খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

গ্রামেই কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা সরকারের

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
গ্রামেই কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা সরকারের

দেশের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবককে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে চায় সরকার। এজন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামেই কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় আগামী তিন বছরে তিন লাখ ৬৬ হাজারের বেশি যুবক-যুব মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা যায়, ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের অধীনে এটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে এই প্রকল্প। প্রকল্পটি দেশের ৬৪টি জেলার সব উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ১০টি মেট্রোপলিটন ইউনিট থানাও অন্তর্ভুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এর আগে প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৭টি জেলার ৪৪২টি উপজেলায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছিল। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলার ৪৭টি উপজেলায় আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমে একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আগের প্রকল্পগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবার সারা দেশের সব উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে- স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাস, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করা। পাশাপাশি যুবকদের নিজ নিজ এলাকায় কৃষিভিত্তিক খামার গড়ে তুলে শহরমুখী প্রবণতা কমিয়ে গ্রামেই আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

প্রকল্পের আওতায় স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী ১৪ ও ২১ দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স চালু থাকবে। প্রতিটি সমতল উপজেলায় বছরে গড়ে ২৫০ জন এবং হাওর, উপকূলীয় ও পাহাড়ি উপজেলায় প্রায় ১৬০ জন বেকার যুবক ও যুবমহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি ব্যাচে সমতল অঞ্চলে ২৫ জন এবং হাওর ও পার্বত্য এলাকায় ২০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিতে পারবেন।

প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি পাস এবং বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পর্যন্ত বয়স বিবেচনা করা হবে। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারী, দলিত জনগোষ্ঠী, চা-শ্রমিক, হিজড়া সম্প্রদায়, প্রতিবন্ধী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারীদের প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রকল্পে বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণকালীন প্রতিদিন ১৫০ টাকা হারে প্রশিক্ষণ ভাতা এবং ৫০ টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের সময় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ মডিউল সরবরাহ করা হবে এবং অডিও-ভিডিওভিত্তিক প্রশিক্ষণসামগ্রী ব্যবহারের মাধ্যমে কোর্সগুলোকে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। প্রশিক্ষণ আয়োজন, প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন, কোর্স পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের তথ্য সংরক্ষণসহ পুরো কার্যক্রম তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। জেলা পর্যায়ে উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা এই কার্যক্রম তদারকি করবেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয় পর্যায়ে একটি স্টিয়ারিং কমিটি এবং অধিদপ্তর পর্যায়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে নিয়মিত সভার মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে।

কালের আলো/এসএম/এএএন

ইউএইচএফপিও সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
ইউএইচএফপিও সম্মেলনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) নিয়ে আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সম্মেলনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবারই প্রথম বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, সার্বিক কার্যক্রম অবহিত হওয়াসহ সরকারের নির্দেশনা তাদের কাছে দেওয়ার জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন।

এ সময় শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কালের আলো/এসএকে

৪১৯ যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দায় পৌঁছেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
৪১৯ যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট জেদ্দায় পৌঁছেছে

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইটের যাত্রীরা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ফ্লাইটে হজযাত্রী ছিলেন ৪১৯ জন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলোয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম।

হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইয়াহিয়া রাদি ও হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত : জয়সওয়াল

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর যে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশের সরকার, তা পর্যালোচনা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, চলমান বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে (শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর) অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আমরা এই ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদারদের সঙ্গে এ ব্যাপারে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবো।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শিক্ষার্থী-জনতার তীব্র আন্দোলন ও অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ত্যাগ করে ভারতে যান। বর্তমানে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্রয়ে নয়াদিল্লিতে একটি বাড়িতে থাকছেন তিনি।

অভ্যুত্থানের পর ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একাধিকবার শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে সে সময়ও বলা হয়েছিল— অনুরোধ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনকারী দল বিএনপি সম্প্রতি সেই নিষেধাজ্ঞাকে আইনে পরিণত করেছে। শুক্রবারের ব্রিফিংয়ে নতুন এই আইনের ব্যাপারেও জয়সওয়ালের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন সাংবাদিকরা।

জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা ঘটনাপ্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।

কয়েক দিন আগে নয়াদিল্লিতে বৈঠক হয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের। সেই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়সওয়াল বলেছেন, আমি এখানে বলব যে অতীতে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলেছিলেন, এবারও তা-ই পুনর্ব্যক্ত করেছেন; আর তা হলো— বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে ভারত গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকতে চায়।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ