খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

তারেক রহমানের দিকেই সবার চোখ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের দিকেই সবার চোখ

কালের আলো রিপোর্ট:

দূর প্রবাসের নির্বাসিত জীবনে থেকেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলকে করেছিলেন সুসংহত। ঐক্যবদ্ধ রেখেছিলেন দলীয় নেতাকর্মীদের। তিনি এখন দেশে। এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দেশের রাজনীতি। ক’দিন আগেও তাঁর মাথার ওপর বিশাল ছায়া ছিলেন মা ‘মাদার অব ডেমোক্র্যাসি’ বেগম খালেদা জিয়া। পরম নিশ্চিন্তের ঠিকানা মায়ের আঁচল চিরতরে বিলীন। অজেয় হিমালয় মাকে হারানো জীবনের সবচেয়ে বেদনাবিধুর মুহুর্ত অতিক্রম করছেন তিনি। তাঁর কাঁধে শুধু দল পরিচালনা নয় দেশ গড়ার দায়িত্বও। জনতার সমুদ্রে দাঁড়িয়েই বলেছিলেন-‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ একাগ্রতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে তাঁর মায়ের পথচলা থেমেছে, সেখান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন সেই পথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে। সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা হিসেবে সর্বমহলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। সবার চোখ এখন তারেক রহমানের দিকেই। এক মুহুর্তও বসে নেই তিনিও। মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছেন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিকরাও। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান জাতীয় স্বার্থে একসঙ্গে কাজের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

দল ও দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের চলার পথটি সহজ হবে না মোটেও। বেগম জিয়ার অবর্তমানে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সমান গুরুত্ব দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটগুলো নিরসনে প্রতিটি পথ অগ্রসর হতে হবে বিচক্ষণতার সঙ্গে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে দেশে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রধান দায়িত্বও তাঁর। তারেক রহমান ইতোমধ্যেই তাঁর পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পথচিত্র তুলে ধরেছেন। জনগণের বিপুল সমর্থন আর তার পরিণত নেতৃত্ব যদি সঠিক পথে পরিচালিত হয়, তবে বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

‘সবার জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে’ বদ্ধপরিকর তারেক রহমান। এটি তাঁর জনতার কাছে দেওয়া ওয়াদা। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ দলের ঐক্য ও সংহতির কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছেন। তাঁর ওপরই নির্ভর করছে বিএনপির তথা দেশের আগামীর রাজনীতির গতিপথ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় কর্মকাণ্ডও শক্ত হাতে সামাল দিচ্ছেন। ১৭ বছর বিদেশে নির্বাসিত থাকলেও মাঠের রাজনীতির সঙ্গে সার্বক্ষণিক সংযোগ ছিল তাঁর। নিজের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের সব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করেছেন। বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিনকে। রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘এখন থেকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র হিসেবে মাহদী আমিন নিয়মিত ব্রিফিং করবেন।’ এর আগে আসন্ন সংসদ নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব সামলাবেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

দলীয় সূত্র জানায়, দল এখন নির্বাচনী তফসিলের বিভিন্ন ধাপগুলো সামনে রেখে এগোচ্ছে। মনোনয়ন বাছাই শেষে চলবে আপিল। এরপর প্রার্থিতা প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ, ইশতেহার চূড়ান্তকরণ। তারেক রহমান চান প্রতিটি ধাপে যেন কোন অবস্থাতেই অপ্রত্যাশিত বার্তা না যায় ভোটারদের কাছে। সব শেষে মা বেগম খালেদা জিয়ার মতোই সিলেট থেকে তিনি নির্বাচনী প্রচারে নামবেন। বিএনপির নেতারা বলছেন, বিএনপির ওপর মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। এ কারণে দলের ভেতরে-বাইরে প্রতিটি বিষয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

দলীয় কর্মযজ্ঞ সম্পাদনের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গেও সরাসরি কথা বলছেন। দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (০৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহোসেইন আকবরআলী, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন ও এ কে আজাদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মতিন চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল, উত্তরা মোটর করপোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আইসিসি বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী উপস্থিত আছেন। এ ছাড়া পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বিসিএমইএর সভাপতি ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আব্দুল মোকতাদির, বিএবির সভাপতি আব্দুল হাই সরকার, সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক, বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামিম এহসান এবং ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ডাকসু’র নেতৃত্বের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন তারেক রহমান।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে গত ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হিসেবে তাঁকে দেখা হতো। দলটির নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন, বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও এবারের নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে থাকবেন তিনি। তাঁর মৃত্যু-শোককে রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবে বিএনপি। বিশেষ করে মৃত্যুর আগে দল-মতের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়া নেতা খালেদা জিয়ার তাঁর জানাজা ও অন্তিম বিদায়ে মানুষের বাঁধভাঙা উপস্থিতি এবং বহির্বিশ্বের শ্রদ্ধা-নির্বাচনে কাজ লাগানোর চেষ্টা থাকবে। অর্থাৎ জনসমর্থনের ঢেউকে ভোটে রূপান্তরের চেষ্টা। বিএনপির লক্ষ্য, এই আবেগকে সাংগঠনিকভাবে ধরে রাখা। সে জন্য প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় করা, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা, জনসভা, উঠান বৈঠক ও ব্যক্তি যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এক পোস্টে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা তাঁর পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। খালেদা জিয়া নামটি মানুষের কাছে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন। এর আগে লাখ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে ৩১ ডিসেম্বর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে খালেদা জিয়াকে সমাহিত করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্তির পর দেওয়া পোস্টে তারেক রহমান লিখেন, ‘এই সময় দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া তাঁর পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন; অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।’ তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোয় প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্রগুলো, দেশ-বিদেশের নেতা, কূটনীতিক এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারেক রহমান।

বিএনপির গঠনতন্ত্র মোতাবেক, দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। যদিও দলের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তিনি নিজেও এই পদ ব্যবহার করেননি এখনও। এ অবস্থায় দলীয় প্রার্থীর প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুনে কার ছবি ব্যবহার করা যাবে, সেটা এখনো মীমাংসিত হয়নি। তবে বিষয়টি খোলাসা করেছেন লটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (০৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট নগরের বিমানবন্দর সড়ক এলাকায় উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি বলেছেন, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, কিন্তু আমার মনে হয় দু-এক দিনের মধ্যে আমরা তাঁকে চেয়ারম্যান করতে পারব। কারণ, অলরেডি আমাদের দেশনেত্রী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই জায়গা আমাদেরকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে।’ বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যেভাবে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতেন, আমরা আশা করি, এবারও তা হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সকলের প্রত্যাশা তিনি (তারেক রহমান) সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।’

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়

হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র জিলকদ মাসের তারিখ নির্ধারণে আজ সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা টেলিফোন নম্বর: ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল নিহত

খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল নিহত

খুলনার রেলওয়ে পুলিশ লাইনে ডিউটিরত অবস্থায় এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (২য় ফেজ) রেলওয়ে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (বিপি নং: ৯৯১৮২১৪৯২৯)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার পদ্মবিলা এলাকার বাসিন্দা শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে।

জানা গেছে, গত বছরের ৩ নভেম্বর তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। তার স্ত্রী পূজা বিশ্বাস সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত একজন নারী পুলিশ সদস্য।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সম্রাট বিশ্বাসের ডিউটি নির্ধারিত ছিল। দায়িত্ব পালনকালে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ব্যবহৃত চাইনিজ রাইফেল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ডিউটিরত অবস্থায় মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার মাধ্যমে সম্রাট বিশ্বাস আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন পুলিশ সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এর পেছনের কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকে নজর রয়েছে।

কালের আলো/ইএম 

 

৬ ম্যাচেও জয়হীন, লজ্জার নজির কলকাতার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
৬ ম্যাচেও জয়হীন, লজ্জার নজির কলকাতার

চলতি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুঃসময় যেন কাটছেই না। এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। শুক্রবার গুজরাটের কাছে ৫ উইকেটে হারের পর নতুন আরেকটি লজ্জার নজির গড়েছে কলকাতা।

গুজরাটের কাছে হারায় আইপিএলের ইতিহাসে পঞ্চম দল হিসেবে কোনো মৌসুমের প্রথম ৬টি ম্যাচেই জয়হীন থাকল কেকেআর।

প্রথম দল হিসেবে লজ্জার এই নজির গড়েছিল ডেকান চার্জার্স (তৎকালীন নাম)। তারা ২০১২ সালের আইপিএলের প্রথম ৬টি ম্যাচ জিততে পারেনি। দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০১৩ সালে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস (তৎকালীন নাম) মৌসুমের প্রথম ছ’টি ম্যাচে জয় পায়নি।

২০১৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকেও একই লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২২ সালের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স প্রথম ৬টি ম্যাচ জিততে পারেনি। পঞ্চম দল হিসেবে এই তালিকায় নাম উঠল তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কেকেআরের।

ইডেন গার্ডেন্সের পাঞ্জাব কিংস ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ১ পয়েন্ট পান রাহানেরা। বাকি পাঁচটি ম্যাচেই হেরেছেন তারা। ফলে মৌসুমের প্রথম ছ’টি ম্যাচে জয় পেল না নাইট শিবির। বাজে ফর্মে পয়েন্ট তালিকায় ১০ নম্বরে রয়েছে শাহরুখের দল।

কালের আলো/এসএকে