খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে রদবদলে দক্ষ নেতৃত্ব গুণাবলীতে নির্ভরযোগ্যরাই নেতৃত্বে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৪, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে রদবদলে দক্ষ নেতৃত্ব গুণাবলীতে নির্ভরযোগ্যরাই নেতৃত্বে

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের দিগন্তরেখায় ঊষার উন্মেষে আলোকিত করেছেন নিজেদের। দক্ষতা, নীতি, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আনুগত্য আর সততার সঙ্গে আধুনিক-অগ্রসর চিন্তার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। ইস্পাতকঠিন মনোবলের সঙ্গে পরিণত ভাবনার মননশীলতার মূল্যবোধকে করেছেন উচ্চকিত। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়ার দুর্বার প্রতীতিতে আশাবাদের স্বর্ণালোকে তাঁরা প্রত্যেকে সূত্রপাত করেছেন চ্যালেঞ্জিং নতুন অধ্যায়ের। হৃদয়ের বিভায় নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে নিজেদের মিশিয়েছেন কর্মের চাঞ্চল্যে; সাহসিক প্রেরণাশক্তিতে ও গভীর দেশপ্রেমের নির্যাসে। স্বভাবতই শান্তিতে নোবেল জয়ী প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পূর্ণ আস্থা রেখেছেন তাদের ওপর।

  • নতুন দুই লেফটেন্যান্ট জেনারেল, ডিজিএফআই পেয়েছে নতুন ডিজি
  • প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের পূর্ণ আস্থায় তাদের চ্যালেঞ্জিং নতুন অধ্যায়ের যাত্রা
  • দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে আধুনিক-অগ্রসর চিন্তার মেলবন্ধন

দক্ষ নেতৃত্ব গুণাবলীতে নির্ভরযোগ্য হিসেবেই সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদমর্যাদার দুই কমর্কতা মো. ফয়জুর রহমান ও মো. মাইনুর রহমানকে পদোন্নতি দিয়ে করা হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল। তাদের যথাক্রমে সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেলের (কিউএমজি) ও আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি করা হয়েছে। শূন্য হওয়া প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। সামরিক জীবনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদানে সফলতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হয়েই তাঁরা পেয়েছেন গুরুদায়িত্ব। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে ড.মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্বভার গ্রহণের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে এটি তৃতীয় দফা বড় রদবদল। সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিভিন্ন সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করে।

নতুন দুই লেফটেন্যান্ট জেনারেল, ডিজিএফআই পেল নতুন ডিজি
নতুন তিন তারকা জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক ও মো. মাইনুর রহমান ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১২ আগস্ট মেজর জেনারেল মো. ফয়জুর রহমানকে ডিজিএফআই মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনি ২৩তম বিএমএ লং কোর্সের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। মিরপুরে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) ২৮তম কমান্ড্যান্ট হিসেবে এবং তার আগে ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও রংপুরের এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক সময় ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা নিরাপত্তা ইউনিটের কমান্ড্যান্ট। ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি থাকাকালীন তিনি নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপে ‘জয়েন্ট ম্যানুভার এক্সারসাইজ-২০২২’ নামে মহড়ার আয়োজন ও পরিচালনা করেন।

আর্টডকের জিওসি পিরোজপুরের সন্তান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান ২৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে কমিশন প্রাপ্ত হন। সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য কোর্সের সেরা চৌকস ক্যাডেট বিবেচিত হয়ে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত সোর্ড অব অনার লাভ করেন। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্বের আগে ২০২২ সালের জুলাই থেকে ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

ডিজিএফআইয়ের নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, যিনি কুমিল্লায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি হবেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান এর উত্তরসূরি। ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে ডিজিএফআই এর ১৪ তলা ভবনে তিনি বসবেন। মেধাবী সেনা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম ২৬তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে কমিশন লাভ করেন। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কুমিল্লা এরিয়ায় পুলিশের মনোবল ফেরাতে এবং বন্যা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে দক্ষ নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে সাধারণত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। এবার এই পদটিতে বেছে নেওয়া হয়েছে মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমকে।

অবারিত আনন্দের ফল্গুধারার আবাহনে অযুত সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায়ের প্রারম্ভে অনলাইন-অফলাইনের বিশাল ক্যানভাসে নিজ জেলার বাসিন্দাদের প্রীতি ও শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন এসব চৌকস সেনা কর্মকর্তারা। অভিজ্ঞতা ও অর্জনের স্বর্ণালী সংযোগসূত্রে দেশের মানুষের ভালোবাসা আর আত্মপ্রত্যয়ের মিলিত শক্তিতে তাঁরা নিজেদের উজ্জ্বল নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় নিজ নিজ নতুন দায়িত্বেও সততা, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সর্বোচ্চ প্রমাণ রাখতে সক্ষম হবেন। দেশের গণ্ডি ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবেন বলেই মনে করছেন কাছের থেকে দূরের সবাই।

আগের দু’দফা রদবদলের সারসংক্ষেপ
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৬ আগস্ট সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে প্রথম দফা রদবদলে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ের ৫ কর্মকর্তার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়; চাকরি হারান টেলিযোগাযোগ নজরদারির জাতীয় সংস্থা ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান। সেনাবাহিনী থেকে তাকে সেদিন অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান। একই দিনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীমকে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফের (সিজিএস) দায়িত্বে আনা হয়। তৎকালীন সিজিএস লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কমান্ড্যান্ট করে পাঠানো হয় ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি)।

আর এনডিসির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলমের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। সেনা সদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমানকে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জিওসি করা হয়। আর্টডকের ওই সময়কার জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরীকে করা হয় কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি)। পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমানকে বরখাস্ত, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল হামিদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। এরপর থেকে দু’টি লেফটেন্যান্ট জেনারেলের পদ শূন্য ছিল। এই দু’পদে মেজর জেনারেল পদ থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে স্থলাভিষিক্ত হন মো. ফয়জুর রহমান ও মো. মাইনুর রহমান।

এর আগে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের বিদায়ী প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম এর স্থলাভিষিক্ত হন লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। বৃহস্পতিবার (২২ আগষ্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর উপস্থিতিতে তাকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান লেফটেন্যান্ট জেনারেল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ