খুঁজুন
                               
, ,
           

গণভোট ইস্যুতে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
গণভোট ইস্যুতে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে: জামায়াত আমির

ক্ষমতায় গিয়ে গণভোট ইস্যুতে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে সরকার—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্য আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, দেশে কোনো একক দলীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ বরদাশত করা হবে না। জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথ—উভয় জায়গায় আন্দোলন চলবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, আর সে কারণেই আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

একই সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক সভাপতির বক্তব্যে বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার কারণে জ্বালানি সংকটসহ নানা সমস্যা তীব্র হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন।

এছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চরম মূল্য দিতে হবে। প্রয়োজনে সংসদ ও রাজপথে একযোগে আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।

তীব্র গরম উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। একই মঞ্চে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

সমাবেশ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আগামী ৯০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা নিয়ে কঠোর বার্তা দিল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক হুমকি ও চাপ প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির কোনো আলোচনা শুরু হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান।

মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হুমকি বা চাপের পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা কোনোভাবেই শুরু করবে না তেহরান।

তিনি লিখেছেন, ‘সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং দ্ব্যর্থহীন: ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি যতদিন অব্যাহত থাকবে, ততদিন চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য আলোচনা শুরু হবে না। আপনার স্বাক্ষরের প্রতি অটল থাকুন।’

মূলত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সর্বশেষ বক্তব্যে আবারও ইরানকে হুমকি দেন, যার জবাবে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চুক্তিতে পৌঁছাবে, অথবা ‘কাজ শেষ’ (আবারো হামলা) করে দেবে’।

মার্কিন বাহিনী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করতে সক্ষম দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘কাজটা শেষ করা কঠিন হবে না। তবে আমি একটা সমঝোতায় আসতে চাই, কারণ আমি ৯১ মিলিয়ন মানুষকে কষ্ট দিতে চাই না… কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মধ্যেই আমরা তাদের বিদ্যুৎ ও শক্তি উৎপাদন কেন্দ্রগুলো অচল করে দিতে পারি। প্রতিটি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে এবং তারা তা জানে।’

ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকি এবং আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বানের দ্বিমুখী নীতিকে তীব্র নিন্দা জানান আরাঘচি।

নিজের পোস্টে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায়ে বিপুল সমাগমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ গর্বিত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা এবং তার কীর্তিকে সম্মান জানাতে ঐক্য ও সংহতির সঙ্গে একত্রিত হয়েছে। তারা কিংবা আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী— কেউই কোনো হুমকিকে ভয় পায় না।’

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি

Oplus_131072

লিবিয়ার বেনগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার এবং ত্রিপোলিস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে তারা বাংলাদেশে ফিরেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এদের মধ্যে বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারকারীদের দ্বারা অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচ, কিছু খাদ্য সামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।

লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে

অর্থনীতির গতি বাড়াতে বিমা খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
অর্থনীতির গতি বাড়াতে বিমা খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: তথ্যমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিমা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিমা খাতকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তুলতে পারলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়বে। একইসঙ্গে মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাপত্তাবোধ ও উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহও বাড়বে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এখনও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পূর্ণমাত্রায় কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। বিমা খাত এমনই একটি ক্ষেত্র— যা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।’’

তিনি বলেন, ‘‘এ খাতে সুশাসন, কার্যকর নীতিমালা ও শক্তিশালী আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে। বিমার প্রতি মানুষের বিশ্বাস তৈরি হলে ব্যক্তি ও পরিবার যেমন আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে, তেমনই বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’’

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘‘একজন নাগরিক যখন নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিরাপদ বোধ করেন, তখন তিনি আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে অংশ নেন। বিমা সেই নিরাপত্তাবোধ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শুধু গতানুগতিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ক্ষমতায় আসেনি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সংস্কার ও সমাধানের লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।’’

বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন, রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা, অর্থ পাচার রোধ এবং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের আরও বেশি মানুষকে বিমার আওতায় আনতে আইন, বিধিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও কার্যকর করতে হবে। একইসঙ্গে বিমা কোম্পানিগুলোর সেবার মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।’’

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিমা খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অর্থমন্ত্রীর কাছে সুস্পষ্ট সুপারিশ দিতে হবে। সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন নীতিগত ও আইনি কাঠামো প্রণয়নে কাজ করতে হবে, যা খাতটিকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করে তুলবে।’’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন।

কালের আলো/এম/এএইচ