খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটের আশা প্রার্থীদের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটের আশা প্রার্থীদের

কালের আলো  রিপোর্ট:

আলোচনার মূল বিষয়বস্তু এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। উৎসবমুখর ভোট আয়োজনে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। স্বভাবতই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার চাপ বেশিই ছিল। এদিন সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। প্রতিটি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ছিল বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, সারাদেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রার্থী সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

মনোনয়ন ফরম দাখিলের সময় দুই দিন বাড়তে পারে বলে গুঞ্জন ছিল। তবে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আর বাড়ছেনা। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, মনোনয়ন দাখিলের জন্য আর সময় বাড়ানো হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, সোমবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত আগ্রহী প্রার্থীদের রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল।

জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট নেওয়া হবে। ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই কার্যক্রম চলবে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ শাখা জানায়, শেষ দিনে ঢাকা অঞ্চলে ৪১টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৪৪৪টি, ফরিদপুর অঞ্চলে ১৫টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ১৪২টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৩টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ১৯৪টি, কুমিল্লা অঞ্চলে ৩৫টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৩৬৫টি ও রাজশাহী অঞ্চলে ৩৯টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ২৬০টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া, খুলনা অঞ্চলে ৩৬টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ২৭৬টি, বরিশাল অঞ্চলে ২১টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ১৬৬টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৩৮টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৩১১টি, সিলেট অঞ্চলে ১৯টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ১৪৬টি ও রংপুর অঞ্চলে ৩৩টি সংসদীয় আসনের বিপরীতে ২৭৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীরা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে মানুষ ভোট দিতে পারবে বলে তারা আশাবাদী। তারা মনে করেন, ভোটের পরিবেশ কেমন থাকবে সেটা নিয়ে জনগণের মধ্যে এখনও শঙ্কা রয়েছে। তাই তাদের শঙ্কা দূর করে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা জরুরি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ালে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ, দেশের জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে।

মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনটি সংসদীয় আসনে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুইটি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য দেশের বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। দলীয় সূত্র জানায়, সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও আইনি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প কৌশল হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ‘প্ল্যান বি’ও। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশের সংশ্লিষ্ট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

জানা যায়, এবার বগুড়া-৭, ফেনী-১ ও দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বগুড়া-৭ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন শাজাহানপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এবং গাবতলী পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার পক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও তার নির্বাচনি সমন্বয়ক রফিকুল আলম ওরফে মজনু। এর আগে রোববার দিনাজপুর-৩ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষরের পরিবর্তে মনোনয়নপত্রে আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা-১৭ আসনে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ফরহাদ হালিম। অন্যদিকে, তার পৈতৃক এলাকা বগুড়া-৬ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি নিয়ে এখনই আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি। এ পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়ার তিনটি আসনেই বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফেনী-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রফিকুল আলম (মজনু)। বগুড়া-৭ আসনে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ মিল্টন এবং দিনাজপুর-৩ আসনে সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রয়োজনে তাঁরা বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এদিকে একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের পক্ষে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। কুমিল্লা-১ আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তার ছেলে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মনোনয়ন জমা দেন। নরসিংদী-২ আসনে মনোনয়ন দাখিল করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। ঢাকা-৩ আসনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং কক্সবাজার-১ আসনে সালাহউদ্দিন আহমদ মনোনয়নপত্র জমা দেন। এছাড়া দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।

জামায়াত আমিরের মনোনয়নপত্র জমা
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ঢাকা-১৫ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং ঢাকা-১৩ ও ১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলীর কাছে জামায়াত আমিরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এর আগে বৃহস্পতিবার ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে আমরা আমিরের পক্ষ থেকে তার মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসেছি। সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন যাতে উপহার দিতে পারি সেই প্রত্যাশা করছি। তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে যাতে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করতে পারি তার প্রত্যাশা করছি। এটা নিয়ে আরও কাজ করার আছে। আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন এটা নিয়ে কাজ করবে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের আরও কাজ করার আছে। তিনশ’ আসনে শরীক দলগুলোর কে কতটি আসন পেয়েছেন এটা কখন জানা যাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনশ’ আসনে প্রার্থী আমরা প্রায় নিশ্চিত করতে পেরেছি। আজ (সোমবার) রাতের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের এই আসন সমঝোতা কোনও জোটবদ্ধ নির্বাচন নয়। কিন্তু এটা অন্য যেকোনও জোটের চেয়েও শক্তিশালী হবে ইনশাল্লাহ। প্রত্যেকে এখানে নিজস্ব প্রতীক নিয়ে আমরা ইলেকশন করবো। শুধু একটা আসনে একটি দলই থাকবেন। বাকিরা আমরা সমর্থন জানাবো।’ জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ‘আরেকটা রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে। তার নাম পরে জানানো হবে।’ এদিকে ঢাকা-১৫ আসন থেকে আরও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এনসিপির আলমগীর ফেরদৌস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এসএম ফজলুল হক, গণফোরামের একেএম শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ডা. আহাম্মদ সাজেদুল হক রুবেল।

এছাড়াও ঢাকা ১৪ আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন- মীর আহমদ বিন কাশেম, ঢাকা-১৬ আসন থেকে আব্দুল বাতেন, ঢাকা -১২ আসন থেকে সাইফুল আলম মিলন, ঢাকা-২ আসন থেকে আব্দুল হক, ঢাকা-৬ আসন থেকে আব্দুল মান্নান, ঢাকা-৭ আসনে এনায়েত উল্লাহ মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ঢাকা ১৩ আসন থেকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মোবারক হোসাইন প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত এই আসনটি ছেড়ে দিতে হয়েছে বাংলাদেশের খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। এছাড়া ঢাকার বেশ কয়েকটি আসন এনসিপি নেতাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে জোটভুক্ত হলেও কোন কোন আসনে জামায়াতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বা শরীক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এনসিপি শীর্ষ নেতারাও
বিএনপি ও জামায়াতের মতো জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির শীর্ষ নেতা নাহিদ ইসলাম নির্বাচন করছেন ঢাকা থেকে। গত কয়েকদিনের টানা আলোচনার পর রোববার রাতে জামায়াতের সাথে নির্বাচনী জোট গঠনের কথা জানিয়েছে এনসিপি। এরপরই ঢাকার বাড্ডা রামপুরা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসনে জামায়াত এনসিপি জোটের প্রার্থী হন নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও যুগ্ম সদস্যসচিব তামিম আহমেদ নাহিদ ইসলামের পক্ষে এই মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। নাহিদ ইসলাম এই আসনে প্রার্থী হওয়ায় ওই আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন জামায়াতের প্রার্থী আতিকুর রহমান। নাহিদ ইসলাম ছাড়াও এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী ঢাকা-৮, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনে। এনসিপি জানিয়েছে, জামায়াতসহ আট দলের সাথে রোববার নির্বাচনী ঐক্য চূড়ান্ত হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসনে একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঢাকার কয়েকটি আসনসহ সারাদেশের ৪৭টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা। আহ্বায়ক ঢাকায় প্রার্থী হলেও আখতার লড়ছেন রংপুরের একটি আসনে। এর মধ্যে জোটের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে কিছু আসন চূড়ান্ত হয়েছে। কিছু আসন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এদিকে, এদিন বিকেলে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এনসিপিতে যোগ দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হননি। এর আগে আসিফ ঢাকা-১০ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখলেন ইইউ-নরও‌য়ের রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরা

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের অন‌্যতম আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রা উপ‌ভোগ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা। তাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৪ এ‌প্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গে‌ছে, রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণের সাম‌নে দাঁ‌ড়ি‌য়ে বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখেছেন বিদেশি কূটনীতিকরা।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন সস্ত্রীক এ‌সে‌ছেন বৈশাখী শোভাযাত্রা দেখ‌তে। এ ছাড়া, শোভাযাত্রা দেখ‌তে এ‌সে‌ছেন ভারত, ইউ‌রোপ, মধ‌্যপ্রাচ‌্য ও দ‌ক্ষিণ-পূর্ব এ‌শিয়া মিশ‌নের ক‌য়েকজন কূটনী‌তিক‌। তা‌দের নিরাপত্তা দি‌চ্ছেন ঢাকা বিশ্ব‌বিদ‌্যালয় প্রশাসন।

ইইউর রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন‌কে শোভাযাত্রা বেশ উপ‌ভোগ কর‌তে দেখা গে‌ছে। দুই রাষ্ট্রদূতই তা‌দের মোবাইল ফোনে শোভাযাযাত্রার ছ‌বি তোলাসহ সেল‌ফি‌ তুল‌ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) বিদেশি কূটনীতিকদের দেখভালের দা‌য়িত্বে ছিলেন। তি‌নি ঢাকা পোস্টকে বলেন, শোভাযাত্রা অনুষ্ঠান দেখতে বি‌ভিন্ন দেশের কূটনী‌তিকরা এসেছেন। দুইজন রাষ্ট্রদূত এসেছেন, আরও অ‌নেক মিশনের কূটনী‌তিকরা এসেছে; তা‌রা সস্ত্রীক এসেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের হয়। উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে এই শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর গেট থেকে শুরু করে শাহবাগ থানার সামনে গিয়ে ইউটার্ন নেয়। সেখান থেকে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়।

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠী মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা শুরু করে।

২০২৫ সালে চারুকলার শোভাযাত্রার নাম থেকে মঙ্গল শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। নতুন নাম হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।
এবার এ শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।

বৈশাখের প্রথম প্রভাতে রমনা বটমূলে বঙ্গব্দ ১৪৩৩ কে বরণ করে নেওয়ার মধ‌্য দি‌য়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠা‌নের সূচনা হয়।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
রমনা বটমূলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ ও শান্তি-কল্যাণ-স্বস্তির আকাঙ্ক্ষা ছায়ানটের

রাজধানীর রমনা বটমূলে শেষ হয়েছে ছায়ানটের বর্ষবরণ ১৪৩৩-এর অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ছায়ানটের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে এবারের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়।

অনুষ্ঠান শেষের আগে ছায়ানটের নির্বাহী সভাপতি ড. সারওয়ার আলী বক্তব্যে বলেন, সমাজে দিন দিন বাড়ছে অসহিষ্ণুতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতে শান্তি, নিরাপত্তা ও সহনশীলতার প্রত্যাশা সকলের।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে পারস্য অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলমান সংঘাত ও নিপীড়ন বিশ্বজুড়ে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

এর প্রভাব পড়ছে দেশের ভেতরেও, যেখানে ভিন্নমত প্রকাশে অনেকেই নিজেদের অনিরাপদ বোধ করছেন। মতপ্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং সামাজিক সহনশীলতার অবক্ষয় একটি সুস্থ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় বাংলা নববর্ষকে সামনে রেখে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ শান্তি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বছর হোক ভয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তচিন্তার বিকাশের প্রতীক। যেখানে মানুষ নির্ভয়ে গান গাইতে পারবে, মত প্রকাশ করতে পারবে এবং নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত হবে। শুভ নববর্ষ।

এর আগে সূর্যোদয়ের পরপর শুরু হয় বর্ষবরণের ছায়ানটের অনুষ্ঠান। এবারের বার্তা, ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’—সেখানেই বাঙালির জয়। ছায়ানটের ৫৯তম অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে সকালের স্নিগ্ধ প্রকৃতি এবং মানব ও দেশপ্রেমের গানের পাশাপাশি লোকজনজীবনের সুর দিয়ে। সব মিলিয়ে বাঙালি সমাজকে বিগত বছরের সব ‘প্রতিকূলতা, আবর্জনা’ দূর করে নতুন বছরে ‘আরও মানবমুখী’ হওয়ার প্রত্যয়। সময় যত গড়িয়েছে, বেলা যত বেড়েছে ততই ভিড় বাড়তে দেখা গেছে অনুষ্ঠানস্থলে।

এদিন নতুন বছরকে বরণ করতে আয়োজনের কমতি ছিল না রমনার বটমূলে। বাঙালি সংস্কৃতিকে লালন করে ঐতিহ্যগতভাবে বর্ষবরণের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। নতুন বছরকে তাই বরণ করে নেওয়া হয় সুরের মূর্ছনায়।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগ্নে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এর পরপরই পরিবেশিত হয় ‘এ কী সুগন্ধহিল্লোল বহিল’ ও ‘তোমার হাতের রাখীখানি বাঁধো আমার দখিন-হাতে’ গান দুটি। এরপর একের পর এক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁইয়ের গান, লোকগানের পাশাপাশি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান পরিবেশন করা হয়।

এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ সংযোজন ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ এবং প্রয়াত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার, সুরকার ও চিত্রশিল্পী মতলুব আলীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের গান। মোট ২২টি গান পরিবেশিত হয় প্রায় দুই ঘণ্টার এ অনুষ্ঠানে। এর মধ্যে ৮টি ছিল সম্মেলক গান, আর একক কণ্ঠের গান ছিল ১৪টি। পাঠ ছিল দুটি। ছায়ানটের শিশু বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সব বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পী মিলিয়ে প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এদিকে ভোর থেকেই রমনায় বৈশাখী সাজে হাজির হন শিশু, নারী ও পুরুষ। সবারই প্রত্যাশা—বিগত বছরের সব গ্লানি মুছে নতুনের আবহে শুরু হোক বছরটি। বিভেদ ভুলে সাম্য আর ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সবার।

জানা গেছে, বরাবরের মতোই সংস্কৃতিবিরোধী অপশক্তিকে তুচ্ছ করে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে বাঙালি তার সর্ববৃহৎ উৎসব নতুন বছর বরণে ভয়কে জয় করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলা নতুন বছরের ভোরে কণ্ঠ ছেড়ে গান গেয়েছে ছায়ানট। এবার মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবাজরা হাজার হাজার বছরের পারস্য সভ্যতার ধ্বংসযজ্ঞে মত্ত-বিশ্ব জনজীবন যখন বিপর্যয়ের মুখে, তখন শান্তি, কল্যাণ ও স্বস্তির আকাঙ্ক্ষাও ছিল ছায়ানটের আয়োজনে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানট ১৯৬৭ সাল থেকে রমনার এই বটমূলে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। সে বছর রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে নববর্ষ বরণের প্রভাতি অনুষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল ভয়ের পরিবেশ থেকে বের হয়ে এসে সংগীতের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতিসত্তার পরিচয়কে তুলে ধরা। পয়লা বৈশাখের এ অনুষ্ঠান কালক্রমে দেশের সব ধর্ম, বর্ণের মানুষের কাছে এক অভিন্ন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবারও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ করা হলো রমনার এই বটমূল থেকেই।

১৯৬৭ সালে শুরু হওয়া এ উৎসব ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বছর ছাড়া প্রতিটি পহেলা বৈশাখে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়েছে সুরের মূর্ছনা আর কথামালায়। কোভিডের দুই বছর এ আয়োজন হয় ভার্চু্যয়ালি। ২০০১ সালে ছায়ানটের বৈশাখ বরণের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। তাতে ১০ জন নিহত হন। এরপর থেকে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে প্রতিবছর বর্ষবরণের এ আয়োজন চলছে।

বর্ষবরণের আয়োজন ঘিরে পুরো রমনা পার্ক এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়। বসানো হয় ডিএমপি ও র‍্যাবের কন্ট্রোল রুম। প্রবেশপথ ও বাহিরপথ আলাদা করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

উৎসবের আমেজে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
উৎসবের আমেজে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো বৈশাখী শোভাযাত্রা

উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখী শোভাযাত্রা।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর ও বেগম রোকেয়া হল এলাকা ঘুরে আবার চারুকলা অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়।

এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিদ্দিকুর রহমান খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য লুৎফর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং নগরবাসী।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে অংশ নিতে সকাল থেকেই চারুকলা এলাকায় ভিড় করেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ। অনেককে দেখা যায় সাদা-লাল রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে।

শোভাযাত্রার শুরুতে ছিল মহানগর পুলিশের ১০টি ঘোড়সওয়ার দল। তাদের পেছনে জাতীয় পতাকা বহন করে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর একটি দল অংশ নেয়।

এরপর মূল ব্যানারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষকবৃন্দ, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংসদ, কবিতা পরিষদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রার আকর্ষণ হিসেবে ছিল পাঁচটি বড় মোটিফ-মোরগ, বেহালা, শান্তির পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এছাড়া প্রায় ৪০ জন শিল্পীর বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনা এবং প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ পটচিত্রের স্ক্রল পেইন্টিং শোভাযাত্রায় বিশেষ মাত্রা যোগ করে। এতে অংশ নেয় দেশের ১০টি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও, যা আয়োজনটিকে বহুসাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে।

শোভাযাত্রায় অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত হাজারো মানুষ চারুকলা এলাকায় সমবেত হন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল রঙিন মুখোশ, প্রতীকী মোটিফ, গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপন এবং বাঙালির লোকজ সংস্কৃতির অনুষঙ্গ।
এবারের শোভাযাত্রায় গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তা এবং সম্প্রীতির বার্তা বিভিন্ন শিল্পকর্ম ও প্রতীকের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ আয়োজনটিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে চারুকলা এলাকা ও আশপাশের সড়কে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখী শোভাযাত্রা বাঙালির ঐতিহ্য, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন