খুঁজুন
                               
, ,
           

জুলাই ঘোষণা ও সনদের আইনি কাঠামোর দাবিতে অনড় জামায়াতের পাশে অন্যান্য রাজনৈতিক দল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
জুলাই ঘোষণা ও সনদের আইনি কাঠামোর দাবিতে অনড় জামায়াতের পাশে অন্যান্য রাজনৈতিক দল

কালের আলো রিপোর্ট:

জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে আইনি কাঠামো তৈরি করার ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাঁরা জুলাই সনদকে গভীরভাবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারকেই সনদ বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে তাঁরা। এই দাবিতে নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন ও সংস্কারের দাবিতেও অনড় জামায়াত। রোববার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে ‘জুলাই ঘোষণা এবং জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে জামায়াত নেতারা এসব দাবি করেছেন। তাদের এই সেমিনারটিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সদর্প উপস্থিতি ও এই দাবিতে অভিন্ন কণ্ঠ সেমিনারে যোগ করে বাড়তি মাত্রা।

যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ-উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে ডা. তাহের
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘বিপ্লবের চেতনায় আস্থা রেখে যাদেরকে জনগণ নেতৃত্বে বসিয়েছিল, তারাই আজ জাতিকে হতাশ করছে।’ তিনি বলেন, ‘যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ। যাদের আস্থা ও ভরসায় আমরা নেতৃত্বে বসিয়েছিলাম, তারাই আজ আমাদের নিয়ে তামাশা করছে।’ ড. তাহের বলেন, ‘জাতি এখন ক্লান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। ৫৪ বছরের নেতৃত্বে দেশ যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছিল, তা জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। এর ফলেই শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘জাতি নতুন সূচনার আশা করলেও তার পরিবর্তে এখনো হতাশায় ডুবে আছে।’

যারা নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিরোধী, যারা রাতের ইলেকশনের পক্ষে, তারাই নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা পিআর আর সংস্কার চাই, তারা আবার ঐক্যবদ্ধভাবে এই দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করবো। যারা সংস্কারের বিপক্ষে, তারা নির্বাচনের বিপক্ষে। যারা সংস্কারের বিপক্ষে, তারা যেনতেন নির্বাচনের পক্ষে। আপনারা ভাবছেন হাসিনার মতো রাতে ভোট করবেন। এটা হবে না। জনগণ এটা হতে দেবে না। জনগণ এখনো মরে নাই।’ প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার এর পরে নির্বাচন। আমরা আপনার কথায় আছি। সংস্কার এর জন্য আপনি ঐকমত্য কমিশন ঠিক করে দিয়েছেন,আমরা বসেছি বারবার, ঐকমত্যে পৌঁছেছি। এখন এটা বাস্তবায়ন করা আপনার দায়িত্ব। কিন্তু আপনি বাস্তবায়ন না করে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করে দিয়েছেন। এটা ভালো! তারিখের ব্যাপারে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি না। আমরা বলি এই সময়টাকে এগিয়ে ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ এ করেন। জামায়াতে ইসলামী চায় এই সময়ে নির্বাচন করুক। ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের কোনো অসুবিধা নেই। এপ্রিলে দিলেও কোনো অসুবিধা ছিল না। আমরা সবসময় নির্বাচনের জন্ত প্রস্তত।

  • যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ-উপদেষ্টাদের প্রসঙ্গে ডা. তাহের
  • জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হলে মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে, হুঁশিয়ারি জামায়াত সেক্রেটারির
  • একটি দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন মনে করছে না, অভিযোগ আযাদের
  • জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি : শিশির মনির

এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আপনি বলেছেন সংস্কারের পর নির্বাচন, তাহলে এখন সংস্কার নিয়ে টালবাহানা কেন? আমরা কি ৩০ দিন চড়ুইভাতি খেলতে গেয়েছিলাম, এটা কি খেলা ছিল? আপনি যদি খেলা মনে করে আমাদের এঙ্গেইজ করেন, তাহলে আপনি ঠিক করেন নাই। যে ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে, তা আপনাকে বাস্তবায়ন করতে হবে নির্বাচনের পূর্বেই। পিআর নিয়ে গণভোটের দাবি নিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার নিয়ে গণভোট করেন। পিআর পদ্ধতি ও নির্বাচনের তারিখ নিয়েও গণভোট করেন। জনগন সব ঠিক করবে, জনগণ যা বলবে, আমরা তা মেনে নেবো। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের বন্ধুরা যখন বলে আমরা ক্ষমতায় গিয়ে এটা-ওটা করব। আমি বলতে চাই, আপনারা যে ক্ষমতা পাবেন এই গ্যারান্টি পেলেন কোথায়, এই গ্যারান্টি তো হাসিনা পেয়েছিল, হাসিনা ভাবতো সে ভোট ছাড়াই ক্ষমতায় যাবে। এখানে কিন্ত ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায়। যেনতেনভাবে ভোট কেটে আরেকটি নির্বাচন হওয়ার গন্ধ পাওয়া যায়।

নির্বাচন নিয়ে সামেন ও ব্র্যাকের গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, সামেন নামে একটি সংগঠনের সার্ভেতে দেখা গেছে তারা ৪২ শতাংশ আর আমরা ৩২ শতাংশ। সর্বশেষ ২ সাপ্তাহ আগে ব্র্যাকের একটি সার্ভে হয়েছিল, সেখানে তারা ১২ শতাংশ আর আমরা সাড়ে ১০ শতাংশ। আগে প্রার্থক্য ছিল ১০ শতাংশ, এখন পার্থক্য দেড় পার্সেন্ট। ব্যবধান তো কমছে। আরও ৫ মাস আছে সামনে। আরও অনেক চাঁদাবাজি ও দখল আছে, মানুষ মেরে ফেলার সম্ভাবনা আছে, তখন পার্সেন্টেজ আরও কমবে ইনশাআল্লাহ। জামায়াতের এই নায়েবে আমির বলেন, আমরা যারা পিআর আর সংস্কার চাই, তারা আবার ঐক্যবদ্ধভাবে এই দাবি পূরণে সরকারকে বাধ্য করবো। আমরা চাই না এত রক্তপাতের পর আবার কিছু করতে। আমরা শান্তি ও সমোঝতা চাই। বিএনপিসহ সব দলের প্রতি অনুরোধ করে তিনি বলেন, আমি বিএনপিসহ সব দলকে অনুরোধ করে বলতে চাই, আমরা ইন্টার পার্টি ডায়ালগ, বৈঠক করি। সবাই মিলে রাউন্ডটেবিল করি। সত্যিকারে কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ার সমোঝোতায় আসি, এবং উৎসবমুখর একটি নির্বাচন জনগণকে দেওয়ার চেষ্টা করি।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচন হলে মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে, হুঁশিয়ারি জামায়াত সেক্রেটারির
সব সংস্কার প্রস্তাবের আইনি ভিত্তি দিয়ে এই সরকারের অধীনে যদি আগামী নির্বাচন না হয় তাহলে বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশে এক মহাদুর্যোগ অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসকে আহ্বান জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, যদি আপনাদের আরো কোনো পাল্টা যুক্তি থাকে, সর্বদলীয়ভাবে দেশের সেরা বরেণ্য আইনঙ্গদের নিয়ে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠকের আয়োজন করুন। সেখানে যুক্তি পেশ হোক, সেটা সারা দুনিয়াতে লাইভ টেলিকাস্ট হোক দেশ ও বিদেশ দেখুক। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি না দিয়ে যদি বিদ্যমান কাঠামোতেই আগামী নির্বাচন হয়, তাহলে আরেকটা হাসিনার জন্ম হবে, আরেকটা ফ্যাসিবাদের জন্ম হবে।

‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান ও আমাদের করণীয় শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন পরবর্তী আলোচনায় গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যে জুলাই ঘোষণা পাঠ করেছেন, সেটা আগামী নির্বাচনের পর, দুই বছর পর সংবিধানে নাকি তফসিলভুক্ত করা হবে। আমি মনে করি, আজকের এই সেমিনার ড. ইউনুস এর জুলাই ঘোষণায় ওই কথার তীব্র প্রতিবাদ। জনগণ তার কথা মানে নাই। প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এর আগে বিশিষ্ট আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়ে বলেছিলেন, যদি আপনারা জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে না পারেন, অক্ষম হন, তাহলে আমাদেরকে দায়িত্ব দেন এই আইনের ভিত্তি ড্রাফট আমরা সরবরাহ করবো। সেই কথাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একটি দলের বড় বড় নেতারা এখনো বলছেন, পার্লামেন্ট ছাড়া কি করে আইন তৈরি করা হবে? আজব ব্যাপার। আজকের সেমিনারের তথ্য প্রমাণও তাদের সেসব জনগণের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে দেওয়া তাদের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ। আপনারা মানুষের আকাক্সক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, আইন, বিধান সংবিধান প্লকেশন, অর্ডিনেন্স, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছেন।

একটি বড় দলের স্থায়ী কমিটির আরেকজন সদস্যের দেওয়া বক্তব্য টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই নেতা বলছেন, সংস্কার কমিশনে যত আইন আপনারা করেন না কেন, আমরা সংসদে গিয়ে মুছে দেব। তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আপনারা শুধু এটা মনে করবেন না যে দেশের আইনকানুন সংবিধান সবকিছু শুধু আপনাদের আলমারিতেই আছে। আইন সংবিধান সম্পর্কে আমাদের কাছেও অভিজ্ঞ মানুষ আছে, রেকর্ড আমাদের কাছে আছে। ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকে বলেছিলেন, কারা পক্ষে আছে কারা কারা না তা জাতি জানবে, আপনি ওয়েব সাইটে প্রকাশ করে দেবেন। এ জন্য সর্বদলীয় গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। মানুষ জানুক। কারা জনআকাক্সক্ষার পক্ষে আর কারা বিপক্ষে। তিনি বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অধিকাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, পিআর পদ্ধতি ছাড়া কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। কিন্তু আপনাদের কি হয়েছে আমরা জানি না। গ্রামে বলে বাঙালিকে হাইকোর্ট দেখান। সেই বড় দলের নেতারা বলছেন, যে মানুষরা ইভিএম বোঝে না তারা পিআরও বোঝে না। ইভিএম কি আর পিআর কি? ইভিএম হচ্ছে, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের নাম আর পিআর হচ্ছে ইলেক্টোরাল সিস্টেমের নাম।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পিআর হলে কালো টাকা, মনোনয়ন বাণিজ্য, পেশিশক্তি এগুলো যারা করতে পারবে না তারাই পিআর পদ্ধতিকে বাধা দিচ্ছে। পিআর পদ্ধতিতে একটা কোয়ালিটি রিচ পার্লামেন্ট হবে প্রত্যেকটি ভোটের মূল্যায়ন হবে। পিআর পদ্ধতি এখন অধিকাংশ জনগণ মত দিয়েছেন। অনেকগুলো জরিপ বলছে, ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ বলেছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হতে হবে। লোয়ার ও আপার হাউজে তারা পিআর চাচ্ছেন। তিনি দেশের সব দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল ও ইসলামিক শক্তিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি মানবিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন জামায়াত আমির। কম্প্রোমাইজ ও সেক্রিফাইসের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে জনগণের আশা আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পিআর পদ্ধতিকে নির্বাচনের আয়োজন করি। জাতীয় ঐক্যমতের জন্য জামায়াত অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে দাবি করে তিনি বলেন, আমাদের অনেক প্রস্তাবনা ছিল। জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনে দায়িত্ব পালন করছেন আমাদের দলের নায়েবে আমির ড. তাহের। সব দলের ঐক্যের স্বার্থে আমরা অনেক সেক্রিফাইস করেছি। অনেক ছাড় দিয়ে হলেও আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকার চেষ্টা করছি। তাহলে জুলাই বিপ্লবের জনআকাক্সক্ষাকে বাস্তবে রুপ দিতে হলে বড় বড় দলেরও তো দায়িত্ব আছে, তাদের তো সেক্রিফাইস কম্প্রোমাইজ করতে হবে।

একটি দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন মনে করছে না
একটি দল জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন মনে করছে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, জুলাই সনদ ঘোষণা যথেষ্ট নয়। এটাকে আইনি ভিত্তি ও কাঠামোতে রূপ দিতে হবে। এটার আইনি ভিত্তি না দিলে উপদেষ্টা ও আপনার (প্রধান উপদেষ্ট) সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। জুলাই সনদ যদি আইনে ভিত্তি না পায়, বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ লাভ করবে। জাতীয় সেমিনারে এই জামায়াত নেতা বলেন, সরকারকে তার করণীয় ঠিক করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র সংশোধন করতে হবে, অপূর্ণতা পূর্ণ করতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিলে জনগণের আকাক্সক্ষা পূর্ণ হবে। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, একটি দল খুব জোর করে বলে, আমাদের সংবিধানের আর্টিকেল সেভেনে জনগণ রাষ্ট্রের যে মালিকানা দিয়েছে, সেটার কথা বলে তারা পাশ কাটাতে চায়। তারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিকে প্রয়োজন মনে করছে না। তারা বলে, জনগণের অভিপ্রায় সব আইনের ঊর্ধ্বে। সেটাই যদি হয়, আমি বলবো আপনারা জনগণের অভিপ্রায়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই যে সংস্কারগুলো হয়েছে সেগুলো শুধু আপনাদের বাসায় জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট রেখে দিলে জাতির ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে?

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের পর যে রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তখন আমাদের সমর্থনে ৯১ তে যারা সরকারে এসেছিলেন, ওনারা সেই রূপরেখা বানচাল করে দিয়েছেন। বাস্তবায়ন করেননি। এখনো একই ষড়যন্ত্র আপনারা করছেন। জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট করবেন, আইনিভিত্তি দেবেন না, এটা হবে না। তাই জনগণকে বোকা বানাবেন না, জনগণ আপনাদের গোপন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে দেবে না। তিনি বলেন, সত্তরের নির্বাচনের যদি আইনি ভিত্তি রচনা হতে পারে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন যদি অস্থায়ী সরকার আইনি ভিত্তি পায়, ৭২ সংবিধান যদি সত্তরের নির্বাচনের নির্বাচনী সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে পাস হয়, অনুরূপভাবে জিয়াউর রহমান যে সামরিক শাসক থেকে প্রেসিডেন্ট হলেন, যে গণভোটের মাধ্যমে আপনারা সেই বৈধতা দিয়েছিলেন; সেসব তো আইনি ভিত্তি পেয়েছে। তাহলে আপনারা কি আপনার দলের এই ইতিহাস কে অস্বীকার করবেন? ‘তাই সংস্কারকে বৈধতা দিতে হবে। ঐকমত্যের বিষয়গুলো আইন হিসেবে ঘোষিত ও স্বীকৃতি দিতে হবে। তার ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। এছাড়া ফ্যাসিবাদী আইনের অধীনে বাংলাদেশের জনগণ সেই নির্বাচন মেনে নেবে না’- যোগ করেন এই জামায়াত নেতা।

জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি : শিশির মনির
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ এর বর্ণিত বিধানের আলোকে জনগণের অভিপ্রায়ের এই সরকারের বৈধতা স্বীকৃত উৎস এবং আইনি ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীন সুপ্রিম কোর্ট যে মতামত দিয়েছেন এর কোনো কার্যকারিতা নেই। বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি। রাষ্ট্রপতির ঘোষণাপত্র বা গণভোট জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার স্বীকৃত ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর ৮ আগস্ট একটি সরকার গঠিত হয়। ৫, ৬, ৭ ও ৮ এর সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো কার্যকর সরকার ব্যবস্থা ছিল না। ৮ আগস্ট যখন প্রথম সরকার গঠিত হয় তখন সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি রেফারেন্স চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট একটি রেফারেন্স বা মতামত দেন যে, ইমারজেন্সি বেসিসে ডকট্রিন অব নেসেসিটির ভিত্তিতে একটি অন্তর্র্বতীকালীন সরকার গঠন করা। আমি মনে করি এটাই হলো বর্তমান সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় ভুল হয়েছে। এটা হলো সাংবিধানিকভাবে সবচাইতে বড় মিসটেক। এই মিসটেক করা উচিত হয়নি। এই সরকার হওয়া উচিত ছিল জনগণের অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গঠিত সরকার।

জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে রোববার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় রাজধানী ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদান ও আমাদের করণীয় শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

শিশির মনির বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিডিআর বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারসহ ৭৪ জনকে হত্যা করে। গত ১৬ বছরের শাসনামলে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান অকার্যকর করে তোলে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করে, নির্বাচন কমিশনকে একটি আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। একইসঙ্গে ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য আওয়ামী লীগ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করায়। এভাবেই বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে। ফ্যাসিবাদী ও বৈষম্যমূলক শাসনের প্রতিবাদে দেশের ছাত্র জনতা সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলে। ২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই সার্বজনীন আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান হয়। দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে। সহস্রাধিক মানুষ এই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করে। বিশিষ্ট এ আইনজীবী বলেন, যেখানে দেশের প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টই কাজ করেনি, যেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদ নেই, পার্লামেন্ট নেই, সেখানে এই ছোট্ট সংবিধান কি করে কাজ করবে? কার মাধ্যমে কাজ করবে এই প্রশ্নের উত্তর পরবর্তীতে আছে।

শিশির মনের বলেন, একটা কথায় সবাইকে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে যে, এই সরকারের মূল ভিত্তি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ নয়, এই সরকারের মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণের ইচ্ছার চরম বহিঃপ্রকাশ। এর বাইরে যে যাই ইন্টারপিটেশন দেবেন, যে যাই বলুক না কেন, তা এই ভারতীয় সাবকন্টিনেন্টে সাংবিধানিক জুরিসপ্রুডেন্স দ্বারা তাদের সেই কথা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, জনগণের চরম অভিপ্রায় গঠিত সরকার প্রোক্লেমেশন বা ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে জুলাই সনদকে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের পঠিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দ্য প্রোক্লেমেশন অব ইনডিপেনডেন্স ১৯৭১, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক দলিল যা বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান। গুরুত্বের বিবেচনায় জুলাই সনদ এতেই মর্যাদার অধিকারী। ইতিহাসের যে কয়টি প্রোক্লেমেশন সবচেয়ে আলোচিত তার মধ্যে ১৮৬৩ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ঘোষিত ইমানসিপেশন প্রোক্লেমেশন ছিল অন্যতম। এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক দলিল। যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কনফেডারেশন রাষ্ট্রগুলোকে দাস প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। যা নাগরিক অধিকার মুক্তির সংগ্রামের ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়াও জুলাই সনদের বাস্তবায়নে আরেকটি কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে গণভোট। জুলাই সনদের কোনো বিধানের সঙ্গে বিদ্যমান সংবিধানের কোনো অংশ সাংঘর্ষিক হলে জুলাই সনদ প্রাধান্য পাবে, বলেন তিনি।

শিশির মনির বলেন, দুটি কনসেপ্ট। একটি হচ্ছে জুলাই প্রোক্লেমেশন, আরেকটি হচ্ছে রেফারেন্ডাম বা গণভোট। প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমেও এই বিদ্যমান সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। রেফারেন্ডাম বা গণভোটের মাধ্যমেও সাংবিধানিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। এর উদাহরণ আমাদের দেশে আছে। তিনি গণভোটের কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে মুজিবকে যখন হত্যা করা হয় তখন খোন্দকার মোস্তাক আহমেদ এসে মার্শাল ল’ জারি করেন। তিনি এসে বলেন, আই মিস্টার খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ইজ হেয়ার বাই ডিক্লেয়ারড মার্শাল ল প্রোক্লেমেশন। দ্য কনস্টিটিউশন উইল বি সাবর্ডিনেট টু দ্য কনস্টিটিউশন। এরপর তিনি ২০ আগস্ট সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ১৫ আগস্ট থেকে তার বৈধতা দেন। এরপর ৮ নভেম্বর ১৯৭৫ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদত মোহাম্মদ সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর বিচারপতি সায়েম প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। ওইদিন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সি এম এল এ অথবা চিফ মার্শাল ল’ অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর ৬ মাস পরে ১৯৭৭ সালের ৩১ মে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ৮৮ শতাংশ ভোট পেয়ে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান জনগণের আস্থা অর্জন করেন এবং রেফারেন্ডামের মাধ্যমে তা অ্যাপ্রুভ করা হয়। একইসঙ্গে ১৯৭৭ সালের ৩০ মে মার্শাল ল অর্ডার নাম্বার-১ ১৯৭৭ জারি করে বাংলাদেশের সংবিধানে আমূল পরিবর্তন আনা হয়। আজকের সংবিধানে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপরে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করা হয়। আজকে যে গণতন্ত্র, সোশ্যালিজম মিনি ইকোনমির ও সোশ্যাল জাস্টিসের কথা বলা হচ্ছে তা সবকিছু করা হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩১ মের সামরিক ফরমান বলে।

এই আইনজীবী বলেন, আগের শাসকরা সামরিক আইন জারির মাধ্যমে সংবিধানের উল্লেখযোগ্য বিধানাবলি স্থগিত করেছেন। প্রয়োজনীয়তার নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করেছেন। কিন্তু ২০২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এটি ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও গোত্র নির্বিশেষে দেশের সব মানুষের অংশগ্রহণে স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান। পরে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের গঠন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে জনগণের পরম অভিব্যক্তির প্রতিফলনরূপে। সুতরাং এ সংক্রান্ত সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীন সুপ্রিম কোর্ট যে মতামত দিয়েছেন এর কোনো কার্যকারিতা নেই। বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার সরাসরি প্রতিফলনই জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি। রাষ্ট্রপতির ঘোষণাপত্র বা গণভোট জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের স্বীকৃত ও বাস্তবসম্মত পদ্ধতি, যোগ করেন- শিশির মনির।

জামায়াতের সেমিনারে অভিন্ন মত অন্যান্য দলের
এই সেমিনারটিতে অন্যান্য দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও অভিন্ন কণ্ঠে ‘জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর আইনগত স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ শিশির মনির। এ সময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড.আহমদ আবদুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা আশরাফ আলী আকন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নিয়ামুল বশির, গণঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ফারুক হাসান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক সংসদ সদস্য), বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক রেজিস্ট্রার, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোঃ সেলিম উদ্দিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসান নাসির ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম জিয়াউল হাসান, জাতীয় সংস্কার জোটের আহ্বায়ক মেজর (অব.) আমিন আহমদ আফসারী, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. কোরবান আলী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি আইয়ুব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম, ন্যাশনাল ডক্টর্স ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টির সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় সংস্কার জোট লায়ন মোঃ আবদুল কাদের হেলালী, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, কর্নেল (অব.) অধ্যাপক ডা. জেহাদ খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জনাব শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ও ড. খলিলুর রহমান মাদানী ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম। অন্যান্য দলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডিপির চেয়ারম্যান এড. আনোয়ারুল হক চান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাসেম হাসেমী, এনডিপির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, জনতার অধিকার পার্টির চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ জনজোটের চেয়ারম্যান মুজাম্মেল মিয়াজী প্রমুখ।

কালের আলো/এসআইপি/এমকে

ছোট ঘরে মাশরুম চাষ, বদলে গেছে আব্দুল মোমিনের জীবন

বগুড়া সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ পূর্বাহ্ণ
ছোট ঘরে মাশরুম চাষ, বদলে গেছে আব্দুল মোমিনের জীবন

পড়াশোনা শেষ করে কী করবেন, তা নিয়ে একসময় দুশ্চিন্তায় ছিলেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার শালিখা গ্রামের আব্দুল মোমিন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অল্প পুঁজিতে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাত্র ১২ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেন মাশরুম চাষ। সময়ের সঙ্গে তাঁর সেই ছোট উদ্যোগ এখন বড় খামারে রূপ নিয়েছে। বর্তমানে খামারে রয়েছে ১২ হাজারের বেশি মাশরুমের স্পন প্যাকেট। প্রতিদিন বিক্রি করছেন ৩০ থেকে ৪০ কেজি মাশরুম।

মোমিনের এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও মাশরুম চাষে আগ্রহ তৈরি করেছে। তাঁর খামার দেখতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন উৎসাহী মানুষ। এখন তাজা মাশরুম বিক্রির পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি করে ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

মোমিন স্থানীয় শালিখা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর বয়রা টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে এইচএসসি পাস করার পর চাকরির অপেক্ষায় না থেকে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। স্কুলজীবনে পাঠ্যবইয়ে মাশরুমের ছবি দেখে এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে এগিয়ে যান তিনি।

২০২২ সালের নভেম্বরে মাগুরার গ্রিন মাশরুম সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নেন মোমিন। প্রশিক্ষণ শেষে ঢাকার সাভার থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকার মাশরুমের বীজ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনেন। বাড়ির একটি ছোট ঘরে সীমিত পরিসরে শুরু করেন চাষ। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা ও উৎপাদন বাড়তে থাকে। ২০২৪ সালে মামা আতাউর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে খামার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেন তিনি।

মোমিন জানান, মাশরুম চাষ করে বর্তমানে সব খরচ বাদ দিয়ে ভালো আয় করতে পারছেন। একটি স্পন প্যাকেট থেকে ২৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। দুই কেজির একটি স্পন প্যাকেট থেকে এক দফায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম মাশরুম উৎপাদিত হয়। বর্তমানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ কেজি মাশরুম বিক্রি করছেন তিনি। প্রতি কেজি মাশরুম বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। অবিক্রীত মাশরুম রোদে শুকিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন।

বর্তমানে তাঁর খামারে রয়েছে ১২ হাজারের বেশি স্পন প্যাকেট। এসব প্যাকেট থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার কেজি মাশরুম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি।

তবে শুধু তাজা মাশরুম বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না মোমিন। মাশরুম দিয়ে আচার তৈরি এবং শুকিয়ে গুঁড়া উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এতে পণ্য সংরক্ষণের সময় বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

মোমিন বলেন, ‘আচার আমাদের সবার পছন্দ। মাশরুম দিয়ে আচার তৈরি করতে চাই। পাশাপাশি মাশরুম শুকিয়ে গুঁড়া তৈরির কাজও শুরু করার ইচ্ছা আছে। সরকারি সহযোগিতা ও সহজ শর্তে ঋণ পেলে খামারের পরিধি আরও বাড়াতে পারব। আমার লক্ষ্য, এ চাষের মাধ্যমে আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।’

মাশরুম পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাদ্য। এতে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। পুষ্টিকর এই খাদ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন বলেন, মাশরুম খামারে ঋতু ও পরিবেশের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের মাশরুম চাষ করা যায়। মোমিনের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ দেখে স্থানীয় শিক্ষিত বেকার যুবকদের মধ্যেও এ চাষে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব না হলেও চাষিদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, মাশরুমের উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এ খাত গ্রামীণ তরুণদের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন পথ তৈরি করতে পারে। মাত্র ১২ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে মোমিনের শুরু করা উদ্যোগ এখন সেই সম্ভাবনারই একটি উদাহরণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

বাড়ি নির্মাণের জন্য চারদিকে পাকা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ১৫ শতক জমি। সেখানে বাড়ির কাজ শুরুর আগপর্যন্ত জমিটি পতিত পড়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই জমিতেই তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ। মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করে মাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এখন তাঁর ক্ষেতের চার শতাধিক গাছে ঝুলছে ছোট-বড় এক হাজারের বেশি তরমুজ। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ফল বিক্রি করে লাখ টাকার বেশি আয় করার আশা করছেন এই কৃষক।

পাকা প্রাচীরের ভেতর তরমুজের বাগান
কামারগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১৫ শতক জমির চারপাশে পাকা প্রাচীর। সেই প্রাচীরের ভেতরেই মাচা তৈরি করে সারি সারি তরমুজগাছ লাগানো হয়েছে। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের অসংখ্য তরমুজ। কোথাও ছোট ফল, কোথাও আবার বড় আকারের তরমুজে নুয়ে পড়েছে লতাগুলো।

ইউনাইটেড কোম্পানির ‘মধুমালা’ ও ‘ব্ল্যাকবেবি’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে সেখানে। ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং পেপার প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এ চাষ করা হয়। সীমিত জায়গায় পরিকল্পিতভাবে মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষের এই উদ্যোগ এখন স্থানীয়দের কাছে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শেই শুরু
কৃষক আব্দুস শহীদ জানান, বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটির চারপাশে পাকা প্রাচীর তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে বাড়ির কাজ শুরু করার আগে জমিটি বেশ কিছুদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকার কথা ছিল। এ সময় মাঠ পরিদর্শনে এসে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম তাঁকে জমিটি ফেলে না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দেন।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আব্দুস শহীদ। এরপর উন্নত জাতের তরমুজের চারা রোপণ করে মাচা তৈরি এবং মালচিং পেপার পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। তাঁর এই উদ্যোগ এখন ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আব্দুস শহীদ বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণের আগে জমিটা যেন পতিত পড়ে না থাকে, সেই চিন্তা থেকেই তরমুজ চাষ শুরু করি। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অল্প জায়গায় মাচা তৈরি করে তরমুজ লাগিয়েছি। চাষাবাদে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন গাছে গাছে প্রচুর তরমুজ। ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি তরমুজ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রি শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। ফলন ভালো থাকলে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতে পারে।’

অসময়ে চাষ করেও ভালো ফলনের আশা
আব্দুস শহীদ জানান, অসময়ে তরমুজ চাষ করেও গাছে ভালো ফলন এসেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত বলে মনে করেন তিনি। নিজের উদ্যোগে অল্প জায়গায় এত বেশি তরমুজ উৎপাদন করতে পেরে আশাবাদী এই কৃষক।

তাঁর প্রত্যাশা, বাজারে তরমুজের ভালো দাম পেলে এই চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হবে। সেই অর্থ ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আরও বিনিয়োগ এবং নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বিক্রির আয় এখনো প্রত্যাশার পর্যায়ে রয়েছে। ফলের চূড়ান্ত উৎপাদন, বাজারদর এবং বিক্রির খরচের ওপর নির্ভর করবে প্রকৃত লাভের পরিমাণ।

আব্দুস শহীদের সাফল্যে উৎসাহিত অন্য কৃষকেরা
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আব্দুস শহীদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে। তাঁদের মতে, কৃষিকাজে আগ্রহ, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে অল্প জমিতেও ভালো ফলন সম্ভব। প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে আব্দুস শহীদ সেই সম্ভাবনা দেখিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘চেষ্টা থাকলে কঠিন কাজও সহজ করা যায়, আব্দুস শহীদের ক্ষেত তার প্রমাণ। অল্প জায়গায় তিনি যেভাবে তরমুজ চাষ করেছেন এবং ফলন পেয়েছেন, তা আমাদের উৎসাহিত করেছে। তাঁর কাছ থেকে এ জাতের তরমুজ চাষ সম্পর্কে পরামর্শ নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরাও এভাবে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’ তাঁরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেলে এলাকার আরও কৃষক নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হবেন। বাড়ির আশপাশের অব্যবহৃত জমি, পতিত জায়গা কিংবা সীমিত কৃষিজমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কৃষকের আয়ের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ছে আগ্রহ
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, ‘কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারলে মনে আনন্দ আসে। মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে আব্দুস শহীদকে জমি পতিত না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনি সেই পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত। তারপরও অসময়ে তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। তাঁর ক্ষেত দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকও উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকে এ জাতের তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে ভবিষ্যতে এ ধরনের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’ বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, কৃষকদের কল্যাণে কাজ করাই কৃষি বিভাগের দায়িত্ব। কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষক নতুন নতুন ফসল চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন।

আব্দুস শহীদ তাঁদেরই একজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকটি উপজেলার পশ্চিম জয়পুর ব্লকের কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। অসময়ে তরমুজ চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর ক্ষেত পরিদর্শন করে ভালো লেগেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকেরা যেন জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অল্প জমিতে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত
আব্দুস শহীদের তরমুজক্ষেত দেখিয়ে দিয়েছে, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য সব সময় বড় জমি কিংবা বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষপদ্ধতি, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং পরিশ্রমের সমন্বয়ে অব্যবহৃত জমিও আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। এখন ফল বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন আব্দুস শহীদ। গাছে গাছে বেড়ে ওঠা তরমুজগুলো বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে পূরণ হতে পারে তাঁর আর্থিক প্রত্যাশা। পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগ দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও যদি নতুন ফসল চাষে এগিয়ে আসেন, তাহলে ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার অনুপ্রেরণা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

বিসিএস পরীক্ষায় একই ক্যাডারে বারবার একই প্রার্থীর সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে সরকারি পদের অপচয় ও নিয়োগ জটিলতা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিশেষ করে আসন্ন ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল তৈরির সময় ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

কী এই ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা
বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘রিপিট ক্যাডার’ বলতে সাধারণত এমন প্রার্থীদের বোঝানো হয়, যাঁরা আগের কোনো বিসিএসে একটি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বা নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর পরবর্তী বিসিএসেও একই ক্যাডারে আবার সুপারিশ পান। ফলে নতুন করে সুপারিশ পাওয়া পদে তাঁদের যোগদানের প্রয়োজন হয় না বা তাঁরা সেখানে যোগ দেন না। এতে সংশ্লিষ্ট পদটি খালি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর প্রভাব পড়ে অন্য চাকরিপ্রার্থীদের ওপর। মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা যোগ্য প্রার্থীরা ওই পদে নিয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন। আবার সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ নতুন পদে যোগ না দিলে প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব নির্ধারণ করাও জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ সমস্যা বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

৪৪তম বিসিএসে প্রায় ৪০০ রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা
৪৩তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা থাকলেও ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পিএসসির তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ হাজার ৭১০ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন আগে থেকেই সরকারি কোনো ক্যাডারে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পদে যোগদান না করার কারণে শূন্য পদ পূরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ ঘটনার পর রিপিট ক্যাডারের কারণে খালি থাকা পদগুলোতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়।

৪৫তম বিসিএসে যোগদানের হিসাব দেখে সিদ্ধান্ত
রিপিট ক্যাডার সমস্যা সমাধানে পিএসসি এবার শুধু সুপারিশের সংখ্যা নয়, বাস্তবে কতজন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে চায়। ইতিমধ্যে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ১ নভেম্বর যোগদানের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের যোগদান শেষ হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে—কতজন নতুন পদে যোগ দিয়েছেন এবং কতটি পদ খালি রয়েছে। পিএসসি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বরের পর যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রার্থী একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়ার কারণে পদ খালি থাকলে সেখানে পরবর্তী মেধাক্রমের যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা।

সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা
রিপিট ক্যাডার সমস্যার কারণে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রিপিট ক্যাডারের কারণে সাধারণ প্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সঠিক হিসাব পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হলে শূন্য পদের সমস্যা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, প্রকৃত শূন্য পদের হিসাবের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালিত হলে মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা প্রার্থীরাও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। এতে একই পদে বারবার সুপারিশের কারণে নিয়োগের সুযোগ আটকে থাকার সমস্যা কমতে পারে।

বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবও রয়েছে
৪৪তম বিসিএসে রিপিট ক্যাডার নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর পিএসসি নিয়োগবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত বা সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সময় কমিশনের কাছে যদি তথ্য থাকে যে কোনো প্রার্থী একই ক্যাডার পদ বা সমপদে পুনরায় মনোনীত হচ্ছেন এবং তিনি সেখানে যোগ দিতে অনিচ্ছুক, তাহলে তাঁকে আবার সুপারিশ না করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই পদগুলোতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের নির্বাচন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর রিপিট ক্যাডার সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসের ফলাফলে তা বিবেচনায় নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

৫০তম বিসিএসের ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে
পিএসসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের কারণে খালি থাকা পদগুলো শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি প্রকৃত শূন্য পদের বিপরীতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের সুপারিশ করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে এ উদ্যোগের চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, প্রার্থীদের যোগদানের প্রকৃত তথ্য এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ৫০তম বিসিএসের ফলাফল ঘোষণার সময় বিষয়টি কীভাবে কার্যকর করা হয়, সেটিই এখন চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

কালের আলো/এসএআর/এসএ