খুঁজুন
                               
, ,
           

জনসমর্থন ও জয়ের সক্ষমতা দেখে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
জনসমর্থন ও জয়ের সক্ষমতা দেখে প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, এমন প্রার্থী বাছাই করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার আশ্বাস দিয়ে দলীয় ঐক্য বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।

নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। এতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের প্রায় সাড়ে ৪০০ নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তাই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন প্রার্থী বেছে নিতে হবে, যিনি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সক্ষমতা রাখেন।

সভায় উপস্থিত নেতাদের বরাতে জানা গেছে, প্রার্থী নির্বাচনে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, জনসমর্থন ও ভোটে জয়ের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিভেদ এড়িয়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব বাছাইয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনসমর্থন ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তারেক রহমান। তিনি সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অপরাধ ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে।

বিএনপি নেতা-কর্মীদের নিজেরাও কোনো অপরাধে জড়িত না হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এর আগে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। পরে নগরের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে জেএম সেন হল ও র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলের সামনে নেতা-কর্মী ও উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা যায়। রাতে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। ওই সফরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাই, দলীয় ঐক্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনাকে চট্টগ্রামে বিএনপির সাংগঠনিক প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৮ অপরাহ্ণ
দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে জাতিসংঘকে ভারতের কড়া বার্তা

দাউদ ইব্রাহিমের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকারবিষয়ক এক বিশেষ প্রতিবেদনে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের অন্যতম দাউদ ইব্রাহিমকে ভারতে অবস্থানরত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ তথ্যের তীব্র আপত্তি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, দাউদ বহু আগেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তার অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এ ঘটনায় তথ্যগত ভুল সংশোধনের পাশাপাশি এ ধরনের ভুল তথ্য প্রকাশের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে?
জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক বেন সাউল গত জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিম ভারতে অবস্থান করছেন বলে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশনের প্রথম সচিব রঘু পুরি। জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রঘু পুরি বলেন, প্রতিবেদনে দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সংশোধন করা প্রয়োজন। তার দাবি, ২০০৩ সালে জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত হওয়ার অনেক আগেই দাউদ ইব্রাহিম ভারত ছেড়ে পালিয়েছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাউদ এখনো দেশটির তালিকায় একজন পলাতক অপরাধী হিসেবে রয়েছেন। তবে তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।

দাউদ ইব্রাহিমকে নিয়ে পাকিস্তানের প্রসঙ্গ কেন?
জাতিসংঘে ভারতের প্রতিনিধি রঘু পুরি দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের তালিকায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দাউদ এমন একটি দেশে অবস্থান করছেন, যেখানে একসময় আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল এবং পরে হত্যা করা হয়েছিল। এ বক্তব্যে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে দাউদ ইব্রাহিম বর্তমানে পাকিস্তানেই অবস্থান করছেন—এমন কোনো নতুন স্বাধীন প্রমাণ এই প্রতিবেদনের বক্তব্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ফলে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিষয়টি নিশ্চিতভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।

১৯৯৩ সালের হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরল ভারত
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে রঘু পুরি আরও বলেন, বিশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে ডি কোম্পানি নামের একটি অপরাধী চক্রের নেতাকে তালিকাভুক্ত করেছিল। ভারতের দাবি, এভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলে দাউদ ইব্রাহিম ও ডি কোম্পানির বিরুদ্ধে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে উঠে আসে না।

রঘু পুরির ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সাল থেকেই দাউদ ইব্রাহিম ও ডি কোম্পানি ভারতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এবং ভারতের কাছে ওয়ান্টেড। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দাউদকে নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার নথিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাই বিশেষ প্রতিবেদনে ওই তথ্য যথাযথভাবে তুলে না ধরায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকা নিয়ে আপত্তি
রঘু পুরি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় দাউদ ইব্রাহিমকে তালিকাভুক্ত করার কারণসংক্রান্ত বিবরণে সংশ্লিষ্ট তথ্য উল্লেখ রয়েছে। তার অভিযোগ, বিশেষ প্রতিবেদনে সেই বিষয়গুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। ভারতের মতে, দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান ও তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ভুল সংশোধনের পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার জন্য জবাবদিহিও প্রয়োজন।

দাউদ ইব্রাহিমের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত
দাউদ ইব্রাহিম দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী হিসেবে পরিচিত। তাকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগও বহুদিনের। ভারত তাকে ১৯৯৩ সালের মুম্বাই ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযুক্ত করে আসছে।

সর্বশেষ জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তার অবস্থান সম্পর্কে দেওয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। ভারত বলছে, দাউদ বহু আগেই দেশ ছেড়েছেন এবং তাকে ভারতে অবস্থানরত হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। অন্যদিকে, তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। সূত্র: এনডিটিভি

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি

 

মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসায় রাজা চার্লস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসায় রাজা চার্লস

ওমানের মানুষের আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও উদারতার প্রশংসা করতে গিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেছেন যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস। ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ হাদিসের উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মানবিক মূল্যবোধ, অতিথিপরায়ণতা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে অনুষ্ঠিত ওই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে রাজা চার্লস ওমানের মানুষের সহনশীলতা ও নমনীয়তার প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত মহানবী (সা.)-এর একটি বাণী উদ্ধৃত করেন, যার মাধ্যমে ওমানের মানুষের আচরণ ও উদারতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

মহানবী (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করে ওমানিদের প্রশংসা
বক্তব্যে রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, “তুমি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতে, তারা তোমাকে গালমন্দ করত না, আঘাতও করত না।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর এই বাণী উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক সহনশীলতা ও উদারতার প্রতি সম্মান জানান ব্রিটিশ রাজা। তার বক্তব্যে অতিথির প্রতি সম্মান প্রদর্শন, নম্র আচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে।

ওমান দীর্ঘদিন ধরে আরব উপদ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে আতিথেয়তা এবং অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও সেই ঐতিহ্যের প্রতি স্বীকৃতি ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন দেখা যায়।

উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক উইন্ডসর ক্যাসেলে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। সেখানে রাজা তৃতীয় চার্লসের বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি ওমানের মানুষের ঐতিহাসিক মূল্যবোধের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের মতো কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে অতিথি রাষ্ট্রের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জনগণের প্রশংসা করা হয়ে থাকে। রাজা চার্লসের বক্তব্যেও ওমানের মানুষের মানবিক আচরণ ও আতিথেয়তার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্য-ওমান সম্পর্কেও গুরুত্ব দিলেন রাজা চার্লস
বক্তব্যে শুধু ওমানের মানুষের প্রশংসাই নয়, যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরেন ব্রিটিশ রাজা। দুই দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন তিনি।

যুক্তরাজ্য ও ওমানের সম্পর্ক কূটনীতি, বাণিজ্য ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিকশিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের এমন আয়োজন দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করে।

ধর্মীয় বাণীর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধার প্রকাশ
একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণী উদ্ধৃত করার মধ্য দিয়ে রাজা চার্লস ওমানের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্যে আতিথেয়তা, সহনশীলতা ও মানবিক আচরণের মতো সর্বজনীন মূল্যবোধের গুরুত্বও সামনে এসেছে।

ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত এই নৈশভোজে রাজা চার্লসের বক্তব্য তাই কেবল আনুষ্ঠানিক সৌজন্য প্রকাশে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক বন্ধনকে গুরুত্ব দেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবেও উঠে এসেছে। সূত্র: ওমান অবজার্ভার

কালের আলো/এসএ/জেএন

আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ঘাট নির্মাণ, চার বছরেও কাজে আসেনি

কুমিল্লা সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ঘাট নির্মাণ, চার বছরেও কাজে আসেনি

কুমিল্লার হোমনায় সরকারি অর্থে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পাকা ঘাট গত তিন থেকে চার বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। মূল সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত সংযোগ পথ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রতিমা বিসর্জনের পাশাপাশি গোসল ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে নদীতে যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঘাটটি নির্মাণ করা হলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে ,উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের কানাই সাহা ঘাট এলাকায় তিতাস নদীর তীরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হলেও মূল সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ ফুট জায়গায় কোনো সংযোগ পথ তৈরি করা হয়নি। ফলে ঘাটে যেতে হলে স্থানীয়দের সমস্যায় পড়তে হয়। প্রয়োজনীয় সংযোগ পথ না থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জন ও দৈনন্দিন ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্মাণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘রামকৃষ্ণপুর রাম কানাই রায়ের বাড়ি দুর্গাপূজা মণ্ডপ’-এর প্রতিমা বিসর্জনের সুবিধার্থে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীতে যাতায়াত সহজ করাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কিন্তু নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত না করায় সেই উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না। ঘাটটি নির্মাণে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও এর সঙ্গে সড়কের সংযোগ নিশ্চিত করা হয়নি কেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একটি জনকল্যাণমূলক স্থাপনা নির্মাণের পর সেটি ব্যবহার উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকারি অর্থের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সংযোগ পথ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য
ঘাটটি ব্যবহার উপযোগী না হওয়ার কারণ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পূজামণ্ডপ কমিটির এক প্রতিনিধির বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে।

চান্দেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাম্মেল হক বলেন, স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুরোধে প্রতিমা আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে সড়ক থেকে কিছুটা দূরে ঘাটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মাঝের ফাঁকা জায়গায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে মাটি ভরাট করে সংযোগ পথ তৈরি করবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু পরে তাঁরা আর সেই কাজ করেননি। অন্যদিকে, পূজামণ্ডপ কমিটির এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রকৌশলীদের ভুল নকশা এবং ঘাটের খাড়া সিঁড়ির কারণে এটি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সড়ক থেকে ঘাট পর্যন্ত সংযোগ পথ তৈরির জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে মাটি ভরাটের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। তবে বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজটি আর করা সম্ভব হয়নি।

বাস্তবায়ন নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘাটটি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দরপত্র, প্যাকেজ ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট সরকারি নথি পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধানে ওই এলাকার শুভ নামের এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতার মাধ্যমে সাব-কন্ট্রাক্টে কাজটি বাস্তবায়নের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকল্পের নথি ও বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় কাজটির পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। সরকারি অর্থে নির্মিত একটি স্থাপনা কেন দীর্ঘদিন ব্যবহার অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে রয়েছে, তা নির্ধারণে প্রকল্পের নকশা, ব্যয় ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

নতুন উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্য
এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মোতাহার হোসেন বলেন, তিনি মাত্র দুই দিন আগে যোগদান করেছেন। বিস্তারিত তথ্য না জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না। ঘাটটি নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যবহার উপযোগী করার ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। সংযোগ পথ নির্মাণ, ঘাটের নকশা ও সিঁড়ির ব্যবহারযোগ্যতা যাচাই এবং প্রকল্পের বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি