জুলাই ঘোষণা ও সনদের আইনি কাঠামোর দাবিতে অনড় জামায়াতের পাশে অন্যান্য রাজনৈতিক দল
কালের আলো রিপোর্ট:
জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইনি কাঠামো তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাঁরা জুলাই সনদকে গভীরভাবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারকেই সনদ বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে তাঁরা। এই দাবিতে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও সংস্কারের দাবিতেও অনড় জামায়াত। রোববার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘জুলাই ঘোষণা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে জামায়াত নেতারা এসব দাবি করেছেন। তাদের এই সেমিনারটিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সদর্প উপস্থিতি ও এই দাবিতে অভিন্ন কণ্ঠ সেমিনারে যোগ করে বাড়তি মাত্রা।
যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ-উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে ডা. তাহের
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘বিপ্লবের চেতনায় আস্থা রেখে যাদেরকে জনগণ নেতৃত্বে বসিয়েছিল, তারাই আজ জাতিকে হতাশ করছে।’ তিনি বলেন, ‘যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ। যাদের আস্থা ও ভরসায় আমরা নেতৃত্বে বসিয়েছিলাম, তারাই আজ আমাদের নিয়ে তামাশা করছে।’ ড. তাহের বলেন, ‘জাতি এখন ক্লান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। ৫৪ বছরের নেতৃত্বে দেশ যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল, তা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর ফলেই শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতি নতুন সূচনার আশা করলেও তার পরিবর্তে এখনো হতাশায় ডুবে আছে।’
যারা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিরোধী, যারা রাতের ইলেকশনের পক্ষে, তারাই নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা পিআর আর সংস্কার চাই, তারা আবার ঐক্যবদ্ধভাবে এই দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করবো। যারা সংস্কারের বিপক্ষে, তারা নির্বাচনের বিপক্ষে। যারা সংস্কারের বিপক্ষে, তারা যেনতেন নির্বাচনের পক্ষে। আপনারা ভাবছেন হাসিনার মতো রাতে ভোট করবেন। এটা হবে না। জনগণ এটা হতে দেবে না। জনগণ এখনো মরে নাই।’ প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার এর পরে নির্বাচন। আমরা আপনার কথায় আছি। সংস্কার এর জন্য আপনি ঐকমত্য কমিশন ঠিক করে দিয়েছেন,আমরা বসেছি বারবার, ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এখন এটা বাস্তবায়ন করা আপনার দায়িত্ব। কিন্তু আপনি বাস্তবায়ন না করে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করে দিয়েছেন। এটা ভালো! তারিখের ব্যাপারে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি না। আমরা বলি এই সময়টাকে এগিয়ে ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এ করেন। জামায়াতে ইসলামী চায় এই সময়ে নির্বাচন করুক। ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোনো অসুবিধা নেই। এপ্রিলে দিলেও কোনো অসুবিধা ছিল না। আমরা সবসময় নির্বাচনের জন্ত প্রস্তত।
- যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ-উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে ডা. তাহের
- জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হলে মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে, হুঁশিয়ারি জামায়াত সেক্রেটারির
- একটি দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন মনে করছে না, অভিযোগ আযাদের
- জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি : শিশির মনির
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আপনি বলেছেন সংস্কারের পর নির্বাচন, তাহলে এখন সংস্কার নিয়ে টালবাহানা কেন? আমরা কি ৩০ দিন চড়ুইভাতি খেলতে গেয়েছিলাম, এটা কি খেলা ছিল? আপনি যদি খেলা মনে করে আমাদের এঙ্গেইজ করেন, তাহলে আপনি ঠিক করেন নাই। যে ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে, তা আপনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে নির্বাচনের পূর্বেই। পিআর নিয়ে গণভোটের দাবি নিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার নিয়ে গণভোট করেন। পিআর পদ্ধতি ও নির্বাচনের তারিখ নিয়েও গণভোট করেন। জনগন সব ঠিক করবে, জনগণ যা বলবে, আমরা তা মেনে নেবো। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের বন্ধুরা যখন বলে আমরা ক্ষমতায় গিয়ে এটা-ওটা করব। আমি বলতে চাই, আপনারা যে ক্ষমতা পাবেন এই গ্যারান্টি পেলেন কোথায়, এই গ্যারান্টি তো হাসিনা পেয়েছিল, হাসিনা ভাবতো সে ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় যাবে। এখানে কিন্ত ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায়। যেনতেনভাবে ভোট কেটে আরেকটি নির্বাচন হওয়ার গন্ধ পাওয়া যায়।

নির্বাচন নিয়ে সামেন ও ব্র্যাকের গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, সামেন নামে একটি সংগঠনের সার্ভেতে দেখা গেছে তারা ৪২ শতাংশ আর আমরা ৩২ শতাংশ। সর্বশেষ ২ সাপ্তাহ আগে ব্র্যাকের একটি সার্ভে হয়েছিল, সেখানে তারা ১২ শতাংশ আর আমরা সাড়ে ১০ শতাংশ। আগে প্রার্থক্য ছিল ১০ শতাংশ, এখন পার্থক্য দেড় পার্সেন্ট। ব্যবধান তো কমছে। আরও ৫ মাস আছে সামনে। আরও অনেক চাঁদাবাজি ও দখল আছে, মানুষ মেরে ফেলার সম্ভাবনা আছে, তখন পার্সেন্টেজ আরও কমবে ইনশাআল্লাহ। জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, আমরা যারা পিআর আর সংস্কার চাই, তারা আবার ঐক্যবদ্ধভাবে এই দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করবো। আমরা চাই না এত রক্তপাতের পর আবার কিছু করতে। আমরা শান্তি ও সমোঝতা চাই। বিএনপিসহ সব দলের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, আমি বিএনপিসহ সব দলকে অনুরোধ করে বলতে চাই, আমরা ইন্টার পার্টি ডায়ালগ, বৈঠক করি। সবাই মিলে রাউন্ডটেবিল করি। সত্যিকারে কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ার সমোঝোতায় আসি, এবং উৎসবমুখর একটি নির্বাচন জনগণকে দেওয়ার চেষ্টা করি।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হলে মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে, হুঁশিয়ারি জামায়াত সেক্রেটারির
সব সংস্কার প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি দিয়ে এই সরকারের অধীনে যদি আগামী নির্বাচন না হয় তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে এক মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসকে আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, যদি আপনাদের আরো কোনো পাল্টা যুক্তি থাকে, সর্বদলীয়ভাবে দেশের সেরা বরেণ্য আইনঙ্গদের নিয়ে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকের আয়োজন করুন। সেখানে যুক্তি পেশ হোক, সেটা সারা দুনিয়াতে লাইভ টেলিকাস্ট হোক দেশ ও বিদেশ দেখুক। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে যদি বিদ্যমান কাঠামোতেই আগামী নির্বাচন হয়, তাহলে আরেকটা হাসিনার জন্ম হবে, আরেকটা ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে।

‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান ও আমাদের করণীয় শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন পরবর্তী আলোচনায় গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই ঘোষণা পাঠ করেছেন, সেটা আগামী নির্বাচনের পর, দুই বছর পর সংবিধানে নাকি তফসিলভুক্ত করা হবে। আমি মনে করি, আজকের এই সেমিনার ড. ইউনুস এর জুলাই ঘোষণায় ওই কথার তীব্র প্রতিবাদ। জনগণ তার কথা মানে নাই। প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এর আগে বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়ে বলেছিলেন, যদি আপনারা জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে না পারেন, অক্ষম হন, তাহলে আমাদেরকে দায়িত্ব দেন এই আইনের ভিত্তি ড্রাফট আমরা সরবরাহ করবো। সেই কথাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি দলের বড় বড় নেতারা এখনো বলছেন, পার্লামেন্ট ছাড়া কি করে আইন তৈরি করা হবে? আজব ব্যাপার। আজকের সেমিনারের তথ্য প্রমাণও তাদের সেসব জনগণের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে দেওয়া তাদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ। আপনারা মানুষের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, আইন, বিধান সংবিধান প্লকেশন, অর্ডিনেন্স, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছেন।
একটি বড় দলের স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্যের দেওয়া বক্তব্য টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই নেতা বলছেন, সংস্কার কমিশনে যত আইন আপনারা করেন না কেন, আমরা সংসদে গিয়ে মুছে দেব। তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আপনারা শুধু এটা মনে করবেন না যে দেশের আইনকানুন সংবিধান সবকিছু শুধু আপনাদের আলমারিতেই আছে। আইন সংবিধান সম্পর্কে আমাদের কাছেও অভিজ্ঞ মানুষ আছে, রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে বলেছিলেন, কারা পক্ষে আছে কারা কারা না তা জাতি জানবে, আপনি ওয়েব সাইটে প্রকাশ করে দেবেন। এ জন্য সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। মানুষ জানুক। কারা জনআকাক্সক্ষার পক্ষে আর কারা বিপক্ষে। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অধিকাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, পিআর পদ্ধতি ছাড়া কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। কিন্তু আপনাদের কি হয়েছে আমরা জানি না। গ্রামে বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখান। সেই বড় দলের নেতারা বলছেন, যে মানুষরা ইভিএম বোঝে না তারা পিআরও বোঝে না। ইভিএম কি আর পিআর কি? ইভিএম হচ্ছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের নাম আর পিআর হচ্ছে ইলেক্টোরাল সিস্টেমের নাম।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পিআর হলে কালো টাকা, মনোনয়ন বাণিজ্য, পেশিশক্তি এগুলো যারা করতে পারবে না তারাই পিআর পদ্ধতিকে বাধা দিচ্ছে। পিআর পদ্ধতিতে একটা কোয়ালিটি রিচ পার্লামেন্ট হবে প্রত্যেকটি ভোটের মূল্যায়ন হবে। পিআর পদ্ধতি এখন অধিকাংশ জনগণ মত দিয়েছেন। অনেকগুলো জরিপ বলছে, ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। লোয়ার ও আপার হাউজে তারা পিআর চাচ্ছেন। তিনি দেশের সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও ইসলামিক শক্তিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন জামায়াত আমির। কম্প্রোমাইজ ও সেক্রিফাইসের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে জনগণের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পিআর পদ্ধতিকে নির্বাচনের আয়োজন করি। জাতীয় ঐক্যমতের জন্য জামায়াত অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রস্তাবনা ছিল। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের দলের নায়েবে আমির ড. তাহের। সব দলের ঐক্যের স্বার্থে আমরা অনেক সেক্রিফাইস করেছি। অনেক ছাড় দিয়ে হলেও আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছি। তাহলে জুলাই বিপ্লবের জনআকাক্সক্ষাকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে বড় বড় দলেরও তো দায়িত্ব আছে, তাদের তো সেক্রিফাইস কম্প্রোমাইজ করতে হবে।
একটি দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন মনে করছে না
একটি দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন মনে করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ ঘোষণা যথেষ্ট নয়। এটাকে আইনি ভিত্তি ও কাঠামোতে রূপ দিতে হবে। এটার আইনি ভিত্তি না দিলে উপদেষ্টা ও আপনার (প্রধান উপদেষ্ট) সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। জুলাই সনদ যদি আইনে ভিত্তি না পায়, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ লাভ করবে। জাতীয় সেমিনারে এই জামায়াত নেতা বলেন, সরকারকে তার করণীয় ঠিক করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সংশোধন করতে হবে, অপূর্ণতা পূর্ণ করতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিলে জনগণের আকাক্সক্ষা পূর্ণ হবে। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি দল খুব জোর করে বলে, আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল সেভেনে জনগণ রাষ্ট্রের যে মালিকানা দিয়েছে, সেটার কথা বলে তারা পাশ কাটাতে চায়। তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিকে প্রয়োজন মনে করছে না। তারা বলে, জনগণের অভিপ্রায় সব আইনের ঊর্ধ্বে। সেটাই যদি হয়, আমি বলবো আপনারা জনগণের অভিপ্রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই যে সংস্কারগুলো হয়েছে সেগুলো শুধু আপনাদের বাসায় জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট রেখে দিলে জাতির ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে?
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর যে রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তখন আমাদের সমর্থনে ৯১ তে যারা সরকারে এসেছিলেন, ওনারা সেই রূপরেখা বানচাল করে দিয়েছেন। বাস্তবায়ন করেননি। এখনো একই ষড়যন্ত্র আপনারা করছেন। জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট করবেন, আইনিভিত্তি দেবেন না, এটা হবে না। তাই জনগণকে বোকা বানাবেন না, জনগণ আপনাদের গোপন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেবে না। তিনি বলেন, সত্তরের নির্বাচনের যদি আইনি ভিত্তি রচনা হতে পারে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন যদি অস্থায়ী সরকার আইনি ভিত্তি পায়, ৭২ সংবিধান যদি সত্তরের নির্বাচনের নির্বাচনী সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে পাস হয়, অনুরূপভাবে জিয়াউর রহমান যে সামরিক শাসক থেকে প্রেসিডেন্ট হলেন, যে গণভোটের মাধ্যমে আপনারা সেই বৈধতা দিয়েছিলেন; সেসব তো আইনি ভিত্তি পেয়েছে। তাহলে আপনারা কি আপনার দলের এই ইতিহাস কে অস্বীকার করবেন? ‘তাই সংস্কারকে বৈধতা দিতে হবে। ঐকমত্যের বিষয়গুলো আইন হিসেবে ঘোষিত ও স্বীকৃতি দিতে হবে। তার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী আইনের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ সেই নির্বাচন মেনে নেবে না’- যোগ করেন এই জামায়াত নেতা।
জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি : শিশির মনির
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ এর বর্ণিত বিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ের এই সরকারের বৈধতা স্বীকৃত উৎস এবং আইনি ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীন সুপ্রিম কোর্ট যে মতামত দিয়েছেন এর কোনো কার্যকারিতা নেই। বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি। রাষ্ট্রপতির ঘোষণাপত্র বা গণভোট জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার স্বীকৃত ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর ৮ আগস্ট একটি সরকার গঠিত হয়। ৫, ৬, ৭ ও ৮ এর সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো কার্যকর সরকার ব্যবস্থা ছিল না। ৮ আগস্ট যখন প্রথম সরকার গঠিত হয় তখন সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি রেফারেন্স চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট একটি রেফারেন্স বা মতামত দেন যে, ইমারজেন্সি বেসিসে ডকট্রিন অব নেসেসিটির ভিত্তিতে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন করা। আমি মনে করি এটাই হলো বর্তমান সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় ভুল হয়েছে। এটা হলো সাংবিধানিকভাবে সবচাইতে বড় মিসটেক। এই মিসটেক করা উচিত হয়নি। এই সরকার হওয়া উচিত ছিল জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গঠিত সরকার।

জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজধানী ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান ও আমাদের করণীয় শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। গত ১৬ বছরের শাসনামলে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান অকার্যকর করে তোলে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, নির্বাচন কমিশনকে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। একইসঙ্গে ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করায়। এভাবেই বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে। ফ্যাসিবাদী ও বৈষম্যমূলক শাসনের প্রতিবাদে দেশের ছাত্র জনতা সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই সার্বজনীন আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান হয়। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। সহস্রাধিক মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করে। বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, যেখানে দেশের প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টই কাজ করেনি, যেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ নেই, পার্লামেন্ট নেই, সেখানে এই ছোট্ট সংবিধান কি করে কাজ করবে? কার মাধ্যমে কাজ করবে এই প্রশ্নের উত্তর পরবর্তীতে আছে।
শিশির মনের বলেন, একটা কথায় সবাইকে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে যে, এই সরকারের মূল ভিত্তি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ নয়, এই সরকারের মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার চরম বহিঃপ্রকাশ। এর বাইরে যে যাই ইন্টারপিটেশন দেবেন, যে যাই বলুক না কেন, তা এই ভারতীয় সাবকন্টিনেন্টে সাংবিধানিক জুরিসপ্রুডেন্স দ্বারা তাদের সেই কথা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, জনগণের চরম অভিপ্রায় গঠিত সরকার প্রোক্লেমেশন বা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের পঠিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দ্য প্রোক্লেমেশন অব ইনডিপেনডেন্স ১৯৭১, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিল যা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান। গুরুত্বের বিবেচনায় জুলাই সনদ এতেই মর্যাদার অধিকারী। ইতিহাসের যে কয়টি প্রোক্লেমেশন সবচেয়ে আলোচিত তার মধ্যে ১৮৬৩ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ঘোষিত ইমানসিপেশন প্রোক্লেমেশন ছিল অন্যতম। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক দলিল। যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কনফেডারেশন রাষ্ট্রগুলোকে দাস প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। যা নাগরিক অধিকার মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়াও জুলাই সনদের বাস্তবায়নে আরেকটি কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে গণভোট। জুলাই সনদের কোনো বিধানের সঙ্গে বিদ্যমান সংবিধানের কোনো অংশ সাংঘর্ষিক হলে জুলাই সনদ প্রাধান্য পাবে, বলেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, দুটি কনসেপ্ট। একটি হচ্ছে জুলাই প্রোক্লেমেশন, আরেকটি হচ্ছে রেফারেন্ডাম বা গণভোট। প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমেও এই বিদ্যমান সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। রেফারেন্ডাম বা গণভোটের মাধ্যমেও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। এর উদাহরণ আমাদের দেশে আছে। তিনি গণভোটের কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে মুজিবকে যখন হত্যা করা হয় তখন খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ এসে মার্শাল ল’ জারি করেন। তিনি এসে বলেন, আই মিস্টার খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ইজ হেয়ার বাই ডিক্লেয়ারড মার্শাল ল প্রোক্লেমেশন। দ্য কনস্টিটিউশন উইল বি সাবর্ডিনেট টু দ্য কনস্টিটিউশন। এরপর তিনি ২০ আগস্ট সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ১৫ আগস্ট থেকে তার বৈধতা দেন। এরপর ৮ নভেম্বর ১৯৭৫ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। ওইদিন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সি এম এল এ অথবা চিফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর ৬ মাস পরে ১৯৭৭ সালের ৩১ মে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ৮৮ শতাংশ ভোট পেয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জনগণের আস্থা অর্জন করেন এবং রেফারেন্ডামের মাধ্যমে তা অ্যাপ্রুভ করা হয়। একইসঙ্গে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে মার্শাল ল অর্ডার নাম্বার-১ ১৯৭৭ জারি করে বাংলাদেশের সংবিধানে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। আজকের সংবিধানে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করা হয়। আজকে যে গণতন্ত্র, সোশ্যালিজম মিনি ইকোনমির ও সোশ্যাল জাস্টিসের কথা বলা হচ্ছে তা সবকিছু করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩১ মের সামরিক ফরমান বলে।
এই আইনজীবী বলেন, আগের শাসকরা সামরিক আইন জারির মাধ্যমে সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বিধানাবলি স্থগিত করেছেন। প্রয়োজনীয়তার নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করেছেন। কিন্তু ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এটি ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও গোত্র নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের অংশগ্রহণে স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান। পরে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের গঠন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে জনগণের পরম অভিব্যক্তির প্রতিফলনরূপে। সুতরাং এ সংক্রান্ত সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীন সুপ্রিম কোর্ট যে মতামত দিয়েছেন এর কোনো কার্যকারিতা নেই। বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি। রাষ্ট্রপতির ঘোষণাপত্র বা গণভোট জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের স্বীকৃত ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি, যোগ করেন- শিশির মনির।
জামায়াতের সেমিনারে অভিন্ন মত অন্যান্য দলের
এই সেমিনারটিতে অন্যান্য দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও অভিন্ন কণ্ঠে ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ শিশির মনির। এ সময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড.আহমদ আবদুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আশরাফ আলী আকন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশির, গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক সংসদ সদস্য), বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোঃ সেলিম উদ্দিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম জিয়াউল হাসান, জাতীয় সংস্কার জোটের আহ্বায়ক মেজর (অব.) আমিন আহমদ আফসারী, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. কোরবান আলী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি আইয়ুব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টির সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় সংস্কার জোট লায়ন মোঃ আবদুল কাদের হেলালী, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. জেহাদ খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জনাব শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ও ড. খলিলুর রহমান মাদানী ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম। অন্যান্য দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডিপির চেয়ারম্যান এড. আনোয়ারুল হক চান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাসেম হাসেমী, এনডিপির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জনজোটের চেয়ারম্যান মুজাম্মেল মিয়াজী প্রমুখ।
কালের আলো/এসআইপি/এমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array