খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনেও ‘না’ পরীমনির, রাগের ইমোজিতে কী বার্তা দিলেন?

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনেও ‘না’ পরীমনির, রাগের ইমোজিতে কী বার্তা দিলেন?
অতীতের সম্পর্ক, জমে থাকা অভিমান আর পুরোনো ক্ষোভ ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর ১৭ অক্টোবর পালিত হয় ‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ বা প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন। তবে এই দিনে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার আহ্বানে যেন একেবারেই সায় নেই ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনির। দিবসটি নিয়ে প্রকাশিত একটি খবর নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে রাগের ইমোজিসহ তিনি লিখেছেন, ‘নো নো নো নো নোওওও…।’ তাঁর এই পোস্ট ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও হাস্যরস।

শনিবার (১৭ অক্টোবর ) প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন উপলক্ষে পরীমনির এই প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। যদিও অভিনেত্রী সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তাই ঠিক কোন প্রাক্তনকে উদ্দেশ করে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিবসে পরীর ‘না’

‘ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’র মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক থেকে তৈরি হওয়া রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা। পুরোনো সম্পর্কের কষ্ট আঁকড়ে না ধরে নিজের মানসিক শান্তি ও ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি।

কিন্তু দিবসটি নিয়ে প্রকাশিত খবরটি শেয়ার করে পরীমনি যেন ভিন্ন বার্তাই দিলেন। পোস্টের ক্যাপশনে একের পর এক ‘নো’ লিখে এবং রাগের ইমোজি যোগ করে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। তাঁর এই মজার ছলে দেওয়া উত্তর দেখে অনুরাগীদের অনেকেই বেশ আনন্দ পেয়েছেন।

তবে পরীমনির পোস্টটি নিছক মজা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো ব্যক্তিগত অভিমান—সে বিষয়ে অভিনেত্রী বিস্তারিত কিছু জানাননি। ফলে তাঁর মন্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে কৌতূহল থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির সঙ্গে পোস্টটির যোগসূত্র নিশ্চিত নয়।

প্রাক্তনের তালিকায় আলোচিত নাম রাজ

পরীমনির প্রেম ও বিয়ের জীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তাঁর অতীত সম্পর্কগুলোর মধ্যে আলোচিত নাম অভিনেতা শরীফুল ইসলাম রাজ। তাঁদের সম্পর্ক, বিয়ে, সংসার এবং পরবর্তী বিচ্ছেদ নিয়ে একসময় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে।

রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তানকে নিয়ে নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন পরীমনি। পাশাপাশি তিনি একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নিয়েছেন। দুই সন্তানকে ঘিরেই এখন তাঁর জীবনের বড় একটি অংশ কাটে।

তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনের পোস্টে পরীমনি রাজের নাম উল্লেখ করেননি। তাই তাঁর এই প্রতিক্রিয়া রাজকে উদ্দেশ করে দেওয়া—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

দুই সন্তানকে ঘিরেই পরীমনির বর্তমান জীবন

ব্যক্তিগত জীবনের নানা আলোচনা ও উত্থান-পতনের মধ্যেও সন্তানদের নিয়ে পরীমনির সময় কাটানোর মুহূর্ত প্রায়ই উঠে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছেলেকে নিয়ে তাঁর নানা ছবি ও ভিডিওর পাশাপাশি দত্তক নেওয়া কন্যাশিশুকে ঘিরেও ভক্তদের আগ্রহ রয়েছে।

অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনুরাগীদের কৌতূহল থাকলেও নিজের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি কী ভাবছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এবারের পোস্টেও তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি; বরং কয়েকটি শব্দ আর একটি রাগের ইমোজিতেই নিজের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন।

ক্ষমা নয়, নাকি নিছক মজা?

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিনেও পরীমনির এমন প্রতিক্রিয়া ভক্তদের কাছে মজার মনে হয়েছে। তবে তাঁর ‘নো নো নো’ মন্তব্যের অর্থ কী, তা স্পষ্ট নয়। এটি পুরোনো কোনো সম্পর্কের প্রতি অভিমান, নাকি দিবসটির প্রচলিত বার্তা নিয়ে নিছক রসিকতা—সেই উত্তর দিয়েছেন শুধু পরীমনিই দিতে পারেন।

আপাতত তাঁর পোস্ট ঘিরে অনুরাগীদের কৌতূহল একটাই—প্রাক্তনকে ক্ষমা করতে না চাওয়ার এই বার্তা কি নিছক মজা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে কোনো পুরোনো গল্প?

কালের আলো/জেএন/এসএ

শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়, ৬জিতে বদলে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ
শুধু দ্রুতগতির ইন্টারনেট নয়, ৬জিতে বদলে যেতে পারে যোগাযোগব্যবস্থা

মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তিতে ৫জির বিস্তার এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ষষ্ঠ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ৬জি নিয়ে গবেষণা ও প্রস্তুতি। প্রযুক্তিটি কবে চালু হবে, কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং ৫জির সঙ্গে এর পার্থক্য কোথায়—এসব প্রশ্ন নিয়ে প্রযুক্তি খাতে আগ্রহ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালকে সামনে রেখে ৬জির আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নির্ধারণের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এর আগেই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে।

৬জি প্রযুক্তি কী?

৬জি হলো মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তির ষষ্ঠ প্রজন্ম। ৩জি, ৪জি ও ৫জির ধারাবাহিকতায় এ প্রযুক্তি তৈরি করা হচ্ছে। তবে ৬জি কেবল ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ও ব্যবহারক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে।

জাতিসংঘের সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) ৬জিকে ‘আইএমটি-২০৩০’ নামে অভিহিত করেছে। প্রযুক্তিটির সম্ভাব্য কার্যক্ষমতা, বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এখনো চলমান। ফলে ৬জির চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে এখনই নিশ্চিতভাবে সবকিছু বলা সম্ভব নয়।

কেন এখন থেকেই ৬জি নিয়ে প্রস্তুতি?

নতুন প্রজন্মের মোবাইল যোগাযোগপ্রযুক্তি তৈরি করতে গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়। এ কারণে ৫জির বিস্তার পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ৬জি নিয়ে কাজ শুরু করেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো।

ভবিষ্যতে মুঠোফোনের পাশাপাশি গাড়ি, বাসাবাড়ির স্মার্ট যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন সংযুক্ত ডিভাইসের মধ্যে যোগাযোগের প্রয়োজন আরও বাড়তে পারে। এসব যন্ত্রকে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত রাখার ক্ষেত্রে ৬জি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেটওয়ার্ক দিয়েই শনাক্ত করা যাবে আশপাশের পরিবেশ?

৬জির সম্ভাব্য বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যোগাযোগের পাশাপাশি পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা। নেটওয়ার্কের বেতার সংকেত কাজে লাগিয়ে আশপাশে মানুষ বা গাড়ির উপস্থিতি শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের সক্ষমতা ভবিষ্যতে স্মার্ট শহর, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং বিভিন্ন বুদ্ধিমান ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগতে পারে। তবে এসব সুবিধা কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হবে, তা নির্ভর করবে প্রযুক্তির চূড়ান্ত নকশা, মান নির্ধারণ এবং পরীক্ষার ফলাফলের ওপর।

কবে চালু হবে ৬জি?

প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টি-মোবাইল ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৬জি নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা করছে।

তবে কোনো প্রযুক্তির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হওয়া এবং সেটি সব দেশে সহজলভ্য হওয়া এক বিষয় নয়। ৪জি ও ৫জির মতো ৬জিও ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে উপযুক্ত অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক স্থাপন, সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রস্তুতি।

৫জি থাকা অবস্থায় ৬জির গুরুত্ব কতটা?

৫জি প্রযুক্তি উচ্চগতির ইন্টারনেট ও উন্নত সংযোগের সুযোগ তৈরি করলেও ৬জির লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। ভবিষ্যতের বিপুলসংখ্যক সংযুক্ত যন্ত্র, উন্নত ডিজিটাল সেবা এবং যোগাযোগ ও পরিবেশ শনাক্তকরণের সমন্বিত ব্যবহারের কথা বিবেচনায় রেখেই প্রযুক্তিটি নিয়ে গবেষণা চলছে।

সব মিলিয়ে, ২০৩০ সালকে কেন্দ্র করে ৬জির আন্তর্জাতিক মান নির্ধারণের কাজ এগোচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ২০২৯ সাল থেকে বাণিজ্যিক সেবা চালুর পরিকল্পনা করলেও সাধারণ ব্যবহারকারীরা কবে থেকে ব্যাপকভাবে এ প্রযুক্তির সুবিধা পাবেন, তা নির্ভর করবে গবেষণার অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশভিত্তিক বাস্তবায়নের ওপর।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এসএ

 

পাকিস্তানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল তিন জেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল তিন জেলা

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর ফলে খুজদারসহ আশপাশের তিন জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়নি।

খুজদারের কাছে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল

পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তরের সিসমিক শাখার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল বেলুচিস্তানের খুজদার জেলা থেকে ৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র অগভীর হওয়ায় খুজদার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী খারান ও কালাত জেলায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। আকস্মিক এ কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সতর্ক প্রশাসন

বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে কোনো প্রাণহানি, আহত হওয়ার ঘটনা কিংবা ভবন ধসে পড়ার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বিশেষ করে খুজদারের আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

অগভীর ভূমিকম্প কেন বেশি বিপজ্জনক?

ভূমিকম্পের মাত্রার পাশাপাশি এর উৎপত্তিস্থলের গভীরতাও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের কম গভীরতায় সংঘটিত ভূমিকম্পকে অগভীর ভূমিকম্প বলা হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পের কম্পন ভূপৃষ্ঠে তুলনামূলক বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে, বিশেষ করে উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায়।

বেলুচিস্তানের ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ফলে উৎপত্তিস্থলের আশপাশে মাটির তৈরি বাড়িঘর ও দুর্বল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে ভূমিকম্পের তীব্রতা, স্থানীয় মাটির বৈশিষ্ট্য এবং ভবনগুলোর নির্মাণমানের ওপর।

তিন টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেলুচিস্তান

প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বেলুচিস্তান ভূতাত্ত্বিকভাবে সক্রিয় একটি অঞ্চলে অবস্থিত। ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও অ্যারাবিয়ান টেকটোনিক প্লেটের পারস্পরিক গতিবিধি এ অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণতার অন্যতম কারণ।

প্লেটগুলোর নড়াচড়া ও ভূত্বকের বিভিন্ন চ্যুতির কারণে বেলুচিস্তানে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প ঘটে। ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পও এ অঞ্চলে মাঝেমধ্যে অনুভূত হয়।

সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এএইচ/এসএ

বিয়ে ভাঙার সুযোগ নেই, দ্বিতীয় বিয়েও কঠিন—বিশ্বের দুই ব্যতিক্রমী দেশ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
বিয়ে ভাঙার সুযোগ নেই, দ্বিতীয় বিয়েও কঠিন—বিশ্বের দুই ব্যতিক্রমী দেশ
বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ রয়েছে। তবে এমন দুটি দেশ আছে, যেখানে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই—ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটি। দেশ দুটির আইন ও ধর্মীয় বিধানের কারণে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেলেও আইনগতভাবে বৈবাহিক বন্ধন থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল কিংবা বিয়েকে অবৈধ ঘোষণার সুযোগ রয়েছে।

ফিলিপাইন: আলাদা থাকা যায়, কিন্তু বিয়ে ভাঙা কঠিন

ফিলিপাইনে অধিকাংশ বিবাহিত দম্পতির জন্য সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের আইন নেই। তবে সেখানে আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল এবং বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে।

আইনি বিচ্ছেদের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকার অনুমতি পেতে পারেন। শারীরিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কিংবা সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আদালতে আবেদন করা যায়। তবে আদালত আলাদা থাকার অনুমতি দিলেও বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে। ফলে তাঁরা সাধারণত নতুন করে বিয়ে করতে পারেন না।

বিয়ে বাতিল আর অবৈধ ঘোষণা এক নয়

ফিলিপাইনে বিয়ে বাতিলের ক্ষেত্রে আদালত নির্ধারণ করে, বিয়েটি আইনগতভাবে বাতিলযোগ্য কি না। অন্যদিকে বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিবাহের সময় প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা বিবেচনা করা হয়। শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে গেছে—এ কারণে বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না।

এসব আইনি প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। ফলে বিবাহবিচ্ছেদ ছাড়াই আলাদা থাকা অনেক দম্পতির জন্য বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন করে বিয়ে করতে চাইলে তাঁদের জন্য আইনি বাধা আরও বড় হয়ে ওঠে।

মুসলিমদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা

ফিলিপাইনে মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক পারিবারিক আইন রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এই আইনের আওতায় তালাক, খুলা কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে দেশটির সব নাগরিকের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের নিয়ম এক নয়।

এ ছাড়া বিদেশে সম্পন্ন কিছু বিবাহবিচ্ছেদ নির্দিষ্ট আইনি শর্তে ফিলিপাইনে স্বীকৃতি পেতে পারে। তবে এর জন্য প্রযোজ্য আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তাই বিদেশে গিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিলিপাইনে কার্যকর হবে, এমন নয়।

ভ্যাটিকান সিটি: বিয়ে অবিচ্ছেদ্য বন্ধন

ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় আইন বিবাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্যাথলিক ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, বৈধ ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন বিয়েকে সাধারণভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এ কারণেই সেখানে প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই।

তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিয়েটি সম্পন্ন হওয়ার সময় ধর্মীয় আইনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা যাচাই করা হয়। দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়া মাত্রই বিয়েটি অবৈধ হয়ে যায় না।

আলাদা থাকা সম্ভব, কিন্তু দ্বিতীয় বিয়েতে বাধা

ভ্যাটিকানে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে পারেন। কিন্তু আলাদা থাকলেই তাঁদের বৈবাহিক বন্ধনের অবসান ঘটে না। ফলে প্রথম বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন করে বিয়ে করার সুযোগ থাকে না বললেই চলে।

কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণার আবেদন করা হলে তা ধর্মীয় আইন অনুযায়ী যাচাই করা হয়। প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ হতে পারে এবং এর ফল নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মামলার পরিস্থিতির ওপর। অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলেই প্রথম বিয়ে বাতিল হয়ে যায় না; বিদেশে দ্বিতীয় বিয়ে করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট দেশের আইন এবং আগের বিয়ের আইনগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দুই দেশের নিয়মে মূল পার্থক্য কোথায়?

ফিলিপাইনে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ না থাকলেও আইনি বিচ্ছেদ, বিয়ে বাতিল এবং মুসলিমদের জন্য পৃথক বিবাহবিচ্ছেদব্যবস্থা রয়েছে। অন্যদিকে ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বৈধ ও পরিপূর্ণ বিয়েকে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া এবং আইনগতভাবে বৈবাহিক বন্ধন শেষ হওয়া এক বিষয় নয়।

দেশ দুটির উদাহরণ দেখায়, বিবাহবিচ্ছেদ কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় নয়; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, ধর্মীয় বিধান ও সামাজিক কাঠামোও জড়িয়ে থাকে।

সূত্র: এমএসএন

কালের আলো/এএইচ/এসএ