খুঁজুন
                               
, ,
           

গরমে অসুস্থ শ্রমিক, ঝুঁকিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
গরমে অসুস্থ শ্রমিক, ঝুঁকিতে পোশাকশিল্পের উৎপাদন

তীব্র গরমে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প। কারখানার ভেতরে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি কমছে কর্মক্ষমতা এবং বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। কার্যকর শীতলীকরণ ব্যবস্থা না থাকলে তাপজনিত চাপে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

দেশের রফতানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। গ্রীষ্মকালে অনেক কারখানার ভেতরের তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে শ্রমিকদের শারীরিক অসুস্থতা, ক্লান্তি ও মনোযোগের ঘাটতির ঝুঁকি বাড়ছে।

২০২৫ সালে দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বাংলাদেশের পোশাক কারখানার পরিবেশ অনুকরণ করে তীব্র গরমে শ্রমিকদের শারীরিক চাপ ও উৎপাদনশীলতার ওপর প্রভাব পরীক্ষা করা হয়। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই গবেষণায় ৪২ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে ২৪৭টি পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষাগারে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ৩৮ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, অতিরিক্ত গরমে শ্রমিকদের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে সব কারখানার বাস্তব উৎপাদন পরিস্থিতির সঙ্গে পরীক্ষাগারের ফলাফল সরাসরি মেলে না।

গরমে বাড়ছে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক জরিপে অংশ নেওয়া ২১৫ জন পোশাকশ্রমিকের ৭৮ শতাংশ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রীষ্মের গরম বেড়েছে। জরিপে প্রায় অর্ধেক শ্রমিক গরমের কারণে দুর্বলতা বা অসুস্থতায় ভোগার কথাও জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, তীব্র গরমে অনেক শ্রমিক অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেশিতে টান ও অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন।

অতিরিক্ত তাপমাত্রায় শারীরিক ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে কাজে ভুল এবং পোশাকের ত্রুটি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি গরম রাতে ঘুমের ব্যাঘাত, আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দীর্ঘ যাতায়াতের ক্লান্তিও শ্রমিকদের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার বলেন, কারখানায় ফ্যান বা শীতলীকরণ যন্ত্রের সুবিধা থাকলেও কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পর শ্রমিকদের আবার তীব্র গরমের মুখোমুখি হতে হয়। বাসায় ফিরে অনেক সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না, গ্যাসের সংকটও থাকে। অথচ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি। শ্রমিকদের সুস্থ রাখা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

বাড়ছে কারখানার পরিচালন ব্যয়

তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় অনেক কারখানায় ফ্যানের ব্যবহার বাড়ানো, বায়ু চলাচল উন্নত করা, নিরাপদ পানীয় জল ও খাবার স্যালাইন সরবরাহ এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি পানের জন্য নির্দিষ্ট বিরতি এবং তীব্র গরমে কাজের সূচিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

এসব উদ্যোগের ফলে বিদ্যুৎ, বিকল্প জ্বালানি, পানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় বাড়তে পারে। তবে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সময়ে কারখানার পরিচালন বাজেট ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার যে হিসাব উল্লেখ করা হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট উৎস ও হিসাবপদ্ধতি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, তীব্র গরম এখন শুধু শ্রমিকের স্বাস্থ্যের বিষয় নয়; এটি উৎপাদনশীলতা, পরিচালন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত।

তার মতে, শুধু ফ্যান বা শীতলীকরণ যন্ত্র বাড়ালেই হবে না। কারখানার নকশা, বায়ু চলাচল, যন্ত্রপাতির বিন্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতার দিকেও নজর দিতে হবে। কোথায় তাপের চাপ বেশি, তা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত বিনিয়োগ জরুরি।

ক্রেতাদের যৌথ বিনিয়োগের তাগিদ

তাপজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার বাড়তি ব্যয় শুধু উৎপাদকদের বহন করা উচিত নয় বলে মনে করেন মহিউদ্দিন রুবেল। তার মতে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়াদেশ, যৌক্তিক পণ্যমূল্য এবং কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দায়িত্ব নিতে হবে। এ জন্য সরকার, পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞ ও শ্রমিক অধিকারকর্মীদের মতে, কারখানায় পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, নিরাপদ পানীয় জল, বিশ্রামের সুযোগ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং তাপজনিত অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর কর্মপরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।

অর্থনীতিতেও পড়ছে তাপের প্রভাব

ল্যানসেট কাউন্টডাউনের ২০২৫ সালের বাংলাদেশ তথ্যপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অতিরিক্ত তাপের কারণে দেশে সম্ভাব্য ২৯ বিলিয়ন কর্মঘণ্টা হারিয়েছে, যা ১৯৯০-৯৯ সালের গড়ের তুলনায় ৯২ শতাংশ বেশি। সম্ভাব্য আয়ক্ষতির পরিমাণ ২৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

এই হিসাব কৃষি, নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবাসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতের সম্মিলিত ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে। ফলে পুরো ক্ষতিকে শুধু তৈরি পোশাকশিল্পের ক্ষতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল লেবার ইনস্টিটিউট ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান শ্রোডার্সের ২০২৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তীব্র গরম ও বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনামের পোশাক ও জুতা উৎপাদন খাত ২০৩০ সালের মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রফতানি আয় হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ১০ লাখ কমে যেতে পারে।

গবেষণাটি চার দেশের সম্মিলিত পোশাক ও জুতা উৎপাদন খাতের ঝুঁকি নিয়ে করা হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিনিয়োগ না বাড়ালে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় ক্ষতির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরে রাখতে তাপঝুঁকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা সহজ হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

বিনোদন প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
শিউলি ফুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই ফুলের উপমা পেলেন পরীমনি

শরতের স্নিগ্ধতা আর শিউলি ফুলের মিষ্টি সুবাস—দুটিই যেন বাঙালির মনে আলাদা আবেগ তৈরি করে। ঋতুর এই চেনা ফুলের প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে এবার ভক্তদের কাছ থেকেই ফুলের সঙ্গে তুলনা পেলেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ছোট্ট একটি পোস্ট ঘিরেই অনুরাগীদের মধ্যে দেখা গেছে মিষ্টি মন্তব্যের বন্যা।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পরীমনি লিখেছেন, ‘শিউলি ফুলের খোঁজে যাই…’। ছোট্ট এই বাক্যের সঙ্গে ফুল, পরী ও ভালোবাসার ইমোজিও জুড়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী। শরতের প্রিয় ফুলের সন্ধানে বের হওয়ার এমন ইচ্ছা প্রকাশের পরই তাঁর পোস্টটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ তৈরি হয়।

শিউলি ফুলের সঙ্গে পরীমনির তুলনা
পরীমনির পোস্টে শিউলি ফুলের প্রসঙ্গ থাকলেও মন্তব্যের ঘরে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছেন অভিনেত্রী নিজেই। প্রিয় তারকার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই তাঁকে শিউলি ফুলের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁদের মন্তব্যে ফুটে উঠেছে পরীমনির প্রতি অনুরাগ ও মুগ্ধতা।

এক ভক্ত লিখেছেন, ‘সে জানেও না যে সেও একটা শিউলি ফুল।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘কি দরকার? তুমি তো নিজেই শিউলিফুল।’ অন্য এক অনুরাগীর মিষ্টি মন্তব্য, ‘ফুল ফুলকে খুঁজে।’ ভক্তদের এসব মন্তব্যে শিউলি ফুলের সৌন্দর্যের সঙ্গে পরীমনির প্রতি তাঁদের ভালো লাগাও যেন একাকার হয়ে গেছে। ফুলের খোঁজে যাওয়ার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী যে পোস্টটি করেছিলেন, সেটিই অনুরাগীদের কাছে হয়ে উঠেছে তাঁকে প্রশংসা করার উপলক্ষ।

শরতের ফুল ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিষ্টি আবহ
শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শরতের পরিচিত প্রতীক। সাদা পাপড়ি আর কমলা বোঁটার এই ফুলকে ঘিরে ঋতুবদলের সৌন্দর্য ও আবেগের প্রকাশ দেখা যায়। পরীমনির পোস্টেও সেই পরিচিত শরৎ-অনুভূতির ছোঁয়া ছিল। অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত পোস্টের জবাবে ভক্তদের এমন ভালোবাসাপূর্ণ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে মিষ্টি এক আবহ। শিউলি ফুলের প্রতি ভালো লাগা প্রকাশ করতে গিয়ে পরীমনি নিজেই যে ভক্তদের চোখে ফুলের উপমা পেয়ে যাবেন, মন্তব্যগুলোতে যেন তারই প্রতিফলন দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএ/জেএন

 

এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত হতে পারে। এ লক্ষ্যে ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে ফল প্রকাশের চূড়ান্ত তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র  জানিয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয় বলেই ওই দিনটিকে সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চূড়ান্ত তারিখ জানা যেতে পারে রোববার
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, তাঁরা ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। রোববার ( ২৪ অক্টোবর) ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অর্থাৎ, ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশের সম্ভাবনা থাকলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত তারিখ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হবে।

এবার পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজারেরচলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। তবে পরীক্ষা চলাকালে বেশ কিছুসংখ্যক পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অপেক্ষা বাড়ছে। ফল প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি এবং পরবর্তী শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে পারবেন।

ফল প্রকাশের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা
শিক্ষা বোর্ডগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ২৯ অক্টোবর ফল প্রকাশিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হলে ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ/ইএকে

 

ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ভ্রমণ প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
ভিসা ছাড়াই যে দেশগুলোতে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় ভিসা পাওয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। তবে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য এমন বেশ কিছু দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা নিতে হয় না। কোথাও সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশ করা যায়, আবার কোথাও পৌঁছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাই সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৫টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ পান। এ তালিকায় ভিসামুক্ত প্রবেশের পাশাপাশি অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশনের (ইটিএ) সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এশিয়ার যেসব গন্তব্যে যেতে পারবেন
বাংলাদেশের কাছাকাছি কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিমুর-লেস্তে। তবে প্রতিটি দেশের প্রবেশনীতি আলাদা। নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ ও তিমুর-লেস্তেতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইটিএ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করা জরুরি।

আফ্রিকার যেসব দেশে ভ্রমণের সুযোগ
আফ্রিকা অঞ্চলের গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বুরুন্ডি, কোমোরোস, জিবুতি, গাম্বিয়া, গিনি-বিসাউ, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিয়েরা লিওন ও কেনিয়া। এসব দেশের মধ্যে কয়েকটিতে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নেওয়া যায়। আবার কেনিয়ার মতো গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ইলেকট্রনিক অনুমতি নিতে হয়। ফলে আগাম ভিসা না লাগলেও কিছু ক্ষেত্রে অনলাইনে আবেদন ও অনুমোদন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গন্তব্য
ক্যারিবীয় অঞ্চলে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য তালিকাভুক্ত গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিয়ুয়ে, সামোয়া, তুভালু ও ভানুয়াতু। এসব গন্তব্যের প্রবেশনীতি ও অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ একেক রকম হতে পারে।

এক নজরে ৩৫টি গন্তব্য
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ২০২৬ সালের জুলাইয়ের তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকা গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্বাডোস, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কোমোরোস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডোমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নেপাল, নিয়ুয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুভালু এবং ভানুয়াতু। তবে এসব গন্তব্যে প্রবেশের শর্ত, ভিসার ধরন ও অবস্থানের অনুমোদিত সময় একেক রকম হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সর্বশেষ নিয়ম যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

ভ্রমণের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন
ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ থাকলেও সব ক্ষেত্রে বিনা প্রস্তুতিতে যাত্রা করা যায় না। কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, কোনো দেশে ইলেকট্রনিক অনুমতি, আবার কোথাও অনলাইন ট্রাভেলার ডিক্লারেশন জমা দেওয়ার নিয়ম থাকতে পারে।

এ ছাড়া পাসপোর্টের মেয়াদ, ফেরার টিকিট, হোটেল বুকিং, পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কাগজপত্র চাওয়া হতে পারে। তাই টিকিট কাটার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইট বা দূতাবাস থেকে প্রবেশের সর্বশেষ শর্ত জেনে নেওয়া উচিত।

মনে রাখতে হবে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের ৩৫টি গন্তব্যের হিসাব মানেই সব দেশে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশ নয়। তালিকাটি মূলত যাত্রার আগে প্রচলিত ভিসা না নিয়ে যেসব গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তার হিসাব।

কালের আলো/এসএ/জেএন