খুঁজুন
                               
, ,
           

দেড় বছরের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন, সেনাপ্রধানের ‘আশা জাগানিয়া’ বক্তব্যে ‘আশান্বিত’ দেশ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
দেড় বছরের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন, সেনাপ্রধানের ‘আশা জাগানিয়া’ বক্তব্যে ‘আশান্বিত’ দেশ

সামাজিক মানসে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘রাজনীতি’। বিশেষ করে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসীনের পর রাজনীতির অপরিহার্যতা তুলে ধরে একবার এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যথার্থই বলেছিলেন-‘রাজনীতি ছিল, রাজনীতি থাকবে’। মাস দেড়েক আগে বিরাজনীতিকরণের আশঙ্কাকে ফুৎকারে উড়িয়ে খুলনায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নতুন আশার মালা গেঁথে তিনি সুস্পষ্ট উচ্চারণে জানিয়ে দিয়েছিলেন-‘মিছিল হবে, মিটিং হবে। রাজনীতি থাকবে। সেখানে মানুষ কথা বলবে। তবে তা যেন ধ্বংসাত্মক না হয়। রাজনীতিবিদরা যেন জনগণের জন্য কাজ করেন।’

  • ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন

  • বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না

  • একসাথে কাজ করলে ব্যর্থ হওয়ার কোনও কারণ নেই

  • রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য চান

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার রেজিমের অবসানের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুন:প্রবর্তনের সময়টিতেও ‘ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুন’ তত্ত্ব নিয়ে কেউ কেউ আরও এক ধাপ এগিয়ে এরপরেও সামনে নিয়ে আসেন অগণতান্ত্রিক শক্তির বিকাশের বিষয়টিও। কিন্তু সেনাবাহিনীর কোন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা নেই- নিজের সৎ, সাহসী, পেশাদার নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমের নির্যাসে বারবার সেনাপ্রধান এটি বুঝানোর চেষ্টা করলেও স্বার্থচিন্তার সহজাত প্রবণতায় গা ভাসানো দ্বিমতকারীরা ভান করেছেন না বুঝার! যেহেতু রাজনীতি চর্চার একটি আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ হলো নির্বাচন, তাই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য রোডম্যাপ নিয়েও কারও কারও মাথাব্যথা, মূল ভাবনা আর অযুত-নিযুত প্রশ্ন।

কিন্তু সঙ্কটে বিচক্ষণ, অত্যন্ত শান্ত ও ধীরস্থির সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আকুণ্ঠ দেশপ্রেমের বলিষ্ঠতায় সাফ সাফ জানিয়ে দিলেন, দেশের পরবর্তী সংসদ নির্বাচন হবে আগামী দেড় বছরের মধ্যে। অনেকটাই সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আর্ন্তাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করবে না। আগামী দেড় বছরের মধ্যে দেশে গণতন্ত্রের উত্তরণ হতে হবে।’ গত মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে বার্তাসংস্থাটি। প্রতিবেদনটিতে সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী রাজনৈতিকভাবে কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। আমি এমন কিছু করব না যা আমার সংস্থার (সেনাবাহিনী) জন্য ক্ষতিকর হয়। আমি একজন পেশাদার সৈনিক। আমি আমার সেনাবাহিনীকে পেশাদার রাখতে চাই।’ গত সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিজের কার্যালয়ে রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন সেনাপ্রধান।

গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটিতে সেনাপ্রধানের ওঠে আসা বক্তব্যে ভেঙে গেছে প্রচলিত ধারণা। কারও কারও বহুল চর্চিত বয়ান-বিবৃতিও এখন পর্বতে মূষিক প্রসবের মতোই রূপ নিয়েছে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রস্ফুটিত হয়েছে সম্ভাবনার নতুন কলি। নির্বাচনের পথে অফুরান সম্ভাবনার নব দিগন্তে যাত্রার পূর্বে দেশের সঙ্কটে হাল ধরে, গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে তিনি পেয়েছেন প্রকৃত বীরের মর্যাদা। ছাত্র-জনতার শত শত প্রাণক্ষয়ের মর্মান্তিক অধ্যায়কে দীর্ঘায়িত না করে আরও রক্তবন্যার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে প্রমাণ করেছেন নিজের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও যোগ্যতার। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাতকারে সাবলীলভাবে কোনোরকম আবেগকে প্রশ্রয় না দিয়ে বাস্তবতার নিরিখে মানবিক রাষ্ট্র গড়ার মিশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি তিনি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। দেশের মানুষের ভরসা ও বিশ্বাসের মূর্ত প্রতীক সামরিক বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্তি দেওয়ার একটি রূপরেখাও দিয়েছেন।

এই চার তারকা জেনারেল বলেছেন, ‘আমি তাঁর (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) পাশে থাকব। যাই হোক না কেন। যাতে তিনি তাঁর মিশন সম্পন্ন করতে পারেন।’ তাঁর সাহসী এবং বুদ্ধিদীপ্ত এমন উচ্চারণ এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। প্রকারান্তরে এর মাধ্যমে তিনি এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের মঙ্গলই তার কাছে সবকিছু। সেনাপ্রধান স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত যে- আমরা যদি একসাথে কাজ করি তবে আমাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনও কারণ নেই।’

রয়টার্সকে সেনাপ্রধান আরও বলেছেন, ‘সংস্কারের পর গণতন্ত্রে উত্তরণ এক বছর থেকে দেড় বছরের মধ্যে করা উচিত।’ তবে এই সময়ে ধৈর্যের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে আমি বলব- এই সময়সীমার মধ্যেই আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করা উচিত।’

দেশ, জনগণ ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সেনাপ্রধানের সুদৃঢ় অবস্থানে আরও ব্যাপকভাবে আত্মবিশ্বাসী দেশের বিশিষ্টজন থেকে শুরু করে সচেতন সাধারণ মানুষ। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলার নজির স্থাপন করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও আশা জাগানিয়া এমন উজ্জীবনী শব্দায়ন সচিবালয় থেকে শুরু করে অফিস পাড়া, গণমাধ্যম, কর্মক্ষেত্র, পরিবার থেকে সমাজ সর্বত্রই আলোচিত হচ্ছে; কুড়িয়েছে প্রশংসাও।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় গড়ে উঠা গৌরবময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকেই রাজধানীর মতিঝিল, ধানমন্ডি, মিরপুর, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়টার্সের সঙ্গে আলাপচারিতায় সেনাপ্রধানের এমন পথনির্দেশক সুস্পষ্ট জবাব নিয়ে নাগরিকদের ইতিবাচক আড্ডা-আলোচনা হয়েছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে তাঁর পাশে থাকার পূর্ণ মানসিকতা দেশের সাধারণ মানুষকেও করেছে আশান্বিত।

প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল হাসিনার আওয়ামী লীগ এবং তার সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল উভয়ই গত আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছিল। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস এবং তিনি (সেনাপ্রধান) প্রতি সপ্তাহে বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। অশান্তির পর দেশকে স্থিতিশীল করার জন্য সরকারের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।’

রয়টার্সের ভাষ্য হচ্ছে- শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রস্তাবিত ব্যাপক সরকারি সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও তার সদস্যদের ইতোপূর্বে করা অন্যায়ের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে এবং ইতোমধ্যে কিছু সৈন্যকে শাস্তিও দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘যদি (সেনাবাহিনীর) কোনও কর্মরত সদস্য দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহলে অবশ্যই আমি ব্যবস্থা নেব। কিছু সামরিক কর্মকর্তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী (হাসিনা) বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলোতে কাজ করার সময় অন্যায় কাজ করতে পারেন।’ জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দূরে রাখতে চান। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি সৈন্য রয়েছে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম প্রধান সেনা প্রেরণকারী হচ্ছে বাংলাদেশ। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘এটি (সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা) কেবল তখনই ঘটতে পারে যখন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার কিছুটা ভারসাম্য থাকে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনীকে সরাসরি রাষ্ট্রপতির অধীনে রাখা যেতে পারে।’

বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। আর এই মন্ত্রণালয় সাধারণত প্রধানমন্ত্রী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। জেনারেল ওয়াকার বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ায় এই বিষয়টিতে সম্ভাব্যভাবে সংশোধনের দিকে নজর দিতে পারে।’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে সামরিক বাহিনীকে কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। একজন সৈনিকের রাজনীতিতে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়।’

কালের আলো/এমএএএমকে

শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

একটি শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরকে তার বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে শিশু দ্রুত শেখে, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং তার বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ফলে শিশুর জীবনে ঘরই হয়ে ওঠে প্রথম পাঠশালা, আর মা-বাবাই হয়ে ওঠেন তার প্রথম শিক্ষক।

শৈশবের এই সময়টিতে শিশুর মানসিকতা, আচরণ, মূল্যবোধ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে শুরু করে। পরিবারের পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ এবং শিশুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ—সবকিছুই তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবারের পরিবেশেই মূল্যবোধের শুরু

বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারেই মা-বাবা দুজনকেই কাজের প্রয়োজনে দিনের বড় একটি সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ফলে অনেক শিশু প্লে-স্কুল, ডে-কেয়ার কিংবা অন্য স্বজনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে।

তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ও মনোবিশ্লেষকদের মতে, শিশুর বিকাশে শুধু কতক্ষণ সময় দেওয়া হচ্ছে তা নয়, সেই সময়ের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার মনোযোগ, কথা বলা, শিশুর কথা শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও ইতিবাচক যোগাযোগের মাধ্যমে শিশু ধীরে ধীরে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি অনুচিত—তা বুঝতে শেখে। এর মাধ্যমে তার আচরণগত নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠতে পারে।

মায়ের আচরণ থেকেই শেখে শিশু

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক, শিশুর প্রাথমিক নৈতিক শিক্ষা তৈরিতে মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের পরিবেশেই শিশু ভালোবাসা, যত্ন, সহানুভূতি, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মতো বিষয়গুলো প্রথম শেখে।

শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকে সরাসরি বলা কথাই শেখে না; তাঁদের দৈনন্দিন আচরণও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। মা-বাবা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, অন্যদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেন, সমস্যা হলে কীভাবে তা সামাল দেন—এসব দেখেও শিশু নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবোধ তৈরি করতে থাকে।

সময় কম হলেও সচেতন উপস্থিতি জরুরি

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক মা-বাবার পক্ষেই সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো সম্ভব হয় না। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে সন্তানের জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে শিশুর সঙ্গে অল্প সময় কাটালেও তা যদি মনোযোগী ও আন্তরিক হয়, তার ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, তার দিনের অভিজ্ঞতা শোনা, খেলায় অংশ নেওয়া কিংবা কোনো সমস্যায় পাশে থাকা—এসব ছোট ছোট বিষয় শিশুর চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে কিছু শিশু ছোট বয়স থেকেই একা থাকার বা নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস তৈরি করে। এর ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দক্ষতাও তৈরি হতে পারে।

তাহলে সমাজে অপরাধ বা বৈষম্য কেন?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—মা যদি শিশুর প্রথম শিক্ষক হন এবং পরিবার যদি তার প্রথম শিক্ষার জায়গা হয়, তাহলে বড় হয়ে মানুষ অপরাধ, সহিংসতা বা বৈষম্যমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ে কেন?

এর উত্তর শুধু পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবার ছাড়াও বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি এবং বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর প্রভাব থাকে।

শৈশবে পরিবার ইতিবাচক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি নতুন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসে এবং নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এসব বাহ্যিক প্রভাব তার চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষাও জরুরি

একটি শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবারের শিক্ষা ও পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল শিশুকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়; আর পরিবার তার আচরণ, মূল্যবোধ, সম্পর্কবোধ ও সামাজিকতার প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে শিশুর জীবনের প্রথম বছরগুলোতে মা-বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, যত্ন, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে পরিবার শিশুর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনে শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তাই শিশুর লালন-পালনকে শুধু খাবার, পোশাক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানো এবং ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

৫ অক্টোবর ২০২৬, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, তাঁদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।

জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ১০০ শিক্ষককে

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

কোন স্তরে কতজন শিক্ষক

এবার প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষকরা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটি শিক্ষকদের একটি প্যানেল তৈরি করে। পরে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সেই প্যানেল থেকে ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইউনেসকোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন—ভ্রমণের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এত দিন গুগল সার্চ, ট্রাভেল ব্লগ কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ভ্রমণ পরিকল্পনার নতুন সহকারী।

ভ্রমণকারীর পছন্দ, বাজেট ও প্রয়োজন বুঝে গন্তব্য নির্বাচন থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করে দিতে পারছে এআই। ফলে একজন ভ্রমণকারীকে আলাদা করে অসংখ্য ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে না। বরং এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই তৈরি করা সম্ভব হতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা।

এআইয়ের মাধ্যমে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যও পর্যটনে প্রযুক্তি ও এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে—‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বুকিং ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন ফোগল বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে এআই বিপুল পরিমাণ তথ্যকে মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে।

তাঁর মতে, ভবিষ্যতে একজন ভ্রমণকারী এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই পুরো ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। শুধু বিমান ও হোটেল বুকিং নয়, রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করা কিংবা গলফ খেলার সময় নির্ধারণের মতো কাজও একই ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে।

পুরোনো ট্রাভেল এজেন্টের আধুনিক বিকল্প

এ ব্যবস্থাকে পুরোনো দিনের ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন গ্লেন ফোগল। তবে তাঁর মতে, বড় পার্থক্য হলো তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতায়।

একজন ট্রাভেল এজেন্ট সাধারণত সীমিত কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করতেন। বিপরীতে এআই একই সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ভ্রমণকারীর পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প সাজিয়ে দিতে পারে।

এমনকি ভ্রমণের কোনো একটি অংশে পরিবর্তন এলে পুরো পরিকল্পনাটিও নতুন করে সাজিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে সময়, বাজেট কিংবা গন্তব্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করাও সহজ হবে।

তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্নও

তবে পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এআই কোন গন্তব্যগুলোকে ভ্রমণকারীদের সামনে বেশি তুলে ধরবে—এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অর্থের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য, হোটেল বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এআইয়ের পরামর্শে বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুবিধা পেতে পারে। এতে পর্যটকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা প্রভাবিত হবে, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের পর্যটনে শুধু তথ্য পাওয়ার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সেই তথ্য কে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কোন তথ্য ভ্রমণকারীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে

পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। গ্লেন ফোগলের মতে, এআই গ্রাহকসেবা দ্রুত ও সহজ করতে পারলেও এর ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা কিছু চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি ও কল সেন্টারের মতো কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতা তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ

পর্যটনে এআইয়ের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণকারীরা যখন গন্তব্য খুঁজতে এআইনির্ভর ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবেন, তখন বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য এসব এআই ব্যবস্থায় থাকা জরুরি হয়ে উঠবে।

কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য, ছবি, যোগাযোগব্যবস্থা, থাকার জায়গা ও পর্যটন সুবিধার তথ্য সহজলভ্য করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের গন্তব্যগুলো আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

তাই এআই শুধু ভ্রমণকারীর পরিকল্পনাকে সহজ করছে না, একই সঙ্গে কোন দেশ বা গন্তব্য বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে কতটা দৃশ্যমান হবে, সেই প্রতিযোগিতাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ