খুঁজুন
                               
, ,
           

অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
অস্তিত্ব সংকটে জাতীয় পার্টি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বারবার ভাঙনের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জাতীয় পার্টি। এবারও দলটির অবস্থা আরও বেহাল। সম্প্রতি দলটিতে বিরোধ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। এই বিরোধের মধ্যেই প্রথমে মুজিবুল হক চুন্নুকে বাদ দিয়ে নিজের আস্থাভাজন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে জাতীয় পার্টির মহাসচিব পদে নিয়োগ দিয়েছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। সোমবার (৭ জুলাই) বিকেলে এই তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী। এরপর তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেন জি এম কাদের। এই অব্যাহতির রেশ কাটতে না কাটতেই একই দিনে অব্যাহতি দেওয়া হয় সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে। সন্ধ্যায় দলের দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় পার্টির বিগত ২৫ জুনের জেলা-মহানগরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক-আহ্বায়ক, সদস্য সচিবদের মতবিনিময় সভায় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয় এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। গত ২৮ জুন তারিখে দলের প্রেসিডিয়াম সভায়ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই তিন নেতাকে দলীয় সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এমতাবস্থায় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এবং কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নুকে প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেন জিএম কাদের। এই আদেশ ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

জানা যায়, এর আগে ২০২২ সালে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব থেকে বহিষ্কার করে মুজিবুল হক চুন্নুকে মহাসচিব করা করেছিলেন জিএম কাদের। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যান একক ক্ষমতাবলে তা করতে পারেন। সাবেক সংসদ সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা ছিলেন। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা আহমেদ মৃত্যুবরণ করলে শূন্য আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পুনরায় এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।

  • আনিস-হাওলাদার ও চুন্নুকে অব্যাহতি
  • নিজের আস্থাভাজন পাটোয়ারীকে মহাসচিব পদে বেছে নিলেন কাদের

সূত্র জানায়, গত ২৮ জুন দলের জাতীয় সম্মেলন ঘোষণা দিয়েছিলেন জিএম কাদের। এর মধ্যেই জাপায় নতুন নেতৃত্ব গড়ার উদ্যোগ নেন কেন্দ্রীয় নেতাদের বেশির ভাগ সদস্য। বিশেষ করে কাউন্সিলে চেয়ারম্যান হিসেবে কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার মহাসচিব পদপ্রত্যাশী বলে জানালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে জিএম কাদেরের কপালে। বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুও। এমন পরিস্থিতিতে ভ্যেনু জটিলতার কথা বলে ২৮ জুনের সম্মেলন স্থগিত করেন জিএম কাদের। এদিকে, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলয় ২৮ জুন কাউন্সিলর করার ব্যাপারে অনড় থাকলেও শেষ মুহূর্তে তারা পিছু হটে। তারা চেয়ারম্যানকে দ্রুত সময়ে কাউন্সিল করার আলটিমেটাম দেন। না হলে তারা পাল্টা কাউন্সিল ডেকে নতুন কমিটি করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

স্বৈরাচার খেতাব পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের হাতেগড়া দল জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়ে। এর মধ্যে নব্বইয়ের গণআন্দোলনে এরশাদের পতনের পর প্রথমবারের মতো ভাঙন ধরে জাতীয় পার্টিতে। দ্বিতীয় দফার ভাঙন হয় ১৯৯৭ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে। কাজী জাফর ও শাহ মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে ১৯৯৮ সালে, ২০০১ সালে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে চতুর্থ দফা এবং ২০১৩ সালের ২০ ডিসেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে জাপায় পঞ্চমবারের মতো ভাঙন ধরে। ২০১৯ সালে এরশাদ মারা যাওয়ার পর সবশেষ ২০২৪ সালের ২০ এপ্রিল তার স্ত্রী রওশন এরশাদের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি অংশ ভাগ হয়ে যায়। এবারও জিএম কাদের সম্মেলন ডাকতে গড়িমসি করলে সপ্তমবারের মতো দল ভাঙনের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএএইচএন

মহাসড়কে এআইয়ের অটো-ফাইন, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬ জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
মহাসড়কে এআইয়ের অটো-ফাইন, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬ জরিমানা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো-ফাইন সিস্টেম’। চালুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৪৬টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মুনতাসিরুল ইসলাম বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটো-ফাইন সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই সিস্টেমটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও উল্টো পথে চলাচলের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপর ক্যামেরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য পাঠানো হচ্ছে।

নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানতে চালকদের আরও সতর্ক করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে নির্বাচন চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে নির্বাচন চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকলেও ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। তাঁর এই দাবিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য রুশ আগ্রাসন শুরুর পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, ‘রাশিয়ার হাতে আমাদের গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখা যায় না।’ তাঁর মতে, ইউক্রেন যে স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়, যুদ্ধের অন্যতম কারণ সেটিই।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। দেশটির আইনে সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদও ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। তবে সামরিক আইন বহাল থাকায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

ফেদোরভ তাঁর ভিডিওতে সরাসরি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইউক্রেনকে ‘শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকটের’ মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, দেশটি পরিবর্তনকে ভয় পাচ্ছে।

তিনি যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি ‘আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা’ তৈরির আহ্বান জানান, যাতে ইউক্রেন পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে পারে।

তবে ফেদোরভ নিজের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানাননি।

গত মাসে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ফেদোরভকে। তাঁর অপসারণের পেছনে সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

ফেদোরভকে সরকারের অন্য পদে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সামরিক উদ্ভাবনবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রীর পদও ছিল। তবে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন।

ফেদোরভকে সরানোর পর তাঁর সমর্থনে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যে সিরস্কিকেও তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার আগে ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন ফেদোরভ। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকে তিনি ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ গড়ে তোলেন।

পরবর্তীতে ‘আর্মি অব ড্রোনস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য তহবিল সংগ্রহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ড্রোন, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

এমনকি রাশিয়ার ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগের পর স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন ফেদোরভ।

ফেদোরভের নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি সংসদ নির্বাচনও সামরিক আইন চলাকালে আয়োজন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

রুশ হামলার ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুত লাখো ভোটার এবং বিদেশে থাকা ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নানা বিষয় নির্বাচন আয়োজনকে জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে যুদ্ধকে নির্বাচনের পথে বাধা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। জেলেনস্কি তখন জানিয়েছিলেন, মিত্ররা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত।

এদিকে ফেদোরভের নির্বাচনের দাবির মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবারের রুশ হামলায় ইউক্রেনে ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ফলে যুদ্ধের মধ্যেই ফেদোরভের নির্বাচন দাবির বিষয়টি এখন ইউক্রেনের গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবার আপিল বিভাগে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবার আপিল বিভাগে আবেদন

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর এবার আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করার কথা জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে আদেশ দেন।

গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দের দাবি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যাহত করে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হয়ে যায়।

এদিকে পূর্বনির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় ভোটার সংখ্যা একজন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪৯-এ।

ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটগ্রহণের শুরুর অংশ সরাসরি সম্প্রচার করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়।

পরবর্তীতে ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ