খুঁজুন
                               
, ,
           

খালেদা জিয়ার জন্য দল-মত নির্বিশেষে শোক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
খালেদা জিয়ার জন্য দল-মত নির্বিশেষে শোক

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর কারাবাসের মুখে পড়েছেন বারবার। কখনও নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাহত দেশ। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক বার্তা এসেছে দল-মত-নির্বিশেষে।

আশির দশকে বিএনপির হাল ধরে খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে কী ভূমিকা রেখেছেন, পরবর্তীতে তিন দফা রাজপথ থেকে প্রধামন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে থেকে কাজ করে গেছেন- বিভিন্ন দল ও সংগঠনের শোকবার্তায় এসবই স্মরণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। দেশের স্বার্থ এবং গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার আপসহীনতার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন সবাই। কারণ, দেশের চরম সংকটেও তিনি ছিলেন অটল-অনড়। তিনি নিজেই বলতেন, ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নাই, এটাই (বাংলাদেশ) আমার ঠিকানা। এই দেশ, এই দেশের মাটি-মানুষই আমার সবকিছু। কাজেই আমি দেশের বাইরে যাব না।’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অভিভাবক, ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

দীর্ঘদিনের মিত্র থেকে জামায়াতে ইসলামী আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী, সমর্থকরাও খালেদা জিয়ার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসার কথা জানাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী বরাবরই খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াত নেতাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ফাঁসির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় খালেদা জিয়াকে বিশেষভাবে সম্মান করে জামায়াত। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বিশেষ দোয়া-মাহফিলেরও আয়োজন করতে দেখা গেছে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় রেখে গেছেন। আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

দমন-ষড়যন্ত্রের মুখে খালেদা জিয়া কখনো সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করেননি: এনসিপি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এক শোক বার্তায় বলেছেন, খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র রক্ষার এক অবিচল প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে অনন্য অবদান রেখেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ, দমন ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়ে খালেদা জিয়া কখনো নিজের আদর্শ, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকারের সঙ্গে আপস করেননি বলেও উল্লেখ করেছে এনসিপি। তারা বলেছে, খালেদা জিয়ার সাহস, দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা দেশের রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থায়ীভাবে চিহ্নিত হবে। খালেদা জিয়ার সংগ্রাম শুধু একটি সময়ের রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি সবার জন্য গণতন্ত্রের প্রতি অটল থাকার অনুপ্রেরণা, স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিজ্ঞা এবং দেশনেত্রী হিসেবে জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার এক অমলিন শিক্ষা। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, অনুসারী ও দেশের মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দলটি।

গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা জাতি স্মরণ রাখবে: সিপিবি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এক শোক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী বলেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও ভূমিকা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। লড়াকু ও দৃঢ় নেতৃত্বের জন্য তিনি ভবিষ্যতেও মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হবেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, অসংখ্য অনুসারী, সমর্থক ও শুভানুধ্যয়ীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান তাঁরা।

জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি: গণসংহতি আন্দোলন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক শোক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর মৃত্যু এ দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে। গণসংহতি আন্দোলন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, এক–এগারো সরকারের সময়ে তাঁর অনমনীয় ভূমিকা দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন মানুষের সাহসের উৎস। এ কারণেই তাঁকে বারবার ফ্যাসিবাদী সরকারের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে নারী হিসেবে কুৎসিত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু স্বভাবসুলভ ঔদার্য, মহানুভবতা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে সেসব কিছুর মোকাবিলা করেছেন তিনি। এসব বিষয়কে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে খালেদা জিয়া অগ্রাধিকার দিয়েছেন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বর্জন করে গণ–অভ্যুত্থানের পথ তৈরিতে তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল অন্যতম নির্ধারক। গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন এ দেশের রাজনৈতিক অভিভাবক। তাঁর মৃত্যু আমাদের জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

অবিসংবাদিত রাজনৈতিক অভিভাবক: হেফাজতে ইসলাম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সংগঠনটি। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক শোক বার্তায় বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সাহসী দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি মুসলিম নারী। ২০১৩ সালে আধিপত্যবাদ-প্রযোজিত শাহবাগের ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী জমায়েতকে তিনি ‘নাস্তিকদের চত্বর’ আখ্যা দিয়েছিলেন। হেফাজতের ৫ মের ঐতিহাসিক ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আলেম-ওলামার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাঁর আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা সব সময় জনগণকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি পুরো জাতির অবিসংবাদিত রাজনৈতিক অভিভাবকে পরিণত হয়েছিলেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার সুদীর্ঘ আন্দোলন ও অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে শোক বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি খালেদা জিয়ার সেই আধিপত্যবাদবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে আপসহীন রাজনীতি অব্যাহত রাখবে বলে তাঁরা আশা ব্যক্ত করেন।

চরমোনাই পীরের শোক
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক চর্চায় ও ইতিহাসে খালেদা জিয়া একজন উজ্জ্বল ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন রেজাউল করীম।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন: কর্নেল অলি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও আদর্শ ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে: জাতীয় পার্টি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। এক শোক বার্তায় তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমার পুত্র তারেক রহমানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান। শোক বার্তায় জাতীয় পার্টির নেতারা বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির আপসহীন নেত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। রাজনীতির যে সাহসী শিক্ষা ও আদর্শ তিনি দিয়ে গেছেন, তা ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের জন্য তাঁর ত্যাগ ও আত্মনিবেদন জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে।

গণতান্ত্রিক উত্তরণকালে তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল: এবি পার্টি
গভীর শোক প্রকাশ করে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ যৌথ শোক বার্তায় বলেছেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘকাল ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবি পার্টি বলেছে, ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকাল থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদী যুগে আধিপত্যবাদের ক্রীতদাসেরা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে এই মহীয়সী নেত্রীকে কারাবন্দী করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাঁকে ন্যূনতম চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, যা জাতি হিসেবে চরম লজ্জাজনক। মূলত দীর্ঘকালের শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও চরিত্রহননের মতো অমানবিক জেল–জুলুমের পরিণতিতেই আজ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটেছে। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকালে তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। খালেদা জিয়ার শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করবেন তাঁরা।

একটি দলের নয়, এটি পুরো জাতির অপূরণীয় ক্ষতি: গণ অধিকার পরিষদ
গভীর শোক প্রকাশ করে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন এক যৌথ শোক বার্তায় বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এ ভূখণ্ডের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অনন্য অনুপ্রেরণা। স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে তিনি আজীবন যে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু কোনো একটি দলের নয়, এটি পুরো জাতির অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, তাঁর অনুপস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর দৃঢ়তা এবং জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর অকুতোভয় অবস্থান ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিবিদদের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

দৃঢ়তা ও আপসহীন ভূমিকা দেশবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে: বাসদ
বাংলদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ আজ এক বিবৃতিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বাসদ বলেছে, আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ–আন্দোলনে খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও আপসহীন ভূমিকা দেশবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের গণ–আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংগ্রাম জারি রাখার জন্য বিএনপির সব নেতা–কর্মী ও সব গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

খেলাফত মজলিসের শোক
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। খেলাফত মজলিসের এই দুই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। পরিশীলিত রাজনৈতিক ভাষা ও সংযমবোধ তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও মর্যাদাবান করেছিল।

এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। এক যৌথ শোক বার্তায় নেতারা বলেছেন, গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় খালেদা জিয়া জীবনের দীর্ঘ সময় নিরলসভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। কারাবরণ, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মাথা নত করেননি। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি ও জাতীয় যুবশক্তি।

কালের আলো/জেএন/এইচএন

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭জুলাই) রাত সোয়া ৯ টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টি-সংলগ্ন চৌরঙ্গী মার্কেটের দক্ষিণ পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০) মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী সাইদুল জানান, রাতে মুন্সি বাড়ি রোডে সাইফুল ইসলাম সিজু তার নিজ অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জাকির হোসেনের শান্তর (২৭) নেতৃত্বে ৩/৫জন এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে সাইফুলের কোমরে এবং দুই পায়ে গুলি লাগে।

সিজু গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ​গোলাগুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু জনতা ধাওয়া করে এক যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে শান্ত ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দুই গোল পিছিয়ে থেকেও শেষ সময়ে জয় পেল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:২০ পূর্বাহ্ণ
দুই গোল পিছিয়ে থেকেও শেষ সময়ে জয় পেল আর্জেন্টিনা

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে (শেষ আট) জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরুটা ছিল মিশরের পক্ষে। প্রথমার্ধেই ইয়াসির ইব্রাহিমের হেডে এগিয়ে যায় তারা। এরপর মোস্তফা জিকো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বড় অঘটনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে মিশর।

তবে পিছিয়ে পড়ে হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে প্রথমে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোলে ব্যবধান কমায় তারা। এরপর দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান।

এর আগে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেও মেসি শেষ পর্যন্ত নিজের অষ্টম গোল তুলে নেন। এই গোলের মাধ্যমে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও নিজের অবস্থান শক্ত করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। লাউতারো মার্টিনেজের দুর্দান্ত ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোলের আগে ফাউলের অভিযোগ তুলে ভিএআরের কাছে আবেদন করে মিশর। কিন্তু পর্যালোচনার পর গোল বহাল রাখেন কর্মকর্তারা। প্রতিবাদের কারণে মিশরের কোচিং স্টাফের এক সদস্য লাল কার্ড দেখেন।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হয় বিশ্বকাপ। ০-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মেসির পেনাল্টি মিসে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
মেসির পেনাল্টি মিসে পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা

চলতি আসরে প্রথমবার আর্জেন্টিনা পিছিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করল। শুরুতেই তারা গোল হজম করে। পেনাল্টি মিস করার কারণে গোল শোধ দিতে পারেনি তারা। মিশর ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু করবে।

শুরুতেই আর্জেন্টিনার জাল কাঁপায় মিশর। ১৫ মিনিটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে।

মিশরীয় ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেড করেন। বলটিকে পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে জালের ভেতরে পাঠান তিনি। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ক্রস বাড়িয়ে এই গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেন মারওয়ান আতিয়া।

১৫ মিনিটে গোল খাওয়ার পর পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে গোল শোধ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি মেসি।

তাগলিয়াফিকো মিশরের বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হন। ২১ মিনিটে মেসি পেনাল্টি কিক নেন। তার বাম পায়ের শট বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা শোবেইর।

বিশ্বকাপে নেওয়া মোট ৮টি পেনাল্টির মধ্যে ৪টিই মিস করলেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পেনাল্টি গোল করতে পারেননি তিনি।

মেসি শটটি গোলরক্ষকের বাঁ দিক ঘেঁষে নিলেও তাতে যথেষ্ট গতি ছিল না। মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা সঠিক উচ্চতায় থাকা বলটিকে দারুণভাবে প্রতিহত করেন।

গোলরক্ষক মোস্তফার জন্যও এটি এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ। এর আগে গ্রুপ পর্বে ইরানের তারেমির পেনাল্টিও তিনি একইভাবে আটকে দিয়েছিলেন।

২৮ মিনিটে আরেকবার আর্জেন্টিনাকে ফিরিয়ে দেন মোস্তফা। রদ্রিগো ডি পলের ক্রসে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড ডানদিকে ঝুঁকে রুখে দেন তিনি।

১০ মিনিট পর মেসির বাঁ পায়ের শট গোলবারের অনেক উপর দিয়ে যায়। পরের মিনিটেই তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে আলভারেজ শট নেন। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দেন মোস্তফা।

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি