খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরি: চরমোনাই পীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত সংস্কার জরুরি: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ ও কার্যকর করতে রাষ্ট্রের নীতিগত ও পদ্ধতিগত সংস্কার অপরিহার্য। রাষ্ট্রের গুণগত পরিবর্তন ছাড়া শুধু ব্যক্তি বা শাসকগোষ্ঠীর পরিবর্তন হলে স্বাধীনতা কেবল কাগুজে স্বাধীনতায় পরিণত হয়।

৫৬তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে বুধবার (২৫ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও দেশে সংবিধান মেনে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দুঃখজনক দৃষ্টান্ত রয়েছে। তবে চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই স্বৈরাচার উৎখাত করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরতন্ত্রের স্থায়ী বিলোপ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত এবং গণভোটে অনুমোদিত সংস্কারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসের এই প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এছাড়া মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ এবং হতাহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও সম্মান জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির।

কালের আলো/এসআর/এএএন

রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে বিমান রওনা, ঢাকায় পৌঁছাবে রাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে বিমান রওনা, ঢাকায় পৌঁছাবে রাতে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিয়ে একটি বিমান ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, বিমানটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহনকারী বিমানটি ইতোমধ্যে যাত্রা শুরু করেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করবে।

রূপপুর প্রকল্পের জ্বালানি দেশে পৌঁছানো নিয়ে কয়েক দিন ধরে আলোচনা চলছিল। জ্বালানি পৌঁছানোর পর প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিমানটি নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছানোর পর জ্বালানি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানা গেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি তেলের প্রভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেলের প্রভাবে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম

বাজারে সবজি ও ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। বরং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে মুরগির দামও।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, তালতলা ও আগারগাঁও বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৮০ থেকে ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ থেকে ১৪০, টমেটো ও গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৫ টাকা বেড়ে যথাক্রমে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৮০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে মুলার দাম কেজিতে ১০ টাকা কমে ৫০ টাকায় নেমেছে।

মুরগির বাজারেও দাম বেড়েছে। সোনালি কক কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা এবং ব্রয়লার ১০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি হাইব্রিড ২৯০, লাল লেয়ার ৩৬০ এবং দেশি মুরগি ৬৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে ইলিশের সরবরাহ ভালো থাকলেও দাম কমেনি। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে মাছের দামে।

বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাছ ও ডিমও আগের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১৩ কোটি নাম বাদ, ফের ভোটার তালিকায় তোলার উদ্যোগ ভারতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
১৩ কোটি নাম বাদ, ফের ভোটার তালিকায় তোলার উদ্যোগ ভারতের

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এ কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এসেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সমালোচনার মধ্যে। কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের পর কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে থাকলে তা শনাক্ত করে আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নতুন ও প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া নাগরিকদের নামও তালিকায় তোলা হবে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া ভোটার খুঁজবে কর্মকর্তারা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব রাজ্যে এসআইআর শেষ হয়েছে, সেখানে আগের ও পরের ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখা হবে। কারা বাদ পড়েছেন, সেই তালিকা তৈরি করে যাচাই করা হবে তাঁদের নাম কেন বাদ গেছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ডিইও), ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) এ কাজে যুক্ত করা হয়েছে। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে শনাক্ত হলে প্রয়োজনে তার বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ৬ পূরণে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসআইআরে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ

নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ গেছে।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি এবং অন্যান্য কারণে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ভোটার রয়েছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নামও বাদ পড়েছে।

দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি নিয়ে বিতর্ক

এসআইআর প্রক্রিয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে ভোটারদের নাম যুক্ত বা বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা তুলে ধরা হয়েছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের অভিযোগ

ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলো পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এমনভাবে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে।

তবে এটি বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ। নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং অযোগ্য বা একই ব্যক্তির একাধিক নামসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করাই এসআইআরের উদ্দেশ্য। জ্ঞানেশ কুমারও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কেন নতুন করে নাম যুক্ত করার উদ্যোগ

এসআইআরের পর বৈধ ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে আসার পরই নির্বাচন কমিশন এখন বাদ পড়া ভোটারদের শনাক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে।

কমিশনের নতুন নির্দেশনায় শুধু যেসব ভোটার নিজেরা আবেদন করবেন, তাঁদের ওপর নির্ভর না করে কর্মকর্তাদেরও আগের ও বর্তমান তালিকা মিলিয়ে সম্ভাব্য বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে।

অর্থাৎ, কারও নাম বাদ পড়লেও তিনি আবেদন না করলে বিষয়টি অদেখা থাকবে না—এমন একটি যাচাই প্রক্রিয়া চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটার তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে

এসআইআরকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছে। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ থেকেও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনের নতুন বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের কতজনকে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কমিশনের যাচাই ও পরবর্তী হালনাগাদ প্রক্রিয়ার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ