খুঁজুন
                               
শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ২৬ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

তারেক রহমানের দিকেই সবার চোখ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের দিকেই সবার চোখ

কালের আলো রিপোর্ট:

দূর প্রবাসের নির্বাসিত জীবনে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলকে করেছিলেন সুসংহত। ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন দলীয় নেতাকর্মীদের। তিনি এখন দেশে। এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতি। ক’দিন আগেও তাঁর মাথার ওপর বিশাল ছায়া ছিলেন মা ‘মাদার অব ডেমোক্র্যাসি’ বেগম খালেদা জিয়া। পরম নিশ্চিন্তের ঠিকানা মায়ের আঁচল চিরতরে বিলীন। অজেয় হিমালয় মাকে হারানো জীবনের সবচেয়ে বেদনাবিধুর মুহুর্ত অতিক্রম করছেন তিনি। তাঁর কাঁধে শুধু দল পরিচালনা নয় দেশ গড়ার দায়িত্বও। জনতার সমুদ্রে দাঁড়িয়েই বলেছিলেন-‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে তাঁর মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা হিসেবে সর্বমহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। সবার চোখ এখন তারেক রহমানের দিকেই। এক মুহুর্তও বসে নেই তিনিও। মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকরাও। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

দল ও দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের চলার পথটি সহজ হবে না মোটেও। বেগম জিয়ার অবর্তমানে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমান গুরুত্ব দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটগুলো নিরসনে প্রতিটি পথ অগ্রসর হতে হবে বিচক্ষণতার সঙ্গে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে দেশে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রধান দায়িত্বও তাঁর। তারেক রহমান ইতোমধ্যেই তাঁর পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথচিত্র তুলে ধরেছেন। জনগণের বিপুল সমর্থন আর তার পরিণত নেতৃত্ব যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তবে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‘সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে’ বদ্ধপরিকর তারেক রহমান। এটি তাঁর জনতার কাছে দেওয়া ওয়াদা। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দলের ঐক্য ও সংহতির কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছেন। তাঁর ওপরই নির্ভর করছে বিএনপির তথা দেশের আগামীর রাজনীতির গতিপথ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় কর্মকাণ্ডও শক্ত হাতে সামাল দিচ্ছেন। ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত থাকলেও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে সার্বক্ষণিক সংযোগ ছিল তাঁর। নিজের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করেছেন। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মাহদী আমিন নিয়মিত ব্রিফিং করবেন।’ এর আগে আসন্ন সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব সামলাবেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দলীয় সূত্র জানায়, দল এখন নির্বাচনী তফসিলের বিভিন্ন ধাপগুলো সামনে রেখে এগোচ্ছে। মনোনয়ন বাছাই শেষে চলবে আপিল। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ, ইশতেহার চূড়ান্তকরণ। তারেক রহমান চান প্রতিটি ধাপে যেন কোন অবস্থাতেই অপ্রত্যাশিত বার্তা না যায় ভোটারদের কাছে। সব শেষে মা বেগম খালেদা জিয়ার মতোই সিলেট থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারে নামবেন। বিএনপির নেতারা বলছেন, বিএনপির ওপর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। এ কারণে দলের ভেতরে-বাইরে প্রতিটি বিষয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

দলীয় কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলছেন। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (০৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহোসেইন আকবরআলী, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন ও এ কে আজাদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী উপস্থিত আছেন। এ ছাড়া পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আব্দুল মোকতাদির, বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামিম এহসান এবং ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ডাকসু’র নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারেক রহমান।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে তাঁকে দেখা হতো। দলটির নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও এবারের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে থাকবেন তিনি। তাঁর মৃত্যু-শোককে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে দল-মতের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়া নেতা খালেদা জিয়ার তাঁর জানাজা ও অন্তিম বিদায়ে মানুষের বাঁধভাঙা উপস্থিতি এবং বহির্বিশ্বের শ্রদ্ধা-নির্বাচনে কাজ লাগানোর চেষ্টা থাকবে। অর্থাৎ জনসমর্থনের ঢেউকে ভোটে রূপান্তরের চেষ্টা। বিএনপির লক্ষ্য, এই আবেগকে সাংগঠনিকভাবে ধরে রাখা। সে জন্য প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় করা, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা, জনসভা, উঠান বৈঠক ও ব্যক্তি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এক পোস্টে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা তাঁর পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। খালেদা জিয়া নামটি মানুষের কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন। এর আগে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে ৩১ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্তির পর দেওয়া পোস্টে তারেক রহমান লিখেন, ‘এই সময় দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া তাঁর পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন; অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।’ তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোয় প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলো, দেশ-বিদেশের নেতা, কূটনীতিক এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারেক রহমান।

বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক, দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তিনি নিজেও এই পদ ব্যবহার করেননি এখনও। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থীর প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে, সেটা এখনো মীমাংসিত হয়নি। তবে বিষয়টি খোলাসা করেছেন লটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (০৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি বলেছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, কিন্তু আমার মনে হয় দু-এক দিনের মধ্যে আমরা তাঁকে চেয়ারম্যান করতে পারব। কারণ, অলরেডি আমাদের দেশনেত্রী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই জায়গা আমাদেরকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন, আমরা আশা করি, এবারও তা হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সকলের প্রত্যাশা তিনি (তারেক রহমান) সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।’

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের তৈরি স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
কলেজছাত্র ওয়াকিমুলের তৈরি স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কলেজছাত্র শারীরিক প্রতিবন্ধী ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি করা বিশেষ স্মার্ট কারে চড়ে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ওয়াকিমুল ইসলামের তৈরি করা বিশেষ স্মার্ট কার পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীনসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসএকে

পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন রোববার, পদক পাচ্ছেন ১০৭ সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ণ
পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন রোববার, পদক পাচ্ছেন ১০৭ সদস্য

Oplus_131072

শুরু হচ্ছে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬।  রোববার (১০ মে) উদ্বোধনী দিনে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সাহসিকতা, বীরত্ব ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ পুলিশের ১০৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তাদের পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রতি বছরের মতো এবারও পুলিশ সপ্তাহকে ঘিরে নানা প্রত্যাশা রয়েছে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে। আগের বছরের বিশেষ অবদানের স্বীকৃতির পাশাপাশি সরকারপ্রধানের কাছে বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব তুলে ধরার সুযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন পুলিশের নীতিনির্ধারকরা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের পুলিশ সপ্তাহে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, দূতাবাস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন, কেন্দ্রীয় সাইবার ক্রাইম ইউনিট গঠন, পুলিশের জন্য আলাদা মেডিকেল সার্ভিস চালু, সিলেট ও বরিশালে নতুন ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ গ্রহণ এবং এভিয়েশন পুলিশ গঠন।

কালের আলো/এসএকে

ঢাকায় এসে পৌঁছেছে বৃষ্টির মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় এসে পৌঁছেছে বৃষ্টির মরদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনের পর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

শনিবার (৯ মে) সকাল সোয়া ৯টার দিকে তাকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (ইকে-০৫৮২) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তার মরদেহ গ্রহণের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।

মরদেহ বুঝে নিতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন বৃষ্টির স্বজনরা। তার মা ও বাবা বাকরুদ্ধ। তাদের স্বপ্ন নিমিষেই শেষ। স্বজন ও সহপাঠীরা জানান, বৃষ্টি অত্যন্ত মেধাবী ও চঞ্চল মেয়ে ছিলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে বৃষ্টির স্বপ্ন ছিল পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করবেন। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চান সবাই।

গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটসের একটি ফ্লাইট বৃষ্টির মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। এই যাত্রায় ট্রানজিট হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে। সেখান থেকে দুবাইয়ে ফ্লাইট পরিবর্তন করে ইকে ০৫৮২ ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ নিয়ে ঢাকায় আসা হয়।

এর আগে, গেল সোমবার (৪ মে) সকালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় ফ্লোরিডায় হত্যাকাণ্ডের শিকার আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের পর ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা পিএইচডির দুই শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বসন্তকালীন সমাবর্তনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধির হাতে সম্মানসূচক ডিগ্রি তুলে দেওয়া হয়। এ সময় তাদের সম্মানে অনুষ্ঠানস্থলে দুটি চেয়ার ফাঁকা থাকে।

গত ১৬ এপ্রিল সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হন। আট দিন পর ২৪ এপ্রিল জামিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কয়েকদিনের ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৩০ এপ্রিল শনাক্ত হয় বৃষ্টির মরদেহ।

দুই শিক্ষার্থী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত জামিলের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২৬ এপ্রিল হিলসবরো কাউন্টি আদালতে দাখিল করা নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুটি ফার্স্ট-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এরপর তার মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

আগামী ১৮ মে স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় হিলসবরো কাউন্টি আদালতে মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলার প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করবেন লিঞ্জি হোজেস। তাকে সহায়তা করবেন স্কট হারমেন, জন টেরি এবং জেসিকা কোভারটিয়ার।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ