খুঁজুন
                               
, ,
           

নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, মোতায়েন থাকবে ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৫৩ অপরাহ্ণ
নির্বাচনের সর্বাত্মক প্রস্তুতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, মোতায়েন থাকবে ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যেকোন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সময় অনুযায়ী সব রকমের পদক্ষেপ নিতে বদ্ধপরিকর মন্ত্রণালয়। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখভালের দায়িত্বে থাকা নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কোন আশঙ্কা দেখছেন না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন- জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে উপদেষ্টা জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর করতে তাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, নির্বাচনে সারাদেশে ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে কঠোর ও কৌশলী হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তাদের।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) চলতি বছরের বিজিবি দিবস উপলক্ষে পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ হলে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক প্রদান এবং খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সীমান্ত দিয়ে কোনো অপরাধী যেন পালাতে না পারে সেজন্য বিজিবিকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষা পবিত্র দায়িত্ব। আপনারা সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।’ পদক প্রদান শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বিজিবির খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সংবর্ধনা ও উপহার সামগ্রী দেন এবং ভবিষ্যতে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি এবং বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি জানায়, চলতি বছর ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক (বিজিবিএম), ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক (পিবিজিএম), ১২ জনকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পদক-সেবা (বিজিবিএমএস) এবং ২৪ জনকে রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক-সেবা (পিবিজিএমএস) মিলিয়ে সর্বমোট ৭২ জনকে বিভিন্ন পদকে ভূষিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাতবরণ করার কারণে সরকার ২০ ডিসেম্বরকে শোক দিবস ঘোষাণা করায় ওইদিন বিজিবি দিবসের সব আনুষ্ঠানিকতা স্থগিত করে এবং ২৯ ডিসেম্বর বিজিবি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন বিজিবি দিবসের অনুষ্ঠান শেষে পিলখানায় দুপুরে বীর উত্তম খন্দকার ফজলুর রহমান মাল্টিপারপাস শেষে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

  • বিজিবি এক সুদীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক
  • সীমান্ত সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কৌশল ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে
  •  কোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করার নির্দেশ
  • নির্বাচনকে টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে

বিজিবি এক সুদীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিজিবি এক সুদীর্ঘ ও গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। আজকের বিজিবি এক ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কাজে অনন্য ভূমিকা রাখছে। বিজিবির উন্নয়নে সরকার সর্বাত্নক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সমুন্নত রেখে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় অত্যন্ত ন্যায়ানুগ পন্থায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সীমান্ত দিয়ে কোনো মাদক প্রবেশ করবে না। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা আনতে হবে।

সীমান্ত সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কৌশল ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশীয় কোনো পণ্য বিদেশে পাচার হবে না। যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী চোরাকারবারি ও মাদক পাচারকারীদের সহায়তা করেন কিংবা সাহায্য করেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অধীন কমান্ড ও ট্রুপসদের কল্যাণে সর্বদা খেয়াল রাখাসহ সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে। উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত কৌশল ও যোগ্যতার পরিচয় দিতে হবে। দেশের স্বার্থ শতভাগ রক্ষা করতে হবে। সীমান্ত ব্যবহারকারী চোরাকারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সীমান্তে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ থেকে কোনো অপরাধী, সন্ত্রাসী সীমান্ত দিয়ে যেন পালাতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবিকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যে কোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করার নির্দেশ
যে কোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করার নির্দেশ দিয়ে বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ রাখবো- চেইন অব কমান্ড এর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্য বজায় রাখবেন। সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্বের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় যে কোনো দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করবেন।’

নির্বাচনকে টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে
অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন। অবৈধ অস্ত্র, হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তার, কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনাসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে সীমান্ত দিয়ে দেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে বলে স্বীকারও করেন উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দু-চারটি অস্ত্র যে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন একটা-দুটা করে ধরা হচ্ছে।

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকে টার্গেট করে অবৈধ অস্ত্র ঢুকছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দু-চারটি অস্ত্র যে ঢুকছে না তা আমি বলবো না, ঢুকছে এবং ধরাও হচ্ছে। প্রতিদিন একটা দুটা করে ধরা হচ্ছে। কোনো রকমের কোথাও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। মেঘালয় পুলিশের দাবি তারা হাদি হত্যাকাণ্ডের কোনো আসামিকে গ্রেফতার করেনি। কিন্তু ডিএমপি বলছে গ্রেফতার হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ডিবি রাতে একটি স্টেটমেন্ট দিয়েছে, সেটা পড়লে জানতে পারবেন। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যে অপকর্ম করছে সে পলাতক, কিন্তু তার সহযোগীকে ধরা হয়েছে। পলাতককে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। বোমা হামলাগুলো সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ফ্যাসিস্ট যারা আছে তারা সবসময় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। কিন্তু আপনাদের সবার সহযোগিতা যদি থাকে তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু এবং উৎসবমুখর হবে। নির্বাচনে শঙ্কার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে এখন কোনো শঙ্কা নেই।

কালের আলো/এমএসআই/এমকে

সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সরবরাহ সংকটে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ছে: এফএও

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। যুদ্ধ, চরম আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।

শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে এফএওর খাদ্যমূল্য সূচক টানা তৃতীয় মাসের মতো বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের শেষ দিকের পর এটিই সূচকটির সর্বোচ্চ অবস্থান।

এফএও জানিয়েছে, শস্য, উদ্ভিজ্জ তেল, চিনি, মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্য—সব প্রধান খাদ্যপণ্যের দামই আগস্টে বেড়েছে। এর মধ্যে চিনির দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, যা জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। গত এক বছরের মধ্যে চিনির দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

খাদ্যশস্যের দাম দুই শতাংশের বেশি বেড়ে দুই বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। কৃষ্ণসাগরে সামরিক হামলার কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম ও ভুট্টা রপ্তানিতেও প্রভাব পড়ছে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার ফলে খাদ্য সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সার সরবরাহ নিয়েও নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক সার বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন ও এল নিনোর প্রভাবে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহে ফসলের উৎপাদন কমেছে। একই সঙ্গে এশিয়ায় খাদ্যশস্য উৎপাদনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করে বলেছে, চরম আবহাওয়ার কারণে আগামী বছরের শেষ নাগাদ আরও প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তীব্র ক্ষুধার মুখে পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারে পাইকারি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে কয়েক মাসের মধ্যে এর প্রভাব সাধারণ ভোক্তার ওপরও পড়ে। ফলে খাদ্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৭ অপরাহ্ণ
খাদ্যগুদাম প্রকল্পে শুধু সময়ই বাড়ে

খাদ্যশস্য রাখার জায়গা বাড়াতে একের পর এক প্রকল্প। বরাদ্দ হচ্ছে হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, বাড়ছে ব্যয়, তবু বাড়ছে না কাঙ্ক্ষিত সংরক্ষণ সক্ষমতা। কোথাও তিন বছরেও কাজ এগিয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ, কোথাও এক যুগ পেরিয়েও শেষ হয়নি নির্মাণ। আবার রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া একটি প্রকল্পে মাটি খোঁড়ার পরই থেমে গেছে কাজ। পরে যৌক্তিকতা না পাওয়ায় সেটি অসমাপ্ত রেখেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি খাদ্যগুদামের সক্ষমতা বাড়ানোর নামে নেওয়া চার প্রকল্পে মোট ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। অথচ প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, দফায় দফায় সংশোধন, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও স্থান পরিবর্তনের কারণে এসব বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতার ঘাটতি কাটাতে গিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় কিংবা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও এখন সামনে। খাদ্য মন্ত্রণালয় ও খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য এবং পরিকল্পনা কমিশন ও বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পর্যবেক্ষণে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

তিন বছরেও এক-চতুর্থাংশ কাজ
২০২৩ সালের জুলাইয়ে ৮৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩ জেলায় নতুন খাদ্যগুদাম নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ১৪৫টি স্থাপনায় মোট ১৯৫টি গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক ব্যয় ৮১৪ কোটি টাকা থাকলেও পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫৫ কোটি টাকা। শুধু ব্যয়ই বাড়েনি, বেড়েছে সময়ও। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। আইএমইডির হিসাবে, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ২১ দশমিক ১১ শতাংশ। এরই মধ্যে ব্যয় হয়েছে ১৭৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আইএমইডির পর্যবেক্ষণে মাদারীপুরের কালকিনি ও বাগেরহাট প্যাকেজে ধীরগতি দেখা গেছে। গাছ ও পুরোনো অবকাঠামো সরাতেও সময় লেগেছে। শরীয়তপুরের আঙ্গারিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ও বিরল এবং মোংলা এলএসডিতে জায়গার সংকট রয়েছে। এ ছাড়া লে-আউট জটিলতা, প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন, প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়াতেও বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. সোহেলুর রহমান খান বলেন, সময়মতো পরিচালক নিয়োগ না হওয়া, নির্ধারিত স্থানে কাজ করতে না পারা, স্থান পরিবর্তন এবং রেট শিডিউলের কারণে ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন প্রকল্প পরিচালক টেন্ডারের উদ্যোগ নিলেও কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা তিনি দাবি করেন, আগের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম এখন সন্তোষজনকভাবে এগোচ্ছে।

এক যুগেও শেষ হয়নি ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার প্রকল্প
সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামোর সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ লাখ ৮৭ হাজার টন ধারণক্ষমতার সাতটি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ, খুলনার মহেশ্বরপাশা, চট্টগ্রাম ও মধুপুরে এসব সাইলো নির্মাণের কথা। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ রয়েছে ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা। চার দফা সংশোধনের পর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়েও পুরো কাজ শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৬৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মোট ব্যয়ের ৯৫ দশমিক ০৫ শতাংশই খরচ হয়ে গেছে। তারপরও বাকি কাজ শেষ করতে আবারও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রকল্পের মূল কার্যালয় ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ভবনে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

রাজনৈতিক প্রকল্প, শেষ পর্যন্ত বাতিল
খাদ্য সংরক্ষণ অবকাঠামো নির্মাণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্বাচনি এলাকা নওগাঁর মহাদেবপুরে ৩৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮ হাজার টন ধারণক্ষমতার চালের সাইলো নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটি পর্যালোচনায় আসে। এরপর দেখা যায়, ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি খোঁড়া ছাড়া বাস্তবে আর কোনো কাজ এগোয়নি। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ছিল শূন্য। প্রকল্প পরিচালক মোস্তাক আহমেদ জানান, নতুন ফিজিবিলিটি স্টাডিতে মহাদেবপুরে প্রকল্পটি নেওয়ার যৌক্তিকতা পাওয়া যায়নি। ফলে অসমাপ্ত অবস্থায় রেখেই প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে—যে প্রকল্পের যৌক্তিকতাই শেষ পর্যন্ত পাওয়া গেল না, সেটির পেছনে প্রাথমিক পর্যায়ে ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন কেন হয়েছিল?

মেরামতের প্রকল্পেও ধীরগতি
ক্ষতিগ্রস্ত খাদ্যগুদাম ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো মেরামতে ২৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি শেষ করার কথা। লক্ষ্য ছিল সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো, খাদ্যশস্যের অপচয় কমানো, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। কিন্তু ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ৩২ শতাংশ হলেও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৩ শতাংশ। প্রকল্প পরিচালক এ টি এম কাউছার হোসেন জানান, সময়মতো বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোয়নি। ঠিকাদারদের বিলও আটকে রয়েছে।

সরকারি গুদাম বনাম বেসরকারি সক্ষমতা
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সরকারি খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রয়োজনের তুলনায় কম। সরকারি গুদামে বর্তমানে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ টন খাদ্যশস্য রাখা যায়। বিপরীতে বেসরকারি খাতের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ কোটি টন। অর্থাৎ বিপুল সরকারি বিনিয়োগের পরও সংরক্ষণ সক্ষমতার বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কৃষিবিদ কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম নির্মাণ টেকসই সমাধান নয়। সহজ শর্তে ঋণ, কর অবকাশ ও ভর্তুকির মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে খাদ্য সংরক্ষণে যুক্ত করা যেতে পারে। তার মতে, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়তে থাকলে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই ব্যয় নির্ধারণ, দরপত্র, নির্মাণকাজের মান এবং অর্থ ব্যয়ে কঠোর নজরদারি জরুরি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নজরদারি কতটা?
খাদ্যশস্যের সরবরাহ ও মজুদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম কিংবা গাফিলতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সম্প্রতি মানিকগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুর্যোগ কিংবা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রাখতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবতা হলো, একদিকে খাদ্য সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ, অন্যদিকে সেই লক্ষ্যেই নেওয়া প্রকল্পের ধীরগতি। কোথাও ব্যয় বাড়ছে, কোথাও মেয়াদ; কোথাও আবার প্রকল্পের যৌক্তিকতাই প্রশ্নের মুখে। ৫ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার এই চার প্রকল্প তাই শুধু গুদাম নির্মাণের হিসাব নয়—এটি সরকারি প্রকল্প পরিকল্পনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিরও পরীক্ষা। খাদ্য নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর খাতে জনগণের অর্থ খরচ করে যদি সময়মতো গুদামই না হয়, তাহলে সেই বিনিয়োগের সুফল শেষ পর্যন্ত যাবে কোথায়—এ প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্টদেরই দিতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ: ত্রিশালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ঈশ্বরগঞ্জ

ময়মনসিংহ থেকে ১৪ দলের দীর্ঘ লড়াই শেষে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের শিরোপা ঘরে তুলেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা দল। রোমাঞ্চকর ফাইনালে ত্রিশাল উপজেলা দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঈশ্বরগঞ্জ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে দর্শকদের করতালি ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে স্টেডিয়াম হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
ঈশ্বরগঞ্জের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন ১১ নম্বর জার্সিধারী রাব্বুল। তাঁর জোড়া গোলেই শিরোপা নিশ্চিত করে ঈশ্বরগঞ্জ। ত্রিশাল একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে গোল্ডকাপ নিজেদের করে নেয় ঈশ্বরগঞ্জ।
ফাইনালের আগে ও ম্যাচ চলাকালে ঈশ্বরগঞ্জ দলের খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। তাঁর উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা খেলোয়াড়দের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বীকৃতি হিসেবে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জের রাব্বুল। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন ত্রিশালের ১০ নম্বর জার্সিধারী ফাহাদ। ফেয়ার প্লে ট্রফি পেয়েছে হালুয়াঘাট উপজেলা দল।
৭০ মিনিটের ফাইনাল দেখতে বিকেল থেকেই ময়মনসিংহ জেলা স্টেডিয়ামে ভিড় করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা। ম্যাচ শুরুর পর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় গ্যালারি। দুই দলের সমর্থকদের স্লোগান, উল্লাস ও করতালিতে পুরো স্টেডিয়ামে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।
ফাইনাল শেষে বিজয়ী ঈশ্বরগঞ্জ ও রানার্সআপ ত্রিশাল দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। দুই দলের মধ্যে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান এবং ঈশ্বরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু।

এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তারা, খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় গত ২৫ আগস্ট শুরু হয় এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলাসহ জেলার ১৪টি দল এতে অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে ফাইনালে ত্রিশালকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসে ঈশ্বরগঞ্জ। রাব্বুলের জোড়া গোল ও দলের লড়াকু পারফরম্যান্সে গোল্ডকাপ এখন ঈশ্বরগঞ্জের ঘরে। শিরোপা জয়ের পথে খেলোয়াড়দের পাশে থেকে উৎসাহ-অনুপ্রেরণা জোগানো এমপি মাজেদ বাবুর ভূমিকাও প্রশংসা পেয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি