খুঁজুন
                               
, ,
           

তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
তিন দশকের বৃক্ষপ্রেমে বদলে গেছে নওগাঁর সড়ক

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান। পেশাগত পরিচয়ের বাইরেও তিনি পরিচিত একজন বৃক্ষপ্রেমী মানুষ হিসেবে। পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে ছাত্রজীবনেই গাছ লাগানোর যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, তা এখন ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। নিজের বেতনের একটি অংশ ব্যয় করে গাছের চারা রোপণ ও বিতরণ করছেন তিনি। এ পর্যন্ত দেশের ৩০টি জেলায় প্রায় ৬৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানিয়েছেন এই অধ্যক্ষ।

গাছ লাগানোকে কেবল ব্যক্তিগত শখের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি আরিফুর রহমান। রাস্তার দুই পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর উদ্যোগে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে তালগাছের সারি, ফুলের বাগান ও সবুজে ঘেরা নানা স্থান। এসব উদ্যোগ স্থানীয় পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পথচারী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ছায়া ও উপকার বয়ে আনছে। নওগাঁর বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের সাতপ্রাম থেকে ডাবরকুড়ি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ চোখে পড়ে। প্রায় তিন দশক আগে রোপণ করা এসব গাছ এখন বেড়ে উঠে সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। স্থানীয়দের কাছে এলাকাটি ‘তালপার্ক’ নামেও পরিচিতি পেয়েছে।

সড়কটির দুই পাশে তালগাছ লাগানোর পেছনে রয়েছে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের উদ্যোগ। ছাত্রজীবনে কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে তিনি তালবীজ রোপণ করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সেই বীজ থেকে জন্ম নেওয়া গাছগুলো বড় হয়েছে। এখন সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ যেমন সবুজের সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তেমনি মাঠে কাজ করা কৃষকেরাও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে পারেন। ডাবরকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ লুৎফর রহমান জানান, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্ত করার সময় মাটি ফেলা হয়েছিল। সে সময় আরিফুর রহমান তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে সড়কের দুই পাশে তালবীজ রোপণ করেন। সেই উদ্যোগের ফল এখন সড়কজুড়ে দৃশ্যমান। লুৎফর রহমানের ভাষ্য, তালগাছগুলো এলাকার সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের বিশ্রামের জায়গা হিসেবে কাজে আসছে। ঝড়-বৃষ্টির সময়ও মানুষ এসব গাছের নিচে আশ্রয় নেয়।

অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের পেছনে রয়েছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমানোর চিন্তা। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি থেকে মানুষকে সুরক্ষার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি তালগাছের চারা রোপণ শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে তাঁর এই উদ্যোগে যুক্ত হয় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল ও বনজ গাছ। তবে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা, নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ এবং আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

আরিফুর রহমান শুধু নিজের উদ্যোগে গাছ লাগিয়েই দায়িত্ব শেষ করেন না; শিক্ষার্থী ও ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যেও গাছের চারা বিতরণ করেন। কোথাও ঘুরতে গেলেও সঙ্গে গাছের চারা রাখেন। তাঁর এই অভ্যাসের কারণে অনেকের কাছে তিনি ‘সবুজের ফেরিওয়ালা’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন।

তালগাছের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ নানা প্রজাতির ফুল ও ফলের গাছ রোপণ করেছেন আরিফুর রহমান। এসব গাছের সমারোহে গড়ে ওঠা একটি স্থান ‘কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি’ নামে পরিচিত। এ ছাড়া সান্তাহার রেলস্টেশন, নওগাঁর হাঁসাইগাড়ি বিল, পত্নীতলা উপজেলার নদীর পশ্চিম পাশ এবং সিলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ ও বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানে কৃষ্ণচূড়া চত্বর গড়ে তোলার মাধ্যমেও সবুজ পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

ফুলের গাছের সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ফলজ ও বনজ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাকৃতিক সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিবেচনায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করছেন এই বৃক্ষপ্রেমী। মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করে আসছেন আরিফুর রহমান। তাঁর লক্ষ্য, গাছ লাগানোর কাজকে একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া।

প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে রোপণ করা গাছের পরিচর্যাও করেন তিনি। কারণ, শুধু চারা লাগালেই বনায়নের কাজ শেষ হয় না; গাছের বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। এ কারণে চারা রোপণের পাশাপাশি গাছের যত্ন নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেওয়ার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ স্থানীয় মানুষকে পরিবেশ সংরক্ষণে যুক্ত করতে পারে। আরিফুর রহমানের উদ্যোগে এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটেছে। মাতাজি হাটের বাসিন্দা খালিদ হাসান বাবু বলেন, সড়কের দুই পাশে থাকা তালগাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায়নি; ফল ও ছায়া দিয়েও স্থানীয়দের উপকার করছে। তাল মৌসুমে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও তাল খাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। গাছের বিভিন্ন অংশ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করেন স্থানীয়রা।

তাঁর মতে, তালগাছের পাশাপাশি অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ রোপণ করেছেন। পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই উদ্যোগ মহাদেবপুর ছাড়িয়ে বিভিন্ন মানুষের প্রশংসা পাচ্ছে। গাছের ছায়া, ফল এবং অন্যান্য ব্যবহারিক সুবিধা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে। দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে ওঠা গাছগুলো একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কও দৃঢ় করে। নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়াই তাঁর উদ্দেশ্য। এ পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের ৩০টি জেলায় ৬৫ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন বলে জানান তিনি।

আরিফুর রহমানের স্বপ্ন, দেশের প্রতিটি জেলায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রকৃতিকে সবুজে ভরিয়ে তোলা। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষ গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণেও এগিয়ে আসবে। কারণ, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের নিয়ে শুরু করা বৃক্ষরোপণ আজ তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর পরিবেশ সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। নওগাঁর সড়কের পাশে তালগাছের সারি কিংবা বিভিন্ন স্থানে ফুলের গাছের সমারোহ—সবকিছুর মধ্যেই রয়েছে প্রকৃতিকে ভালোবাসার বার্তা। অধ্যক্ষ আরিফুর রহমানের এই উদ্যোগ অন্যদেরও গাছ লাগাতে এবং সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে পারে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
একটি বীজেই ১ হাজার ৪৩১ কেজির কুমড়া, বিশ্বরেকর্ড কৃষকের

একটি ছোট্ট বীজ থেকে জন্ম নেওয়া কুমড়ার ওজন ১ হাজার ৪৩১ কেজি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক রন ওয়ালেসের হাত ধরে বাস্তবেই ঘটেছে এমন ঘটনা। প্রায় ছয় মাসের যত্ন, উন্নত বীজ আর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করে বিশালাকার কুমড়া ফলিয়েছেন তিনি। সেই কুমড়ার ওজন ছাড়িয়ে গেছে ৩ হাজার পাউন্ডের সীমাও। এর মধ্য দিয়ে সবচেয়ে ভারী কুমড়া ফলানোর বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন এই কৃষক।

২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর কুমড়াটির ওজন মাপা হয় ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড, যা প্রায় ১ হাজার ৪৩১ কেজির সমান। এর আগে কোনো কুমড়ার ওজন ৩ হাজার পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেনি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতিতে তাই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন রন ওয়ালেস।

ছয় মাসের পরিচর্যায় বীজ থেকে দানবাকৃতি কুমড়া
যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের গ্রিন এলাকায় নিজের গ্রিনহাউসে গত ১৫ এপ্রিল কুমড়ার বীজ বুনেছিলেন ওয়ালেস। এরপর শুরু হয় নিয়মিত পরিচর্যা। পানি, তাপমাত্রা ও চাষের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করে তিনি কুমড়াটিকে বড় করে তোলেন। প্রায় ছয় মাস পর সেই ছোট্ট বীজ থেকেই জন্ম নেয় রেকর্ড গড়া কুমড়া।

১০ অক্টোবর ওয়ারেন শহরের ফ্রেরিকস ফার্মে অনুষ্ঠিত সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্স প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন নির্ধারণ করা হয়। বিশালাকার কুমড়া চাষিদের এই প্রতিযোগিতায় ওয়ালেসের সাফল্য উপস্থিত দর্শকদেরও বিস্মিত করে।

এক সপ্তাহেই ভাঙল বিশ্বরেকর্ড
বিশাল কুমড়া চাষে বিশ্বরেকর্ডের লড়াইয়ে এবার সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। ৩ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহ পরই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যান ওয়ালেস।

তার কুমড়াটি আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৩০০ পাউন্ড বেশি ভারী। এত অল্প সময়ের ব্যবধানে দুবার বিশ্বরেকর্ড ভাঙার ঘটনা বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।

দিনে বাড়ছিল ২৭ কেজিরও বেশি ওজন
এত বিশাল কুমড়া ফলানো কেবল ভাগ্যের বিষয় নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্যের বীজ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা। এ বছর গ্রিনহাউসে চাষ করায় পানি ও তাপমাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন ওয়ালেস।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কুমড়াটির বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ পাউন্ড বা ২৭ কেজিরও বেশি ওজন বাড়ছিল। কোনো কোনো সপ্তাহে ওজন বেড়েছিল প্রায় ৫০০ পাউন্ড। অর্থাৎ, প্রতিদিনের সামান্য বৃদ্ধি জমতে জমতে একসময় কুমড়াটি পরিণত হয় বিশাল এক ফসলে।

উন্নত বীজের পাশাপাশি গ্রিনহাউসের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ওয়ালেস। বিশালাকার কুমড়া চাষের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কৃষকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কৌশল পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। ওয়ালেসের সঙ্গে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়ান প্যাটনেরও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। মজার বিষয় হলো, গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষের পরামর্শ প্রথম প্যাটনই তাকে দিয়েছিলেন।

কুমড়া পরিবহনেও ছিল বিশেষ আয়োজন
এত ওজনের কুমড়া চাষ করাই যেমন কঠিন, তেমনি সেটিকে নিরাপদে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ। মাটি থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ হারনেস ও শক্ত দড়ি। পরিবহনের সময় যাতে কুমড়ার গায়ে আঘাত না লাগে, সে জন্য ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণে মুড়িয়ে বিশেষ প্যালেটে রাখা হয়। পরে ফ্ল্যাটবেড ট্রাকে করে সেটি প্রতিযোগিতাস্থলে নেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল প্রায় ২০টি বিশালাকার কুমড়া। নিজের কুমড়াটিকে অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বড় দেখে ওয়ালেসের ধারণা হয়েছিল, এর ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়াতে পারে। তবে ওজন মাপার আগে সঠিক পরিমাণটি তারও জানা ছিল না। যন্ত্রে ওজন ওঠার পর রেকর্ড নিশ্চিত হলে প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগেও একাধিকবার ইতিহাস গড়েছেন ওয়ালেস
বিশালাকার কুমড়া চাষে ওয়ালেসের সাফল্য এবারই প্রথম নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। ২০১২ সালে তার ফলানো ২ হাজার ৯ পাউন্ডের কুমড়াও নতুন ইতিহাস গড়েছিল। এবার ৩ হাজার পাউন্ডের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের সাফল্যকে নিয়ে গেলেন আরও উঁচুতে।

রেকর্ড গড়া কুমড়াটিকে বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে সেটিকে বিশালাকার জ্যাক-ও-ল্যান্টার্নে রূপ দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। প্রদর্শনী শেষে কুমড়াটি কম্পোস্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে এর বীজ সংরক্ষণ করবেন ওয়ালেস। বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনকে সেই বীজ দেওয়া হবে, যাতে নিলামের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা যায়।

আগামী বছর বিরতিতে থাকতে পারেন
একটি কুমড়া কতটা বড় হতে পারে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা আছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন ওয়ালেস। আপাতত আগামী বছর প্রতিযোগিতা থেকে বিরতি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। এ সময় অন্য কৃষকেরা তার রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করবেন। কেউ সফল হলে আবার প্রতিযোগিতায় ফেরার কথা ভাববেন এই কৃষক।

ছোট্ট একটি বীজ থেকে দেড় টনের কাছাকাছি ওজনের কুমড়া—ওয়ালেসের এই অর্জন কৃষিতে ধৈর্য, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তির সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে। এখন দেখার বিষয়, ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ডের এই রেকর্ড কত দিন অক্ষত থাকে, আর ভবিষ্যতে কোনো কৃষক কি না কুমড়ার ওজনকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

দুর্গাপূজার বিশেষ ছাড় শেষ রাত ৮টায় বন্ধ মার্কেট

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজার বিশেষ ছাড় শেষ রাত ৮টায় বন্ধ মার্কেট

দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার বিশেষ অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে আগের নিয়মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে এসব প্রতিষ্ঠান। এতে মার্কেট ও দোকানপাট খোলা রাখার সময় দুই ঘণ্টা কমেছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখার লক্ষ্যে সরকার চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে দোকানপাট ও মার্কেট খোলা রাখার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে। সর্বশেষ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের জন্য রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ২২ অক্টোবর পর্যন্ত শপিং মল, মার্কেট ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি ছিল। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ায় শুক্রবার থেকে আবার আগের সময়সূচি কার্যকর হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর বিদ্যুৎ বিভাগ এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছিল। এতে পূজা উপলক্ষে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২৩ অক্টোবর থেকে আগের নিয়মে ফিরে যাওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছিল।
নতুন করে কোনো সময়সীমা বাড়ানো না হলে এখন থেকে মার্কেট, শপিং মল ও দোকানপাট বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। অর্থাৎ পূজার সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনার যে সুযোগ ছিল, তা আর থাকছে না।

এর ফলে ক্রেতাদের কেনাকাটার সময় আগের তুলনায় দুই ঘণ্টা কমে গেল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করতে অভ্যস্ত ক্রেতাদের নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখার লক্ষ্যে চলতি বছর কয়েক দফায় দোকানপাট ও মার্কেট খোলা রাখার সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখাই এ ধরনের সময়সূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

দুর্গাপূজার সময় ক্রেতাদের কেনাকাটার সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই বিশেষ সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় শুক্রবার থেকে আবার রাত ৮টায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধের নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

ফারুকী-তিশার সংসার নিয়ে গুঞ্জন, নীরব দুজনই

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
ফারুকী-তিশার সংসার নিয়ে গুঞ্জন, নীরব দুজনই

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার দাম্পত্য জীবন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়েছে তাদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হওয়া এবং বিচ্ছেদের গুঞ্জন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি এই তারকা দম্পতির কেউই।

দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনায় বিচ্ছেদের গুঞ্জন
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ফারুকী ও তিশার সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিচ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে গুঞ্জনের পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রোফাইলেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি ফারুকী কিংবা তিশা। গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি তারা। ফলে তাদের নীরবতাকে ঘিরে অনলাইনে নানা প্রশ্ন উঠছে।

মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকার খবর, নিশ্চিত নয় সত্যতা
কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে তিশা ফারুকীর কাছ থেকে আলাদা থাকছেন। তবে এ তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ফারুকী বা তিশার পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গুঞ্জনের মধ্যেও নিজেদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দুজন। সম্প্রতি একটি ওয়েব ফিল্ম প্রযোজনা করেছেন তিশা। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারুকীর একটি পোস্টও আলোচনায় এসেছে। তবে তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চলমান আলোচনা সম্পর্কে কেউই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।

কাজের সূত্রে পরিচয়, বিয়ে ২০১০ সালে
ফারুকী ও তিশার সম্পর্কের শুরু কাজের সূত্রে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, এরপর প্রেম—এভাবেই এগিয়ে যায় তাদের সম্পর্ক। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের পর ২০১০ সালের ১৬ জুলাই বিয়ে করেন তারা। ২০২২ সালে এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় কন্যাসন্তান।

দীর্ঘদিনের এই দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও বিচ্ছেদের গুঞ্জনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য সামনে আসেনি। এ প্রসঙ্গে তিশার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফারুকীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের সম্পর্ক নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আলোচনা এখনো গুঞ্জন পর্যায়েই রয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন