খুঁজুন
                               
, ,
           

চট্টগ্রামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ৩৫ লাখ টাকা লুট: ৮ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ৩৫ লাখ টাকা লুট: ৮ জন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেটে হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার রাতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চকবাজার থানা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মোহাম্মদ ইউনুস, ইমরান হোসেন, আকবর হোসেন, মোহাম্মদ সুমন, মোহাম্মদ মনির, গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ নয়ন ও আবদুল নাহিদ।

বুধবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে চার থেকে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

এদিকে, হামলার ঘটনায় গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ‘ইমন’ পরিচয়ে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা ছুরি বা কিরিচ নিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করেন না এবং তাঁদের হামলার ধরন সম্পর্কে পুরো চট্টগ্রামবাসী জানে।

এ বিষয়ে ফয়সাল আহমেদ বলেন, সন্ত্রাসীরা নিজেদের রক্ষা করতে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিতে পারে। তিনি জানান, অস্ত্রবাজির ঘটনায় জড়িত অনেককেই এর আগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার দুপুরে নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) নামের ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই রাতেই চকবাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হঠাৎ করে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা কম্পিউটার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। হামলাকারীদের একজনকে কুড়াল দিয়ে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামে আঘাত করতেও দেখা যায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইএসপিএবির সদস্যরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করলে চট্টগ্রাম বিভাগে ইন্টারনেট সেবা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেন। পরে একই দাবিতে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

কালের আলো/এসএ

ফায়ারিং অনুশীলনে নিহত সেনাসদস্য পিয়াসের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
ফায়ারিং অনুশীলনে নিহত সেনাসদস্য পিয়াসের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় নিহত সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের জানাজা ও দাফন নোয়াখালীর কবিরহাটে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামের মুন্সী সর্দার বাড়ির সামনে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে পিয়াসের মরদেহ মাইজদী শহীদ বুলু স্টেডিয়ামে আনা হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের শেষবারের মতো দেখানোর পর জানাজার জন্য মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়।

পিয়াসের জানাজায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতারা, সেনাবাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ

নিহত আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপাড়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে। চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের পিয়াস সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন পিয়াস। ২০২৩ সালে বিয়ে করেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন তিনি। তার রয়েছে মাত্র ১৮ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান।

প্রশিক্ষণের মাঠে হঠাৎ ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা ও স্ত্রী। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাবা আব্দুল ওয়াহাব ও মা কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্বামীকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তার স্ত্রীও। মাত্র ১৮ মাস বয়সী মেয়েটি এখন বাবার স্মৃতি নিয়েই বড় হবে।

স্বজনেরা জানান, পরিবারের জন্য একটি পাকা ঘর নির্মাণের স্বপ্ন ছিল পিয়াসের। নিজের হাতে মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সুন্দর একটি ঘরে থাকার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই দেশের সেবায় নিয়োজিত অবস্থায় তাকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে।

দেশের সেবায় জীবন দেওয়া এই তরুণ সেনাসদস্যের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে পাকা ঘরটি একদিন নিজের হাতে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন পিয়াস, সেই স্বপ্ন আজ অপূর্ণ। তার বদলে গ্রামের মাটিতে দাদা-দাদির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে রইলেন তিনি—পরিবারের হৃদয়ে রেখে গেলেন গভীর শূন্যতা, আর ১৮ মাসের ছোট্ট মেয়ের জন্য রেখে গেলেন বাবার অসংখ্য স্মৃতি।

পিয়াসের বন্ধু আকরাম বলেন, পিয়াস শুধু আমার বন্ধু ছিল না, সে ছিল আমার ভাইয়ের মতো। সব সময় হাসিমুখে থাকত, কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি। দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এভাবে চলে যাবে, এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। ওর ছোট মেয়েটার মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়।

পিয়াসের চাচাতো ভাই হারুন বলেন, পিয়াস ছিল আমাদের পরিবারের সবার আদরের মানুষ। চার বোনের একমাত্র ভাই হওয়ায় সবার কাছেই সে ছিল খুব প্রিয়। পরিবারকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। বিশেষ করে স্ত্রী-সন্তান ও মা-বাবাকে ভালোভাবে রাখার জন্য সে সব সময় চিন্তা করত। কিন্তু এত অল্প বয়সে এভাবে চলে যাবে, সেটা আমরা কেউ কল্পনাও করিনি।

পিয়াসের ভগ্নিপতি আবু সাঈদ বলেন, পিয়াস চার বোনের একমাত্র ছোট ভাই ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি শান্ত ও সহজ-সরল স্বভাবের ছিলেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন এবং তার অমায়িক ব্যবহারের কারণে তিনি সবার কাছে খুব প্রিয় ছিলেন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছে পিয়াসের পরিবার। তার স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান, মা-বাবা ও স্বজনদের জীবনে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা।

পিয়াসের বাবা আব্দুল ওহাব বলেন, ছেলেটার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই ছেলের লাশ আমার কাঁধে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এছাড়াও সংসারের কষ্ট দূর করার অনেক স্বপ্ন ছিল তার। পাকা ঘর আর হলো না, তার আগেই আমার ছেলেটা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। এখন ঘর দিয়ে কী হবে, আমার ছেলেটাই তো আর নেই।

মৃত্যু

এমআর

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।

তিনি বলেন, ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ ও জালাল উদ্দিন রুমির মতো প্রখ্যাত পারস্য কবি ও মনীষীদের সৃজনশীল কর্ম ও সাহিত্য এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এ সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানে ইরানের মানুষের প্রতি মমত্ববোধের কথাও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো ব্যাপক জ্বালানি সংকটে পড়েছে। তিনি সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে দেশটির মাটিতে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দাও পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে ইরানের রাষ্ট্রদূত রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ইরানের রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন।

রাষ্ট্রদূত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে বাংলাদেশ ও ইরান একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন ইরানের রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রদূতকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তার দায়িত্বকাল বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরানিয়ান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

হাম-ডেঙ্গুর জোড়া আঘাত: প্রতিরোধের দেয়ালেই ফাটল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
হাম-ডেঙ্গুর জোড়া আঘাত: প্রতিরোধের দেয়ালেই ফাটল

একটি রোগ ছড়ায় মানুষ থেকে মানুষে, অন্যটির বাহক এডিস মশা। হাম ও ডেঙ্গুর জীবাণু, সংক্রমণপথ এবং চিকিৎসা আলাদা। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দুটি রোগের পেছনে একই ধরনের দুর্বলতা সামনে এনেছে—সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া, মাঠপর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা। ফলে এমন দুই রোগের চাপ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে, যেগুলোর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধযোগ্য।

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা হাজারের ঘরে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। গত বছর ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যুর পর চলতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ৯৩৮ জন এবং তা বাড়ছেই। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের প্রতিরোধব্যবস্থার দুর্বলতা এক পর্যায়ে এসে দৃশ্যমান হয়েছে।

হামের ক্ষেত্রে ফাঁকটা কোথায়?
হাম ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র টিকা। কিন্তু জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের হার ভালো দেখালেই ঝুঁকি শেষ হয় না। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জিয়া হাসানের মতে, কোনো নির্দিষ্ট বস্তি, দুর্গম জনপদ, ভাসমান জনগোষ্ঠী কিংবা দরিদ্র সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টিকার বাইরে থাকলে সেই এলাকাই ভাইরাস ছড়ানোর কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। টিকাদানের এই অসম্পূর্ণতাই তৈরি করে ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. জাকিয়া ফেরদৌসী খানের মতে, হাম নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিকা। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি কোথায় প্রথম বা দ্বিতীয় ডোজ কম হয়েছে, কোন এলাকায় শিশুরা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার বাইরে এবং কোথায় সংক্রমণের ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে—এসব তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা জরুরি। অর্থাৎ হাম ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরোধের ফাঁক কোথায় তৈরি হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করাই এখন বড় কাজ।

ডেঙ্গুতে ধোঁয়া আছে, নিয়ন্ত্রণ কতটা?
ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন হলেও দুর্বলতার জায়গা প্রায় একই। প্রতি বছর মশক নিধনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য ২০৮ কোটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জন্য ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু বরাদ্দের বিপরীতে মশা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলছেন, ফগিং স্থায়ী সমাধান নয়। এতে উড়ন্ত পূর্ণবয়স্ক মশার একটি অংশ কমতে পারে; কিন্তু ডিম ও লার্ভার প্রজননস্থল ধ্বংস না করলে নতুন মশা জন্ম নিতেই থাকবে। ছাদে জমে থাকা পানি, নির্মাণাধীন ভবনের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব কিংবা প্লাস্টিকের পাত্র—এসব প্রজননস্থল ধ্বংস না করে রাস্তায় ধোঁয়া ছড়ানো সমস্যার সাময়িক চিকিৎসা মাত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় পর্যায়ের তদারকির ঘাটতি। দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোতে নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান না থাকায় মাঠপর্যায়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমেও দুর্বলতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন, নির্বাচিত হাসপাতালগুলো থেকে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। তবে বিশেষায়িত জনবল না থাকায় শুরুতে নজরদারিতে সমস্যা হয়েছিল। ডিএসসিসির তদারকি কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য, কমিটি গঠনের পর মাঠপর্যায়ে তৎপরতা থাকলেও পরে তা কমে যায়; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ দাপ্তরিক কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।

রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে চাপ
ডেঙ্গু এখন শুধু ঢাকার সমস্যা নয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও রোগী বাড়ছে। কিন্তু ঢাকার বাইরে রোগ নির্ণয়, গুরুতর রোগী ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় পরিচর্যার সক্ষমতা সব জায়গায় সমান নয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হারুন অর রশিদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে জটিল রোগীকে শেষ পর্যন্ত ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ রোগী যখন হাসপাতালে পৌঁছাচ্ছেন, তখন সংকট অনেকটাই গভীরে চলে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, সামনে দীর্ঘ লড়াই
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা নয়, জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমানো ও সচেতনতা বাড়ানো। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, এই উদ্যোগকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল ধরে রাখা কঠিন হবে। এডিস মশার প্রজনন বন্ধে সারা বছর নিয়মিত নজরদারি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রয়োজন। একইভাবে হাম নিয়ন্ত্রণেও এককালীন কর্মসূচির চেয়ে নিয়মিত টিকাদানের প্রতিটি ফাঁক বন্ধ করা জরুরি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, কীটতত্ত্ববিদ, রোগতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কার্যকর জাতীয় কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে কোথায় হাম বাড়ছে, কোথায় টিকার ঘাটতি, কোথায় ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে এবং কোন এলাকায় এডিসের ঘনত্ব বেশি—তা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

কালের আলো/এম/এএইচ