খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

খালেদা জিয়ার জন্য দল-মত নির্বিশেষে শোক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:০৯ পূর্বাহ্ণ
খালেদা জিয়ার জন্য দল-মত নির্বিশেষে শোক

জারিফ নিহাল, কালের আলো:

প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা আর কারাবাসের মুখে পড়েছেন বারবার। কখনও নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোকাহত দেশ। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোক বার্তা এসেছে দল-মত-নির্বিশেষে।

আশির দশকে বিএনপির হাল ধরে খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে কী ভূমিকা রেখেছেন, পরবর্তীতে তিন দফা রাজপথ থেকে প্রধামন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মাঠে থেকে কাজ করে গেছেন- বিভিন্ন দল ও সংগঠনের শোকবার্তায় এসবই স্মরণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। দেশের স্বার্থ এবং গণতন্ত্রের জন্য খালেদা জিয়ার আপসহীনতার প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন সবাই। কারণ, দেশের চরম সংকটেও তিনি ছিলেন অটল-অনড়। তিনি নিজেই বলতেন, ‘দেশের বাইরে আমার কোনো ঠিকানা নাই, এটাই (বাংলাদেশ) আমার ঠিকানা। এই দেশ, এই দেশের মাটি-মানুষই আমার সবকিছু। কাজেই আমি দেশের বাইরে যাব না।’

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল। খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অভিভাবক, ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

দীর্ঘদিনের মিত্র থেকে জামায়াতে ইসলামী আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান থেকে শুরু করে তৃণমূলের কর্মী, সমর্থকরাও খালেদা জিয়ার প্রতি তাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসার কথা জানাচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামী বরাবরই খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আওয়ামী লীগ আমলে জামায়াত নেতাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ফাঁসির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় খালেদা জিয়াকে বিশেষভাবে সম্মান করে জামায়াত। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বিশেষ দোয়া-মাহফিলেরও আয়োজন করতে দেখা গেছে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান এক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের ভোটাধিকার এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি আরও বলেন, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় রেখে গেছেন। আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

দমন-ষড়যন্ত্রের মুখে খালেদা জিয়া কখনো সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস করেননি: এনসিপি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এক শোক বার্তায় বলেছেন, খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র রক্ষার এক অবিচল প্রতিক্রিয়া হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তিনি সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে অনন্য অবদান রেখেছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ, দমন ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়ে খালেদা জিয়া কখনো নিজের আদর্শ, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকারের সঙ্গে আপস করেননি বলেও উল্লেখ করেছে এনসিপি। তারা বলেছে, খালেদা জিয়ার সাহস, দৃঢ়তা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা দেশের রাজনীতিতে এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থায়ীভাবে চিহ্নিত হবে। খালেদা জিয়ার সংগ্রাম শুধু একটি সময়ের রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি সবার জন্য গণতন্ত্রের প্রতি অটল থাকার অনুপ্রেরণা, স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিজ্ঞা এবং দেশনেত্রী হিসেবে জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার এক অমলিন শিক্ষা। মহান আল্লাহর কাছে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, অনুসারী ও দেশের মানুষের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে দলটি।

গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা জাতি স্মরণ রাখবে: সিপিবি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। এক শোক বিবৃতিতে সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী বলেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ও ভূমিকা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। লড়াকু ও দৃঢ় নেতৃত্বের জন্য তিনি ভবিষ্যতেও মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হবেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন, অসংখ্য অনুসারী, সমর্থক ও শুভানুধ্যয়ীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান তাঁরা।

জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি: গণসংহতি আন্দোলন
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক শোক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর মৃত্যু এ দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করবে। গণসংহতি আন্দোলন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, এক–এগারো সরকারের সময়ে তাঁর অনমনীয় ভূমিকা দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেও তিনি ছিলেন মানুষের সাহসের উৎস। এ কারণেই তাঁকে বারবার ফ্যাসিবাদী সরকারের আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে নারী হিসেবে কুৎসিত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু স্বভাবসুলভ ঔদার্য, মহানুভবতা ও আত্মমর্যাদার সঙ্গে সেসব কিছুর মোকাবিলা করেছেন তিনি। এসব বিষয়কে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে খালেদা জিয়া অগ্রাধিকার দিয়েছেন। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন বর্জন করে গণ–অভ্যুত্থানের পথ তৈরিতে তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল অন্যতম নির্ধারক। গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন এ দেশের রাজনৈতিক অভিভাবক। তাঁর মৃত্যু আমাদের জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।

অবিসংবাদিত রাজনৈতিক অভিভাবক: হেফাজতে ইসলাম
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সংগঠনটি। হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক শোক বার্তায় বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন সাহসী দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি মুসলিম নারী। ২০১৩ সালে আধিপত্যবাদ-প্রযোজিত শাহবাগের ফ্যাসিবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী জমায়েতকে তিনি ‘নাস্তিকদের চত্বর’ আখ্যা দিয়েছিলেন। হেফাজতের ৫ মের ঐতিহাসিক ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচির প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন জানিয়ে আলেম-ওলামার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাঁর আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থান ও ভূমিকা সব সময় জনগণকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি পুরো জাতির অবিসংবাদিত রাজনৈতিক অভিভাবকে পরিণত হয়েছিলেন। ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার সুদীর্ঘ আন্দোলন ও অপরিসীম ত্যাগ-তিতিক্ষা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে শোক বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি খালেদা জিয়ার সেই আধিপত্যবাদবিরোধী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে আপসহীন রাজনীতি অব্যাহত রাখবে বলে তাঁরা আশা ব্যক্ত করেন।

চরমোনাই পীরের শোক
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক চর্চায় ও ইতিহাসে খালেদা জিয়া একজন উজ্জ্বল ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলেন। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন রেজাউল করীম।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন: কর্নেল অলি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশ ও জাতির সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপসহীন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

খালেদা জিয়ার শিক্ষা ও আদর্শ ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে: জাতীয় পার্টি
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। এক শোক বার্তায় তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমার পুত্র তারেক রহমানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান। শোক বার্তায় জাতীয় পার্টির নেতারা বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির আপসহীন নেত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। রাজনীতির যে সাহসী শিক্ষা ও আদর্শ তিনি দিয়ে গেছেন, তা ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের জন্য তাঁর ত্যাগ ও আত্মনিবেদন জাতি চিরদিন স্মরণে রাখবে।

গণতান্ত্রিক উত্তরণকালে তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল: এবি পার্টি
গভীর শোক প্রকাশ করে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ যৌথ শোক বার্তায় বলেছেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘকাল ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থেকে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবি পার্টি বলেছে, ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকাল থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদী যুগে আধিপত্যবাদের ক্রীতদাসেরা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে এই মহীয়সী নেত্রীকে কারাবন্দী করে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তাঁকে ন্যূনতম চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, যা জাতি হিসেবে চরম লজ্জাজনক। মূলত দীর্ঘকালের শারীরিক, মানসিক নির্যাতন ও চরিত্রহননের মতো অমানবিক জেল–জুলুমের পরিণতিতেই আজ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু ঘটেছে। দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকালে তাঁর নেতৃত্ব অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। খালেদা জিয়ার শূন্যতা গভীরভাবে অনুভব করবেন তাঁরা।

একটি দলের নয়, এটি পুরো জাতির অপূরণীয় ক্ষতি: গণ অধিকার পরিষদ
গভীর শোক প্রকাশ করে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন এক যৌথ শোক বার্তায় বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন এ ভূখণ্ডের মানুষের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অনন্য অনুপ্রেরণা। স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে তিনি আজীবন যে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ও গৌরবময় অধ্যায় হয়ে থাকবে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু কোনো একটি দলের নয়, এটি পুরো জাতির অপূরণীয় ক্ষতি উল্লেখ করে গণ অধিকার পরিষদ বলেছে, তাঁর অনুপস্থিতিতে দেশের রাজনীতিতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর দৃঢ়তা এবং জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর অকুতোভয় অবস্থান ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিবিদদের জন্য শিক্ষণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

দৃঢ়তা ও আপসহীন ভূমিকা দেশবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে: বাসদ
বাংলদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ আজ এক বিবৃতিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে বাসদ বলেছে, আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ–আন্দোলনে খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা ও আপসহীন ভূমিকা দেশবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের গণ–আকাঙ্ক্ষা পূরণে সংগ্রাম জারি রাখার জন্য বিএনপির সব নেতা–কর্মী ও সব গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

খেলাফত মজলিসের শোক
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের। তাঁরা মরহুমার রুহের মাগফিরত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। খেলাফত মজলিসের এই দুই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া ইসলামি মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। পরিশীলিত রাজনৈতিক ভাষা ও সংযমবোধ তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও মর্যাদাবান করেছিল।

এদিকে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান। এক যৌথ শোক বার্তায় নেতারা বলেছেন, গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় খালেদা জিয়া জীবনের দীর্ঘ সময় নিরলসভাবে সংগ্রাম করে গেছেন। কারাবরণ, নির্যাতন ও নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি মাথা নত করেননি। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ঐক্য ন্যাপ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি ও জাতীয় যুবশক্তি।

কালের আলো/জেএন/এইচএন

পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

পরিশ্রম ও সততা মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস চেয়ারম্যান এসব বলেন। চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চারটি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়।

রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসাইন, গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী এবং নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম সুমন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমরা দেশের আগামীর স্বপ্ন সারথী। স্বপ্নই মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং বড় হওয়ার সাহস দেয়। যার স্বপ্ন যত বড়, সে তত বড় মানুষ। একজন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন। বড় স্বপ্ন দেখা এবং তা অর্জনের জন্য সততার সঙ্গে পরিশ্রম করাই মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়।

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমাদের স্বপ্ন সফল করতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমই তোমাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আর মাদকের অতলগ্রাসী ছোবল এবং সোশাল মিডিয়ার কুপ্রভাব থেকে নিজেদের হেফাজত করতে হবে।

ড. মো. আতাউর রহমান শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, গজারিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার সাহা, গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোক্তার হোসেন ও ফিরোজ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মুক্তার হোসেন ভূইয়া। অনুষ্ঠানে গজারিয়া পাইলট মডেল হাই স্কুল, গজারিয়া গার্লস হাই স্কুল, ইসমানিচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের সফলতা কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই তথ্য জানিয়েছে।

তেহরান-ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও দ্বিতীয় দফার বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বার্তা নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির মাঝে ইসরায়েল ওই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি ওই সূত্র বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে চুক্তির বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে এবং বিবদমান দুই পক্ষই আলোচনার পরবর্তী দফার জন্য শিগগিরই পুনরায় বৈঠকে বসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তারা বলেছেন, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হতে যাওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন; যাতে কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। আঞ্চলিক ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে উভয় পক্ষই ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিতর্কিত বিষয়—পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান সফরে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মাঝে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসন এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে ‘আশার আলো’ দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এই আশাবাদ তৈরি করেছে। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

গত শনিবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি দুই দেশের মধ্যে বিরল সরাসরি বৈঠকগুলোর একটি। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও সংলাপ শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ঘনিয়ে এসেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ। হ্যাঁ, আমি এটিকে শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি বলেই মনে করি।”

এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এ জন্য পাকিস্তানকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান কেন প্রথম পছন্দ—এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, “এর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ—এ কারণে আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমরা এমন কোনো দেশে কেন যাব, যার এ বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই?”

পাকিস্তানের উদ্যোগ
মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকায় তারা মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হবে। আর তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেহবাজ শরিফ। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার।

অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা সমন্বয়ের লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল এই সফর করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘বার্তা আদান-প্রদান’ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় তেহরানে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানি কর্মকর্তারা। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বাঘাই আরও জানান, ইরান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। তবে এ কর্মসূচির ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য দুই পক্ষকেই কঠিন কিছু শর্তে ছাড় দিতে হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান বড় বাধা হয়ে আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেভিড মিলার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

সিএনএনকে তিনি বলেন, ইরান তাড়াহুড়ো করে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়; বরং তাদের হাতে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তারা আলোচনায় কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ হুসাইন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই সংলাপ আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি করতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইরান বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, আলোচনার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখেও ইরান নতিস্বীকার করেনি। তাই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কূটনৈতিক আপসের পথেই এগোতে হবে।

পাকিস্তানের সাবেক নৌ কমোডর ও কূটনীতিক মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল জাজিরাকে বলেন, প্রথম দফার আলোচনাতেই বড় কোনো অগ্রগতি আশা করা অবাস্তব ছিল। তবে দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসানোই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। দ্বিতীয় দফার উদ্যোগ প্রমাণ করে, কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন