খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

কে সাংবাদিক আর কে ফার্মাসিস্ট বোঝা মুশকিল: ড. দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
কে সাংবাদিক আর কে ফার্মাসিস্ট বোঝা মুশকিল: ড. দেবপ্রিয়

সাংবাদিকতার পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে- এমন মন্তব্য করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমানে কে প্রকৃত সাংবাদিক আর কে অন্য পেশার মানুষ হয়েও সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করছেন, তা বুঝা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর ইআরএফ কার্যালয়ে ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও ইআরএফ-এর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বাংলাদেশ রিফর্ম ট্র্যাকার ও গণমাধ্যমের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, কে প্রকৃত সাংবাদিক আর কে সাংবাদিক নন-এই প্রশ্নটি এখনো বিতর্কিত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেউ ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন, পাশাপাশি সময় পেলে কোচিং করান, আবার তিনিই সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করছেন। এতে সাংবাদিকতার পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দলীয় অবস্থান থেকে দূরে থেকে মূল্যবোধ ও পেশাগত নীতির ভিত্তিতে কথা বলা উচিত। গবেষণা, গণমাধ্যম, সংবাদপত্র, নাটক এবং সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন মাধ্যমের মাধ্যমে সত্য ও তথ্যভিত্তিক বার্তা তুলে ধরা জরুরি।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সবার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, মিডিয়া রিফর্ম কমিশনকে যুক্তরাজ্যের অফকম মডেলের আদলে পুনর্গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হত্যা, মিথ্যা মামলা, গুমসহ যেসব নির্যাতন ঘটে, সেগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন

আবারও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস ডুবি

রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আবারও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস ডুবি

রাজবাড়ীর দৌলত‌দিয়া ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক হতাহতের তথ্য জানা যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

তিনি জানান, ফেরিঘাটের ৭ নম্বর পন্টুন থেকে এসবি পরিবহনের একটি বাস নদীতে পড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিস্তারিত পড়ে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহীবাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ওই ঘটনায় মোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি

খেলাপি ঋণ ক্রমাগত বাড়ছে এবং ব্যাংকিং খাত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালের মার্চ শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পৌঁছেছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ও প্রভিশনসংক্রান্ত ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুনঃতফসিল এখন আর সমস্যার সমাধান নয় বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণ ‘লুকানোর কৌশলে’ পরিণত হয়েছে, যার ফলে প্রকৃত চিত্র সময়ের সঙ্গে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই স্বল্প সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। এই প্রবণতা নির্দেশ করে ঋণ আদায়ের চেয়ে নতুন করে ঋণ শ্রেণিকরণ সমস্যাই দ্রুত বাড়ছে।

একই সময়ে দেশের মোট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে শ্রেণিকৃত বা সমস্যাগ্রস্ত ঋণ ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের প্রতি তিন টাকার মধ্যে প্রায় এক টাকাই এখন ঝুঁঁকিপূর্ণ বা খেলাপি অবস্থায় রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে খেলাপি ঋণের পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ছিল ২৪.১৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মার্চে বেড়ে ৩২.২৬ শতাংশে পৌঁছায়। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি হয়েছে ৮.১৩ শতাংশ পয়েন্ট, যা ব্যাংকিং খাতে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দ্রুত বৃদ্ধি কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবণতা নয় বরং এটি নীতিগত দুর্বলতা ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যার ফল।

কালের আলো/এম/এএইচ

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভৈরব, ট্রেন চলাচল বন্ধ

কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভৈরব, ট্রেন চলাচল বন্ধ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৭ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল। এতে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে অন্তত ৬টি ট্রেন।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের আমলাপাড়া ও জগন্নাথপুর এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ দ্রুত স্টেশন এলাকা ও আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের অন্তত ৬টি ট্রেন বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মহানগর গোধূলী ট্রেনটি ভৈরব স্টেশনের আউটসাইডে অবস্থান নেয়। পারাবত এক্সপ্রেস আটকা পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশনে। এগারোসিন্ধুর গোধূলী দাঁড়িয়ে থাকে নরসিংদীর দৌলতকান্দি স্টেশনে।

নরসিংদী কমিউটার ট্রেনটি অবস্থান নেয় খানাবাড়ী স্টেশনে এবং একটি কন্টেইনার ট্রেন আটকা পড়ে মেথিকান্দা স্টেশনে। এছাড়া আরও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনকে নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত স্টেশনে অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার জানান, সংঘর্ষের কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় ভৈরব স্টেশনে কোনো ট্রেন প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টেশনের দুই পাশের আউটসাইডে এবং নিকটবর্তী স্টেশনগুলোতে ট্রেনগুলোকে আটকে রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে সংঘর্ষে জড়িতদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি