খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

অশ্রুসিক্ত জুলাই শহীদদের স্বজন ও আহতরা, পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৬ অপরাহ্ণ
অশ্রুসিক্ত জুলাই শহীদদের স্বজন ও আহতরা, পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের

মো.শামসুল আলম খান,কালের আলো:

এবার সশরীরে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তারা শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং সান্ত্বনা দিয়েছেন। তাদের কাছে পেয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবার ও আহতদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এমন দৃশ্য দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান অতিথি সারিতে শহীদ পরিবারের সঙ্গে বসেছিলেন। শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লে পুরো অনুষ্ঠানস্থলের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘চব্বিশের যোদ্ধারাও ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হবেন। তার কথায় একাত্তরের অর্জিত স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ‘রক্ষা হয়েছে চব্বিশের আন্দোলনে’। তিনি বলেন, ‘কারণ তারাও (২৪’র যোদ্ধারা) একজন মুক্তিযোদ্ধা। তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনারা গণ্য। একাত্তর সালে এই দেশের মানুষ মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছিলেন, এই দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যোদ্ধারা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ২৪’র যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন… তারা স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অর্জিত হয়েছিল একাত্তর সালে। তাকেই আবার রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে। সেজন্যই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আপনাদের জন্য আরেকটি বিভাগ তৈরি করব।’

অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নেতাকর্মীদের পরিবার এবং আহত নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। কেউ কেউ স্ক্র্যাচে ভর দিয়ে, আবার কেউ হুইলচেয়ারে করে অনুষ্ঠানে আসেন। এ সময় তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। অনেকেই তাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ শহীদ হওয়া স্বজনদের ছবি সঙ্গে নিয়ে আসেন। আপনজন হারানোর বেদনা এবং নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন তারা। তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শোনেন এবং হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দেন। একইসঙ্গে সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের দেখভালের জন্য ‘আলাদা বিভাগ’
জনগণের সমর্থন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘আলাদা একটি বিভাগ খোলা হবে’ বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন কথা আপনাদের কষ্টের কথা, ব্যথার কথা, ত্যাগের কথা বলার জন্য ব্যাকুলভাবে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছিলেন। অস্থিরভাবে প্রকাশ করছিলেন নিজের মনের কষ্টের কথা। তখন আমি এবং নজরুল ইসলাম খান সাহেব বসে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। বিএনপি এর আগে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তারা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় নামক একটি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে যা ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন অর্থাৎ এক কথায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের কল্যাণ তারা দেখভাল করে থাকে।

‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী দিনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে এই শহীদ পরিবার যারা আছেন জুলাই যোদ্ধা যারা আছেন, জুলাই আন্দোলনের যারা শহীদ পরিবার বা যোদ্ধা আছেন তাদের যে কষ্টের কথাগুলো যে কয়জন ব্যক্তি, যে কয়জন মানুষ তুলে ধরেছেন, সেই কষ্টগুলোর যাতে আমরা কিছুটা হলেও সমাধান করতে পারি…যাকে আমরা হারিয়ে ফেলেছি তাকে তো আমরা ফিরিয়ে আনতে পারবো না। কিন্তু যারা পেছনে রয়ে গিয়েছেন সেই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধাগুলো যাতে দেখভাল করতে পারি সেজন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আমরা আরেকটি ডিপার্টমেন্ট তৈরি করব…যাদের দায়িত্ব হবে এই মানুষগুলোর দেখভাল করা। ইনশাআল্লাহ।’

‘জুলাইয়ে গণহত্যা হয়েছে’
রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে আয়োজিত জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী বিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম হয়েছে , খুন অপহরণের শিকার হয়েছে… এরকম অনেকগুলো পরিবারের সাথে গতকাল আমার কথা হয়েছে, দেখা হয়েছে। অসংখ্য অগণিত পরিবার সব হারিয়ে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। শুধুমাত্র জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও ১৪’শও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন ত্রিশ হাজারের মতো মানুষ।

‘এই ত্রিশ হাজার এর মত মানুষের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছেন যাদের সংখ্যা ৫’শ মত। যাদের কারো এক চোখ অথবা কারো দুই চোখই নষ্ট হয়ে গিয়েছে, পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। জুলাই অভ্যুত্থানে যেভাবে দেড় হাজারের মত মানুষকে যে হত্যা করা হয়েছে এটিকে এক বাক্যে স্রেফ আমরা একটি গণহত্যা বলতে পারি। জুলাই গণঅভ্যুথনে যারা বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন তাদের অনেকেই আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন। আমাদের সামনে বক্তব্য রেখেছেন কেউ কেউ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী আহতদের যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের কষ্টের কথাগুলো আমরা শুনেছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের কারণেই আপনাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই কারণেই ফ্যাসিবাদী চক্র শুধুমাত্র রাষ্ট্র ক্ষমতা নয় বরং এই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট আমি আপনাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে একটি বক্তব্য রেখেছিলাম। সেই বক্তব্যে আমি বলেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শহীদ আবু সাঈদ, মাহফুজুর রহমান মুগধ, কলেজ ছাত্র ওয়াসিম আকরাম, মাদ্রাসা ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্কুল ছাত্র রিফাত হোসেন, কুমিল্লার আইনজীবী আবুল কালাম, চুয়াডাগার রাজমিস্ত্রী উজ্জ্বল হোসেন, নোয়াখালীর দোকান কর্মচারী আসিফ, বরগুনার ওষুধ কোম্পানির সেলসম্যান আল আমিন, পাবনার গাড়িচালক আরাফাত হোসেন, মিরপুরের গুলিবিদ্ধ ২২ বছর বয়সী মুত্তাকিন, দোকান কর্মচারী আতিকুল, অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী তামিমের মতন অনেকের হাত কিংবা পা কেটে ফেলতে হয়েছে। হত্যা থেকে ছয় বছরের শিশু রিয়া গোপাও কিন্তু রেহাই পায়নি সেদিন।’ তারেক বলেছেন, এক বক্তব্যে হয়তো সবার নাম বলা সম্ভব নয়।

‘এত মানুষ শহীদ হয়েছেন, এত মানুষ আহত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ শাসন শোষণের বিরুদ্ধে ২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতা প্রিয়, গণতান্ত্রকামী প্রত্যেকটি সেক্টরের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ সেদিন রাজপথে নেমে এসেছে। সেদিনকার ক্যামেরায় বন্দি যত ছবি উঠেছে প্রত্যেকটি ছবি এই কথারই সাক্ষ্য দেয়।’

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচন ‘অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আগামী সংসদ নির্বাচন ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা হতাহত হয়েছেন তাদের উদ্দেশ্য কী ছিলো? তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটি স্বনির্ভর, একটি নিরাপদ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত, অত্যন্ত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তারেক রহমানের কথায়, একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে আগামী দিনে সবাইকে এভাবেই শোক সমাবেশ আর শোক গাঁথা চলমান রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আর শোক গাঁথা বা শোক সমাবেশ নয়। বরং আসুন গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামীর বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়ের গাঁথা রচনা করবে ইনশাল্লাহ।’ আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে রাষ্ট্র এবং বিএনপির দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ২৪ সালে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত এবং হতাহতের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে বিএনপি সেই দায়িত্ব অনুভব করে। ‘জনগণের রায় বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে অবশ্যই পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা আমাদের সেই দায়িত্ব, সেই অঙ্গীকার, সেই প্রতিশ্রুতি আপনাদের সামনে এবং দেশের মানুষের সামনে ইনশাল্লাহ আমরা পুরণ করব।’

‘২৪ এর আন্দোলন কোনো দলের নয়’
চব্বিশের আন্দোলন কোনো ‘ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর নয়’ বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তার কথায়, “এই আন্দোলন ছিল সত্যিকার অর্থেই অধিকারহারা, গণতান্ত্রিক মানুষের গণ আন্দোলন।’ ‘এই কারণেই আমি বলি, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। সুতরাং ২০২৪ সালকে যদি সুসংহত করতে হয় তাহলে দেশের সকল নারী-পুরুষ এবং প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অবশ্যই প্রয়োজন।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও সহ দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।

কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা সন্ধ্যায়

হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র জিলকদ মাসের তারিখ নির্ধারণে আজ সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বায়তুল মোকাররমে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা টেলিফোন নম্বর: ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল নিহত

খুলনা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
নিজের অস্ত্রের গুলিতে পুলিশ কনস্টেবল নিহত

খুলনার রেলওয়ে পুলিশ লাইনে ডিউটিরত অবস্থায় এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (২য় ফেজ) রেলওয়ে পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কনস্টেবলের নাম সম্রাট বিশ্বাস (বিপি নং: ৯৯১৮২১৪৯২৯)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানি উপজেলার পদ্মবিলা এলাকার বাসিন্দা শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে।

জানা গেছে, গত বছরের ৩ নভেম্বর তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে যোগদান করেন। তার স্ত্রী পূজা বিশ্বাস সাতক্ষীরা জেলায় কর্মরত একজন নারী পুলিশ সদস্য।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোর ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সম্রাট বিশ্বাসের ডিউটি নির্ধারিত ছিল। দায়িত্ব পালনকালে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি নিজের ব্যবহৃত চাইনিজ রাইফেল মাথায় ঠেকিয়ে গুলি করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ডিউটিরত অবস্থায় মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার মাধ্যমে সম্রাট বিশ্বাস আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার আহমেদ মাইনুল হাসান জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন পুলিশ সদস্যের এমন মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মীদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনাটি ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এর পেছনের কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকে নজর রয়েছে।

কালের আলো/ইএম 

 

৬ ম্যাচেও জয়হীন, লজ্জার নজির কলকাতার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০০ অপরাহ্ণ
৬ ম্যাচেও জয়হীন, লজ্জার নজির কলকাতার

চলতি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুঃসময় যেন কাটছেই না। এখনও পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখেনি শাহরুখ খানের ফ্র্যাঞ্চাইজি। শুক্রবার গুজরাটের কাছে ৫ উইকেটে হারের পর নতুন আরেকটি লজ্জার নজির গড়েছে কলকাতা।

গুজরাটের কাছে হারায় আইপিএলের ইতিহাসে পঞ্চম দল হিসেবে কোনো মৌসুমের প্রথম ৬টি ম্যাচেই জয়হীন থাকল কেকেআর।

প্রথম দল হিসেবে লজ্জার এই নজির গড়েছিল ডেকান চার্জার্স (তৎকালীন নাম)। তারা ২০১২ সালের আইপিএলের প্রথম ৬টি ম্যাচ জিততে পারেনি। দ্বিতীয় দল হিসেবে ২০১৩ সালে দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস (তৎকালীন নাম) মৌসুমের প্রথম ছ’টি ম্যাচে জয় পায়নি।

২০১৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকেও একই লজ্জার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ২০২২ সালের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স প্রথম ৬টি ম্যাচ জিততে পারেনি। পঞ্চম দল হিসেবে এই তালিকায় নাম উঠল তিনবারের চ্যাম্পিয়ন কেকেআরের।

ইডেন গার্ডেন্সের পাঞ্জাব কিংস ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ায় ১ পয়েন্ট পান রাহানেরা। বাকি পাঁচটি ম্যাচেই হেরেছেন তারা। ফলে মৌসুমের প্রথম ছ’টি ম্যাচে জয় পেল না নাইট শিবির। বাজে ফর্মে পয়েন্ট তালিকায় ১০ নম্বরে রয়েছে শাহরুখের দল।

কালের আলো/এসএকে