গ্রামেই কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা সরকারের
দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবককে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে চায় সরকার। এজন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামেই কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় আগামী তিন বছরে তিন লাখ ৬৬ হাজারের বেশি যুবক-যুব মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা যায়, ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের অধীনে এটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে এই প্রকল্প। প্রকল্পটি দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ১০টি মেট্রোপলিটন ইউনিট থানাও অন্তর্ভুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৭টি জেলার ৪৪২টি উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছিল। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৪৭টি উপজেলায় আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আগের প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার সারা দেশের সব উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে- স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাস, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করা। পাশাপাশি যুবকদের নিজ নিজ এলাকায় কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তুলে শহরমুখী প্রবণতা কমিয়ে গ্রামেই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
প্রকল্পের আওতায় স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ১৪ ও ২১ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু থাকবে। প্রতিটি সমতল উপজেলায় বছরে গড়ে ২৫০ জন এবং হাওর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি উপজেলায় প্রায় ১৬০ জন বেকার যুবক ও যুবমহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে সমতল অঞ্চলে ২৫ জন এবং হাওর ও পার্বত্য এলাকায় ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিতে পারবেন।
প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি পাস এবং বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত বয়স বিবেচনা করা হবে। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, দলিত জনগোষ্ঠী, চা-শ্রমিক, হিজড়া সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রকল্পে বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণকালীন প্রতিদিন ১৫০ টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা এবং ৫০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের সময় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ মডিউল সরবরাহ করা হবে এবং অডিও-ভিডিওভিত্তিক প্রশিক্ষণসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে কোর্সগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। প্রশিক্ষণ আয়োজন, প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন, কোর্স পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তথ্য সংরক্ষণসহ পুরো কার্যক্রম তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। জেলা পর্যায়ে উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা এই কার্যক্রম তদারকি করবেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং অধিদপ্তর পর্যায়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে নিয়মিত সভার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।
কালের আলো/এসএম/এএএন


আপনার মতামত লিখুন
Array