খুঁজুন
                               
, ,
           

ইরানে যুদ্ধ নাকি কূটনীতি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার হাতে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
ইরানে যুদ্ধ নাকি কূটনীতি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার হাতে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে ইরানের সরকারপন্থী মধ্যপন্থী ও উদারপন্থী শিবির। তবে দেশটির কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো কোনো ধরনের সমঝোতার বিরোধিতা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত নয়।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এ নিয়ে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র হয়ে উঠেছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠরা সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছেন, অন্যদিকে কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে। ফলে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় ইরানসহ আরব দেশগুলোর অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

রাজপথে কট্টরপন্থীদের ‘আপস নয়, লড়াই চাই’ স্লোগান
ইরানের বড় শহরগুলোতে প্রায় ২০০ দিন ধরে রাতের বেলায় সমাবেশ করছেন কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থকেরা। শুরুতে এসব সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ এবং সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো হলেও সময়ের সঙ্গে তা সুসংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। এখন এসব সমাবেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগের বিরোধিতা করা হচ্ছে।

কট্টরপন্থীদের স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘আপস নয়, আত্মসমর্পণ নয়—আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই চাই’ এবং ‘শত্রুর সঙ্গে আলোচনা মাতৃভূমির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’।

গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তেহরানে ফেরার সময়ও বিক্ষোভ করেন তাঁদের সমর্থকেরা। ওই অধিবেশনে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। প্রেসিডেন্টের কাছে আলোচনাবিরোধী অবস্থান জানানোর প্রচেষ্টা হিসেবেই ওই বিক্ষোভকে দেখা হয়।

রাজপথের কর্মসূচির বাইরেও ইরানের ক্ষমতাকাঠামোয় কট্টরপন্থীদের প্রভাব রয়েছে। তেহরানের নগর প্রশাসন ও পার্লামেন্টে তাঁদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। ধর্মীয় বক্তা, শোকগাথা পাঠকারী, শিক্ষাঙ্গন ও গণমাধ্যমেও তাঁদের প্রভাব বিস্তৃত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিশংসনের উদ্যোগ
কট্টরপন্থী পায়দারি ফ্রন্টের ঘনিষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য আমির হোসেন সাবেতি বলেছেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা উচিত নয়।

সাবেতির ভাষ্য, ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসেনি। বরং দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে ওয়াশিংটন। তাঁর মতে, যারা আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ ঠেকানো বা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আশা করেছিলেন, তাঁরা আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাস্তবতা বুঝতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব শুধু একটি ভাষাই বোঝে। তা হলো শক্তির ভাষা।’

এ অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ইরানের পার্লামেন্টেও। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অভিশংসনের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন কট্টরপন্থী সদস্যরা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আরাগচির নিউইয়র্ক সফরের পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এ ছাড়া বিদেশি গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার একটি প্রস্তাবও পার্লামেন্টে বিবেচনাধীন রয়েছে। এমন আইন কার্যকর হলে তা কট্টরপন্থীদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে অভিশংসনের উদ্যোগের মধ্যেও সরকারপন্থী রাজনৈতিক শিবির যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।

আলোচনার পথ এখনো খোলা দেখছেন পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠরা
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক দাভুদ হেশমতির মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তাঁর ধারণা, ইরানের সরকার উৎখাতের বড় লক্ষ্য থেকে সরে এসে ওয়াশিংটন তুলনামূলক সীমিত কিছু লক্ষ্য অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে পারে। এতে কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

হেশমতি বলেন, কট্টরপন্থীরা মনে করেন, কয়েক দফা সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র নিজে থেকেই যুদ্ধ থেকে সরে যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাঁদের সেই ধারণাকে সমর্থন করে না।

তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া বা যুদ্ধের অবসান নিয়ে যাঁরা আপত্তি তুলছেন, তাঁদের অবস্থান কার্যত সংঘাত দীর্ঘায়িত করার পক্ষে। অথচ যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করা সম্ভব, সে বিষয়ে তাঁদের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।

হেশমতি আরও বলেন, ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোই হতে পারে সংঘাত অবসানের পথ। সামরিক শক্তির ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সব সময় যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না; কূটনৈতিক আলোচনা ও চুক্তিও বিকল্প হতে পারে।

তবে অতীতের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া অবিশ্বাসের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন।

কট্টরপন্থীরা প্রভাবশালী, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে নয়
রাজনৈতিক বিশ্লেষক নেগার মোর্তাজাভির মতে, ইরানের কট্টরপন্থীরা কোনো প্রান্তিক রাজনৈতিক শক্তি নন। তাঁরা সুসংগঠিত এবং দেশটির ক্ষমতাকাঠামোর গভীরে তাঁদের অবস্থান। সমর্থকদের সংগঠিত করা, রাজনৈতিক বিতর্কের গতিপথ নির্ধারণ এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে তাঁদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেই যুদ্ধ ও শান্তির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পাওয়া যায় না বলে মনে করেন তিনি। ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর পর্যায়ে।

মোর্তাজাভির ভাষ্য, কট্টরপন্থীরা আলোচনার উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে পারেন। আলোচনাপন্থী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অভিশংসনের হুমকি দিতে পারেন এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব সমর্থন দিলে তাঁদের পক্ষে কোনো চুক্তি পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, যুদ্ধের পুরো সময়েই তেহরান কূটনীতির দরজা খোলা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই এসেছে। কট্টরপন্থীরা এখন পর্যন্ত সেই উদ্যোগ পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেননি।

মোর্তাজাভির মতে, অতীতেও পারমাণবিক চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে কট্টরপন্থীদের বিরোধিতা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাঁদের ঊর্ধ্বতন ক্ষমতাকেন্দ্র থেকে।

সংঘাতের অবসানে কোন পথে যাবে তেহরান
ইরানে কট্টরপন্থীদের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার দাবি এবং মধ্যপন্থীদের কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুই ধারার রাজনৈতিক তৎপরতাই অব্যাহত রয়েছে। রাজপথের সমাবেশ ও টেলিভিশন আলোচনায় যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান জোরালো হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিশংসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে বিলম্ব এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার বিষয়টি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কট্টরপন্থীরা আলোচনার পথে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অবস্থানের ওপর। ফলে দেশটির সরকার শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত করবে, নাকি কূটনৈতিক সমঝোতার পথে এগোবে—তা নির্ধারণে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করা। ফলে দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকছে দুই দলের সামনে।

ফাইনালের স্বপ্নই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটি দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য অবস্থান। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকে তাঁরা চাপ হিসেবে নয়, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

শান্তর ভাষ্য, দল প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছে। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক ফল এনে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে চান তাঁরা। অধিনায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চায়। খেলোয়াড়দের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা না চাপিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

চার জয়ে ফাইনালের সম্ভাবনা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে থাকা ছয়টি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীকরণ অনুযায়ী, এই ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফল এবং পয়েন্ট তালিকার হিসাবের ওপরও। অন্যদিকে, বর্তমানে তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা ছয়ের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা। ফলে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য লড়তে হবে ক্যারিবীয়দের।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ক্যারিবীয়রা জিতেছে ১৫টিতে, বাংলাদেশ পাঁচটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এটি দুই দলের ১২তম টেস্ট সিরিজ। আগের সিরিজগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটটি এবং বাংলাদেশ দুটি জিতেছে। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের আগের ১০ টেস্টের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে, অন্যটি ড্র হয়েছে। মিরপুরে দুই দলের আগের চার টেস্টের তিনটিতে জিতেছে ক্যারিবীয়রা, বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে। ২০২১ সালে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ঘরের মাঠে সেই পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

সাম্প্রতিক ফল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাইবে শান্তর দল।

পেস আক্রমণে তাসকিনসহ চারজন
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁদের ভূমিকা এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

তিনি বলেন, পেসাররা প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। কোন পরিস্থিতিতে কে খেলবেন, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা রয়েছে। সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দুটি লক্ষ্য—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং ফাইনালের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। একই সঙ্গে আইনের সীমার মধ্যে থেকে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ
সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেওয়া বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে বিপিএসএ। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমনে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগে অকারণ দ্বিধা তৈরি হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬ হামলা
বিবৃতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিএসএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। সংগঠনটির ভাষ্য, পুলিশের ওপর হামলার এসব ঘটনা সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিপিএসএ মনে করে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকলে পুলিশ সদস্যরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের মধ্যে থেকেই দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব আইনের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল। তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে আইন অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইন প্রয়োগে পেশাদার আচরণ, নিরপেক্ষতা এবং বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ প্রয়োজন।

জননিরাপত্তায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান
বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগে তাঁদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনগত সীমা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা চালানো হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মামুনুল হক জানান, লংমার্চের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে কর্মসূচি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চ যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না। কর্মসূচিতে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলেও সরকারের আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, ইসি সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলে সফরে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি