খুঁজুন
                               
, ,
           

১৮৪ কোটির প্রশ্ন: বাঁচবে কি তুরাগ?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
১৮৪ কোটির প্রশ্ন: বাঁচবে কি তুরাগ?

নদ কালো, পানি দুর্গন্ধময়; শিল্পবর্জ্যে বিপর্যস্ত তুরাগের প্রাণপ্রকৃতি। দূষণ ঠেকাতে এবার প্রায় ১৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার। ১৭৩টি কারখানার বর্জ্য শোধনাগার তদারকি, নদীর পানির মান তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, ড্রোনে নজরদারি এবং অন্তত ১০০টি অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে এতে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত আয়োজনের পরও কি থামবে নদে বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা? নাকি আগের অনেক প্রকল্পের মতো বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও অধরাই থেকে যাবে দৃশ্যমান সুফল?

  • ১৭৩ কারখানার ইটিপি পরীক্ষা, ড্রোনে নজরদারি ও ১০০ অভিযানের পরিকল্পনা
  • তুরাগের দূষণ ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ, বাস্তবায়নেই নির্ধারিত হবে তুরাগের ভবিষ্যৎ

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ‘মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম: তুরাগ নদের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় সমন্বিত দূষণ পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ ব্যবস্থা’ শীর্ষক প্রকল্পটি একনেকের আসন্ন সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের কথা রয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ১৭৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পঋণ থেকে ১৭৩ কোটি ৬০ লাখ এবং সরকারি তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইটিপি আছে, তবু নদে বিষ!
গাজীপুর, টঙ্গী ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে বহু ডাইং ও ওয়াশিং কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। খরচ বাঁচাতে কিছু কারখানা রাতে কিংবা গোপনে শোধনাগার বন্ধ রেখে অপরিশোধিত বর্জ্য নদে ফেলছে বলে অভিযোগ। ফলে তুরাগের পানি কালচে হয়ে পড়ছে, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ; ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ পরিবেশ।

এই বাস্তবতায় নতুন প্রকল্পের লক্ষ্য শুধু দূষণ শনাক্ত করা নয়, দূষণকারীদের চিহ্নিত করে আইন প্রয়োগের আওতায় আনা। নদীর দূষণপ্রবণ এলাকাগুলোর মানচিত্র তৈরি, ১৭৩টি কারখানার ইটিপির কার্যকারিতা যাচাই এবং পানির মান অনলাইনে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। নদপাড়ে বর্জ্য ফেলার ঘটনা শনাক্তে ব্যবহার করা হবে ড্রোন; নৌযানে টহল এবং নদীর তলদেশ পরিষ্কারের উদ্যোগও রয়েছে।

পরিকল্পনায় আরও আছে, অন্তত ১০০টি অভিযান, নিয়মিত পরিদর্শন, নোটিশ প্রদান এবং আইন ভঙ্গকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জরিমানা। প্রকল্পের মেয়াদে অন্তত ৩৬ দফা পানির নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কথাও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তরের ওপর—দূষণ ধরা পড়ার পর দায়ী কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কতটা দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে নেওয়া হবে?

প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন বাপার
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির নতুন প্রকল্পটির সম্ভাব্য সুফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশে এর আগেও পরিবেশ রক্ষায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে; কিন্তু সেসব উদ্যোগের সুফল জনগণ ও প্রকৃতি কতটা পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি শিল্প স্থানান্তরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও পরিবেশদূষণের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। তাঁর অভিযোগ, ট্যানারি এলাকার আশপাশে ধলেশ্বরী নদীর দূষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির মান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

আলমগীর কবিরের প্রশ্ন, তুরাগের ১৭৩টি কারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন প্রকল্প নেওয়া হলেও দূষণকারী মালিকদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে কি না, ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে কি না এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের দৃশ্যমান ফল জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে কি না। তাঁর মতে, শুধু প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ ব্যয় নয়, দূষণের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার।

নজরদারির পর কী হবে?
প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ে। ড্রোনে বর্জ্য ফেলার দৃশ্য ধরা পড়ল, অনলাইন পর্যবেক্ষণে পানির মান খারাপ পাওয়া গেল কিংবা কোনো কারখানার ইটিপি বন্ধ শনাক্ত হলো—এরপর কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সেটিই নির্ধারণ করবে উদ্যোগটির বাস্তব কার্যকারিতা।

কোন কারখানায় কতবার অনিয়ম ধরা পড়েছে, কতটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে, কত টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো গেছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাবের পাশাপাশি নদীর পানির মানে পরিবর্তনের তথ্যও জনসমক্ষে আনতে হবে।

কারণ ইটিপি স্থাপন আর সেটি নিয়মিত চালানো এক বিষয় নয়; অভিযান পরিচালনা আর দূষণ বন্ধ করা আরেক বিষয়। নজরদারি ও শাস্তির মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি না হলে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাও কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।

সাফল্যের হিসাব দেবে তুরাগের পানি
তুরাগ একসময় কৃষি, মাছ ধরা ও গৃহস্থালির কাজে গুরুত্বপূর্ণ মিঠাপানির উৎস ছিল। দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের চাপে নদটির পরিবেশগত ভারসাম্য আজ হুমকির মুখে। এ পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারিত হওয়া উচিত বাস্তব পরিবর্তনের ভিত্তিতে। ১৭৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার এই উদ্যোগে কতটি যন্ত্র বসানো হলো, কতটি অভিযান চালানো হলো কিংবা কত টাকা খরচ হলো—এসবের বাইরেও দেখতে হবে, নদে দূষণ কতটা কমল, পানির গুণগত মান কতটা ফিরল এবং জলজ পরিবেশের উন্নতি হলো কি না।

তুরাগের ভবিষ্যৎ তাই শুধু একটি প্রকল্পের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে না; নির্ভর করছে দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ, সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা এবং ব্যয়ের বিপরীতে পরিমাপযোগ্য ফল নিশ্চিত করার ওপর। শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পের সাফল্যের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হবে একটাই—তুরাগের পানিতে দূষণ কমছে কি না।

কালের আলো/টিইকে/এমকে

আগাম আলুতে ভাগ্য ফেরানোর অপেক্ষায় রংপুরের কৃষক

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
আগাম আলুতে ভাগ্য ফেরানোর অপেক্ষায় রংপুরের কৃষক

আগের দুই মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশায় রংপুর অঞ্চলে আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকেরা। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারদরের অনিশ্চয়তা থাকলেও আগাম আলু বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় নতুন মৌসুমের পরিকল্পনা করছেন তাঁরা। অন্যদিকে বীজ আলুর বিক্রি বাড়াতে ডিলারদের জন্য প্রতি কেজিতে এক টাকা ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহ এবং উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। কৃষকদের প্রত্যাশা, এবার ফলন ভালো হলে এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে আগের মৌসুমের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে বীজের দাম কিছুটা কমলেও সার, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না তাঁদের।

বীজ আলু বিক্রিতে বিএডিসির বিশেষ ছাড়
বিএডিসি রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলায় সংস্থাটির অনুমোদিত ডিলারের সংখ্যা ৮১৩। চলতি মৌসুমে এসব জেলায় মোট ৪ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন বীজ আলু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বীজ আলু বিক্রি শুরু হয়েছে। ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৭৯ জন ডিলার প্রায় ৯৬০ মেট্রিক টন বীজ আলু সংগ্রহ করেছেন। বিক্রি বাড়াতে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ডিলারদের জন্য প্রতি কেজি বীজ আলুতে এক টাকা ছাড় ঘোষণা করেছে বিএডিসি।

বিএডিসি রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মাসুদ সুলতান বলেন, কৃষকদের চাহিদার ভিত্তিতে আগাম বুকিং দিয়ে ডিলাররা বীজ আলু সংগ্রহ করেন। বীজ বিক্রি বাড়াতে ডিলারদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, বীজ সরবরাহ ও বিক্রির কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে কৃষকেরা সময়মতো প্রয়োজনীয় বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে আগাম আলু রোপণের প্রস্তুতিও সহজ হবে।

আগাম আলু চাষে লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশা
আগের মৌসুমের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগাম জাতের আলু চাষের পরিকল্পনা করছেন রংপুর অঞ্চলের অনেক কৃষক। তাঁদের একজন রংপুর সদর উপজেলার কৃষক জুয়েল হোসেন। তিনি স্বল্পমেয়াদি আগাম আমন ধান কাটার পর একই জমিতে আলু রোপণ করবেন। এ জন্য জমি পরিচর্যা, সার প্রয়োগ ও বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। জুয়েল হোসেন জানান, আগের মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার আগাম আলু চাষে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। গতবারের তুলনায় বীজের দাম কিছুটা কমলেও সার, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচের চাপ সামলে লাভ করতে হলে ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া জরুরি।

কৃষকদের হিসাবে, আগাম আলু বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে বাজারে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে গেলে তাঁদের প্রত্যাশিত লাভ নাও হতে পারে। এ কারণে উৎপাদন পরিকল্পনার পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

বীজের দাম কিছুটা কমলেও বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়
চলতি মৌসুমে বীজ আলুর দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আলু উৎপাদনের মোট খরচ বেড়ে যাচ্ছে। সার, কীটনাশক, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়ছেন কৃষকেরা।

রংপুরের কৃষক শাহাদৎ হোসেন এবার সানশাইন ও বারি-৭ জাতের আলু রোপণ করছেন। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় বীজের দাম কমলেও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। গত বছর এক ট্রলি গোবর সার এক হাজার টাকায় কিনেছিলেন, এবার একই পরিমাণ সার কিনতে হচ্ছে এক হাজার ২৫০ টাকায়। এর পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও সার সংগ্রহের ভোগান্তিও রয়েছে। কৃষকদের আশঙ্কা, উৎপাদন খরচ এভাবে বাড়তে থাকলে বাজারে ভালো দাম না পেলে লোকসানের ঝুঁকি আরও বাড়বে। বিশেষ করে চাষের শুরুতেই বেশি অর্থ বিনিয়োগ করতে হওয়ায় মৌসুম শেষে লাভের হিসাব নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকতে হচ্ছে তাঁদের।

শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধিতে চাপে কৃষকেরা
কাউনিয়া উপজেলার বাহাগীলি গ্রামের কৃষক শহিদুর রহমানের ১০ বিঘা জমিতে অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপণের কাজ চলছে। সেখানে কর্মরত শ্রমিক সরদার আলিম উদ্দিন জানান, আগাম আলু রোপণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার জমিতে আলুর বীজ রোপণের মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছর এক বিঘা জমিতে আলুর বীজ রোপণের মজুরি ছিল এক হাজার ৭০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা। এবার তা বেড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে।

আলিম উদ্দিন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি আয় করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জমির পরিমাণ বেশি হলে শ্রমিক নিয়োগে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে বীজের দামে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সামগ্রিক উৎপাদন খরচ কমছে না।

৫৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা
চলতি মৌসুমে রংপুর জেলায় ৫৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এসব জমি থেকে ১৫ লাখ ৯১ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. সাইফুল আলম বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আলু উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগাম আলু চাষের মাধ্যমে কৃষকেরা জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। আগাম আলু চাষের মাধ্যমে একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে জমির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সময়মতো বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ পাওয়া এবং উৎপাদিত আলুর উপযুক্ত বাজার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই কৃষকদের বড় প্রত্যাশা
রংপুর অঞ্চলের অর্থনীতি ও কৃষকের জীবিকায় আলু চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কৃষকদের প্রত্যাশা, আগাম আলুর ভালো ফলন এবং বাজারে উপযুক্ত দাম পাওয়া গেলে আগের দুই মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হবে। বিএডিসির বীজে ছাড় এবং কৃষি বিভাগের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের উদ্যোগও তাঁদের সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু উৎপাদন বাড়লেই কৃষকের আর্থিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত হবে না। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম না পেলে ভালো ফলন সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তাই নতুন মৌসুমে আলু চাষের সাফল্য নির্ভর করবে ফলন, উৎপাদন খরচ এবং বাজারদরের সমন্বয়ের ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বেসামরিক চাকরির নামে রুশ সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
বেসামরিক চাকরির নামে রুশ সেনাবাহিনীতে বাংলাদেশিরা

বেসামরিক চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। যুদ্ধে যেতে অস্বীকৃতি জানালে নির্যাতন, কারাদণ্ড এমনকি মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা বাংলাদেশিরা। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাকরির আশায় রাশিয়ায় যাওয়া কয়েকজন বাংলাদেশিকে সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এপির প্রতিবেদনে রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা তিন বাংলাদেশির সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের একজন লক্ষ্মীপুরের মাকসুদুর রহমান। মাকসুদুরের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু মস্কোতে পৌঁছানোর পর তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গে থাকা একদল বাংলাদেশি শ্রমিককে কিছু নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন, নথিগুলো ছিল সামরিক চুক্তি। এরপর তাঁদের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ড্রোন পরিচালনা, আহত ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া এবং ভারী অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় বলে জানান মাকসুদুর।

তিনি অভিযোগ করেন, শুরুতে সামরিক কাজে যোগ দিতে রাজি হননি। তখন এক রুশ কমান্ডার অনুবাদ অ্যাপ ব্যবহার করে তাঁদের বলেন, ‘তোমাদের এজেন্টই এখানে পাঠিয়েছে। আমরা তোমাদের কিনেছি।’ মাকসুদুর রহমানের অভিযোগ, সামরিক দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এবং তাঁর দলের অন্য কর্মীদের মারধর ও ১০ বছরের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, রুশ সেনারা তাঁদের কাজ করতে চাপ দিতেন। কাজ করতে না চাইলে গালাগাল ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। প্রায় সাত মাস পর তিনি পালিয়ে দেশে ফিরতে সক্ষম হন। এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুশ সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা অন্য দুই বাংলাদেশিও তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যুদ্ধসংক্রান্ত দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার অভিযোগ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের রুশ বাহিনীর সম্মুখসারিতে এগিয়ে যেতে বলা হতো বলে অভিযোগ করেছেন সাক্ষাৎকারদাতারা। এ ছাড়া রসদ পরিবহন, আহত সেনাদের সরিয়ে নেওয়া এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও তাঁদের করতে হতো বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাঁদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল বলে বর্ণনা দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে, নিখোঁজ আরও তিন বাংলাদেশির পরিবারের সদস্যরাও একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কতজন বাংলাদেশিকে এভাবে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাক্ষাৎকার দেওয়া তিন বাংলাদেশি এপিকে জানিয়েছেন, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সঙ্গে তাঁরা শত শত বাংলাদেশিকে দেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারত ও নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদেরও একইভাবে যুদ্ধে যুক্ত করা হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাঁদের কতজনকে প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নিশ্চিত কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

এপি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য যাচাইয়ের জন্য তারা ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, রুশ সামরিক চুক্তি, চিকিৎসা ও পুলিশ প্রতিবেদন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি সংগ্রহ করেছে। এসব উপাদানের ভিত্তিতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কীভাবে সামরিক কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদ সংস্থাটি।

তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে এপি। চাকরির আশায় বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের সামরিক কাজে যুক্ত করার এমন অভিযোগ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা ও বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে নিয়োগদাতা, কাজের ধরন, চুক্তিপত্র এবং ভিসার বৈধতা যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে এসেছে।

সূত্র; অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সরবরাহ করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
মিরপুর টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দুই দলের এই লড়াই। ঘরের মাঠে সিরিজের প্রথম টেস্টে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। দলে জায়গা পেয়েছেন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তাঁদের জায়গা করে দিতে একাদশের বাইরে রাখা হয়েছে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম ও পেসার এবাদত হোসেনকে।

একাদশে হৃদয় ও শরিফুল
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে সমন্বয় রেখে দল সাজিয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাটিং বিভাগে নতুন সংযোজন হয়েছে। অন্যদিকে, শরিফুল ইসলামের অন্তর্ভুক্তি পেস আক্রমণে বিকল্প যোগ করেছে।দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ভালো শুরু করতে চাইবে স্বাগতিকরা। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখাই হবে বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশের একাদশ
বাংলাদেশের হয়ে খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, শাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসান, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে খেলছেন জন ক্যাম্পবেল, ব্রেন্ডন কিং, ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু (উইকেটরক্ষক), জাস্টিন গ্রিভস, রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), সামার জোসেফ, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস ও জোমেল ওয়ারিকান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি