদিল্লি আসেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষ। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে তাদের ফ্লাইট অবতরণের পরপরই তাদের আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমান থেকে আটকের ঘটনাটি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন অভিজিৎ দীপকে। ভিডিওতে দিল্লি পুলিশের সদস্যদের বিমানে প্রবেশ করে তাকে এবং সিজেপির অন্য দুই সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

এদিকে, সিজেপি নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে যোগ দিতে জার্মানি থেকে ভারতে আসা ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। ৩২ বছর বয়সী এই ইউটিউবারকে শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-তে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারে দিল্লি পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য অভিযান চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং আটকের পর তাকে কোথায় নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি